বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

তাজিয়া ইসলামের মূল দর্শনের পরিপন্থী: আল্লামা ইমাম হায়াত

মঈনউদ্দিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১:৪৮ পিএম
তাজিয়া ইসলামের মূল দর্শনের পরিপন্থী: আল্লামা ইমাম হায়াত

ইসলামের মূলধারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের পুনরুজ্জীবনকারী, বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা এবং বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াত তাজিয়া মিছিলের বিরোধিতা করে বলেছেন, মহররম হলো ঈমানি শোক, মহান কারবালার শাহাদাতের স্মরণ এবং সেই শাহাদাতের লক্ষ্য বাস্তবায়নে জীবনপণ অঙ্গীকারের মাস।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মহররম মাসে কৃত্রিম কাঠামো নির্মাণ করে পবিত্র স্থান বা ব্যক্তিত্বের প্রতীকী উপস্থাপন ইসলামের মূল দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর ভাষায়, তাজিয়া হলো প্রতীকী মাজার বা কবর নির্মাণের একটি প্রথা, যা তিনি ইসলাম পরিপন্থী বলে মনে করেন।

আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, “তাজিয়া মানে বাতিল শিয়াবাদ। তাজিয়া মানে পবিত্র আহলে রাসুল (আ.)-এর অবমাননা।” তাঁর মতে, তাজিয়ার মাধ্যমে শোক প্রকাশ প্রকৃত মহব্বতের প্রকাশ নয়; বরং এটি আহলে বাইত (আ.)-এর প্রতি বেয়াদবি এবং মুসলিম সমাজকে বিভ্রান্ত করার একটি মাধ্যম।

তিনি আরও বলেন, ইসলামে কৃত্রিমতা বা প্রতীকী উপাসনার কোনো স্থান নেই। নকল মাজার বা কৃত্রিম কাঠামো নির্মাণ করে আসল পবিত্র স্থান ও ব্যক্তিত্বের মর্যাদাকে খাটো করা ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শের পরিপন্থী।

আল্লামা ইমাম হায়াতের মতে, তাজিয়া ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু আচার-অনুষ্ঠান ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। তিনি এসব কর্মকাণ্ডকে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ঈমানি চেতনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে তিনি ১০ মহররম, তথা শাহাদাতে কারবালা দিবস যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ দিনকে শুধু আশুরা হিসেবে নয়, বরং “মুসলিম মিল্লাতের মহান জাতীয় ঈমানি শহীদ দিবস” এবং “মানবতার মুক্তির মহাশাহাদত দিবস” হিসেবে স্মরণ করা উচিত।

তিনি তাজিয়া ও অন্যান্য প্রতীকী আয়োজন পরিহার করে কারবালার প্রকৃত শিক্ষা, সত্য, ন্যায়, ঈমান, মানবিক মর্যাদা ও জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রামের চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান জানান। এ লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ র‍্যালি, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, “হকের দুশমন বাগি, মুনাফিক ও জালিমদের আদর্শ যেমন বাতিল, তেমনি শিয়াবাদও বাতিল। তাজিয়া বা পবিত্র আহলে রাসুল (আ.)-এর নামে নির্মিত নকল মাজার ও মণ্ডপ তাঁদের শানে চরম বেয়াদবি এবং ইসলামের প্রকৃত চেতনার পরিপন্থী।”

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, কারবালার শিক্ষা হলো সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকা। মুসলিম উম্মাহকে বিভেদ ও কৃত্রিম আচার-অনুষ্ঠান থেকে দূরে থেকে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে হবে।

সবশেষে তিনি বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব আয়োজিত আগামী ১০ মহররমের শাহাদাতে কারবালা দিবস উপলক্ষে ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে দেশবাসী, বিশেষ করে ঈমানদার নারী-পুরুষকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

‎ময়মনসিংহে ড্রামের ভেতর অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৩ পিএম
‎ময়মনসিংহে ড্রামের ভেতর অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

‎ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি সুইজগেইট এলাকায় পানিতে ভাসতে থাকা একটি ড্রামের ভেতর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি পুরুষ; তাঁর বয়স আনুমানিক ৫০ বছর বলে জানিয়েছে পুলিশ।

‎বুধবার সকালে স্থানীয় লোকজন পানিতে একটি ড্রাম ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে কোতোয়ালী মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রামটি উদ্ধার করে। ড্রামের ভেতর থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ পাওয়া যায়।‎

‎কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, নিহতের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

‎ওসি বলেন, ‘হত্যার পর মরদেহ ড্রামের ভেতর ভরে ফেলে রাখা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’ তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

‎পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে মরদেহটি কীভাবে ড্রামের ভেতরে গেল এবং এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

কর্মঘণ্টায় প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে যুক্ত থাকার অভিযোগ গফরগাঁও সরকারি কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

রাকিবুল হাসান আহাদ, বিশেষ প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
কর্মঘণ্টায় প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে যুক্ত থাকার অভিযোগ গফরগাঁও সরকারি কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

