শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

কাগজে প্রকল্প–হাতে টাকা! মসিকের স্বাস্থ্য খাতে গুরু-শিষ্যের ১৫ কোটি টাকার লুটপাট

শিবলী সাদিক খান।। প্রকাশিত: বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:১০ পিএম
কাগজে প্রকল্প–হাতে টাকা! মসিকের স্বাস্থ্য খাতে গুরু-শিষ্যের ১৫ কোটি টাকার লুটপাট

দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন (মসিক)। কাগজে কলমে প্রকল্প দেখিয়ে নয়ছয় করা হচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, মসিকের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গত বছরের পাঁচ আগস্টের পর সাত-আট মাস চুপ থাকলেও এ বছরের মে মাস থেকে তারা আগের চরিত্রে ফিরে গেছেন। পিছিয়ে নেই আলোচিত স্বাস্থ্য বিভাগ। এ বিভাগে গুরু-শিষ্যের অনিয়ম-দুর্নীতি অতিতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলেও রহস্যজনক কারণে পার পেয়ে যাচ্ছেন মেডিকেল অফিসার ডা. হরে কৃঞ্চ দেবনাথ (এইচকে দেবনাথ) ও স্বাস্থ্য সহকারী সাইফুল ইসলাম (সাজু)। এদের জ্বালায় অতিষ্ঠ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবকরা। গুরু-শিষ্য মসিক থেকে ছয় বছরে ১৫ কোটি টাকা লুটপাট করেছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা যায়, মেডিকেল অফিসার ডা. হরে কৃঞ্চ দেবনাথ মসিকের স্বাস্থ্য বিভাগে লাগামহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। শিষ্য স্বাস্থ্য সহকারী সাইফুল ইসলাম তাকে সহযোগিতা করেন। জাতীয় পরিচয়পত্র (৯১২০৭৬৩৯০০) ও চাকরির ব্যক্তিগত নথিতে হরে কৃঞ্চ দেবনাথ নাম থাকলেও নিজের নামের একাংশ পাল্টে এইচকে দেবনাথ রেখেছেন। অফিসের সিল, প্যাড, নেমপ্লেট, বিল-ভাউচার, চিঠি আদান-প্রদান ও মসিকের হিসাব বিভাগ থেকে বানানো নামে চেক গ্রহণ করেন। ২০১৬ সালে ময়মনসিংহ পৌরসভায় (সিটি করপোরেশন) যোগদানের পর থেকেই তিনি নাম জালিয়াতি করে যাচ্ছেন। বিষয়টি জালিয়াতি বলে উল্লেখ করেছেন ট্রেজারী কর্মকর্তারা।

সূত্র জানায়, পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন মেডিকেল অফিসার ডা. হরে কৃঞ্চ দেবনাথ। ভুল তথ্য দিয়ে অবৈধ পন্থায় ২০২৩ সালের মার্চ মাসে ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে পাসপোর্ট নেন। তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলীর স্বাক্ষর করা ০৫-০৩-২০২৩ তারিখের মসিক/প্রশা/সাধা/২৩/৩৮৩ স্মারকে পাসপোর্ট অফিসে এনওসি পাঠানো হয়। এতে তিনি প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পরিচয় দেন। ওই সময় তিনি ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ চলতি দায়িত্বে থাকলেও এনওসিতে তা উল্লেখ করেননি। তা ছাড়া ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও ঢাকার বাসার ঠিকানা না দিয়ে পাসপোর্টের আবেদনে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ঠিকানা ব্যবহার করেন। পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, গুরু-শিষ্যের কাছে মসিকের স্বাস্থ্য বিভাগ জিম্মি হয়ে পড়েছে। সম্মানি ও ‘হিস্যা’ নিয়ে কর্মচারী, স্বেচ্ছাসেবক ও গণমাধ্যকর্মীদের সঙ্গে বিরোধ ও তর্কবিতর্ক হয়। বিভিন্ন টিকা ও ক্যাপসুল খাওয়ানো কর্মসূচিকে পুঁজি করে সরকারি ও মসিকের তহবিল থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় লাখ লাখ টাকা। টিকাদান কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মানি মেরে দিয়েও গুরু-শিষ্য আলোচনায়। সূত্র মতে, মসিকের স্বাস্থ্য খাতে লুটপাট হওয়া ১৫ কোটি টাকার মধ্যে করোনার আড়াই বছরে আট কোটি, গত ছয় বছরের বিভিন্ন সময়ে চার কোটি, নগর মাতৃসদন ও নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে তিন কোটি টাকা লুটপাট করা হয়। লুটপাটের টাকায় ডা. হরে কৃঞ্চ দেবনাথ কিশোরগঞ্জে জমি ও ঢাকার মোহাম্মদপুরে ফ্ল্যাট কেনা ছাড়াও নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়েছেন। স্বাস্থ্য সহকারী সাইফুল ইসলাম (সাজু) ময়মনসিংহ নগরীতে জমি ও ফ্ল্যাট কেনাসহ গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জে বিপুল জমি কিনেছেন।

