মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান ড. ইউনূসের

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৭:৩৯ পিএম
রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান ড. ইউনূসের

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের সতর্ক হতে হবে, এই সঙ্কটের সমাধান না হলে শুধু বাংলাদেশ নয়, সমগ্র অঞ্চল সমস্যায় পড়বে।’

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশেনের ফাঁকে ২৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের অব্যশই এ বিষয়ে মনোযোগ দিতে হবে।’

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি, আইসিসি প্রসিকিউটর করিম এ এ খান, আইওএম মহাপরিচালক অ্যামি পোপ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

প্রধান উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে নতুন করে ভাবার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, ‘প্রথমত আমরা চাই জাতিসংঘ মহাসচিব যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে সকল পক্ষের উপস্থিতিতে একটি সম্মেলনের আয়োজন করুক।’

সম্মেলনে সঙ্কটের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা পূর্বক নতুন এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সমাধানের উপায় কী হতে পারে, তেমন প্রস্তাব আসতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন ।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, দ্বিতীয়ত জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ যৌথভাবে পরিচালিত ‘জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান’ কার্যক্রমে নতুন করে প্রাণশক্তি যোগ করার প্রয়োজন। যেহেতু এখন রোহিঙ্গাদের পেছনে ব্যয় করার মত তহবিলের অভাব রয়েছে, তাই রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও জোরদার করতে হবে।

তৃতীয় প্রস্তাবে ড. ইউনূস বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যা অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই আন্তরিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার দ্বারা নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও অনুষ্ঠান হচ্ছে তবে ড. ইউনুসের উপস্থিতি ও তার দৃষ্টিভঙ্গি এবারের আলোচনাকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।’

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য বৈষম্য, রাষ্ট্রহীনতা এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত বন্ধ করতে আমাদের অবশ্যই প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

বৈঠকের পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বাসসকে বলেন, ‘রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে এবারের বৈঠকটি অত্যন্ত সফল ছিল। সবাই বাংলাদেশের প্রচেষ্টার প্রশংসা এবং তাদের অব্যাহত সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।’

আইওএম মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ভুলে যাওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘এই সঙ্কট সমাধানে আমাদের আরও কাজ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধান প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে।’

আইওএম মহাপরিচালক জানান, তারা এই লক্ষ্য অর্জনে সম্ভাব্য সবকিছু করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের এই আলোচনায় অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং বাংলাদেশ ও তাদের আশ্রয়দানকারী জনগোষ্ঠীর জন্য প্রায় ১৯ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলারের নতুন সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন।

এই মার্কিন সহায়তা জীবন রক্ষা বিশেষ করে সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা, আশ্রয় এবং খাদ্য সরবরাহে সহায়তা করবে।

এদিকে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে বাংলাদেশে অবস্থানরত কিছু রোহিঙ্গা শরণার্থী বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশ্যে ‘আমাদের হতাশ করবেন না’ মর্মে একটি বার্তা পাঠিয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা ওই ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ভুলে যাওয়া যাবে না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৭ পিএম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে জাতীয় সংসদ ভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের অনাবাসী হাইকমিশনার ডেরেক লো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) এই ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষ করে চট্টগ্রামের বে টার্মিনাল প্রকল্প, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA), সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিকায়ন নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার সিঙ্গাপুর পোর্ট অথরিটির (PSA International) মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের বে টার্মিনালে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন থেকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ ও পরিচালনার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বে টার্মিনাল বাস্তবায়নে পিএসএ-র প্রস্তুত থাকার কথা ব্যক্ত করেন এবং জানান যে এটি চালু হলে বাংলাদেশের শিপিং খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে, যা তৈরি পোশাক (RMG) খাতের শ্রমিকদের সামগ্রিক কল্যাণেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। মন্ত্রী এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দেন।

হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সংক্রান্ত আলোচনা চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। মন্ত্রী দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে এটি দ্রুত বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাইবার স্পেস নিরাপত্তা, ডিজিটাল জালিয়াতি ও স্ক্যাম প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির অনুরোধ জানান। বাংলাদেশ পুলিশে ‘অতিরিক্ত আইজিপি’-র নেতৃত্বে নতুন ‘পুলিশ সাইবার ইউনিট’ গঠনের প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন। সিঙ্গাপুর প্রতিনিধি দল এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও যৌথ সাইবার তদন্ত সহায়তার ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি প্রদান করে।

হাইকমিশনার সিঙ্গাপুর কো-অপারেশন প্রোগ্রাম (SCP)-এর আওতায় বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও তরুণ সংসদ সদস্যদের সিঙ্গাপুরে অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর ও বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সুযোগ প্রদানের প্রস্তাব করলে মন্ত্রী এটিকে স্বাগত জানান।

বৈঠকে উভয়পক্ষ দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও জোরদার করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। হাইকমিশনার মন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে সিঙ্গাপুর সফরের আমন্ত্রণ জানান।

