বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬, ২০ ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬, ২০ ১৪৩২

নানার বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলল মরদেহ

ময়মনসিংহে ৩ বছরের শিশু লাবিব হত্যায় পিতাকে ঘিরে সন্দেহ

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
ময়মনসিংহে ৩ বছরের শিশু লাবিব হত্যায় পিতাকে ঘিরে সন্দেহ

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় তিন বছর বয়সী শিশু লাবিবের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নানার বাড়ি থেকে পিতা নিয়ে যাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুটির মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে ত্রিশাল উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের রায়েরগ্রাম ভাটিপাড়া এলাকায় একটি শিশুর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে ত্রিশাল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে সেখানে তিন বছর বয়সী শিশু লাবিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত লাবিব স্থানীয় বাসিন্দা লামিয়া আক্তারের ছেলে। তার পিতা সোহাগ (পিতা-মৃত হারিজ ডাকাত), রায়েরগ্রাম এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সোহাগ দীর্ঘদিন ধরে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তিনি একাধিক বিয়ে করেছেন এবং নিহত শিশুর মা লামিয়া তার তৃতীয় স্ত্রী। পারিবারিক কলহের কারণে দীর্ঘদিন ধরে লামিয়া তার সন্তান লাবিবকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন।

নিহতের নানা মো. মোজাম্মেল হক (ওজা মিয়া) জানান, ১ এপ্রিল বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে শিশুটির পিতা সোহাগ লাবিবকে তার নানার বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে নেওয়ার কথা বলে সঙ্গে করে নিয়ে যায়।

এরপর একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নানার বাড়ি থেকে প্রায় ৮০০ গজ দূরে ইলিয়াস নামের এক ব্যক্তির বাড়ির পাশে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে ত্রিশাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্তে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে ৩ বছরের শিশুহত্যা: ১০ ঘণ্টায় পিতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪৬ পিএম
ময়মনসিংহের ত্রিশালে ৩ বছরের শিশুহত্যা: ১০ ঘণ্টায় পিতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার হরিরামপুর এলাকায় চাঞ্চল্যকর তিন বছর বয়সী শিশু লাবিব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে শিশুটির পিতা সোহাগসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ত্রিশাল থানা পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত লাবিব হরিরামপুর ইউনিয়নের রায়েরগ্রাম ভাটিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে ত্রিশাল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শিশুটির পিতা সোহাগকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ত্রিশাল থানার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় স্বল্প সময়ের মধ্যেই সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে এ ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এলাকাবাসী দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ময়মনসিংহে এসআই পরিচয়ে চাকরির প্রলোভন: ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৪৯ এম
ময়মনসিংহে এসআই পরিচয়ে চাকরির প্রলোভন: ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

ময়মনসিংহ নগরীতে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) পরিচয় দিয়ে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অর্নিয়া দেবনাথ কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মার্চ ২০২৬ তারিখে নগরীর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জিলাপি পট্টি এলাকায় অর্নিয়া দেবনাথের বাবা নিরঞ্জন দেবনাথের সঙ্গে অভিযুক্ত অনিক (৩২) নামে এক ব্যক্তির পরিচয় হয়। ওই ব্যক্তি নিজেকে পুলিশের এসআই হিসেবে পরিচয় দিয়ে পুলিশ লাইন্স ক্যান্টিনে বাবুর্চির চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ সময় নিরঞ্জন দেবনাথের কাছ থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন তিনি।

পরবর্তীতে গত ২৮ মার্চ অভিযুক্ত ব্যক্তি অর্নিয়া দেবনাথকে ফোন করে জানান যে চাকরিটি নিশ্চিত হয়েছে। এরপর কৌশলে বিকাশ নম্বরে আরও ৫ হাজার টাকা নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এভাবে মোট ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, টাকা দেওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং থানায় অভিযোগ করলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেন।

অভিযোগে অর্নিয়া দেবনাথ উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি অত্যন্ত ভয়ংকর প্রকৃতির। ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেন বলে তারা আশঙ্কা করছেন। এ ঘটনায় তাদের কাছে প্রত্যক্ষ সাক্ষীও রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সতর্কতা: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষকে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ লেনদেন না করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

হত্যাকান্ডের নাটকীয়তায় ফেঁসে গেলেন ময়মনসিংহের ওসমান গনি

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২০ পিএম
হত্যাকান্ডের নাটকীয়তায় ফেঁসে গেলেন ময়মনসিংহের ওসমান গনি

