শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

গৌরীপুরে শিক্ষাখেকো ইটভাটার মালিক রতনের খুটির জোড় কোথায়?

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:০৬ পিএম
গৌরীপুরে শিক্ষাখেকো ইটভাটার মালিক রতনের খুটির জোড় কোথায়?

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় ডৌহাখলা ইউনিয়নের গাজীপুরে সাব্দুল সরকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুক চিড়ে গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন অবৈধ ইকো ব্রিকস নামক ইটভাটা। ভোগান্তিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা, নিরব প্রশাসন।

সরেজমিন দেখা যায়, অনুমোদনহীন অবৈধ ইটভাটার ধোঁয়া, কয়লার গুড়া ও ধুলোবালিসহ ইট বহনকারী গাড়ীর বিকট শব্দের মিশ্রনে বিদ্যালয়ের কোমোলমতি শিক্ষার্থীরা শ্রেনীকক্ষে বসে লেখাপড়া করাটাই দায় হয়ে পড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ইটভাটা মালিক চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়নের সাবেক প্রভাবশালী চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফারুকুল ইসলাম রতন পেশি শক্তিবলে বিদ্যালয়ের মাঠের একাংশ অবৈধ দখলে নিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা করার সুযোগটুকুও কেড়ে নিয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন এরা কি আসলেই চেয়ারম্যানরুপী সেবক ছিলেন? নাকি সেবক নামের জানোয়ার! সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কি খোঁজ রাখেন না? নাকি ঘুষের ঘোরে অন্ধ?

স্কুল পড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জানায়, ইটভাটার কালো ধোঁয়া, ধুলোবালি আর ইট বহনকারী গাড়ীর বিকট শব্দে ক্লাসে বসে থাকতে পারিনা, স্কুল ড্রেস একদিনের বেশি পড়তে পারিনা। আমাদের অনেক কষ্ট হয়, শ্বাস কষ্ট হয়, সর্দি-কাশি হয়।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুর তাঁর বক্তব্য বলেন, আমরা শ্রেনী কক্ষে শিক্ষার্থীদের কি ক্লাস করাব, যেখানে আমরাই ঠিকে থাকতে পারিনা সেক্ষেত্রে এই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এগুলো কিভাবে সহ্য করবে। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের কিছু বলতে হবে না, আপনারা দয়া করে একটু বসুন তাহলেই অনুভব করতে পারবেন ইটভাটার ধোঁয়া, ধুলোবালি আর ইট বহনকারী গাড়ীর বিকট শব্দে বিদ্যালয়টি যেন নরকে পরিনত হয়েছে।

এসময় তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠের জায়গা কেটে দখলে নিয়েছে, জায়গাটা ভরাট করে দিবে বলছে কিন্তু এখন পর্যন্ত দেয়নি। আজ আপনাদের ক্যামেরার সামনে কথা বলায় কাল থেকে এই বিদ্যালয়ে চাকুরী করতে পারব কি না আল্লাহ জানেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মুঠোফোন রিসিভ না করলেও গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, আমাদের পরিবেশ আসার কথা, ইটভাটায় মোবাইল কোর্ট করলে পরিবেশের একটা প্রসিকিউশন লাগে ওনারা আসলেই বিষয়টি আমরা দেখব।

মিঠামইনে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের মতবিনিময় সভা

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৯ পিএম
মিঠামইনে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের মতবিনিময় সভা

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন কমিটির উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার হাজী তায়েব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী নরিছলান ইসলাম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

সভায় বক্তব্য দেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ সাফিউর রহমান শাফি, উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি নুরুল আমিন ও উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। এ সময় উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন থেকে আসা শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যে সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম বলেন, যুবসমাজের একটি অংশ মাদকের ভয়াবহ ছোবলে আক্রান্ত হচ্ছে। তাদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

প্রধান আলোচক অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মাদক কারবারিরা অধিক মুনাফার লোভে যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাদকের বিস্তার রোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার করে যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। জীবনের শেষ বয়সে এসে যুবসমাজকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে নেমেছি।’

সভায় বক্তারা মিঠামইনকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সমাজের সমন্বয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তাঁরা মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলে তরুণ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ঘুষ দাবির নাটক সাজিয়ে তুলকালাম, সরকারি কাজে বাধা ও মিথ্যা অপপ্রচার

‎গাজীপুরে অপহরণের আসামী ছাড়াতে না পেরে পুলিশের ওপর যুবদল নেতার চোখরাঙানি!

