শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

৫৫ বছরেও স্মৃতিফলক হয়নি

মিঠামইনের ধুবাজোড়া-তেলিখাই গণহত্যায় ২২ শহীদ, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির অপেক্ষায় স্বজনেরা

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১১ এম
মিঠামইনের ধুবাজোড়া-তেলিখাই গণহত্যায় ২২ শহীদ, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির অপেক্ষায় স্বজনেরা

১ সেপ্টেম্বর মিঠামইনের ধুবাজোড়া ও তেলিখাই গণহত্যা দিবস

১৯৭১ সালের ১ সেপ্টেম্বর। হাওরজুড়ে তখন বর্ষার থইথই পানি। চারদিকে নিস্তব্ধতা, মানুষের মনে আতঙ্ক। সেই ভোরে কিশোরগঞ্জের তৎকালীন নিকলী থানার ধুবাজোড়া ও ইটনা থানার তেলিখাই গ্রামে নেমে এসেছিল এক বিভীষিকাময় কালো অধ্যায়। স্থানীয় রাজাকার-আলবদরদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দুই গ্রামে চালায় নৃশংস হত্যাযজ্ঞ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ।

সেদিন প্রাণ হারান ২২ জন নিরস্ত্র মানুষ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষক, সমাজসেবক, জনপ্রতিনিধি, আইনজীবী, ছাত্রনেতা ও গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো জনপদ।

কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও সেই শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে নির্মিত হয়নি কোনো স্মৃতিফলক বা স্মৃতিস্তম্ভ। জাতীয় পর্যায়ে তাঁদের নাম সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও স্বীকৃতির ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ স্বজন ও স্থানীয় সচেতন মহলের।

ভোরের ঘেরাও, দেড় শতাধিক মানুষ আটক

স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি বাহিনী ক্যাম্প স্থাপন করে। ইটনা, অষ্টগ্রাম ও নিকলী এলাকায় গড়ে ওঠা এসব ক্যাম্পে স্থানীয় রাজাকার-আলবদররা সহযোগিতা করত।

ধুবাজোড়া গ্রামের হাজি মো. সওদাগর ভূঁইয়ার বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধারা গোপনে ক্যাম্প স্থাপন করেছেন এমন খবর পৌঁছে যায় ইটনার পাকিস্তানি ক্যাম্পে।

১ সেপ্টেম্বর খুব ভোরে কেওয়ারজোর ইউনিয়নের কান্দিপাড়া গ্রামের রাজাকার কমান্ডার কোরবান আলীর নেতৃত্বে সশস্ত্র রাজাকার ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর একটি দল ধুবাজোড়া গ্রামের দক্ষিণহাটি ঘেরাও করে। চারদিক থেকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে তারা গ্রামে প্রবেশ করে।

হাজী মো. সওদাগর ভূঁইয়া, আব্দুল গনি ভূঁইয়া ও রউশন ভূঁইয়ার বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে চালানো হয় তাণ্ডব।

চারদিকে পানি থাকায় গ্রামবাসীর পালানোর সুযোগ ছিল না। ঘেরাও করে আটক করা হয় প্রায় দেড় শতাধিক মানুষকে। চলে নির্যাতন, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ। পরে তাঁদের মধ্য থেকে বেছে বেছে গ্রামের শিক্ষিত, প্রভাবশালী ও নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের দড়ি দিয়ে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয় ইটনা পাকিস্তানি ক্যাম্পে।

সেখানে নির্যাতনের পর তাঁদের হত্যা করে ভয়রা নামক স্থানে মাটিচাপা দেওয়া হয় বলে স্থানীয়দের বর্ণনা।

এই অভিযানে গুরুতর আহত হন ইদ্রিস আলী ও মজনু ভূঁইয়া।

যাঁরা সেদিন শহীদ হন

ধুবাজোড়া গ্রামের শহীদদের মধ্যে ছিলেন, শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক আব্দুল আজিজ ভূঁইয়া, আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া, সিদ্দিকুর রহমান ভূঁইয়া এবং আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, যিনি মিঠামইন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

জনপ্রতিনিধি ও আইনজীবীদের মধ্যে ছিলেন, আব্দুল গনি ভূঁইয়া (ইউপি চেয়ারম্যান), রমিজউদ্দিন ভূঁইয়া (ইউপি সচিব) এবং অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন ভূঁইয়া।

ছাত্রনেতা ও তরুণদের মধ্যে শহীদ হন, আবদুর রাশিদ ভূঁইয়া ও রোকনুজ্জামান ভূঁইয়া (রোকন)।

