বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬, ২০ ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬, ২০ ১৪৩২

ময়মনসিংহের দাপুনিয়া ভূমি অফিসে ঘুষের রাজত্ব: খাস জমি বন্দোবস্তে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ নায়েব শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে

স্টাফ রিপোর্টার।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম
ময়মনসিংহের দাপুনিয়া ভূমি অফিসে ঘুষের রাজত্ব: খাস জমি বন্দোবস্তে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ নায়েব শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অর্থের বিনিময়ে খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়া, খাজনা ও নামজারি সংক্রান্ত কাজে ঘুষ গ্রহণসহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) শফিকুল ইসলাম। তার এসব কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমির খাজনা পরিশোধ থেকে শুরু করে নামজারি, জমাভাগ, পর্চা (খসড়া) উত্তোলনসহ প্রায় প্রতিটি কাজেই নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। কেউ জমির খাজনা দিতে গেলে যেখানে সরকারি খরচ কয়েকশ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা, সেখানে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ঈদুল ফিতরের আগে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশিত হলেও প্রশাসনিকভাবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে দাপুনিয়া ভূমি অফিসে দালালদের মাধ্যমে কাজ না করলে কোনো ফাইলই অগ্রসর হয় না। দালালদের সঙ্গে পূর্ব চুক্তি অনুযায়ী ফাইলে বিশেষ ‘সাংকেতিক চিহ্ন’ না থাকলে নানা অজুহাতে আবেদন বাতিল বা দীর্ঘদিন ফাইল আটকে রাখা হয়। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

সূত্র জানায়, ইউনিয়নের সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমি প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে বন্দোবস্ত দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে টাকার বিনিময়ে সচ্ছল ও প্রভাবশালীদের নামে বন্দোবস্ত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নায়েব শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভূমি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা পেতে হলে তার সঙ্গে ‘চুক্তি’ অনুযায়ী অর্থ প্রদান করতে হয়। অন্যথায় ফাইল আটকে রাখা, অযথা দেরি করা কিংবা আবেদন বাতিল করার মতো নানা হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।

এছাড়া বাড়তি টাকা আদায়ের পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সবকিছু জেনেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর আগে শফিকুল ইসলাম গৌরীপুর উপজেলার ময়লাকান্দা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত ছিলেন। সেখানেও ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবায় ঘুষ গ্রহণ এবং টাকার বিনিময়ে খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।

ইউনিয়নের এক সাবেক ইউপি সদস্য অভিযোগ করে বলেন, ময়লাকান্দা ইউনিয়নে কর্মরত থাকাকালীন শফিকুল ইসলামের কাছে সেবা নিতে গেলে তার চাহিদামতো টাকা না দিলে কোনো কাজই হতো না। ময়লাকান্দা বাজারের কিছু সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি সেই বন্দোবস্ত পাননি, এমনকি নেওয়া টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি।

এ ঘটনায় নায়েব শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে ৩ বছরের শিশুহত্যা: ১০ ঘণ্টায় পিতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪৬ পিএম
ময়মনসিংহের ত্রিশালে ৩ বছরের শিশুহত্যা: ১০ ঘণ্টায় পিতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার হরিরামপুর এলাকায় চাঞ্চল্যকর তিন বছর বয়সী শিশু লাবিব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে শিশুটির পিতা সোহাগসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ত্রিশাল থানা পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত লাবিব হরিরামপুর ইউনিয়নের রায়েরগ্রাম ভাটিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে ত্রিশাল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শিশুটির পিতা সোহাগকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ত্রিশাল থানার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় স্বল্প সময়ের মধ্যেই সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে এ ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এলাকাবাসী দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নানার বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলল মরদেহ

ময়মনসিংহে ৩ বছরের শিশু লাবিব হত্যায় পিতাকে ঘিরে সন্দেহ

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
ময়মনসিংহে ৩ বছরের শিশু লাবিব হত্যায় পিতাকে ঘিরে সন্দেহ

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় তিন বছর বয়সী শিশু লাবিবের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নানার বাড়ি থেকে পিতা নিয়ে যাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুটির মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে ত্রিশাল উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের রায়েরগ্রাম ভাটিপাড়া এলাকায় একটি শিশুর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে ত্রিশাল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে সেখানে তিন বছর বয়সী শিশু লাবিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত লাবিব স্থানীয় বাসিন্দা লামিয়া আক্তারের ছেলে। তার পিতা সোহাগ (পিতা-মৃত হারিজ ডাকাত), রায়েরগ্রাম এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সোহাগ দীর্ঘদিন ধরে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তিনি একাধিক বিয়ে করেছেন এবং নিহত শিশুর মা লামিয়া তার তৃতীয় স্ত্রী। পারিবারিক কলহের কারণে দীর্ঘদিন ধরে লামিয়া তার সন্তান লাবিবকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন।

নিহতের নানা মো. মোজাম্মেল হক (ওজা মিয়া) জানান, ১ এপ্রিল বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে শিশুটির পিতা সোহাগ লাবিবকে তার নানার বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে নেওয়ার কথা বলে সঙ্গে করে নিয়ে যায়।

এরপর একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নানার বাড়ি থেকে প্রায় ৮০০ গজ দূরে ইলিয়াস নামের এক ব্যক্তির বাড়ির পাশে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে ত্রিশাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্তে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ময়মনসিংহে এসআই পরিচয়ে চাকরির প্রলোভন: ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৪৯ এম
ময়মনসিংহে এসআই পরিচয়ে চাকরির প্রলোভন: ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

ময়মনসিংহ নগরীতে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) পরিচয় দিয়ে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অর্নিয়া দেবনাথ কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মার্চ ২০২৬ তারিখে নগরীর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জিলাপি পট্টি এলাকায় অর্নিয়া দেবনাথের বাবা নিরঞ্জন দেবনাথের সঙ্গে অভিযুক্ত অনিক (৩২) নামে এক ব্যক্তির পরিচয় হয়। ওই ব্যক্তি নিজেকে পুলিশের এসআই হিসেবে পরিচয় দিয়ে পুলিশ লাইন্স ক্যান্টিনে বাবুর্চির চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ সময় নিরঞ্জন দেবনাথের কাছ থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন তিনি।

পরবর্তীতে গত ২৮ মার্চ অভিযুক্ত ব্যক্তি অর্নিয়া দেবনাথকে ফোন করে জানান যে চাকরিটি নিশ্চিত হয়েছে। এরপর কৌশলে বিকাশ নম্বরে আরও ৫ হাজার টাকা নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এভাবে মোট ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, টাকা দেওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং থানায় অভিযোগ করলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেন।

অভিযোগে অর্নিয়া দেবনাথ উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি অত্যন্ত ভয়ংকর প্রকৃতির। ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেন বলে তারা আশঙ্কা করছেন। এ ঘটনায় তাদের কাছে প্রত্যক্ষ সাক্ষীও রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সতর্কতা: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষকে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ লেনদেন না করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।