ময়মনসিংহের গফরগাঁও সরকারি কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শওকত আলীর বিরুদ্ধে সরকারি কলেজের কর্মঘণ্টায় বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন, কোচিং সেন্টার ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রচার-প্রচারণা ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি পাওয়া বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ, বিজ্ঞাপনী লিফলেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্ট ও ছবিতে তাঁর এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ‘জব কেয়ার কোচিং সেন্টার’ নামে চাকরিপ্রত্যাশীদের একটি কোচিং সেন্টারের ব্যানারে ‘সার্বিক তত্ত্বাবধানে’ ৩৬তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তা ও গফরগাঁও সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. শওকত আলীর নাম ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘MD Shoukat Ali’ নামের একটি আইডি থেকে ‘শহীদ ক্যাডেট একাডেমি (গফরগাঁও শাখা)’ ও ‘জব কেয়ার কোচিং সেন্টার’-এর বিভিন্ন ব্যাচ, হস্তলিপি প্রশিক্ষণ ও ভর্তি কার্যক্রমের প্রচারণামূলক পোস্ট নিয়মিত শেয়ার করার অভিযোগ রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতেও তাঁকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ ও বিভিন্ন কার্যক্রম তদারকিতে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে সরকারি কলেজের কর্মঘণ্টায় ক্লাস বাদ দিয়ে বাইরে পাঠদান বা নিয়মিত কোনো প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারী অধ্যাপক মো. শওকত আলী।

এসব তথ্য ও ছবি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি শহীদ ক্যাডেট একাডেমি (গফরগাঁও শাখা)-এর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে আছি। আমি সেখানে কোনো নিয়মিত ক্লাস নিই না। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে কেবল পরীক্ষা বা তদারকির প্রয়োজনে উপস্থিত ছিলাম এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনা কমিটিতে থেকে প্রতিষ্ঠানটি দেখভাল করছি।’

কলেজের ক্লাস বাদ দিয়ে বাইরে পড়ানোর অভিযোগের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কলেজের ক্লাস শিডিউল ও সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে।’

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে গফরগাঁও সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ইউসুফ মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, ওই শিক্ষককে এ বিষয়ে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। অভিযোগ ও প্রাপ্ত অডিও-ছবি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তাঁকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

অধ্যক্ষ বলেন, সরকারি কলেজের শিক্ষক হিসেবে কর্মঘণ্টার মধ্যে কোনো বাণিজ্যিক বা প্রাইভেট কোচিং কিংবা একাডেমির সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ও দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট সময়ের কলেজের ক্লাস রুটিন, উপস্থিতির তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলদের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফুলবাড়ীয়ায় নারী ফুটবলারদের সংবর্ধনা ও শিক্ষা সামগ্রী প্রদান

রিফাত আহমেদ রিজভী, স্টাফ রিপোর্টার।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ পিএম
ফুলবাড়ীয়ায় নারী ফুটবলারদের সংবর্ধনা ও শিক্ষা সামগ্রী প্রদান

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক উইমেন্স গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-এ অসাধারণ ও সাহসী নৈপুণ্য প্রদর্শন করায় ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা প্রদান করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সাথে নারী ফুটবলারদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে বিশেষ শিক্ষা সামগ্রী।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ময়মনসিংহ জেলা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের খেলায় অংশ নেয় ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নারী ফুটবল দল। কে এন বি এস যুব ফুটবল একাডেমির পরিচালক সার্জন বিপ্লবের কোচিং ও নির্দেশনায় পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত ফুটবল খেলা উপহার দেয় দলের মেয়েরা। অত্যন্ত টানটান উত্তেজনার ম্যাচটিতে টাইব্রেকারে মাত্র ১ গোলের ব্যবধানে ফুলবাড়ীয়া দল পরাজিত হলেও, খেলোয়াড়দের অদম্য সাহসিকতা ও মাঠের পারফরম্যান্স জেলা জুড়ে সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।

খেলোয়াড়দের এই উদ্যম ও অদম্য সাহসিকতাকে উৎসাহিত করতে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) স্বউদ্যোগে তাঁর কার্যালয়ে এই সংবর্ধনার আয়োজন করেন। এ সময় তিনি বিজয়ী মনোভাব নিয়ে লড়াই করা নারী ফুটবলারদের হাতে বিশেষ স্মারক উপহার হিসেবে শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেন।

শিক্ষা সামগ্রী প্রদানকালে ইউএনও তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ফুটবলারদের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, মাঠের এই লড়াই ও সাহস আমাদের গর্বিত করেছে। একই সাথে ক্রীড়া ক্ষেত্রের সাফল্যের পাশাপাশি লেখাপড়ার প্রতি সমানভাবে মনোযোগ প্রদান করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি খেলোয়াড়দের প্রতি আহ্বান জানান।

সংবর্ধনা ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মোঃ ইমরান হাসান এবং ক্রীড়া সংস্থার সদস্য রমি সরকার উপস্থিত ছিলেন।