এ ছাড়া শহীদদের তালিকায় রয়েছেন, আব্দুল মজিদ ভূঁইয়া, আব্দুর রউফ ভূঁইয়া, জহিরউদ্দিন ভূঁইয়া, আবদুল খালেক ভূঁইয়া, নূর আলী ভূঁইয়া, বুধাই ভূঁইয়া, রমজান ভূঁইয়া, আবু জামাল (জাহের), চান্দু মিয়া ও সিরাজ মিয়া।

ধুবাজোড়ার পর তেলিখাই

ধুবাজোড়ায় হত্যাযজ্ঞ ও তাণ্ডব চালানোর পর পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারদের দলটি যায় তেলিখাই গ্রামের মাথার বাড়িতে। সেখানে আটক করা হয় আরও দুই বিশিষ্ট ব্যক্তি আমির হোসেন ভূঁইয়া ও মুলক হোসেন ভূঁইয়াকে। পরে তাঁদেরও নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।

দুই গ্রামের এসব হত্যাকাণ্ড আজও বয়ে বেড়াচ্ছে শহীদ পরিবারগুলো।

৫৫ বছরেও নেই স্মৃতিচিহ্ন

স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করা এই ২২ শহীদের স্মৃতি আজ যেন বিস্মৃতির অন্ধকারে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ধুবাজোড়া কিংবা তেলিখাইয়ে তাঁদের স্মরণে নির্মিত হয়নি কোনো স্মৃতিফলক, স্মৃতিস্তম্ভ বা শহীদ স্মরণকেন্দ্র।

শহীদ পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচিত হলেও সরকারি পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাঁদের অনেকেই চান এই গণহত্যার ইতিহাস রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা হোক এবং শহীদদের নাম যথাযথভাবে জাতীয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক।

স্থানীয় সাংবাদিক মোক্তার হোসেন গোলাপ দীর্ঘদিন ধরে লেখনীর মাধ্যমে ধুবাজোড়া ও তেলিখাইয়ের গণহত্যার ইতিহাস এবং শহীদদের স্মৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

দাবি- রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ হোক রক্তাক্ত ইতিহাস

স্থানীয় সচেতন মহল ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের দাবি, অবিলম্বে ধুবাজোড়া ও তেলিখাই গণহত্যার স্মৃতিবিজড়িত স্থানে সরকারি উদ্যোগে স্মৃতিফলক বা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে ২২ শহীদের নাম যাচাই-বাছাই করে জাতীয়ভাবে সংরক্ষণ ও যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তাঁদের ভাষায়, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও যদি মুক্তিযুদ্ধের একটি গণহত্যার স্থান ও শহীদদের স্মৃতি রাষ্ট্রীয়ভাবে চিহ্নিত না হয়, তবে নতুন প্রজন্ম জানবে কীভাবে সেই রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছিল বাংলাদেশ?

ধুবাজোড়া ও তেলিখাইয়ের মানুষের প্রত্যাশা, বিস্মৃতির আড়ালে থাকা ২২ শহীদের নাম এবার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মর্যাদায় ফিরে আসুক।

ফুলবাড়ীয়ার শিবগঞ্জ বাজারে ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
ফুলবাড়ীয়ার শিবগঞ্জ বাজারে ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ২ নং পুটিজানা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী শিবগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নবগঠিত কমিটির উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শিবগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ সভায় বাজারের ব্যবসায়ী, স্থানীয় সামাজিক সংগঠন, যুবসমাজ ও সর্বস্তরের এলাকাবাসী অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শিবগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বাজারের বিভিন্ন সমস্যা ও সুনির্দিষ্ট নানা দাবি তুলে ধরেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিবগঞ্জ বাজারের সামগ্রিক পরিবেশ উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে স্থানীয় যুবসমাজ ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে কাজ করা হবে।

শিবগঞ্জ বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো: সেকান্দর আলী তরফদার-এর সভাপতিত্বে এবং নবগঠিত ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: কামরুল তরফদার-এর পরিচালনায় সভায় গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন:

হাফিজুল ইসলাম স্বপন, সাধারণ সম্পাদক, শিবগঞ্জ বাজার পরিচালনা কমিটি,

ডা: মো: আ: মান্নান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, শিবগঞ্জ বাজার পরিচালনা কমিটি

মো: আ: মতিন শাহা ফকির, সাবেক সভাপতি, শিবগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতি

মো: ওয়াসিম মন্ডল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, শিবগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতি

মো: হযরত মন্ডল, বর্তমান সভাপতি, শিবগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতি

মো: আরিফ রাব্বানী, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক, শিবগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতি

বক্তারা শিবগঞ্জ বাজারের সার্বিক উন্নয়ন, ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শিবগঞ্জ বাজারের যুবসমাজের পক্ষে রিফাত আহমেদ রিজভী বক্তব্য রাখেন। তিনি যুবসমাজকে ক্রীড়া ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখতে শিবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি ঐতিহ্যবাহী ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব জানান।

সবশেষে, সকলের সার্বিক সহযোগিতা ও যৌথ প্রচেষ্টায় শিবগঞ্জ বাজারকে একটি আধুনিক ও ‘মডেল বাজার’ হিসেবে গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করে সভাপতি সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

অষ্টগ্রামে পূজা মণ্ডপের অর্থ নিয়ে বিরোধের অবসান, সমঝোতায় ৬ সদস্যের উপকমিটি

মোক্তার হোসেন গোলাপ।। প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪০ পিএম
অষ্টগ্রামে পূজা মণ্ডপের অর্থ নিয়ে বিরোধের অবসান, সমঝোতায় ৬ সদস্যের উপকমিটি

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে পূজা মণ্ডপের অর্থ সংক্রান্ত বিরোধ ও এ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির অবসান হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে সমঝোতার ভিত্তিতে পূজা পরিচালনা ও অনুদানের অর্থ সুষ্ঠুভাবে ব্যয় নিশ্চিত করতে ছয় সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) উপজেলা সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবনের মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাসের সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মজনু মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহীন, উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগর, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ অষ্টগ্রাম শাখার আহ্বায়ক দেবেশ চন্দ্র দাস ও সদস্যসচিব জীবন ময় শীল।

এ ছাড়া বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট অষ্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক অজিত দত্ত, বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট অষ্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক অসীম বনিকসহ বিভিন্ন পূজা মণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা সভায় অংশ নেন।

সভায় সংশ্লিষ্ট উভয় পক্ষের বক্তব্য ও সাক্ষীদের কথা শোনা হয়। পরে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানো হয়। পূজা পরিচালনা এবং অনুদানের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয়ের লক্ষ্যে সর্বসম্মতিক্রমে একটি ছয় সদস্যের উপকমিটি গঠন করা হয়।

উপকমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে জীবন ময় শীলকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অজিত দত্ত, অসীম বনিক, নজরুল ইসলাম সাগর, হেমচন্দ্র ঋষি দাস ও সুকুমার চন্দ্র দাস।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, এ সমঝোতার মাধ্যমে পূজা মণ্ডপের অর্থ সংক্রান্ত বিরোধের অবসান ঘটবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারবেন।

‎গৌরীপুরে প্রায় ১০ লাখ টাকার গাঁজাসহ কারবারি গ্রেপ্তার

‎গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
‎গৌরীপুরে প্রায় ১০ লাখ টাকার গাঁজাসহ কারবারি গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানা পুলিশ ৪৮ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে। উদ্ধারকৃত এই সুবিশাল চালানের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এক বিশেষ অভিযানে মাদক চক্রের এই মূলহোতাকে হাতেনাতে ধরে পুলিশ।

‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলা পুলিশ সুপার মোঃ কামরুল হাসানের সরাসরি নির্দেশনায় গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমানের নিরলস প্রচেষ্টায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সফল এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন গৌরীপুর থানার এসআই (নিঃ) মোস্তাফিজুর রহমান, সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স নিয়ে তিনি উজান কাশিয়ার চর (বালুর চর) এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চতুর আসামীরা পালানোর চেষ্টা করলেও বসতঘর থেকে আঃ সালাম নামের এক কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীকে ৪৮ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তবে একই চক্রের অপর সদস্য আল আমিন পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যায়।

‎স্থানীয় অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত সালাম ও পলাতক আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে বিশাল এই মাদকের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে আসছিল। সীমান্ত পেরিয়ে আসা মাদকের চালান জমা করে তারা জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দিত। এদিকে পুলিশের এই ঝটিকা ও সফল অভিযানে স্বস্তি ফিরে এসেছে স্থানীয় জনমনে। মাদক নির্মূলে থানা পুলিশের এমন জিরো টলারেন্স নীতি ও তীক্ষ্ণ নজরদারিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরো সুদৃঢ় হয়েছে।

‎ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, উদ্ধারকৃত বিশাল মাদকের চালানের বিষয়ে গ্রেপ্তারকৃত সালাম ও পলাতক আল আমিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পলাতক আসামী আল আমিনকে গেপ্তারে এবং এই চক্রের পেছনের মদদদাতাদের খুঁজে বের করতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।