রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১৬ পিএম
বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

ময়মনসিংহে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক উপপরিচালকের পদোন্নতি নিয়ে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে পদোন্নতি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল অভিযোগ দুটি জমা দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ময়মনসিংহে কর্মরত উপপরিচালক হারুন অর রশিদ ২০২১ সালে বিধিবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি লাভ করেন। অভিযোগকারীর দাবি, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে নিয়োগ বিধিমালা উপেক্ষা করে তিনি এ পদোন্নতি নেন।

নিয়োগ বিধিমালা-২০১২ অনুযায়ী, উপপরিচালক পদে পদোন্নতির জন্য সহকারী পরিচালক হিসেবে ন্যূনতম ১০ বছরের অভিজ্ঞতা আবশ্যক। কিন্তু অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হারুন অর রশিদ ১৮ এপ্রিল ২০১৪ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৭ জানুয়ারি ২০২১ সালে পদোন্নতি পাওয়ার সময় তার অভিজ্ঞতা ছিল ৭ বছরেরও কম।

এছাড়া ২০১৮ সালের জ্যেষ্ঠতা তালিকায় তার অবস্থান ছিল ১৪০ নম্বরে। কিন্তু পদোন্নতির তালিকায় তাকে ৬০ নম্বরে উন্নীত করা হয়, যা জ্যেষ্ঠতা নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে তিনি এই পদোন্নতি নিশ্চিত করেন। এতে জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে অভিযোগকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন –

১) অবৈধ পদোন্নতি বাতিল,

২) পদোন্নতির মাধ্যমে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা,

৩) সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।

এ বিষয়ে উপপরিচালক হারুন অর রশিদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে সচিব স্যার অবগত আছেন, তিনিই সব ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

ময়মনসিংহে পিকআপের ধাক্কায় বাবা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ২:৪৪ পিএম
ময়মনসিংহে পিকআপের ধাক্কায় বাবা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু

ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জের আলালপুর এলাকায় পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় একটি সিএনজি অটোরিকশার যাত্রী বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতরা হলেন হালুয়াঘাট উপজেলার নলুয়া এলাকার জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) ও তার তিন বছর বয়সী ছেলে রুহান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শম্ভুগঞ্জের আলালপুর এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যান সিএনজি অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে জাহাঙ্গীর আলম ও তার ছেলে রুহান গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মরদেহ উদ্ধারসহ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের জমি ‘দখল করে’ পুকুর খননের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে!

মিঠামইন প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১২:৩৫ এম
বিদ্যালয়ের জমি ‘দখল করে’ পুকুর খননের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে!

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনকে দুই দফা লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন অভিযোগকারী ও এলাকাবাসী।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন নিজ গ্রাম হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি হোসেনপুর গ্রামের রুহুল আমিন মাস্টারের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হোসেনপুর মৌজার এসএ খতিয়ান নম্বর–১০ ও দাগ নম্বর–২০১৯ অনুযায়ী জমিটি হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে রেকর্ডভুক্ত। অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বিদ্যালয়ের প্রায় ৪৮ শতাংশ জমির মাটি কেটে পুকুর খনন করেছেন এবং কাটা মাটি নিজের বসতবাড়িতে নিয়ে গেছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, পুকুর খননের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক প্রথমে বিষয়টি স্বীকার করেন এবং খনন করা পুকুর ভরাট করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে পরে তিনি পুকুর ভরাট না করে নানা টালবাহানা শুরু করেন।

এ ঘটনায় এলাকাবাসীর পক্ষে জমিদাতা মো. আবু হানিফ ভূঁইয়া গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ সালে মিঠামইন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রতিকার চেয়ে প্রথম লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পরও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি পরবর্তীতে গত ১৫ নভেম্বর ২০২৫ সালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর আবারও লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগকারীর ভাষ্য, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন প্রতিবেদককে বলেন, “পুকুর খননের বিষয়টি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যদের জানিয়েই করা হয়েছে। তখন তাদের কোনো আপত্তি ছিল না। এখন একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।”

এ বিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ট্রফির সঙ্গে বিজয়ীদের হাতে গাছের চারা

গৌরীপুরে ইছুলিয়া ও হাটশিড়া গ্রামের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, গৌরিপুর।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ৭:৩৫ পিএম
গৌরীপুরে ইছুলিয়া ও হাটশিড়া গ্রামের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ইছুলিয়া ও হাটশিড়া গ্রামের যুবসমাজের উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করা এবং গ্রামে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে এ ম্যাচের আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ইছুলিয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের পেছনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত স্থানীয় সামাজিক সংগঠন স্বপ্নসিঁড়ি ফ্রেন্ডস ক্লাব।

খেলায় ইছুলিয়া ও হাটশিড়া গ্রামের একঝাঁক প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় অংশ নেন। টানটান উত্তেজনায় ভরপুর ম্যাচটি উপভোগ করতে মাঠের চারপাশে ভিড় জমান স্থানীয় ক্রীড়ামোদী দর্শকরা। দুই দলের খেলোয়াড়দের দুর্দান্ত ড্রিবলিং, নিখুঁত পাসিং ও আক্রমণাত্মক ফুটবল শৈলী উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। নির্ধারিত সময়ে উভয় দলই দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা উপহার দেয়।

খেলা শেষে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এবারের ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ব্যতিক্রমধর্মী পুরস্কার ব্যবস্থা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করতে বিজয়ী ও রানার্স-আপ দলের জন্য ট্রফির পাশাপাশি রাখা হয় বিভিন্ন গাছের চারা।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আয়োজক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের হাতে জমকালো চ্যাম্পিয়ন ট্রফির পাশাপাশি সবুজ গাছের চারা তুলে দেন। এ সময় দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুবসমাজকে মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রেখে মাঠমুখী করা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই ট্রফির সঙ্গে গাছের চারা পুরস্কার দেওয়ার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ইতিবাচক ও পরিবেশবান্ধব ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।