বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

যে কারণে ২৫২ প্রশিক্ষণার্থী এসআইকে অব্যাহতি

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৪, ৫:১৮ পিএম
যে কারণে ২৫২ প্রশিক্ষণার্থী এসআইকে অব্যাহতি

শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে চাকরি থেকে পুলিশের ২৫২ জন প্রশিক্ষণার্থী উপ-পরিদর্শককে (এসআই) অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে ৪০তম ক্যাডেট ব্যাচের প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার মাত্র এক মাস আগে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে পুলিশের একটি সূত্র বলছে- শৃঙ্খলা ভঙ্গ ছাড়াও এর পেছনে আরও কারণ রয়েছে।

 

এদিকে অব্যাহতি পাওয়া একজন প্রশিক্ষণার্থী এসআইকে দেওয়া চিঠির কপি হাতে এসেছে। এতে দেখা গেছে, চিঠিটি গতকাল ২১ অক্টোবর ইস্যু করা হয়েছে।

 

চিঠিতে বলা হয়েছে- আপনি বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪০তম ক্যাডেট এসআই/২০২৩ ব্যাচে গত ২০২৩ সালে ৫ মে এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণরত আছেন। বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি প্যারেড মাঠে গত ১ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিট হতে ৪০তম বিসিএস (পুলিশ) প্রবেশনারস ব্যাচ-২০২৩ এর সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুশীলন প্যারেড কার্যক্রম চলমান ছিল। এ সময়ে পুলিশ একাডেমি কর্তৃক পূর্ব নির্ধারিত মেনু অনুযায়ী প্যারেডে অংশগ্রহণকারী সকল প্রশিক্ষণার্থীকে প্যারেড বিরতিতে সকালের নাশতা পরিবেশন করা হয়। কিন্তু আপনি (প্রশিক্ষণার্থী এসআই) উক্ত সরবরাহকৃত নাশতা না খেয়ে হৈ চৈ করে মাঠের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করেন। আপনি অন্যান্য প্রশিক্ষণরত ক্যাডেট এসআইদের পরস্পর সংগঠিত করে একাডেমি কর্তৃপক্ষকে হেয় প্রতিপন্ন করে চরম বিশৃঙ্খলা ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করতে থাকেন। এছাড়াও আপনি অন্যদের সাথে হৈ চৈ করে মাঠের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করেন। আপনি অন্যান্য প্রশিক্ষণরত ক্যাডেট এসআইদের পরস্পর সংগঠিত করে একাডেমি কর্তৃপক্ষকে হেয় প্রতিপন্ন করে চরম বিশৃঙ্খলা ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করতে থাকেন। এছাড়াও আপনি অন্যদের সাথে হৈ চৈ করতে করতে নিজের খেয়াল খুশিমত প্রশিক্ষণ মাঠ থেকে বের হয়ে নিজ ব্যারাকে চলে যান।

