সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে ‘পেন্টাগ্রাফ’ করার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আসাদুজ্জামান স্বপনের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের বিষয়ে সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও জবাব দাবি উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে প্রশ্ন উঠেছে, আসাদুজ্জামান স্বপন বর্তমানে কোন পদে কর্মরত এবং তাঁর সরকারি দায়িত্ব কী? সরকারি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘পেন্টাগ্রাফ’ করার জন্য সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলে, তা কোন বিধি, কোন খাতে এবং নির্ধারিত কত টাকা তারও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
জনগণের প্রশ্ন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা যেখানে রাষ্ট্রের রাজস্ব ও জনগণের করের অর্থ থেকে দেওয়া হয়, সেখানে সরকারি সেবা গ্রহণের সময় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার প্রয়োজন কেন হবে?
আর যদি পেন্টাগ্রাফ করার কাজে বাইরের লোক বা বেসরকারি ব্যক্তির সহায়তা নেওয়া বাধ্যতামূলক হয়ে থাকে, তাহলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার বিষয়টিও সামনে আসে। সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োজিত ব্যক্তিরা বেতন-ভাতা গ্রহণের পরও কেন সেবা গ্রহীতাদের অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে বাইরের লোকের মাধ্যমে কাজ করাতে হবে এ প্রশ্নেরও উত্তর চাওয়া হয়েছে।
সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে এ ধরনের কোনো অর্থ নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রজ্ঞাপন, ফি নির্ধারণের আদেশ, অনুমোদিত ফি-এর তালিকা এবং অর্থ গ্রহণের বৈধ রসিদ জনগণের সামনে প্রকাশ করার দাবি উঠেছে।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, যদি পেন্টাগ্রাফ করার নামে টাকা নেওয়ার কোনো বৈধ সরকারি অনুমোদন না থাকে, তাহলে কার নির্দেশে অর্থ নেওয়া হচ্ছে এবং সেই অর্থ কোথায় যাচ্ছে তারও স্বচ্ছ হিসাব দিতে হবে।
তবে সাধারণ মানুষ কারও ব্যক্তিগত আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইছে না। তাদের মূল প্রশ্ন হলো সরকারি সেবার নামে কেন অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে এবং এ অর্থ নেওয়ার আইনগত ও প্রশাসনিক বৈধতা কোথায়?
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তাঁদের মতে, অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উচিত প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণ উপস্থাপন করে বিষয়টি পরিষ্কার করা।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আরও বলেন, সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা অনুমোদনহীন অর্থ আদায়ের সুযোগ থাকা উচিত নয়। সরকারি সেবার নামে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত নিরসন এবং জনগণের সামনে বিষয়টি স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।।