বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩

ছিলেন বিচারাঙ্গনের ‘নিয়ন্ত্রক’

আনিসুল হকের চালিকাশক্তি কে এই তৌফিকা করিম

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৪, ৬:৪০ পিএম
আনিসুল হকের চালিকাশক্তি কে এই তৌফিকা করিম

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিচারাঙ্গনের অঘোষিত ‘নিয়ন্ত্রক’ ছিলেন অ্যাডভোকেট তৌফিকা করিম। সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ছোঁয়ায় এ অসাধ্য সাধ্য করেছিলেন তিনি। উচ্চ আদালত থেকে নিম্ন আদালত সবখানেই তার বিচরণ ছিল বলে জানা যায়।

 

এ ছাড়া গড়ে তুলেছিলেন বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণের নিজস্ব সিন্ডিকেট। গুরুত্বপূর্ণ মামলায় প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো রায় ও জামিন করিয়েছেন অনেক চাঞ্চল্যকর মামলার দুর্ধর্ষ আসামিদের।

 

অ্যাডভোকেট তৌফিকা করিম একাধারে একজন আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও ব্যাংকার। আইন অঙ্গনে পরিচিত সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে।

 

মন্ত্রীর নির্বাচনী হলফনামার তথ্যমতে তিনটি পুকুর, কৃষিজমির ফসল ও মাছের চাষাবাদ ছিল আয়ের প্রধান উৎস। এর পর মন্ত্রী হওয়ার তার সম্পদের হিসাব বাড়তে থাকে। ঘুসের টাকা গুনতে বাসায় বসিয়েছিলেন টাকা গোনার মেশিন।

 

সিটিজেন ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় ৪শ কোটি টাকা জামানত এবং ২০০ কোটি টাকা চলতি মূলধন দিয়ে ব্যাংকের যাত্রা শুরু করেছিলেন আনিসুল হক। তার মা প্রথমে এই ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। মায়ের মৃত্যুর পর বহুল আলোচিত তৌফিকা করিমকে চেয়ারম্যান করা হয়। এই তৌফিকা করিমই ছিলেন আনিসুল হকের চালিকাশক্তি। তিনি যা বলতেন তাই করতেন আনিসুল হক।

 

এই তৌফিকা করিমের ছেলে ও মেয়েকে কানাডায় বাড়ি করে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, ‘প্রাইভেট একটি টেলিভিশনে ৪০ ভাগ শেয়ার আছে তার।

 

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, তদবিরের টাকা এক সময় নিতেন এপিএস জীবন। বড় বড় ব্যবসায়ীর দুর্নীতির মামলার তদবিরের লেনদেন হতো আনিসুল হকের গুলশানের অফিসে। এপিএস জীবন উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার পর সব লেনদেনের দায়িত্ব পান বিতর্কিত তৌফিকা করিম। এই তৌফিকা হচ্ছেন পিয়াস করিমের আপন বোন। তৌফিকাকে মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নিয়োগ দিয়ে সামাজিক জীবনে ফেরাতে চেষ্টা করেন। তদবিরের টাকা লেনদেনে আরও যুক্ত ছিলেন আনিসুল হকের এক ভাগ্নে। সব বড় বড় দুর্নীতির মামলার আসামিদের জামিনের গ্যারান্টি দিতেন তিনি। বড় বড় ক্রিমিনালদের হাইকোর্ট-সুপ্রিমকোর্টে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর নিম্ন আদালত থেকে জামিন করিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিতেন।

 

জানা যায়, টাকার বিনিময়ে নতুন বিচারপতি নিয়োগের মতো ঘটনা অতীতে ঘটেনি। চরম অযোগ্য ও বিতর্কিত ৩ জন জেলা জজ এবং ৫ জন অযোগ্য আইনজীবীকে বিচারপতি নিয়োগ করা হয়েছে তৌফিকা করিমের মাধ্যমে। তাদের নিয়োগের প্রস্তাব দিয়ে বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রীর ডিজায়ার’।

 

তদবিরের আলামত : আনিসুল হকের খোঁজখবর রাখতেন এমন একজন ব্যবসায়ী বলেন, ফার্মার্স ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎকারী রাশেদুল হক চিশতীকে হাইকোর্ট-সুপ্রিমকোর্ট জামিন দেননি। অথচ ঢাকার একটি বিশেষ জজ আদালতের বিচারককে বাধ্য করে জামিন করান আনিসুল হক।

 

এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে দুদক। তখন সংশ্লিষ্ট কোর্টের বিচারপতিকে সুপ্রিমকোর্টে পদোন্নতির লোভ দেখিয়ে নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল করতে বাধ্য করেন। অতঃপর দুদক সুপ্রিমকোর্টে আপিল করেন। সেখানেও তদবির করেন আনিসুল হক। তার তদবিরে বিব্রতবোধ করে বিচারপতি ২০২০ সালের ১৮ জুন ওই মামলার নথিপত্র প্রধান বিচারপতির কাছে ফেরত পাঠান। পরে প্রধান বিচারপতি নতুন করে আরেক বিচারপতিকে মামলার শুনানির দায়িত্ব দেন। তখন শুনানি শেষে জামিন স্থগিত করা হয়।

 

নিম্ন আলাদত, হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টে জামিন করিয়ে দেওয়ার শর্তে ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সাবেক এই আইনমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। হলমার্কস গ্রুপের দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিমকোর্ট পর্যন্ত জামিন পায়নি আসামি জেসমিন। বিপুল টাকা নিয়ে নিম্ন আদালতে চাপ সৃষ্টি করে জামিন করিয়ে দেন আনিসুল হক। পরে দুদকের আপিলে জামিন উচ্চ আদালত স্থগিত করে দেন।

এই তদবিরের মধ্যস্থতাকারী টাকা ফেরত চাইলে আনিসুল হক বলতেন, ‘বিচারের সময় খালাস করিয়ে দেবেন।’

 

মতিঝিলের মিজান টাওয়ারের মালিক মিজানুর রহমান ব্যাংকের বিপুল অঙ্কের টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাতের আসামি। তাকে সুপ্রিমকোর্টও জামিন দেননি। অথচ মহানগর দায়রা জজকে হাইকোর্টের বিচারপতি করার লোভ দেখিয়ে জামিন করিয়ে নেন আনিসুল। বিএনপি নেতা ও সাবেক একজন হুইপের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির প্রায় ১ ডজন মামলা বাতিল করাতে হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টে আবেদন করে ব্যর্থ হন। এসব মামলা থেকে তাকে খালাস করে দেওয়ার চুক্তিতে বিপুল অঙ্কের টাকা নেন আনিসুল হক।

 

বিএনপির এই পরিবারের কাছ থেকে টাকার অঙ্কের সমপরিমাণ ডলার নেওয়া হয় গুলশানে তার অফিসে। চাঞ্চল্যকর সুলতান হত্যা মামলার আসামিকে জামিন করার শর্তে বিপুল পরিমাণ টাকা নেন তিনি। বিচারপতির খাস কামরায় গিয়ে সাবেক আইনমন্ত্রীর পক্ষে তদবির করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। একজন সৎ বিচারপতি তদবির না শোনায় তাকে হুমকি দেওয়া হয়। পরে ওই মামলা আরেক বিচারপতির এজলাসে জামিন করানো হয়। ওই বিচারপতি ছিলেন মহিলা।

 

ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেফতার হয়েছেন আনিসুল হক। আর তৌফিকা করিম চলে গেছেন আত্মগোপনে। তবে এই নারী দেশ ছেড়ে কানাডায় তার ছেলের কাছে পালিয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। সেখানেই রয়েছে তার বিপুল সম্পদ।

 

পালাবদলের পর সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টও জব্দ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

সূত্র: যুগান্তর

নকলায় খেয়াঘাটে খাস আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ১২:৫৬ এম
নকলায় খেয়াঘাটে খাস আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ

ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুর জেলার নকলা উপজেলা এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদ পারাপারের নারায়ণখোলা-পিয়ারপুর খেয়াঘাটে খাস আদায়কে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও সরকারি রাজস্ব লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে খেয়াঘাটে “লুটের রাজত্ব” চলছে।

জানা গেছে, উপজেলার ৮নং চর অষ্টধর ইউনিয়নের নারায়ণখোলা খেয়াঘাটে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাস আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা নুরুল হককে। তিনি স্থানীয় মাঝিদের মাধ্যমে খাস আদায় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন ঘাট থেকে প্রায় ৫ হাজার টাকা আদায় হলেও ১৫ দিন পর বিভাগীয় কমিশনারের সরকারি হিসাবে জমা দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। ফলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতে এই খেয়াঘাট ২২ থেকে ২৮ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হতো। তবে বর্তমানে ইজারা না দিয়ে খাস আদায়ের নামে স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। ন্যায্য দরদাতারা ইজারার সিডিউল কিনতে গেলে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সাধারণ যাত্রীরা জানান, মোটরসাইকেল পারাপারের সরকারি নির্ধারিত ভাড়া ২০ টাকা হলেও বর্তমানে চালকসহ আদায় করা হচ্ছে ৩০ টাকা এবং যাত্রীসহ মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে নেওয়া হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। এছাড়া রিজার্ভে পারাপারের সময় জনপ্রতি ১০ টাকা খাস নেওয়ার পরও নৌকায় গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকা পর্যন্ত। রাত ১০টার পর প্রতিটি খেয়ায় যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০০ টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। ভারী মালামাল পরিবহনেও নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।