সূত্র জানায়, ২০২০ সালে করোনা শুরু হওয়ার পরই টাকা লুটপাট করতে মাঠে নামেন আলোচিত গুরু-শিষ্য। তারা মেয়র ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে ভুল বুঝিয়ে কোটি কোটি টাকার সুরক্ষা সামগ্রী কিনতে থাকেন।

করোনার সময় পর্যায়ক্রমে পাঁচ কোটি টাকার পিপিই, মাক্স, স্যানিটাইজারসহ অন্যান্য পণ্য ক্রয় দেখানো হয়। সাইফুল ইসলাম (সাজু) পাঁচ কোটি টাকার মালামাল কিনে একাই তিন কোটি আত্মসাৎ করেন। এ ছাড়া গত ছয় বছরে বিভিন্ন ফাইল ও জন্মনিবন্ধন থেকে ‘ধুরন্ধর’ সাজু আরো দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। একই সময় মেডিকেল অফিসার ডা. হরে কৃঞ্চ দেবনাথ করোনার টিকা প্রদান কার্যক্রম, বিভিন্ন টিকা ও ক্যাপসুল খাওয়ানো কর্মসূচি থেকে চার কোটি এবং নগর মাতৃসদন ও নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র খাত থেকে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

আলোচিত গুরু-শিষ্য, নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান ও তাদের প্রতিনিধির নামে গত ছয় বছরে হিসাব বিভাগ থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকার চেক ইস্যু হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। তার মধ্যে সাইফুল ইসলামের একার নামেই ইস্যু হয়েছে চার কোটি টাকার চেক। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গুরুসহ তাদের লোকজনের নামে বাকি টাকার চেক ইস্যু হয়। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে কয়েকজন উচ্চমান সহকারী ও নিম্নমান সহকারী থাকলেও কাউকেই স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয় না। টাকা হাতানোর গোমর ফাঁস হওয়ার ভয়ে শিষ্য সাইফুল ইসলাম একাই সব কিছু সামলান। বছর খানেক আগে এ নিয়ে গুঞ্জন শুরু হলে নিম্নমান সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক মো. ওয়ালিউল ইসলামকে স্বাস্থ্য বিভাগে বদলি করা হয়। ‘ধুরন্ধর’ গুরু-শিষ্যের চক্রান্তে টিকতে না পেরে তিনি অন্য শাখায় ফিরে যান।

জানা যায়, মেডিকেল অফিসার ডা. হরে কৃঞ্চ দেবনাথের টাকা হাতানোর উৎস একটি মাতৃসদন ও তিনটি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র। বাঘমারায় নগর মাতৃসদন, খাগডহর, গোলকীবাড়ি ও শম্ভুগঞ্জে নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র। চারটি কেন্দ্রে সাতজন ডাক্তার, ১২ জন প্যারামেডিক ও ৮১ জন স্টাফ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা নেই। চারজন ডাক্তার, চারজন প্যারামেডিক ও ৫০ জন স্টাফ দিয়ে চলছে চারটি কেন্দ্র। এ খাতে বিল-ভাউচার করে প্রতি মাসে ২৫ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। মাসে গড়ে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সূত্র মতে, এডিবির অর্থায়নে ‘আরবান হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রজেক্ট-২’ ২০২২ সালের জুন মাসে দুই বছর মেয়াদি প্রকল্প শুরু করে। ২০২৪ সালের জুন মাস থেকে মন্ত্রণালয় ও মসিকের অর্থায়নে প্রকল্পটি চালু রাখা হয়েছে। এর মেয়াদ চলতি ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। মন্ত্রণালয়, মসিক ও পিএসটিসি এনজিও টাকার জোগান দেওয়ার কথা।