ময়মনসিংহের চরাঞ্চলের আনন্দিপুর গ্রামে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে হত্যাকান্ডের নাটক সাজিয়ে ফেঁসে গেছেন গনি মিয়া। আত্মগোপনে থেকেও শেষ রক্ষা হয়নি তার। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার কসবা থেকে তাকে উদ্ধার করে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গনি মিয়া তার পড়নের পাঞ্জাবীতে মুরগির রক্ত মাখিয়ে কলাবাগানে পাঞ্জাবী রেখে বাঁচাও বলে চিৎকার দিয়ে বোরকা পড়ে কৌশলে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে হত্যাকান্ডের কোন আলামত না থাকায় ঘটনা নিয়ে ধুম্রুজালের সৃষ্টি হয়।

পরবতীর্তে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার কামরুল হাসানের নির্দেশে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিক নির্দেশনায় এস.আই রিপন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বিচক্ষণতার সাথে ঘটনা তদন্ত করে রহস্য উদঘাটন ও গনি মিয়াকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

উদ্ধারকৃত গনি মিয়া ঘটনার বিবরণে জানান, আমার প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এ হত্যাকান্ডের নাটক করেছিলাম। নাটক সাজাতে বাজার থেকে মুরগি ক্রয় করে আমার পাঞ্জাবী খোলে মাটিতে রেখে তার উপর মুরগি ব্লেড দিয়ে জবাই করি। রক্ত মাখা পাঞ্জাবী, মোবাইল পাশে রেখে আমি নিজেই বাঁচাও বলে চিৎকার দিয়ে বোরকা পড়ে রসুলপুর হয়ে শম্ভুগঞ্জ রেলষ্টেশনে গিয়ে বোরকা খোলে ট্রেনে চড়ে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় রওনা দেই। সেখানে আমার পূর্ব পরিচিত বিল্লাল চেয়ারম্যানের বাড়ীতে দই, মিষ্টি নিয়ে বেড়াতে যাই।

স্থানীয়রা জানান, ওসমান গনি হানিফ ডাকাতের মেয়ের জামাতা। সে বিভিন্ন সময় একাধিকবার আত্মগোপনে গিয়ে এলাকার নিরীহ মানুষদের হয়রানী করেছে। তার ছেলে একজন মাদক ব্যবসায়ী। সম্প্রতি উসমানগনি যে ঘটনা করেছে তা খবুই নেক্কারজনক এবং দুখজনক। এ সময় স্থানীয়রা পুলিশ সুপার ও অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলামসহ তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই রিপনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেন, পুলিশের বিচক্ষণতায় সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকান্ডের নাটকের অবসান ঘটিয়েছে। এ ঘটনার রহস্য উন্মোচন না হলে অনেক নিরীহ ব্যক্তি হয়রানীর শিকার হতো। আমরা গনি মিয়ার দৃষ্টান্ত শাস্তি দাবী করি।

কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, ওসমান গনি একটি ক্রাইমসিন রেডি করে বাজার থেকে একটি বোরকা কিনে কোতোয়ালী থানা এলাকা থেকে আত্মগোপন করে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার কসবা থানা এলাকার চেয়ারম্যানাবাড়ীতে অবস্থান নেয়। পূর্ব পরিকল্পিত অনুযায়ী তার পরিবার ও আত্মীয় স্বজন থানায় এসে খুন—গুম করেছে বলে অভিযোগ করেন।প্রাথমিকভাবে সিআরপিসি অনুযায়ী সত্যা যাচাইয়ের জন্য সেখানে অফিসার যায়, পরবতীর্তে আমরা বুঝতে পারি বিষয়টি কেন্দ্র করে ফেব্রিকেটেড এটি একটি আর্টিফিশিয়াল ক্রাইমসিন। সেই ট্র্যাকে অগ্রসর হয়ে আমরা কসবা থানা এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি।

তিনি আরও জানান, তারা একটি আর্টিফিশিয়াল ঘটনাস্থল সাজিয়ে ফেব্রিকেটেড মামলা তৈরী করার জন্যই ঘটনা সাজিয়েছিল। পরবতীর্তে যেসকল নিরপরাধ ব্যক্তিদের মিথ্যা ঘটনায় ফাঁসাবেন মর্মে ঘটনা সাজিয়েছিল সেসমস্ত লোকজন উত্তেজিত এলাকার মধ্যে নতুন মারামারির ঘটনার সৃষ্টি হয় যার কারণে আদালতের মাধ্যমে তাকে এলাকার লোকজনের কাছে হস্তান্তর করার জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেই।