রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

ময়মনসিংহে চশমে রহমত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করলেন এমপি ওয়াহাব আকন্দ

আরিফ রব্বানী, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৪:০৯ পিএম
ময়মনসিংহে চশমে রহমত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করলেন এমপি ওয়াহাব আকন্দ

ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর বাস্তবায়নে ১ কোটি ৮৯ লাখ ৩৫ হাজার ৪৪৫ টাকা ব্যয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারতলা ভিতবিশিষ্ট নতুন শ্রেণিকক্ষ ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১১টায় চাহিদাভিত্তিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের চশমে রহমত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন চারতলা বিশিষ্ট আধুনিক ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও আনন্দমুখর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা শুধু পাঠদান নয়, বরং একটি শিশুর সামগ্রিক বিকাশের ভিত্তি। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার একটি যুগোপযোগী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্মার্ট প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারুন অর রশিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ সদর উপজেলার প্রকৌশলী রাকিব উল হাফিজ এবং চশমে রহমত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নিবেদিতা চক্রবর্তীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এমপি বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষার মানোন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি এবং এর ভিত্তি তৈরি হয় প্রাথমিক স্তর থেকেই। তাই বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও মানোন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নতুন ভবন নির্মিত হলে এ এলাকার শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার মান আগের চেয়ে আরও উন্নত হবে।

শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদের দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরে সংসদ সদস্য বলেন, “এই স্কুলগুলো আপনাদের কমিউনিটির সম্পদ। তাই এগুলো দেখভাল করে রাখার দায়িত্বও আপনাদের। স্কুলের পরিবেশ যেন ভালো থাকে এবং বিদ্যালয়গুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হতে পারে, সে জন্য আপনাদের সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও যথাযথ দায়িত্ব পালন করবেন।

এ সময় সংসদ সদস্য বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং সেগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন।

এর আগে জাতীয় সংসদ সদস্য বিদ্যালয়ে পৌঁছালে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ, প্রধান শিক্ষিকা নিবেদিতা চক্রবর্তীসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ।

ময়মনসিংহে ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১:৩১ পিএম
ময়মনসিংহে ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

ময়মনসিংহে এক নারীর বিরুদ্ধে ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে কয়েকজন ব্যক্তিকে হয়রানি এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হিসেবে দাবি করা কয়েকজন ব্যক্তি প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, ওই নারী বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের পর তাদের ব্যক্তিগত তথ্য বা পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে চাপ সৃষ্টি এবং ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কয়েকটি পরিবারে বিরোধ ও দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নারীর বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী হিসেবে দাবি করা ব্যক্তিদের অভিযোগ, বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে এ ধরনের হয়রানি বন্ধ হতে পারে।

এদিকে, সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তা সত্য ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণের পরই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

গফরগাঁও-মাওনা সড়ক প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণে হরিলুটের অভিযোগ, নেপথ্যে অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশের দাবি

শিবলী সাদিক খান।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
গফরগাঁও-মাওনা সড়ক প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণে হরিলুটের অভিযোগ, নেপথ্যে অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশের দাবি

ময়মনসিংহের গফরগাঁও-মাওনা সড়ক প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের আওতাভুক্ত বিভিন্ন মৌজায় ভুয়া কাগজপত্র, কৃত্রিম স্থাপনা ও অধিগ্রহণের সীমানার বাইরে থাকা স্থাপনা দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের সরকারি ক্ষতিপূরণ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, চক্রটির সঙ্গে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমের সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিকদের অভিযোগ, দ্রুত ক্ষতিপূরণের টাকা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে ভূমি ও স্থাপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে দালাল চক্র। পরে কৌশলে ৮ ধারার নোটিশে নিজেদের বা নিজেদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে কৃত্রিম স্থাপনা ও কথিত ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। এতে প্রকৃত ভূমির মালিকেরা যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তেমনি সরকারের বিপুল অর্থ অপচয় ও আত্মসাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অনুসন্ধানে পাওয়া অভিযোগ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গফরগাঁও-মাওনা সড়ক প্রকল্পের ২০২৪ সালের এলএ কেস নম্বর-১০-এর আওতাধীন তললি মৌজায় একটি মুরগির খামার দেখিয়ে প্রায় ৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ভূমি অধিগ্রহণের আগে সেখানে ওই খামারের অস্তিত্ব ছিল না। অধিক ক্ষতিপূরণ আদায়ের উদ্দেশ্যে অধিগ্রহণ কার্যক্রমের সময় রাতারাতি বাঁশ দিয়ে খামারটি তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ঘটনায় ভূমির মালিক হাদিউল এবং দালাল হিসেবে অভিযুক্ত ফেরদৌসসহ একটি চক্র জড়িত। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

