রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩

কাগজে প্রকল্প–হাতে টাকা! মসিকের স্বাস্থ্য খাতে গুরু-শিষ্যের ১৫ কোটি টাকার লুটপাট

শিবলী সাদিক খান।। প্রকাশিত: বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:১০ পিএম
কাগজে প্রকল্প–হাতে টাকা! মসিকের স্বাস্থ্য খাতে গুরু-শিষ্যের ১৫ কোটি টাকার লুটপাট

দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন (মসিক)। কাগজে কলমে প্রকল্প দেখিয়ে নয়ছয় করা হচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, মসিকের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গত বছরের পাঁচ আগস্টের পর সাত-আট মাস চুপ থাকলেও এ বছরের মে মাস থেকে তারা আগের চরিত্রে ফিরে গেছেন। পিছিয়ে নেই আলোচিত স্বাস্থ্য বিভাগ। এ বিভাগে গুরু-শিষ্যের অনিয়ম-দুর্নীতি অতিতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলেও রহস্যজনক কারণে পার পেয়ে যাচ্ছেন মেডিকেল অফিসার ডা. হরে কৃঞ্চ দেবনাথ (এইচকে দেবনাথ) ও স্বাস্থ্য সহকারী সাইফুল ইসলাম (সাজু)। এদের জ্বালায় অতিষ্ঠ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবকরা। গুরু-শিষ্য মসিক থেকে ছয় বছরে ১৫ কোটি টাকা লুটপাট করেছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা যায়, মেডিকেল অফিসার ডা. হরে কৃঞ্চ দেবনাথ মসিকের স্বাস্থ্য বিভাগে লাগামহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। শিষ্য স্বাস্থ্য সহকারী সাইফুল ইসলাম তাকে সহযোগিতা করেন। জাতীয় পরিচয়পত্র (৯১২০৭৬৩৯০০) ও চাকরির ব্যক্তিগত নথিতে হরে কৃঞ্চ দেবনাথ নাম থাকলেও নিজের নামের একাংশ পাল্টে এইচকে দেবনাথ রেখেছেন। অফিসের সিল, প্যাড, নেমপ্লেট, বিল-ভাউচার, চিঠি আদান-প্রদান ও মসিকের হিসাব বিভাগ থেকে বানানো নামে চেক গ্রহণ করেন। ২০১৬ সালে ময়মনসিংহ পৌরসভায় (সিটি করপোরেশন) যোগদানের পর থেকেই তিনি নাম জালিয়াতি করে যাচ্ছেন। বিষয়টি জালিয়াতি বলে উল্লেখ করেছেন ট্রেজারী কর্মকর্তারা।

সূত্র জানায়, পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন মেডিকেল অফিসার ডা. হরে কৃঞ্চ দেবনাথ। ভুল তথ্য দিয়ে অবৈধ পন্থায় ২০২৩ সালের মার্চ মাসে ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে পাসপোর্ট নেন। তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলীর স্বাক্ষর করা ০৫-০৩-২০২৩ তারিখের মসিক/প্রশা/সাধা/২৩/৩৮৩ স্মারকে পাসপোর্ট অফিসে এনওসি পাঠানো হয়। এতে তিনি প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পরিচয় দেন। ওই সময় তিনি ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ চলতি দায়িত্বে থাকলেও এনওসিতে তা উল্লেখ করেননি। তা ছাড়া ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও ঢাকার বাসার ঠিকানা না দিয়ে পাসপোর্টের আবেদনে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ঠিকানা ব্যবহার করেন। পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, গুরু-শিষ্যের কাছে মসিকের স্বাস্থ্য বিভাগ জিম্মি হয়ে পড়েছে। সম্মানি ও ‘হিস্যা’ নিয়ে কর্মচারী, স্বেচ্ছাসেবক ও গণমাধ্যকর্মীদের সঙ্গে বিরোধ ও তর্কবিতর্ক হয়। বিভিন্ন টিকা ও ক্যাপসুল খাওয়ানো কর্মসূচিকে পুঁজি করে সরকারি ও মসিকের তহবিল থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় লাখ লাখ টাকা। টিকাদান কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মানি মেরে দিয়েও গুরু-শিষ্য আলোচনায়। সূত্র মতে, মসিকের স্বাস্থ্য খাতে লুটপাট হওয়া ১৫ কোটি টাকার মধ্যে করোনার আড়াই বছরে আট কোটি, গত ছয় বছরের বিভিন্ন সময়ে চার কোটি, নগর মাতৃসদন ও নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে তিন কোটি টাকা লুটপাট করা হয়। লুটপাটের টাকায় ডা. হরে কৃঞ্চ দেবনাথ কিশোরগঞ্জে জমি ও ঢাকার মোহাম্মদপুরে ফ্ল্যাট কেনা ছাড়াও নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়েছেন। স্বাস্থ্য সহকারী সাইফুল ইসলাম (সাজু) ময়মনসিংহ নগরীতে জমি ও ফ্ল্যাট কেনাসহ গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জে বিপুল জমি কিনেছেন।

