তাজিয়া ইসলামের মূল দর্শনের পরিপন্থী: আল্লামা ইমাম হায়াত
ইসলামের মূলধারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের পুনরুজ্জীবনকারী, বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা এবং বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াত তাজিয়া মিছিলের বিরোধিতা করে বলেছেন, মহররম হলো ঈমানি শোক, মহান কারবালার শাহাদাতের স্মরণ এবং সেই শাহাদাতের লক্ষ্য বাস্তবায়নে জীবনপণ অঙ্গীকারের মাস।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মহররম মাসে কৃত্রিম কাঠামো নির্মাণ করে পবিত্র স্থান বা ব্যক্তিত্বের প্রতীকী উপস্থাপন ইসলামের মূল দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর ভাষায়, তাজিয়া হলো প্রতীকী মাজার বা কবর নির্মাণের একটি প্রথা, যা তিনি ইসলাম পরিপন্থী বলে মনে করেন।
আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, “তাজিয়া মানে বাতিল শিয়াবাদ। তাজিয়া মানে পবিত্র আহলে রাসুল (আ.)-এর অবমাননা।” তাঁর মতে, তাজিয়ার মাধ্যমে শোক প্রকাশ প্রকৃত মহব্বতের প্রকাশ নয়; বরং এটি আহলে বাইত (আ.)-এর প্রতি বেয়াদবি এবং মুসলিম সমাজকে বিভ্রান্ত করার একটি মাধ্যম।
তিনি আরও বলেন, ইসলামে কৃত্রিমতা বা প্রতীকী উপাসনার কোনো স্থান নেই। নকল মাজার বা কৃত্রিম কাঠামো নির্মাণ করে আসল পবিত্র স্থান ও ব্যক্তিত্বের মর্যাদাকে খাটো করা ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শের পরিপন্থী।
আল্লামা ইমাম হায়াতের মতে, তাজিয়া ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু আচার-অনুষ্ঠান ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। তিনি এসব কর্মকাণ্ডকে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ঈমানি চেতনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে তিনি ১০ মহররম, তথা শাহাদাতে কারবালা দিবস যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ দিনকে শুধু আশুরা হিসেবে নয়, বরং “মুসলিম মিল্লাতের মহান জাতীয় ঈমানি শহীদ দিবস” এবং “মানবতার মুক্তির মহাশাহাদত দিবস” হিসেবে স্মরণ করা উচিত।
তিনি তাজিয়া ও অন্যান্য প্রতীকী আয়োজন পরিহার করে কারবালার প্রকৃত শিক্ষা, সত্য, ন্যায়, ঈমান, মানবিক মর্যাদা ও জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রামের চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান জানান। এ লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ র্যালি, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, “হকের দুশমন বাগি, মুনাফিক ও জালিমদের আদর্শ যেমন বাতিল, তেমনি শিয়াবাদও বাতিল। তাজিয়া বা পবিত্র আহলে রাসুল (আ.)-এর নামে নির্মিত নকল মাজার ও মণ্ডপ তাঁদের শানে চরম বেয়াদবি এবং ইসলামের প্রকৃত চেতনার পরিপন্থী।”
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, কারবালার শিক্ষা হলো সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকা। মুসলিম উম্মাহকে বিভেদ ও কৃত্রিম আচার-অনুষ্ঠান থেকে দূরে থেকে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে হবে।
সবশেষে তিনি বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব আয়োজিত আগামী ১০ মহররমের শাহাদাতে কারবালা দিবস উপলক্ষে ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে দেশবাসী, বিশেষ করে ঈমানদার নারী-পুরুষকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।