খেয়া মাঝি হালিম বলেন, “প্রতিদিন নায়েবকে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়। এই টাকা আদায় না হলে আমাদের পোষায় না।” এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তিনি লিটন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। তবে ফোন করা হলে ওই ব্যক্তি কল রিসিভ করেননি।

খেয়াঘাটের কয়েকজন মাঝি জানান, গত ৫ আগস্টের পর থেকে ঘাটটির ইজারা হয়নি। পরে স্থানীয় নায়েবের মাধ্যমে ৭ লাখ টাকায় খাস হিসেবে তারা ঘাট পরিচালনা করছেন। তাদের মেয়াদ আগামী কোরবানির ঈদের পাঁচদিন পর শেষ হবে বলেও জানান তারা।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা নুরুল হক বলেন, “আগে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে শিডিউল বিক্রির মাধ্যমে ২২ থেকে ২৮ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে কেউ শিডিউল ক্রয় না করায় বিভাগীয় কমিশনারের পরামর্শে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে খাস আদায়ের দায়িত্ব দিয়েছেন।”

খাস আদায়ের অর্থ কোথায় জমা হয়— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “প্রতি ১৫ দিন পর ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বিভাগীয় কমিশনারের সরকারি ফান্ডে জমা দেওয়া হয়।” তবে মাঝিদের দাবি অনুযায়ী দৈনিক ৫ হাজার টাকা আদায় হলে ১৫ দিনে ৭৫ হাজার টাকা হওয়ার কথা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্থানীয় লিটনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ইজারা প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে খাস আদায়ের নামে সরকারি রাজস্ব আত্মসাতের সুযোগ নিচ্ছে। এ কারণেই মাঝি ও ভূমি কর্মকর্তার বক্তব্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম এর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করলেও উচ্চ শব্দের কারণে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে

ঘুষ-দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য ভালুকার কাচিনা ইউনিয়ন ভূমি অফিস,নায়েব মুফিজুলের কাছে জিম্মি সেবাগ্রহীতারা

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৫:৩০ পিএম
ঘুষ-দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য ভালুকার কাচিনা ইউনিয়ন ভূমি অফিস,নায়েব মুফিজুলের কাছে জিম্মি সেবাগ্রহীতারা

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কাচিনা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঘুষ ও দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।এখানে অনিয়মটা যেন নিয়ম,প্রতিনিয়তই হয়রানির শিকার হচ্ছে সেবা গ্রহীতারা, ওই অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা (তহসিলদার) মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম টাকা ছাড়া কোন কাজই করেন না। ভূমি সংক্রান্ত যে কোন সেবার বিনিময়ে তিনি হাতিয়ে নিচ্ছেন টাকা। অফিসে গ্রাহকদের হয়রানি নিত্তনৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব মফিজুল ইসলামের ঘুষ ও দুর্নীতির বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে। সহকারী ভূমি কর্মকর্তার কাছে রীতিমত জিম্মি হয়ে পড়েছে সেবাগ্রহীতারা এমন অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন মহলে।

সরেজমিনে জানা গেছে, কাচিনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নামজারি, জমাভাগ, খাজনা আদায়, জমির পর্চা (খসড়া) তুলা সহ ভূমি সংক্রান্ত সকল কাজে সরকারি নিয়মকে তোয়াক্কা না করে অনৈতিক ভাবে বাড়তি টাকা নেয়া হচ্ছে। চুক্তির টাকা ছাড়া কোন ফাইলই নড়ে না। টাকা না দিলে নির্ধারিত সময়ে কোন কাজ আদায় করা যায় না। এই ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গ্রাহক থেকে বাড়তি টাকা নেয়ার পরও বিভিন্ন ভাবে হয়রারি করছে এমনটাই অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অগোচরে মাঠ পর্যায়ের কাচিনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে বলে জমির কাজে আসা ভূক্তভোগীরা বলছেন।

ভূমি অফিসে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন গ্রাহক জানান, এই অফিসের কর্মকর্তা মোঃ মফিজুল ইসলাম ভূমি অফিসে কাজে আসা গ্রাহকদের কাজ সম্পাদনের বিষয়ে টাকার বিনিময়ে চুক্তি করেন। আর এই চুক্তি করার জন্য তিনি রেখেছেন একটি দালাল সিন্ডিকেট। অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার পরও