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৫ এম
‎গাজীপুরে অপহরণের আসামী ছাড়াতে না পেরে পুলিশের ওপর যুবদল নেতার চোখরাঙানি!

১৬ বছরের নাবালিকা স্কুলছাত্রীকে অপহরণের ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা এবং এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন কাশিমপুর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার ওপর চরম ক্ষোভ ঝেড়েছেন স্থানীয় যুবদল নেতা। আসামীকে ছাড়াতে জোর তদবির ও মামলা নিতে নিষেধ করলেও কথা না শোনায় কাশিমপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির পাল্টা অভিযোগ ও থানার সামনে হট্টগোল সৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজে বাধা দেওয়া এবং অপহরণ মামলার আসামির পক্ষে যুবদল নেতার এমন প্রকাশ্য অবস্থান নিয়ে পুরো গাজীপুরজুড়ে চরম আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

‎মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানার গোবিন্দবাড়ী এলাকার ভাড়াটিয়া গার্মেন্টস কর্মীর ১৬ বছর বয়সী মেয়ে ভবানীপুর বটতলা এলাকার একটি স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। চলতি বছরের গত ১৮ অক্টোবর বিকেলে বাসা থেকে বের হলে স্থানীয় প্রতিবেশী মোঃ আলিফ (১৮) নামের এক তরুণ ২ ও ৩ নং আসামির সহায়তায় নাবালিকাকে অটোরিকশায় তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মা গত ২০ অক্টোবর কাশিমপুর থানায় হাজির হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে কাশিমপুর থানায় ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী-২০০৩) এর ৭/৩০ ধারায় মামলা রুজু করা হয়। মামলার পর পরই তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই উজ্জ্বল অভিযান চালিয়ে ১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি আলিফকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।

‎প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মামলা রুজু ও আসামী গ্রেপ্তার হওয়ার খবর পেয়ে মাঠে নামেন কাশিমপুর থানার ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গোবিন্দবাড়ী এলাকার সাজু মিয়ার ছেলে মোঃ হারুন অর রশিদ (৩৫)। ঘটনার পর থেকেই হারুন অর রশিদ আসামী আলিফকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে এসআই উজ্জ্বলের ওপর অব্যাহত চাপ সৃষ্টি করেন এবং কোনো অবস্থাতেই যাতে মামলাটি নথিভুক্ত (এফআইআর) না করা হয়, সে জন্য জোর সুপারিশ ও নির্দেশ প্রদান করেন। তবে আইনি বাধ্যবাধকতা এবং ভুক্তভোগী মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এসআই উজ্জ্বল কোনো অনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং আসামীকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেন।

‎সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের অন্যায্য দাবি ও ক্ষমতার দাপট বজায় রাখতে না পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন যুবদল নেতা হারুন। কাশিমপুর থানার সামনে প্রকাশ্যে এসআই উজ্জ্বলের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় লিপ্ত হন তিনি। হারুন অর রশিদ প্রকাশ্যে এসআই উজ্জ্বলের আইনি পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তিনি অভিযোগ তোলেন, পুলিশ নাকি ৫০ হাজার টাকা ঘুষ চেয়েছে, জোরপূর্বক জিডিতে স্বাক্ষর নিয়েছে এবং বাদীর সম্মতি ছাড়াই মামলা নথিভুক্ত করেছে।

‎তবে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মামলা থেকে আসামীকে রক্ষা করতে এবং পুলিশকে সামাজিকভাবে ব্যাকফুটে ঠেলে দিতেই এসআইয়ের বিরুদ্ধে কাল্পনিক ঘুষের নাটক সাজানো হয়েছে।