একই প্রকল্পের পুরাদিয়ারটেক মৌজায় একটি ডিপ টিউবওয়েলের ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় দেড় কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় ফেরদৌস ও নুরুল আমিনসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের নাম রয়েছে। অন্যদিকে একই প্রকল্পের সাদুয়া মৌজায় আরেকটি ডিপ টিউবওয়েলের জন্য ৫০ লাখ টাকার কম ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই ধরনের স্থাপনার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের অঙ্কে এত বড় ব্যবধান কেন তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফেরদৌস, জালাল মাস্টার, কামরুল, আক্তারুল আলমসহ কয়েকজন এবং পাঁচ নারীসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভূমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, চক্রটি প্রথমে প্রকৃত ভূমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে নানা জটিলতা ও হয়রানির ভয় দেখায়। এরপর আগাম অর্থের বিনিময়ে দালালদের নিজেদের লোক বা অংশীদার হিসেবে দেখিয়ে ভূমি ও স্থাপনার কাগজপত্র তৈরি করা হয়।

পরবর্তী সময়ে এসব কাগজপত্রের ভিত্তিতে ৮ ধারার নোটিশে দালাল চক্রের সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর কৃত্রিম স্থাপনা, পুকুর, জলাশয়, খাল ও অন্যান্য অবকাঠামো দেখিয়ে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ এবং তা উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন মৌজায় একই কৌশলে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কিছু অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে এবং আরও কয়েকটি ফাইল হালনাগাদ করে ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়া চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

শুধু ভুয়া কাগজপত্র বা কৃত্রিম স্থাপনাই নয়, প্রকল্পের অধিগ্রহণের সীমানার বাইরে থাকা স্থাপনা, পুকুর ও জলাশয়কে অধিগ্রহণের আওতাভুক্ত দেখিয়ে ক্ষতিপূরণ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকল্পের মূল নকশা, অধিগ্রহণের সীমানা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র মিলিয়ে দেখা হলে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের আগে ও পরে স্থাপনার ছবি, পরিমাপের নথি এবং মূল্যায়ন প্রতিবেদন যাচাই করলেই কথিত কৃত্রিম স্থাপনা তৈরির বিষয়টিও স্পষ্ট হতে পারে।

সচেতন মহলের মতে, ভূমি অধিগ্রহণের ৮ ধারার নোটিশ, ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের তালিকা, চেক বিতরণের রেজিস্টার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক লেনদেনের তথ্য পর্যালোচনা করা হলে প্রকৃত মালিকের পরিবর্তে কারা ক্ষতিপূরণের অর্থ পেয়েছেন, তার একটি পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যেতে পারে।

অভিযোগকারীদের দাবি, গফরগাঁও-মাওনা সড়ক প্রকল্পেই শুধু নয়, ময়মনসিংহ ও গাজীপুর জেলার অতীতের বিভিন্ন ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্পেও একই ধরনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় ছিল।

তাদের ভাষ্য, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের অর্থ পেতে নানা হয়রানি ও জটিলতার ভয় দেখিয়ে দালাল চক্র তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। পরে পরিবারের ঘনিষ্ঠজন বা অংশীদার হিসেবে নিজেদের লোকদের কাগজপত্রে অন্তর্ভুক্ত করে ক্ষতিপূরণের অর্থের অংশ নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, কোথাও কোথাও দালালদের নাম ৮ ধারার নোটিশে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের নামেই চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।

এতে প্রকৃত মালিকেরা তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের অর্থেরও ব্যাপক অপচয় হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কথিত দালাল চক্র নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে। তাদের নাম ভাঙিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়। ফলে সাধারণ ভূমির মালিকদের মধ্যে এক ধরনের ভয় ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেক ভুক্তভোগী হয়রানি বা ক্ষতির আশঙ্কায় প্রকাশ্যে অভিযোগ করতেও সাহস পান না বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্তদের। এতে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিক ও সচেতন মহলের দাবি, গফরগাঁও-মাওনা সড়ক প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম নিয়ে উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। তদন্তের আওতায় আনতে হবে ৮ ধারার নোটিশ, ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের প্রক্রিয়া, স্থাপনার মূল্যায়ন, চেক বিতরণের তালিকা, ব্যাংক লেনদেন এবং প্রকল্পের অধিগ্রহণের মূল নকশা।

