শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে ময়মনসিংহে বিভাগীয় সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে ময়মনসিংহে বিভাগীয় সমাবেশ

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে ময়মনসিংহে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) দুপুর ২টায় নগরীর রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে আয়োজিত এ সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ইসলামী দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মুহাম্মদ মামুনুল হক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমীর আব্দুল কইয়ুম সোবহানী, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-এর চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের আমীর আব্দুল বাছিত আজাদ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. শাহাবউদ্দিন।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল করিম, মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা কামরুল হাসান এমরুল, মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সুজন এবং এনসিপির ময়মনসিংহ জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এটিএম মাহবুব উল আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং দেশের চলমান বিভিন্ন রাজনৈতিক ও জাতীয় ইস্যুতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

ময়মনসিংহে ক্লিনিকে চিকিৎসক ছাড়াই অস্ত্রোপচারের অভিযোগ, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৭:৩৮ পিএম
ময়মনসিংহে ক্লিনিকে চিকিৎসক ছাড়াই অস্ত্রোপচারের অভিযোগ, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়

ময়মনসিংহ নগরীর সেহড়া চামড়াগুদাম এলাকায় অবস্থিত স্বাধীন নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিবন্ধিত সার্জনের পরিবর্তে এক নারী অস্ত্রোপচারের কাজ করছেন এমন অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে পারভীন নামে এক নারী এক রোগীর অস্ত্রোপচারের সেলাইয়ের কাজ করছেন। ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি উপস্থিত চিকিৎসকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পারভীন একসময় ওই প্রতিষ্ঠানে আয়ার দায়িত্ব পালন করতেন। পরে তিনি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত হন। অভিযোগ রয়েছে, নিবন্ধিত এমবিবিএস সার্জনের উপস্থিতি ছাড়াই তিনি বিভিন্ন অস্ত্রোপচারে অংশ নেন।

এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ ছাড়াই অস্ত্রোপচার করা হয়। নার্সিং হোমটির প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র ও অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্বাস্থ্যসেবার মান, রোগীর নিরাপত্তা এবং বেসরকারি ক্লিনিক তদারকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ময়মনসিংহে মারধরের শিকার তরুণী, থানায় অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১১:০৮ পিএম
ময়মনসিংহে মারধরের শিকার তরুণী, থানায় অভিযোগ

ময়মনসিংহ নগরীর স্বদেশী বাজার এলাকায় এক তরুণীকে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আসমা আক্তার (২০) কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগে আসমা আক্তার উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় কোনো কাজ করতে পারছেন না এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রামে রয়েছেন। এ অবস্থায় ভাড়া-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একই এলাকার বাসিন্দা নাসরিন আক্তার, কাজল, আঁখি ও বাবুর সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগে বলা হয়, শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে নগরীর রমেশ সেন রোডের ২ নম্বর গেট এলাকায় অভিযুক্তরা তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করেন। একপর্যায়ে নাসরিন আক্তার তার তলপেটে লাথি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান।

এ ছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা পুনরায় তার ওপর হামলা চালায়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা তার বোন সুমিকেও মারধর করা হয়। এ সময় অভিযুক্তরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী রয়েছেন এবং সুষ্ঠু তদন্ত করলে ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটিত হবে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

কোতোয়ালী মডেল থানার পুলিশ জানায়, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নওগাঁয় মিথ্যা মামলা দায়ের করে উল্টো কারাদণ্ড, জেলহাজতে বাদী

এম. আনোয়ার হোসেন।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১০:৫২ এম
নওগাঁয় মিথ্যা মামলা দায়ের করে উল্টো কারাদণ্ড, জেলহাজতে বাদী

নওগাঁয় আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে নিজেই বিপাকে পড়েছেন শরিফুল ইসলাম ভুট্টু (৪৬) নামে এক ব্যক্তি। মামলার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে না পারায় উল্টো তাকেই কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে নওগাঁর ১ নম্বর আমলি আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-ইমরান এ আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত শরিফুল ইসলাম ভুট্টু নওগাঁ সদর উপজেলার চকগোয়ালী গ্রামের মৃত আহাদ আলী সরদারের ছেলে।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, শরিফুল ইসলাম ভুট্টু একই গ্রামের চারজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩৪২, ৩২৩, ৩৭৯ এবং ৫০৬(২)/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা গ্রহণের পর আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) নির্দেশ দেন।

ডিবি পুলিশ সরেজমিন তদন্ত ও অনুসন্ধান শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাদী ও বিবাদীদের মধ্যে পূর্বশত্রুতার জেরে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর বুধবার ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন আদালত। এ সময় অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-ইমরানের কাছে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে আদালত বাদীকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্বীকার করেন যে, মামলার অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া।

বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় (মিথ্যা মামলা দায়েরের অপরাধ) তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ সময় শরিফুল ইসলাম ভুট্টু নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাত দিনের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অনাদায়ে আরও তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাজা পরোয়ানামূলে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

আদালতের এ রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় আইনজীবী ও আইনজ্ঞরা। তাদের মতে, এ আদেশের মাধ্যমে আদালতে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক বার্তা দেওয়া হয়েছে। এটি বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।