সূত্র জানায়, পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিএসটিসি) এনজিও কেন্দ্রগুলো দেখভাল করার কথা। মসিকের মেডিকেল অফিসার ডা. হরে কৃঞ্চ দেবনাথ প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার ও পিএসটিসি’র ইকবাল হোসেন প্রজেক্ট ম্যানেজার। সব কিছুই মেডিকেল অফিসার ডা. হরে কৃঞ্চ দেবনাথের নিয়ন্ত্রণে। তাকে ছাড়া হয় না নিয়োগ ও কেনাকাটা। চারটি কেন্দ্রে নিয়োগ করা কর্মীদের কাছ থেকেও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র মতে, মাতৃসদন ও নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র নগরবাসীর কোনো কাজে আসছে না। কোনো নাগরিক চাহিদা অনুযায়ী চিকিৎসা পেয়েছেন এমন নজির নেই। কেন্দ্রের চিকিৎসা সরঞ্জাম, পরীক্ষার সামগ্রী ও অন্যান্য মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রেও মোটা অঙ্ক হাতিয়ে নেন মেডিকেল অফিসার ডা. হরে কৃঞ্চ দেবনাথ। ব্যহত হচ্ছে ভিটামিন এ প্লাস, কৃমি নাশক ও টাইফয়েডের মতো জীবনরক্ষাকারী টিকাদান কর্মসূচি। নয়ছয় করেন এ সব খাতের অধিকাংশ টাকা। তার বিরুদ্ধে সম্মানি আত্মসাতের অভিযোগে কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবকরা বিক্ষোভ করেন।

গুরু-শিষ্যের অভিযোগ সম্পর্কে মসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আল মজীদ গতকাল রোববার রাতে একটি দৈনিক পত্রিকাকে বলেন, ‘অভিযোগ তদন্ত করে দোষীদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কোনো অবস্থাতেই তারা ছাড় পাবেন না।

অপরদিকে মসিকের কঞ্চন নন্দি, লাইসেন্স পরিদর্শক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা সহ বেশ কয়েকজন এর বিরুদ্ধে ব্যাপক ঘুষ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

মিঠামইনে ছোট ভাইকে ঠকানোর অভিযোগ, চুক্তিপত্রেও মিলছে না সমাধান

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ)।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৫৫ পিএম
মিঠামইনে ছোট ভাইকে ঠকানোর অভিযোগ, চুক্তিপত্রেও মিলছে না সমাধান

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বড় ভাইদের বিরুদ্ধে ছোট ভাইকে বঞ্চিত করা, বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা এবং ঘরের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে স্ট্যাম্পে আপস-মীমাংসার চুক্তিনামা সম্পাদিত হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ছোট ভাই মো. শফিকুল ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান না হওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর মৌলভীপাড়া গ্রামের মৃত হারিছ মিয়ার ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম (৪৯) মিঠামইন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এতে একই বাবার সন্তান মাওলানা আহসান হাবিব (৫৭), তাঁর স্ত্রী মমতাজ বেগম (৫২) এবং ছেলে মুজাহিদ মিয়াকে (২২) বিবাদী করা হয়।

লিখিত অভিযোগে শফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ঢাকায় বসবাসের সুযোগে তাঁর মালিকানাধীন বসতবাড়ির আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল বিবাদীরা দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়। ঘরে থাকা কাঠের বক্স, চৌকি, ফ্যান, সিমেন্টের পিলারসহ বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

অন্যদিকে, অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সম্পাদিত একটি অঙ্গীকারনামায় আপস-মীমাংসার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। এতে প্রথম পক্ষ হিসেবে মো. শফিকুল ইসলাম এবং দ্বিতীয় পক্ষ হিসেবে মাওলানা আহসান হাবিব ও মাহবুব আলমের নাম রয়েছে। দলিল অনুযায়ী, বাড়িসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দুই লাখ টাকা লেনদেন এবং ৩৯৫ নম্বর দাগ থেকে তিন শতাংশ জমি দেওয়ার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ধারিত অর্থ পরিশোধের পর দ্বিতীয় পক্ষের আর কোনো দাবি-দাওয়া থাকবে না বলেও অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ রয়েছে।

শফিকুল ইসলামের অভিযোগ, আপস-মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে চুক্তির শর্ত কার্যকর হচ্ছে না। বরং বিবাদীরা তাঁর বসতবাড়িতে প্রবেশ করে মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন এবং তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর বড় ভাই মাহবুব আলম ও আহসান হাবিব ওয়ারিশি সম্পত্তি থেকে তাঁকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় নিজের নিরাপত্তা ও পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মাহবুব আলম কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে এবং মাওলানা আহসান হাবিব তুমিজা খাতুন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, বিষয়টি পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও দলিলপত্র যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