সেবা প্রাপ্তির ২০ শতাংশ লোকই চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে। আজ না-কাল এভাবে সময়ক্ষেপন করে গ্রাহকদের হয়রানি করছে। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে অতিরিক্ত হারে দাবিকৃত উৎকোচ না দিলে সেবা গ্রহীতারা পান না তাদের কাঙ্খিত সেবা।

ভুক্তভোগীরা জানান, দুর্নীতির একটি অভিনব কৌশল এখানে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে নামজারি বা খারিজের আবেদনের ক্ষেত্রে কেউ যদি নিয়ম মেনে সরাসরি আবেদন করেন এবং ঘুষ না দেন, তখন এই ভূমি অফিস থেকে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে পাঠানো তদন্ত প্রতিবেদনে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়া হয়। যেমন—জমির দাগ নম্বর ভুল লেখা বা হোল্ডিং নম্বর নেই বলে উল্লেখ করা হয়।

এই ভুল প্রতিবেদনের কারণে এসিল্যান্ড অফিস থেকে আবেদনটি সরাসরি বাতিল করে দেওয়া হয়। এরপর ভুক্তভোগী যখন পুনরায় ভূমি অফিসে যোগাযোগ করেন, তখন তাকে দালালদের মাধ্যমে ‘স্যারকে খুশি’ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। নিরুপায় হয়ে সেবা প্রার্থীরা তখন ঘুষ দিতে বাধ্য হন।

ভূক্তভোগীরা আরও জানান, এই ভূমি অফিসের দুর্নীতি এমন চরমে পৌঁছেছে যে সরকারি নীতিমালার বাইরে চুক্তি অনুযায়ী মোটা অংকের ঘুষ ছাড়া কোন হয় না। নামজারির তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য মোটা অংক টাকা আদায় করে উপজেলা ভূমি অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন স্তরে ভাগ দেয়ার কথা বলে। ভুক্তভোগীদের দাবী এই ভূমি কর্মকর্তার দুর্নীতি রোধে দুদকের সু-হস্তক্ষেপ জরুরি।

এ ব্যাপারে জানতে ভূমি কর্মকর্তা মফিজুল ইসলামের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

আরজেএফ’র ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৫ সাংবাদিক

আরিফ রব্বানী, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
আরজেএফ’র ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৫ সাংবাদিক

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের সংগঠন রুর‌্যাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ)’র ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত পাঁচ সাংবাদিককে “বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড” প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে “উন্নয়ন ও গণমাধ্যম” শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করে সংগঠনটি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আরজেএফ’র চেয়ারম্যান এস এম জহিরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুস সালাম। প্রধান আলোচক ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মো. হাবিবুর রহমান হাবিব।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফরএভার বরিশালের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন খোকন, এস আর মাল্টিমিডিয়া প্রোডাকশন হাউজের স্বত্বাধিকারী অ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, বাংলাদেশ আইন ও অধিকার এইডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাইফুল হোসেন অপু, দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রার সম্পাদক ও প্রকাশক কবি অশোক ধর, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অর্গানাইজেশন (এফবিজেও)’র মহাসচিব শামছুল আলম এবং বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স কাউন্সিল (বিসিআরসি)’র সভাপতি আলী আশরাফ আখন্দ।

স্বাগত বক্তব্য দেন আরজেএফ’র মহাসচিব সেকেন্দার আলম শেখ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আরজেএফ’র ভাইস চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম, ভাষা আন্দোলন গবেষণা কেন্দ্রের প্রশাসনিক কর্মকর্তা লিপি মাহবুব এবং মানবাধিকার সংগঠক মো. মনিরুল ইসলাম মনি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা ও সদস্য সচিব মিলন মল্লিক।

প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও সারাদেশ থেকে যাচাই-বাছাই শেষে পাঁচজন সাংবাদিককে “আরজেএফ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড” প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন— বাংলাদেশ বেতারের ঢাকা মহানগর সংবাদদাতা খোন্দকার এরফান আলী, দৈনিক যায়যায়দিনের সিনিয়র রিপোর্টার মোহাম্মদ হোসেন (এমএইচ সৈকত), দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মো. রিয়াজুল ইসলাম (রিয়াজ মোস্তাফিজ), দৈনিক ঘোষণার বিশেষ প্রতিনিধি মো. রেজাউল ইসলাম এবং স্টাফ রিপোর্টার মো. সজিব।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এছাড়া তৃতীয় পর্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১০ জন গুণী ব্যক্তিকে “আরজেএফ বর্ষসেরা সম্মাননা” প্রদান করা হয়।