মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

গৌরীপুরে আ’লীগ নেতার দোকানে অভিযান, অবৈধ সার জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৮ এম
গৌরীপুরে আ’লীগ নেতার দোকানে অভিযান, অবৈধ সার জব্দ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এক আওয়ামী লীগ নেতার দোকানের তালা ভেঙে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই অভিযানে লাইসেন্স ছাড়া সার মজুতের দায়ে অপর এক ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের পালুহাটি বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আমীন পাপ্পা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পালুহাটি বাজারের কীটনাশক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম সুজনের দোকানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে আগেভাগেই দোকান বন্ধ করে সটকে পড়েন সুজন। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দোকানের তালা ভেঙে ৩ টন (৬০ বস্তা) ২৫ কেজি টিএসপি এবং ২৫ কেজি ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়। অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম সুজন অচিন্তপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পালুহাটি গ্রামের মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে।

একই সময়ে বাজারের অপর এক ব্যবসায়ী আতাউর রহমানের দোকানে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। অবৈধভাবে প্রায় ২ টন সার মজুত রাখার অপরাধে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযুক্ত আতাউর রহমান পালুহাটি গ্রামের মৃত রুকন উদ্দিনের ছেলে।

জরিমানার বিষয়টি স্বীকার করে আতাউর রহমান বলেন, আমার নিজস্ব কোনো সারের লাইসেন্স নেই। ছোট ভাই আবুল কাসেমের খুচরা লাইসেন্স ব্যবহার করে আমি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি।

অভিযানের বিষয়ে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা জানান, দোকানে অবৈধভাবে গচ্ছিত রাখা সার জব্দ করে দোকানটি সিলগালা করা হয়েছে। বর্তমানে জব্দকৃত সার স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধ সার মজুতের অপরাধে অপর এক ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

জব্দকৃত সারের গুণগত মান নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ বলেন, উদ্ধার হওয়া এসব সার নকল বলে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ উঠেছে। সারের সঠিক মান নির্ধারণে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাব পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‎ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন, হুড়োহুড়িতে শিশুসহ নিহত ৬; আহত অন্তত ২০

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
‎ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন, হুড়োহুড়িতে শিশুসহ নিহত ৬; আহত অন্তত ২০

‎ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় আতঙ্কে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। দ্রুত ভবন থেকে বের হতে গিয়ে পদদলিত ও ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।

‎সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনের লিফটের কন্ট্রোল রুমে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের পাশাপাশি কন্ট্রোল রুম থেকে ধোঁয়া ভবনের বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়লে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেকে দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে গেলে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়। এ সময় পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

‎নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন নেত্রকোনার পূর্বধলার হাজেরা বেগম (৫০), ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার শাহজাহান (৪০), রমজান (৩৮), জাহানারা (৫০) এবং তারাকান্দার কুলসুমা (৩৫)। নিহত অপরজন এক বছর বয়সী অজ্ঞাতনামা শিশু।

‎অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবদুল্লাহ আল-মামুন ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

‎তবে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম সোমবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত আগুনে সরাসরি মৃত্যুর কোনো ঘটনা স্বীকার করেননি। হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা জানান, আগুনের ঘটনায় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে এবং ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

‎ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, লিফটের কন্ট্রোলার মেশিনের বোর্ডে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট ও অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। কন্ট্রোল রুম থেকে বের হওয়া ধোঁয়া ভবনের বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

‎খবর পেয়ে ময়মনসিংহ সদর, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল ও ঈশ্বরগঞ্জসহ পাঁচটি ফায়ার স্টেশনের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ভবনের বিভিন্ন তলায় তল্লাশি চালিয়ে আগুনের অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

‎ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান বলেন, আগুন লাগার কারণ ও সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

মিঠামইনে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি তরিক মোমেন গ্রেপ্তার

মিঠামইন প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪০ পিএম
মিঠামইনে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি তরিক মোমেন গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি তরিক মোমেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ঘাগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে মিঠামইন থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঘাগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তরিক মোমেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ১৫ জুলাই রাতে মিঠামইন সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনের সামনে দুর্বৃত্তদের হামলায় জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মিঠামইন থানায় হত্যা মামলা করা হয়।

মামলা হওয়ার পর থেকে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় একের পর এক অভিযান চালায়। এ পর্যন্ত মামলাটিতে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সর্বশেষ তরিক মোমেনকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হলো।

এদিকে, জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন খোকাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে তিনি এখনো পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, গ্রেপ্তার তরিক মোমেনকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। মামলার অন্যান্য সন্দেহভাজন পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পেন্টাগ্রাফের নামে টাকা—কার নির্দেশে, কোথায় যাচ্ছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫২ পিএম
পেন্টাগ্রাফের নামে টাকা—কার নির্দেশে, কোথায় যাচ্ছে?

সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে ‘পেন্টাগ্রাফ’ করার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আসাদুজ্জামান স্বপনের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের বিষয়ে সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও জবাব দাবি উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে প্রশ্ন উঠেছে, আসাদুজ্জামান স্বপন বর্তমানে কোন পদে কর্মরত এবং তাঁর সরকারি দায়িত্ব কী? সরকারি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘পেন্টাগ্রাফ’ করার জন্য সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলে, তা কোন বিধি, কোন খাতে এবং নির্ধারিত কত টাকা তারও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

জনগণের প্রশ্ন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা যেখানে রাষ্ট্রের রাজস্ব ও জনগণের করের অর্থ থেকে দেওয়া হয়, সেখানে সরকারি সেবা গ্রহণের সময় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার প্রয়োজন কেন হবে?

আর যদি পেন্টাগ্রাফ করার কাজে বাইরের লোক বা বেসরকারি ব্যক্তির সহায়তা নেওয়া বাধ্যতামূলক হয়ে থাকে, তাহলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার বিষয়টিও সামনে আসে। সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োজিত ব্যক্তিরা বেতন-ভাতা গ্রহণের পরও কেন সেবা গ্রহীতাদের অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে বাইরের লোকের মাধ্যমে কাজ করাতে হবে এ প্রশ্নেরও উত্তর চাওয়া হয়েছে।

সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে এ ধরনের কোনো অর্থ নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রজ্ঞাপন, ফি নির্ধারণের আদেশ, অনুমোদিত ফি-এর তালিকা এবং অর্থ গ্রহণের বৈধ রসিদ জনগণের সামনে প্রকাশ করার দাবি উঠেছে।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, যদি পেন্টাগ্রাফ করার নামে টাকা নেওয়ার কোনো বৈধ সরকারি অনুমোদন না থাকে, তাহলে কার নির্দেশে অর্থ নেওয়া হচ্ছে এবং সেই অর্থ কোথায় যাচ্ছে তারও স্বচ্ছ হিসাব দিতে হবে।

তবে সাধারণ মানুষ কারও ব্যক্তিগত আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইছে না। তাদের মূল প্রশ্ন হলো সরকারি সেবার নামে কেন অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে এবং এ অর্থ নেওয়ার আইনগত ও প্রশাসনিক বৈধতা কোথায়?

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তাঁদের মতে, অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উচিত প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণ উপস্থাপন করে বিষয়টি পরিষ্কার করা।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আরও বলেন, সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা অনুমোদনহীন অর্থ আদায়ের সুযোগ থাকা উচিত নয়। সরকারি সেবার নামে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত নিরসন এবং জনগণের সামনে বিষয়টি স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।