সূত্র জানায়, ২০২০ সালে করোনা শুরু হওয়ার পরই টাকা লুটপাট করতে মাঠে নামেন আলোচিত গুরু-শিষ্য। তারা মেয়র ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে ভুল বুঝিয়ে কোটি কোটি টাকার সুরক্ষা সামগ্রী কিনতে থাকেন।

করোনার সময় পর্যায়ক্রমে পাঁচ কোটি টাকার পিপিই, মাক্স, স্যানিটাইজারসহ অন্যান্য পণ্য ক্রয় দেখানো হয়। সাইফুল ইসলাম (সাজু) পাঁচ কোটি টাকার মালামাল কিনে একাই তিন কোটি আত্মসাৎ করেন। এ ছাড়া গত ছয় বছরে বিভিন্ন ফাইল ও জন্মনিবন্ধন থেকে ‘ধুরন্ধর’ সাজু আরো দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। একই সময় মেডিকেল অফিসার ডা. হরে কৃঞ্চ দেবনাথ করোনার টিকা প্রদান কার্যক্রম, বিভিন্ন টিকা ও ক্যাপসুল খাওয়ানো কর্মসূচি থেকে চার কোটি এবং নগর মাতৃসদন ও নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র খাত থেকে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

আলোচিত গুরু-শিষ্য, নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান ও তাদের প্রতিনিধির নামে গত ছয় বছরে হিসাব বিভাগ থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকার চেক ইস্যু হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। তার মধ্যে সাইফুল ইসলামের একার নামেই ইস্যু হয়েছে চার কোটি টাকার চেক। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গুরুসহ তাদের লোকজনের নামে বাকি টাকার চেক ইস্যু হয়। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে কয়েকজন উচ্চমান সহকারী ও নিম্নমান সহকারী থাকলেও কাউকেই স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয় না। টাকা হাতানোর গোমর ফাঁস হওয়ার ভয়ে শিষ্য সাইফুল ইসলাম একাই সব কিছু সামলান। বছর খানেক আগে এ নিয়ে গুঞ্জন শুরু হলে নিম্নমান সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক মো. ওয়ালিউল ইসলামকে স্বাস্থ্য বিভাগে বদলি করা হয়। ‘ধুরন্ধর’ গুরু-শিষ্যের চক্রান্তে টিকতে না পেরে তিনি অন্য শাখায় ফিরে যান।