একই সঙ্গে অধিগ্রহণের সীমানার বাইরে থাকা কোনো স্থাপনা বা জলাশয়কে ক্ষতিপূরণের আওতায় আনা হয়েছে কি না, কৃত্রিম স্থাপনা তৈরি করে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে কি না এবং প্রকৃত মালিকের পরিবর্তে অন্য কেউ ক্ষতিপূরণের অর্থ পেয়েছেন কি না এসব বিষয়ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তি, দালাল চক্র এবং তাদের সহযোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আত্মসাৎ বা অপচয় হওয়া সরকারি অর্থ উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এদিকে, ভূমি অধিগ্রহণ অফিসে দালালদের ব্যাপারে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টানানো হলেও অভিযোগে উল্লিখিত কয়েকজনকে ওই অফিসে নিয়মিত যাতায়াত করতে দেখা যায় বলে স্থানীয়দের দাবি। প্রকল্পটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী বর্তমানে বদলিজনিত কারণে অন্যত্র কর্মরত থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি, ভূমি অধিগ্রহণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। গফরগাঁও-মাওনা সড়ক প্রকল্পের অন্যান্য মৌজায় ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়ম, ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে অসঙ্গতি এবং কথিত দালাল চক্রের তৎপরতার তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

পাহাড়ি ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর ‘অনগ্রসর’ পরিচয় মুছে দিতে কাজ করছে সরকার: ডেপুটি স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৬ পিএম
পাহাড়ি ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর ‘অনগ্রসর’ পরিচয় মুছে দিতে কাজ করছে সরকার: ডেপুটি স্পিকার

পাহাড়ি ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়ন ও স্বাবলম্বী করে তুলতে সরকার নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, এ অঞ্চলের মানুষের নামের আগে ব্যবহৃত ‘অনগ্রসর’ শব্দটি দূর করে তাদের সমতলের মানুষের সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে নেওয়াই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাস্তবায়নাধীন ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে বাইসাইকেল ও সেলাই মেশিন বিতরণ, উপবৃত্তি প্রদান এবং মানবিক সহায়তা তহবিল থেকে রোগীদের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সারা দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। সেখানে গারো, হাজং, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান কোনো পরিচয় বিবেচ্য ছিল না; সবাই ছিলেন বাংলাদেশি। পরবর্তী সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও সেই ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নীতি অনুসরণ করে পাহাড় ও সমতলের সব জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু উপবৃত্তি বা বাইসাইকেল প্রদান নয়, নারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন বিতরণ, গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ এবং পাহাড়ি অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে আত্মনির্ভরশীল করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে তাদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করতেও সরকার কাজ করছে।

পাহাড়ি এলাকায় সুপেয় পানির সংকট প্রসঙ্গে কায়সার কামাল বলেন, কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরে প্রায় ৫০০ ফুট গভীর ২৫টি নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেসব স্থানে নলকূপ স্থাপন সম্ভব নয়, সেখানে বিকল্প উপায়ে নিরাপদ পানি সরবরাহের বিষয়েও কাজ চলছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন নিরাপদ পানি প্রকল্পের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কলমাকান্দায় প্রায় ৪২টি সাবমার্সিবল টিউবওয়েল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কোথায় এসব টিউবওয়েলের প্রয়োজন বেশি, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে মাঠপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, গির্জা, বিদ্যালয়সহ জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী স্থানে এসব টিউবওয়েল স্থাপন করা হবে।

ফ্ল্যাশ ফ্লাড প্রসঙ্গে ডেপুটি স্পিকার বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের নিয়ন্ত্রণে নয়। তবে বন্যার কারণে যাতে জনবসতিতে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়, সে জন্য সরকার প্রতিরোধমূলক ও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। এ উন্নয়নের ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ফ্ল্যাশ ফ্লাড হতে পারে। তবে এর ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কার্যকর সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোগীদের আর্থিক সহায়তা প্রসঙ্গে কায়সার কামাল বলেন, রোগীদের যে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, সেটি কোনো দয়া নয়; একজন নাগরিক হিসেবে এটি তাদের অধিকার। সরকারি সহায়তা যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে উপকারভোগীদের নিজেদের জীবনমান উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শামছুজ্জামান আসিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুখময় সরকার। অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষার্থী ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।