সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ট্রফির সঙ্গে বিজয়ীদের হাতে গাছের চারা

গৌরীপুরে ইছুলিয়া ও হাটশিড়া গ্রামের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, গৌরিপুর।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ৭:৩৫ পিএম
গৌরীপুরে ইছুলিয়া ও হাটশিড়া গ্রামের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ইছুলিয়া ও হাটশিড়া গ্রামের যুবসমাজের উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করা এবং গ্রামে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে এ ম্যাচের আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ইছুলিয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের পেছনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত স্থানীয় সামাজিক সংগঠন স্বপ্নসিঁড়ি ফ্রেন্ডস ক্লাব।

খেলায় ইছুলিয়া ও হাটশিড়া গ্রামের একঝাঁক প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় অংশ নেন। টানটান উত্তেজনায় ভরপুর ম্যাচটি উপভোগ করতে মাঠের চারপাশে ভিড় জমান স্থানীয় ক্রীড়ামোদী দর্শকরা। দুই দলের খেলোয়াড়দের দুর্দান্ত ড্রিবলিং, নিখুঁত পাসিং ও আক্রমণাত্মক ফুটবল শৈলী উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। নির্ধারিত সময়ে উভয় দলই দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা উপহার দেয়।

খেলা শেষে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এবারের ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ব্যতিক্রমধর্মী পুরস্কার ব্যবস্থা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করতে বিজয়ী ও রানার্স-আপ দলের জন্য ট্রফির পাশাপাশি রাখা হয় বিভিন্ন গাছের চারা।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আয়োজক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের হাতে জমকালো চ্যাম্পিয়ন ট্রফির পাশাপাশি সবুজ গাছের চারা তুলে দেন। এ সময় দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুবসমাজকে মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রেখে মাঠমুখী করা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই ট্রফির সঙ্গে গাছের চারা পুরস্কার দেওয়ার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ইতিবাচক ও পরিবেশবান্ধব ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ময়মনসিংহে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪ ঘর বিক্রির অভিযোগ

সোহেল মিয়া, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৭ পিএম
ময়মনসিংহে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪ ঘর বিক্রির অভিযোগ

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৩নং বোররচর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ঘর বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গুচ্ছগ্রামের মোট আটটি ঘরের মধ্যে চারটি ইতিমধ্যে বিক্রি করে দিয়েছেন বরাদ্দ পাওয়া সুবিধাভোগীরা। প্রতিটি ঘর ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে অন্যদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভূমিহীন, গৃহহীন ও অসহায় মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে সরকার এসব ঘর নির্মাণ করে বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া কয়েকজন সুবিধাভোগী অন্যত্র চলে গিয়ে তাঁদের নামে বরাদ্দ করা ঘর অন্যদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ঘর বরাদ্দ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা। অথচ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাবলম্বী থাকা সত্ত্বেও কেউ কেউ প্রভাব খাটিয়ে এসব ঘর বরাদ্দ নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে সেই ঘর অন্যের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর অসহায় মানুষের স্থায়ী আবাসনের জন্য দেওয়া হয়েছে। এসব ঘর ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো বিক্রি বা হস্তান্তর করা হলে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হবেন। তাই ঘর বরাদ্দের প্রক্রিয়া, সুবিধাভোগীদের যোগ্যতা এবং ঘর বিক্রির অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এলাকাবাসী আরও বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি ঘরের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রি করা আইনত অপরাধ। যাঁদের নামে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, কেবল তাঁরাই সেখানে বসবাস করতে পারবেন। এসব ঘর বিক্রি বা হস্তান্তরের সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে অভিযোগে উল্লিখিত ঘরগুলোর বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি, বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং লেনদেনের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

মিঠামইনে সততার দৃষ্টান্ত আব্দুর রউফ, ফেরত দিলেন কুড়িয়ে পাওয়া ৩৮ হাজার টাকা

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন।। প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৭ পিএম
মিঠামইনে সততার দৃষ্টান্ত আব্দুর রউফ, ফেরত দিলেন কুড়িয়ে পাওয়া ৩৮ হাজার টাকা

সততা ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ। কুড়িয়ে পাওয়া ৩৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ না করে প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন তিনি। তাঁর এমন দায়িত্বশীল আচরণ স্থানীয় মানুষের মধ্যে সততা ও নৈতিকতার ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর সকালে মিঠামইন উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের বাসিন্দা কুদ্দুস মিয়া ৩৮ হাজার টাকা নিয়ে বাজারে আসেন। এ সময় অসাবধানতাবশত তাঁর টাকার বান্ডিলটি হারিয়ে যায়। পরে একটি ঘরে পড়ে থাকা টাকার বান্ডিলটি কুড়িয়ে পান সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ।

টাকা পাওয়ার পর তিনি তা নিজের কাছে রেখে দেওয়ার পরিবর্তে প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন। একপর্যায়ে টাকার মালিক কুদ্দুস মিয়াকে শনাক্ত করে পুরো ৩৮ হাজার টাকা তাঁর হাতে ফিরিয়ে দেন।

নিজের এই কাজের বিষয়ে আব্দুর রউফ বলেন, “পরের টাকার ওপর আমার মোটেও লোভ নেই। পৃথিবীতে এসেছি খালি হাতে, আবার পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যাব খালি হাতে। আমি মনে করি, সবার মধ্যেই সততা থাকা প্রয়োজন।”

আব্দুর রউফের এই সততার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশংসার সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও তাঁর এমন উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাঁদের মতে, হারানো টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার এই ঘটনা সমাজে নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরে।

ঘাগড়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা মনে করেন, বর্তমান সময়ে ব্যক্তিস্বার্থ ও লোভের ঊর্ধ্বে উঠে এমন কাজ নতুন প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয়। কুড়িয়ে পাওয়া অর্থের প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করে তা ফিরিয়ে দেওয়া নিঃসন্দেহে অনুকরণীয় উদ্যোগ।

হারানো কষ্টার্জিত টাকা ফিরে পেয়ে কুদ্দুস মিয়া যেমন স্বস্তি পেয়েছেন, তেমনি আব্দুর রউফের এই উদ্যোগ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও মানবিকতার বার্তা দিয়েছে। তাঁর এই কাজ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের প্রকৃত পরিচয় শুধু সম্পদে নয়, সততা ও নৈতিকতার মধ্যেও নিহিত।

হালুয়াঘাটে এনএসআইয়ের বিশেষ অভিযান, ভারতীয় ছয়টি চোরাই গরু আটক

মাহফুজ আলম, হালুয়াঘাট।। প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৯ পিএম
হালুয়াঘাটে এনএসআইয়ের বিশেষ অভিযান, ভারতীয় ছয়টি চোরাই গরু আটক

ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট উপজেলার উত্তর পলাশতলা এলাকা থেকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) বিশেষ অভিযানে ভারতীয় ছয়টি চোরাই গরু আটক করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে গরু প্রবেশ ও বাণিজ্য বন্ধে গোয়েন্দা নজরদারির অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উত্তর পলাশতলা এলাকা থেকে ভারতীয় ছয়টি গরু আটক করা হয়।

সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা ও নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের অভিযান অবৈধ পণ্য ও গবাদিপশু পাচার রোধে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানিয়েছে, জনস্বার্থে চোরাচালানবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।