জানা যায়, মেডিকেল অফিসার ডা. হরে কৃঞ্চ দেবনাথের টাকা হাতানোর উৎস একটি মাতৃসদন ও তিনটি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র। বাঘমারায় নগর মাতৃসদন, খাগডহর, গোলকীবাড়ি ও শম্ভুগঞ্জে নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র। চারটি কেন্দ্রে সাতজন ডাক্তার, ১২ জন প্যারামেডিক ও ৮১ জন স্টাফ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা নেই। চারজন ডাক্তার, চারজন প্যারামেডিক ও ৫০ জন স্টাফ দিয়ে চলছে চারটি কেন্দ্র। এ খাতে বিল-ভাউচার করে প্রতি মাসে ২৫ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। মাসে গড়ে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সূত্র মতে, এডিবির অর্থায়নে ‘আরবান হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রজেক্ট-২’ ২০২২ সালের জুন মাসে দুই বছর মেয়াদি প্রকল্প শুরু করে। ২০২৪ সালের জুন মাস থেকে মন্ত্রণালয় ও মসিকের অর্থায়নে প্রকল্পটি চালু রাখা হয়েছে। এর মেয়াদ চলতি ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। মন্ত্রণালয়, মসিক ও পিএসটিসি এনজিও টাকার জোগান দেওয়ার কথা।

সূত্র জানায়, পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিএসটিসি) এনজিও কেন্দ্রগুলো দেখভাল করার কথা। মসিকের মেডিকেল অফিসার ডা. হরে কৃঞ্চ দেবনাথ প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার ও পিএসটিসি’র ইকবাল হোসেন প্রজেক্ট ম্যানেজার। সব কিছুই মেডিকেল অফিসার ডা. হরে কৃঞ্চ দেবনাথের নিয়ন্ত্রণে। তাকে ছাড়া হয় না নিয়োগ ও কেনাকাটা। চারটি কেন্দ্রে নিয়োগ করা কর্মীদের কাছ থেকেও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র মতে, মাতৃসদন ও নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র নগরবাসীর কোনো কাজে আসছে না। কোনো নাগরিক চাহিদা অনুযায়ী চিকিৎসা পেয়েছেন এমন নজির নেই। কেন্দ্রের চিকিৎসা সরঞ্জাম, পরীক্ষার সামগ্রী ও অন্যান্য মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রেও মোটা অঙ্ক হাতিয়ে নেন মেডিকেল অফিসার ডা. হরে কৃঞ্চ দেবনাথ। ব্যহত হচ্ছে ভিটামিন এ প্লাস, কৃমি নাশক ও টাইফয়েডের মতো জীবনরক্ষাকারী টিকাদান কর্মসূচি। নয়ছয় করেন এ সব খাতের অধিকাংশ টাকা। তার বিরুদ্ধে সম্মানি আত্মসাতের অভিযোগে কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবকরা বিক্ষোভ করেন।

গুরু-শিষ্যের অভিযোগ সম্পর্কে মসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আল মজীদ গতকাল রোববার রাতে একটি দৈনিক পত্রিকাকে বলেন, ‘অভিযোগ তদন্ত করে দোষীদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কোনো অবস্থাতেই তারা ছাড় পাবেন না।

অপরদিকে মসিকের কঞ্চন নন্দি, লাইসেন্স পরিদর্শক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা সহ বেশ কয়েকজন এর বিরুদ্ধে ব্যাপক ঘুষ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে রানার্সআপ মেডেল নিল ফুলবাড়িয়ার খুদে ফুটবলার মিতুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১:১৯ এম
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে রানার্সআপ মেডেল নিল ফুলবাড়িয়ার খুদে ফুটবলার মিতুল

রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬। এ প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে মেডেল ও নগদ অর্থ পুরস্কার গ্রহণ করেছে ময়মনসিংহ বিভাগের প্রতিনিধিত্বকারী খুদে ফুটবলার মিতুল হাসান।

মিতুল হাসান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ২ নম্বর পুটিজানা ইউনিয়নের মৌহাতলা এলাকার বাসিন্দা মুরাদ হাসানের ১৩ বছর বয়সী ছেলে। বর্তমানে সে ত্রিশাল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি ছিল তার অদম্য আগ্রহ। প্রতিবেশী রিফাত আহমেদ রিজভীর হাত ধরে শিবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ফুটবলের সঙ্গে তার পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে নিজের দক্ষতা আরও বিকশিত করতে ফুলবাড়িয়ার কেশরগঞ্জ বাজারে অবস্থিত কেএনবিএস যুব স্পোর্টিং একাডেমিতে নিয়মিত অনুশীলন শুরু করে মিতুল।