একজন প্রশিক্ষণরত ক্যাডেট এসআই হিসেবে এরূপ আচরণ এবং বিনা অনুমতিতে প্যারেড মাঠ থেকে বের হয়ে নিজ ব্যারাকে চলে যাওয়া সম্পূর্ণভাবে শৃঙ্খলা পরিপন্থি। আপনার এরূপ আচরণ মাঠের সার্বিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে চরমভাবে ব্যাহত করেছে এবং অন্য প্রশিক্ষণার্থীদেরকে শৃঙ্খলা ভঙ্গে উৎসাহিত করেছে মর্মে আপনার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল (অতিরিক্ত আইজিপি) পুলিশ পরিদর্শক (সঃ) মো. মহসিন আলী বরাবরে লিখিত প্রতিবেদন দাখিলের প্রেক্ষিতে ৩ অক্টোবর পুলিশ একাডেমির পুলিশ সুপার (ফিল্ড উইং) মো. সিদ্দিকুর রহমান এতদসংক্রান্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ করেন। উপরোক্ত অভিযোগের কারণে প্রিন্সিপালের পক্ষে পুলিশ সুপার (অ্যাডমিন অ্যান্ড লজিস্টিকস) তিন দিনের মধ্যে কৈফিয়তের জবাব দাখিল করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। বর্ণিত নির্দেশনার প্রেক্ষিতে আপনি নির্ধারিত তিন দিন সময়ের মধ্যে কৈফিয়তের জবাব দাখিল করেন। আপনার দাখিলকৃত কৈফিয়তের জবাব পর্যালোচনান্তে সন্তোষজনক নয় মর্মে প্রতীয়মান হয়। পূর্ব নির্ধারিত মেনু অনুযায়ী সরবরাহকৃত নাশতা আপনি না খেয়ে একাডেমি কর্তৃপক্ষকে হেয় প্রতিপন্ন করে চরম বিশৃঙ্খলা ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে হৈ চৈ করে মাঠ থেকে বের হয়ে নিজ ব্যারাকে চলে যান। আপনি ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী তথা বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন করেন। একজন প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে আপনার এ ধরনের আচরণ চরম শৃঙ্খলা পরিপন্থি ও অসদাচরণের শামিল। আপনার উপরোক্ত শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পদ হিসেবে বিবেচিত সাব-ইন্সপেক্টর পদে কাজ করার পথে বড় ধরনের অন্তরায় ও অযোগ্যতার শামিল।এমতাবস্থায় আপনার এহেন শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যক্রমের কারণে মৌলিক প্রশিক্ষণ হতে ডিসচার্জ করণের বিষয়ে অনুমোদনের জন্য গত ১২ অক্টোবর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ঢাকায় পত্র প্রেরণ করা হয়। তৎপ্রেক্ষিতে অ্যাডিশনাল ডিআইজি (ট্রেনিং-২) বাংলাদেশ পুলিশ, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ১৫ অক্টোবর আপনাকে চলমান মৌলিক প্রশিক্ষণ হতে ডিসচার্জ করণের আদেশ জারির বিষয়টি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ঢাকা কর্তৃক অনুমোদিত হয় এবং পিআরবি-১৯৪৩ এর বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদিষ্ট হয়ে অনুরোধ করেন। এমতাবস্থায় প্রশিক্ষণরত ক্যাডেট এসআই মৌলিক প্রশিক্ষণ হতে অদ্য ২১ অক্টোবর পূর্বাহ্নে ডিসচার্জ করা হলো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অব্যাহতি পাওয়া কয়েকজন শিক্ষানবিশ উপ-পরিদর্শক জানান, ওই কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের আগে ৪০তম ক্যাডেট এসআই-২০২৩ ব্যাচের উপ-পরিদর্শকদের একাংশকে ১৯-২৩ অক্টোবর ছুটিতে পাঠানো হয়। আগের দিন ১৮ অক্টোবর এই ছুটি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় তাদের একাডেমিতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে এর আগেই শিক্ষানবিশ উপ-পরিদর্শকদের স্থানীয় থানাগুলোয় বরখাস্তের আদেশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

 

এ বিষয়ে একাডেমির অধ্যক্ষ ও অতিরিক্ত আইজিপি মাসুদুর রহমান ভুঞা বলেন, প্রশিক্ষণ চলাকালে শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে তাদের চাকরি থেকে ‘ডিসচার্জ’ করা হয়েছে। এজন্য প্রত্যেককে চিঠি ইস্যু করা হচ্ছে। ৪০তম ব্যাচের আউটসাইডার ক্যাডেট হিসেবে মোট ৮০৪ জন প্রশিক্ষণরত ছিলেন। তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ২৫২ জনকে ডিসচার্জ করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, এটা রাজনৈতিক কোনো ইস্যু না। শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য তাদের ডিসচার্জ করা হয়েছে। তবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হলেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে কেউ বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি। এর আগে ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর ক্যাডেট এসআই সদস্যদের ট্রেনিং শুরু হয়েছিল। শেষ হওয়ার কথা ছিল আগামী ৪ নভেম্বর।

 

এর আগে গত ২০ অক্টোবর রাজশাহীর বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪০তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজও হঠাৎ অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে সারদায় ২৫২ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসআইকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।

ময়মনসিংহ থিয়েটার এসোসিয়েশনের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
ময়মনসিংহ থিয়েটার এসোসিয়েশনের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

সাহিত্য-সংস্কৃতির চারণভূমি ময়মনসিংহে সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ করার প্রত্যয়ে ময়মনসিংহ থিয়েটার এসোসিয়েশনের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নবগঠিত এই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ছায়ানট সাংস্কৃতিক সংস্থার সভাপতি শরীফ মাহফুজুল হক আপেল এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শাপলা থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক এমদাদ।

ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির উর্বর ভূমি ময়মনসিংহ। এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ইতিহাস দীর্ঘদিনের গৌরবময় ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। নাট্যচর্চা, সংগীত, আবৃত্তি, সাহিত্যচর্চা ও নানা সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল বরাবরই স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে আসছে। ব্রহ্মপুত্রের তীরের এই জনপদে সাংস্কৃতিক সংগঠন ও অসংখ্য সংস্কৃতিকর্মীর নিরলস প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিক্রমা।

এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নাট্য আন্দোলনকে বেগবান করা, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য ও সম্প্রীতি জোরদার এবং ময়মনসিংহের নাট্যচর্চার কর্মকাণ্ডকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট সংস্কৃতিকর্মীরা।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের নেতৃত্বে নবগঠিত এই কমিটির মাধ্যমে ময়মনসিংহের নাট্যাঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির চারণভূমি হিসেবে ময়মনসিংহের ঐতিহ্য ও গৌরব আরও বিকশিত হবেএমন প্রত্যাশা সাংস্কৃতিক মহলের।

সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে ধারণ করে, নাট্যচর্চার বিকাশে ঐক্যবদ্ধ হোক ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক অঙ্গন।

ভিসি ড. আমানুল্লাহর নির্দেশে প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘন ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত

‎টি অ্যান্ড টি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম

‎এম. আনোয়ার হোসেন।। প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৯ পিএম
‎টি অ্যান্ড টি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিধিমালা ও প্রজ্ঞাপন উপেক্ষা করে রাজধানীর টি অ্যান্ড টি কলেজে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের ডিঙিয়ে এক জুনিয়র সহকারী অধ্যাপককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শন দপ্তর থেকে জারীকৃত পত্র ও সংশ্লিষ্ট কলেজের শিক্ষকমণ্ডলীর তালিকা বিশ্লেষণে বিধিলঙ্ঘন ও স্বজনপ্রীতির স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে।

‎প্রাপ্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি বছরের গত ১৭ সেপ্টেম্বরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে টি অ্যান্ড টি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব সাদিকা বেগম-কে কলেজের অ্যাকাডেমিক, প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

‎অথচ ওই চিঠিতেই উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের ২৮ আগস্টের সিন্ডিকেটের ২৭১তম সভার সিদ্ধান্ত এবং চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারীর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতম শিক্ষকের মধ্য থেকে এ নিয়োগ দেওয়ার কথা।

‎জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ১৩ জানুয়ারি জারীকৃত প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, কলেজের অধ্যক্ষ পদ শূন্য হলে জ্যেষ্ঠতম ১০ জন শিক্ষকের তালিকা থেকে গভর্নিং বডির সুপারিশক্রমে ৩ জনের প্যানেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে হবে। প্রজ্ঞাপনের একদম শেষে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে – সংশ্লিষ্ট কলেজে স্ব পদে যোগদানের তারিখ হইতে জ্যেষ্ঠতা গণনা করিতে হইবে।

‎কলেজ সূত্রে জানা যায়, টি অ্যান্ড টি কলেজের শিক্ষক জ্যেষ্ঠতার ক্রম তালিকায় সাদিকা বেগম রয়েছেন ০৮ নম্বর অবস্থানে। তালিকায় তাঁর পূর্বে আরও বহু জ্যেষ্ঠ সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, তালিকায় রয়েছে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কাজী মুহাম্মদ মাঈন উদ্দিন, মাহমুদুল হাসান, মোহাম্মদ মুখলেছুর রহমান, মো: কামরুজ্জামান এবং মো: আবদুল আলীম নাম।

‎স্ব পদে যোগদানের তারিখ অনুযায়ী একাধিক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক কর্মরত থাকা সত্ত্বেও, তাঁদের সম্পূর্ণ ডিঙিয়ে তালিকায় ৮ নম্বরে থাকা সহকারী অধ্যাপক সাদিকা বেগমকে জ্যেষ্ঠতম দেখিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

‎আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিজের জারীকৃত সংবিধিবদ্ধ প্রজ্ঞাপন ও বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের চাকরির শর্তাবলী রেগুলেশন (সংশোধিত) ২০১৯’ আইনত মানতে বাধ্য। জ্যেষ্ঠতার ক্রম তালিকা উপেক্ষা করে ৮ নম্বর তালিকায় থাকা শিক্ষককে দায়িত্ব প্রদান করা সরাসরি আইন ও প্রশাসনিক বিধিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। এর ফলে কলেজের স্বাভাবিক প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে।