ময়মনসিংহে রেলওয়ের জমিতে ১৮ তলা ভবন! নকশা বাতিলের উদ্যোগ, দুদকের অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
ময়মনসিংহে রেলওয়ের জমিতে ১৮ তলা ভবন! নকশা বাতিলের উদ্যোগ, দুদকের অভিযান

ময়মনসিংহ নগরীতে রেলওয়ের জমি দখল করে ১৮ তলা এলিট টাওয়ার নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নির্মাণাধীন ভবনটির কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ভবনটির অনুমোদিত নকশা বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে নগরীর মিন্টু কলেজ এলাকায় সরেজমিনে জমি পরিমাপ করেন ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. এরশাদ উদ্দিন। এ সময় তিনি দেখতে পান, সড়কসংলগ্ন রেলওয়ের প্রায় ১৩ ফুট জায়গা নির্মাণাধীন এলিট টাওয়ারের সীমানার ভেতরে রয়েছে। এরপরই ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

রেলওয়ের অনুমতি ছাড়া পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন এই কর্মকর্তা। পাশাপাশি রেললাইনের পাশে বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

এর আগে বুধবার দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলু মিয়ার নেতৃত্বে নির্মাণাধীন এলিট টাওয়ারে অভিযান চালানো হয়। রেলওয়ের জমি দখল করে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট ভবনটির নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে-এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. এরশাদ উদ্দিন বলেন, রেলওয়ের জমিতে কোনো ধরনের বহুতল ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শন ও পরিমাপ করে দেখা গেছে, ১৮ তলা এলিট টাওয়ারের নির্মাণকাজ রেলওয়ের জমির মধ্যে সম্প্রসারিত হয়েছে। এ কারণে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করে নির্মাণকাজ চালু করা হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে ভবনটির ডেভেলপার ও নগরীর মুসলিম উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিনের দাবি, নিয়ম মেনেই ১৮ তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। ভবনটিতে ১০৫ জন শেয়ারহোল্ডার রয়েছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে আপাতত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে গণপূর্ত বিভাগ থেকে ১৮ তলা ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়। তবে দীর্ঘদিন পর সম্প্রতি ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এরই মধ্যে নকশা অনুমোদনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ডেভেলপার জালাল উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নকশা অনুমোদনে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে রেলওয়ের জমি ভবনের সীমানার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি সামনে আসায় ভবনটির অনুমোদন প্রক্রিয়া, জমির মালিকানা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ময়মনসিংহ থিয়েটার এসোসিয়েশনের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
ময়মনসিংহ থিয়েটার এসোসিয়েশনের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

সাহিত্য-সংস্কৃতির চারণভূমি ময়মনসিংহে সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ করার প্রত্যয়ে ময়মনসিংহ থিয়েটার এসোসিয়েশনের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নবগঠিত এই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ছায়ানট সাংস্কৃতিক সংস্থার সভাপতি শরীফ মাহফুজুল হক আপেল এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শাপলা থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক এমদাদ।

ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির উর্বর ভূমি ময়মনসিংহ। এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ইতিহাস দীর্ঘদিনের গৌরবময় ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। নাট্যচর্চা, সংগীত, আবৃত্তি, সাহিত্যচর্চা ও নানা সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল বরাবরই স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে আসছে। ব্রহ্মপুত্রের তীরের এই জনপদে সাংস্কৃতিক সংগঠন ও অসংখ্য সংস্কৃতিকর্মীর নিরলস প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিক্রমা।

এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নাট্য আন্দোলনকে বেগবান করা, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য ও সম্প্রীতি জোরদার এবং ময়মনসিংহের নাট্যচর্চার কর্মকাণ্ডকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট সংস্কৃতিকর্মীরা।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের নেতৃত্বে নবগঠিত এই কমিটির মাধ্যমে ময়মনসিংহের নাট্যাঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির চারণভূমি হিসেবে ময়মনসিংহের ঐতিহ্য ও গৌরব আরও বিকশিত হবেএমন প্রত্যাশা সাংস্কৃতিক মহলের।

সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে ধারণ করে, নাট্যচর্চার বিকাশে ঐক্যবদ্ধ হোক ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক অঙ্গন।