শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ত্রিশালে ধর্ষণ মামলার বাদীকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৫:৫৯ পিএম
ত্রিশালে ধর্ষণ মামলার বাদীকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

ময়মনসিংহের ত্রিশালে ধর্ষণ মামলার এক বাদীকে প্রকাশ্যে গতিরোধ করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী নারী। আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পরও তার সহযোগীদের এমন কর্মকাণ্ডে বিচারপ্রাপ্তি নিয়ে শঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন ওই নারী।

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে ত্রিশাল থানায় দায়ের করা জিডি ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০২৫) এর ৯(১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামি মো. শামীম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামি গ্রেপ্তারের পর থেকেই ইমাম মেহেদী শ্যামল (৩৮) নামের এক ব্যক্তি এবং তার নেতৃত্বে কয়েকজন বাদীকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে আসছেন।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, বিবাদীরা বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে একাধিকবার ফোন করে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। সর্বশেষ গত ৩১ মে দুপুর ৩টার দিকে ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ইউনাইটেড বাস কাউন্টারের সামনে তাকে গতিরোধ করেন ইমাম মেহেদী শ্যামল ও তার সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তি। এ সময় মামলা প্রত্যাহার না করলে তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের হস্তক্ষেপে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, “আইনের আশ্রয় নেওয়ার কারণে আমি এখন আসামিপক্ষের লোকজনের রোষানলে পড়েছি। তারা প্রকাশ্যে আমাকে হুমকি দিচ্ছে। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিচারাধীন মামলার বাদী বা সাক্ষীকে হুমকি দেওয়া বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা এবং আইনের প্রতি চরম অবমাননার শামিল। দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ন্যায়বিচার ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ময়মনসিংহে মাদকবিরোধী অভিযানে ৮০ কেজি গাঁজা উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৪:৫৮ পিএম
ময়মনসিংহে মাদকবিরোধী অভিযানে ৮০ কেজি গাঁজা উদ্ধার

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শিবিরুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৮০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার কাঠগোলা বাজার সংলগ্ন গলগন্ডা কবরস্থানের পেছনে ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত ৮০ কেজি গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৪ লাখ টাকা। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ময়মনসিংহে সরকারি শিশু সদন (বালক) পরিদর্শনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৬:৫৫ পিএম
ময়মনসিংহে সরকারি শিশু সদন (বালক) পরিদর্শনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত সরকারি শিশু সদন (বালক) পরিদর্শন করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কার্যক্রম, শিশুদের আবাসন ব্যবস্থা, শিক্ষা ও কল্যাণসেবার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি সেখানে অবস্থানরত শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা ও জীবনমান উন্নয়নে গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত হন।

এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং শিশুদের কল্যাণে আরও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন শাকিল, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পরিদর্শন শেষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী শিশুদের সার্বিক উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সুরক্ষা ও বিকাশে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ময়মনসিংহ জেলায় শ্রেষ্ঠ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন

আরিফ রব্বানী, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৫:২৭ পিএম
ময়মনসিংহ জেলায় শ্রেষ্ঠ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন

প্রশাসনিক দক্ষতা, সততা, নিষ্ঠা এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নিরলস প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’-এ ময়মনসিংহ জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (টিইও) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন। এ গৌরবময় অর্জন তার সাফল্যের মুকুটে নতুন পালক যুক্ত করেছে।

বুধবার (৩ জুন) বিকেলে প্রাথমিক শিক্ষা পদক বাছাই কমিটির সভা শেষে কমিটির সভাপতি ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান এবং সদস্য সচিব ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আবু ইউসুফ খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

মনিকা পারভীন ২০২৩ সালের ১৯ জানুয়ারি ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি জেলার গৌরীপুর উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে তার কর্মদক্ষতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বে শিক্ষা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন।

জানা গেছে, কর্মস্থলে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে অনন্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ জেলা বাছাই কমিটি তাকে এ সম্মাননায় ভূষিত করেছে।

পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা, সততা এবং বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্বের এই স্বীকৃতি অর্জনের পর তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সহকর্মী, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং স্থানীয় সুধীজন।

স্থানীয় সচেতন মহলের বিশ্বাস, এ সম্মাননা প্রাপ্তির পর তার নেতৃত্বে সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ হবে।

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, একজন সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তা হিসেবে মনিকা পারভীনের এই স্বীকৃতি শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি সমগ্র ময়মনসিংহ সদর উপজেলার শিক্ষা পরিবারের জন্যও একটি বড় প্রাপ্তি। তার এই সাফল্য অন্যান্য কর্মকর্তাদেরও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করবে।

জেলায় শ্রেষ্ঠ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় অনুভূতি প্রকাশ করে মনিকা পারভীন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, “এই স্বীকৃতি আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলবে। কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করেছি। সে প্রচেষ্টার স্বীকৃতি পেয়েছি, যা সত্যিই আনন্দের। তবে আজকের এই অর্জন আমি পুরো ময়মনসিংহ সদরবাসীর বলে মনে করি।”

তিনি আরও বলেন, “সদর উপজেলার শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ভাষা চর্চা ক্লাস চালু করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক ক্লাব কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শিশু শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য উপজেলার প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, প্রাত্যহিক সমাবেশ ও খেলাধুলার আয়োজন করা হচ্ছে। আমার এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

এদিকে, সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হচ্ছে।