‎এ বিষয়ে কলেজের বঞ্চিত শিক্ষকবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে অনতিবিলম্বে এ অবৈধ আদেশ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রকৃত জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের হাতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব হস্তান্তরের জোর দাবি জানিয়েছেন।

‎এ বিষয়ে নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাদিকা বেগমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ সংক্রান্ত কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। অপরদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দীনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক নিয়োগে ৩.৬০ সিজিপিএ শর্ত, বৈষম্যের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক নিয়োগে ৩.৬০ সিজিপিএ শর্ত, বৈষম্যের অভিযোগ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নিয়োগের শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর উভয় পরীক্ষায় ন্যূনতম সিজিপিএ ৪.০০-এর মধ্যে ৩.৬০ নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত অভিন্ন ন্যূনতম যোগ্যতার নির্দেশনায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের জন্য ৩.৫০ সিজিপিএর মানদণ্ডের বিষয়টি সামনে আসায় এ শর্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একাডেমিক মানদণ্ড নির্ধারণের সুযোগ থাকলেও তা হতে হবে যুক্তিসংগত, স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন। কিন্তু নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নিয়োগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর দুই পর্যায়েই পৃথকভাবে ৩.৬০ সিজিপিএ বাধ্যতামূলক করায় ভালো ফলাফল থাকা সত্ত্বেও অনেক যোগ্য প্রার্থী আবেদন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন, একই অনুষদের অন্য বিভাগের নিয়োগে ইউজিসির নির্দেশিত মানদণ্ড অনুসরণ করা হলেও নৃবিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এতে একই অনুষদের বিভাগগুলোর মধ্যে নিয়োগের যোগ্যতা নির্ধারণে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো প্রার্থীর স্নাতক পর্যায়ে সিজিপিএ ৩.৫৫ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৭৫ হলে দুই পরীক্ষার গড় সিজিপিএ দাঁড়ায় ৩.৬৫। কিন্তু বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী স্নাতক পর্যায়ে ৩.৬০ না থাকায় ওই প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন না। ফলে স্নাতকোত্তরে ভালো ফলাফল কিংবা সামগ্রিক একাডেমিক অর্জন বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে নিয়োগের যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে শর্ত কঠোর করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও শিক্ষাঙ্গনে আলোচনা চলছে। আগে থেকেই কাউকে বিবেচনায় রেখে যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে কি না, এমন সন্দেহের কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই নিয়োগের শর্ত নির্ধারণের প্রস্তাব, অনুমোদন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া প্রকাশের দাবি উঠেছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষক নিয়োগে উচ্চতর যোগ্যতার শর্ত আরোপ করা অযৌক্তিক নয়। তবে সেই শর্তের পেছনে সুস্পষ্ট একাডেমিক প্রয়োজনীয়তা, নীতিগত ভিত্তি ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা থাকা জরুরি। বিশেষ করে ইউজিসির অভিন্ন নির্দেশনার চেয়ে বেশি যোগ্যতা নির্ধারণ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তার যৌক্তিকতা জানতে চাওয়াও স্বাভাবিক। অন্যথায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

এ অবস্থায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নিয়োগে ৩.৬০ সিজিপিএ নির্ধারণের ভিত্তি, ইউজিসির নির্দেশনার সঙ্গে এর সামঞ্জস্য এবং একই অনুষদের অন্যান্য বিভাগের নিয়োগের যোগ্যতার শর্ত পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত পুনর্বিবেচনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

বিভাগীয় শিক্ষকদের বক্তব্য

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সিজিপিএ নির্ধারণের যৌক্তিকতা এবং ইউজিসির নির্দেশনার সঙ্গে এর সামঞ্জস্য বিষয়ে জানতে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ফিরোজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।

পরে বিভাগের বিভাগীয় প্রধান স্বপ্না পাপুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিয়োগের যোগ্যতার শর্ত, ইউজিসির নির্দেশনা অনুসরণ না করার কারণ এবং শর্ত নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। তবে তিনি এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব। যোগ্যতা নির্ধারণে কোনো ধরনের পক্ষপাত বা বৈষম্যের ধারণা তৈরি হলে তা শুধু সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করবে না, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগপ্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।