পড়ালেখার পাশাপাশি ফুটবলের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও নিষ্ঠার কারণে দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর দ্রুতই সে স্কুল দলের অন্যতম ভরসায় পরিণত হয়। তার অসাধারণ নৈপুণ্যের সুবাদে দলটি বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।

আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত চূড়ান্ত পর্বের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থেকে বিজয়ী ও রানার্সআপ খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে মেডেল গ্রহণ করতে পেরে দারুণ উচ্ছ্বসিত মিতুল। সে জানায়, এই স্বীকৃতি তার ভবিষ্যৎ ফুটবল ক্যারিয়ারের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

মিতুলের এই সাফল্যে ফুলবাড়িয়া, ত্রিশালসহ সমগ্র ময়মনসিংহ অঞ্চলে আনন্দের জোয়ার বইছে। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মতে, মিতুলের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও আধুনিক প্রশিক্ষণের সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে জাতীয় দলের হয়ে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনতে সক্ষম হবে।

বিএমইউজে ফেনী জেলা কমিটির সভাপতি মাসুম, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার নির্বাচিত

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
বিএমইউজে ফেনী জেলা কমিটির সভাপতি মাসুম, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার নির্বাচিত

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে) ফেনী জেলা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) সকালে ফেনী শহরের একটি রেস্টুরেন্টে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে সভাপতি পদে মো. মাসুম বিল্লাহ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আনোয়ার হোসেন নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দ হলেন – সহ-সভাপতি মো. মিজানুর রহমান ও মো. গাজিউল হক; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী নুরুল আলম নিলু ও মো. আতিকুর রহমান রোজেন; সাংগঠনিক সম্পাদক আবু জাফর হৃদয়; সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নিমাই চন্দ্র মজুমদার; কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান পলাশ; সহ-কোষাধ্যক্ষ মহি উদ্দিন মিয়াজী সেজু; দপ্তর সম্পাদক শহিদুল ইসলাম তোতা; সহ-দপ্তর সম্পাদক ফখরুল ইসলাম জুয়েল।

এছাড়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রচার সম্পাদক হিসেবে আরাফাত হোসেন এবং ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে মো. মোয়াজ্জেম হোসেন মিলন নির্বাচিত হন।

নির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, মোহাম্মদ শেখ কামাল, মো. ওবায়দুল হক, জহিরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, আফতাব হোসেন মমিন ভূঁইয়া ও আলাউদ্দিন সবুজ।

সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন আমির হোসেন তানভীর, জিয়া উদ্দিন, কামাল উদ্দিন, জাফর ইমাম রতন এবং জহিরুল ইসলাম খান।

নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার চেক বিতরণ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

শিবলী সাদিক খান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৬:৪০ পিএম
ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার চেক বিতরণ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি পরিবারের মাঝে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। একই দিনে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করা হয়।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ময়মনসিংহ জেলা সার্কেলের যৌথ আয়োজনে এ চেক বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে এই অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, “আজকের এই আয়োজন মানবিক হলেও এটি আনন্দের নয়। সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হলেও তাদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশে এর হার উদ্বেগজনক। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও জনগণের সচেতনতার বিকল্প নেই। রাস্তা পারাপারে সতর্কতা অবলম্বন, ফুটপাত ও মহাসড়ক দখলমুক্ত রাখা এবং সড়ক আইন মেনে চলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সড়ক আইন সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে শিক্ষকদের ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও সড়ক সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। যানবাহন চালকদের ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলতে হবে এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে করতে গাড়ি চালানো কিংবা রাস্তা পার হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ও মালিক প্রতিনিধি, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রধান অতিথি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী সরকারের ঘোষিত “পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি”-এর অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ জেলা লেডিস ক্লাব প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।