‎আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মতো গুরুতর মামলায় আসামিপক্ষকে রক্ষায় পুলিশ কর্মকর্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা, আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া এবং মিথ্যা অভিযোগ তুলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা স্পষ্টত দণ্ডনীয় অপরাধ।

‎স্থানীয়দের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি এভাবে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হুমকি ও অপপ্রচারের শিকার হন, তবে সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। সচেতন সমাজ অবিলম্বে আইনি কাজে বাধার সৃষ্টিকারী যুবদল নেতা হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

‎এসংক্রান্তে খোদ মামলার বাদী (অপহৃত কিশোরীর মা) বলেন, আমার নাবালিকা মেয়েকে খুঁজে না পাওয়ায় আমি নিজে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। এসআই উজ্জ্বলকে আমি কোন প্রকার টাকা-পয়সা দিইনি। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা রুজু করেছেন। বাদীর এই সরাসরি বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, যুবদল নেতা নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আসামী রক্ষা করতেই কাল্পনিক গল্পের অবতারণা করেছিলেন।

‎এবিষয়ে জানতে যুবদল নেতা হারুনুর অর রশিদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রকাশ্যে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতন্ডার বিষয়টির কোনো গ্রহণযোগ্য আইনি ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। উপরন্তু, ঘুষ দাবির স্বপক্ষে কোনো অডিও-ভিডিও প্রমাণ উপস্থাপন বা কোনো ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিতে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

‎ঘুষ দাবি এবং অন্যায় চাপের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে এসআই উজ্জ্বল জানান, অপহৃত নাবালিকা উদ্ধার ও আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছেন। আসামি পক্ষ নিজেদের অপরাধ ঢাকতে এবং বিচারপ্রক্রিয়া বিঘ্নিত করতে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তির আশ্রয় নিয়ে পুলিশের ওপর অসৎ উদ্দেশ্যে মনগড়া অভিযোগ তুলছে। বাদীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা রুজু করা হয়েছে।

‘মারামারিতে জড়িত ছিলাম না, আমাকে এভাবে মারল কেন?’

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাকিবের ওপর হামলার অভিযোগ, হাসপাতালে শুয়ে বিচার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৩ পিএম
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাকিবের ওপর হামলার অভিযোগ, হাসপাতালে শুয়ে বিচার দাবি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব হোসাইন। তাঁর অভিযোগ, সংঘর্ষে কোনো পক্ষের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থেকেও রড, স্ট্যাম্প ও হাতুড়ি দিয়ে তাঁকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে সাকিবের আকুতি, ‘আমি তো মারামারির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর মতো হাঁটাচলা করছিলাম। তারপরও আমাকে কেন এভাবে মারল? আমার দোষ কী ছিল?’

গত ১৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে নজরুল প্রিমিয়ার লিগের (এনপিএল) একটি টুর্নামেন্ট চলাকালে বলের সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সাকিবের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার একপর্যায়ে তিনি হামলার শিকার হন। তবে এ হামলায় কারা জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাকিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, সেদিন বিদ্রোহী হল থেকে খাবার খেয়ে বাইরে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। হল থেকে বের হওয়ার পর তাঁর বন্ধু অর্কর সঙ্গে দেখা হয়। কিছুক্ষণ কথা বলার পর তিনি অগ্নিবীণার দিকে হাঁটতে থাকেন।

সাকিবের দাবি, তিনি সেখানে পৌঁছানোর আগেই হাতাহাতির ঘটনা শেষ হয়ে যায়। কী নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল, তা-ও তাঁর জানা ছিল না। এরপরও তাঁকে মারধরের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সাকিবের অভিযোগ, রড, স্ট্যাম্প ও হাতুড়ি দিয়ে মারধরের কারণে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

একজন শিক্ষার্থী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপদে চলাফেরার অধিকার প্রত্যাশা করে সাকিব বলেন, সংঘর্ষে জড়িত না থেকেও কেন তাঁকে এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হলো, তার জবাব চান তিনি।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় ও বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।