সাক্ষাৎকালে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ ওং (Philip Ong), পিএসএ ইন্টারন্যাশনালের আঞ্চলিক প্রধান ওং জি পিং (Wong Tze Ping), এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুরের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রতিনিধি বেঞ্জামিন চু (Benjamin Chue) এবং সিঙ্গাপুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেস্ক অফিসার মৃথিনী ত্যাগরাজন (Mrithini TGGRITHARAN) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

হাওরে নৌকা পারাপারে অতিরিক্ত টোল আদায় নিয়ে সংবাদ, একপেশে প্রতিবেদনের অভিযোগ ইজারাদারের

মোক্তার হোসেন গোলাপ, হাওর অঞ্চল।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১:২৯ পিএম
হাওরে নৌকা পারাপারে অতিরিক্ত টোল আদায় নিয়ে সংবাদ, একপেশে প্রতিবেদনের অভিযোগ ইজারাদারের

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে নৌকা পারাপারে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ নিয়ে একটি মাল্টিমিডিয়া সংবাদ প্রকাশের পর প্রতিবেদনটিকে একপেশে, অসম্পূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ঘাটের ইজারাদার। তাঁদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য না নিয়ে এবং যথাযথভাবে তথ্য যাচাই না করেই প্রতিবেদনটি প্রচার করা হয়েছে।

ইজারাদারদের দাবি, প্রচারিত ভিডিও প্রতিবেদনে ইজারা আদায়কারী, ঘাট-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, এমনকি পারাপার হওয়া যাত্রী বা কথিত ভুক্তভোগীদের কারও বক্তব্য নেওয়া হয়নি। সরেজমিনে তথ্য যাচাই-বাছাই না করে একপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রচার করায় প্রকৃত চিত্র উঠে আসেনি। এতে স্থানীয় সাংবাদিকদেরও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে তাঁরা মনে করেন।

ইজারাদাররা জানান, সরকারি নিয়ম, নির্ধারিত টোল চার্ট ও তালিকা অনুসরণ করেই তাঁরা ঘাটে টাকা আদায় করছেন। সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ইজারামূল্য পরিশোধ করে বৈধভাবেই ঘাট পরিচালনা করছেন বলেও দাবি তাঁদের। তাঁদের ভাষ্য, এ বিষয়ে স্থানীয় যাত্রী বা সাধারণ মানুষের কোনো অভিযোগ নেই।

এ বিষয়ে দৈনিক আলোকিত সকাল পত্রিকার স্থানীয় সাংবাদিক মোক্তার হোসেন গোলাপের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এই ভিডিও প্রতিবেদন সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। বাইরের একজন সাংবাদিক হাওরাঞ্চলে এসে অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রচার করেছেন। এ ধরনের প্রতিবেদন সাংবাদিকতার নীতিমালার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ইজারাদার, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু ওই প্রতিবেদনে এসব বিষয় অনুসরণ করা হয়নি।’

স্থানীয়দের মতে, হাওরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম নৌকা পারাপার। এ ব্যবস্থাকে ঘিরে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথভাবে তদন্ত ও যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা জরুরি। অন্যথায় অসম্পূর্ণ বা একপেশে তথ্য প্রচারের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ঘাটে অপ্রীতিকর ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তাই নৌকা পারাপারে টোল আদায় নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ যাচাই এবং সংবাদ প্রকাশে সব পক্ষের বক্তব্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ময়মনসিংহে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারী ও বৃদ্ধার ওপর হামলা, থানায় লিখিত অভিযোগ

মোঃ সাজ্জাদ মিয়া, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৪৬ এম
ময়মনসিংহে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারী ও বৃদ্ধার ওপর হামলা, থানায় লিখিত অভিযোগ

ময়মনসিংহ নগরীর ৩৩নং ওয়ার্ডের চর গোবদিয়া এলাকায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক নারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা, মারধর, সম্পদ নষ্ট এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ময়মনসিংহ মহানগর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান হিরা, সুরে এবং রশিদ গংদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী মোছাঃ ডলি আক্তার।

লিখিত অভিযোগে মোছা. ডলি আক্তার উল্লেখ করেন, চর ঈশ্বরদিয়া মৌজায় তাঁদের মালিকানাধীন জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদীদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিবাদীরা জমি থেকে তাঁদের উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি জমিতে প্রবেশে বাধা, জোরপূর্বক ঘরবাড়ি নির্মাণ এবং তাঁদের বিভিন্ন সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৯ অক্টোবর সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে বিবাদীরা তাঁদের জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করলে ডলি আক্তার ও তাঁর ছেলে সাকিব (২১) সেখানে গিয়ে কাজ বন্ধ করতে বলেন। এ সময় অভিযুক্ত মোখলেসসহ কয়েকজন এবং তাঁদের অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ডলি আক্তারের দাবি, হামলাকারীরা লোহার রড, এসএস পাইপ ও হকিস্টিক দিয়ে তাঁকে এবং তাঁর ছেলেকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। এ সময় তাঁর ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা নুরজাহানকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে বিবাদীরা তাঁদের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে হত্যার উদ্দেশ্যে তেড়ে আসেন। এ সময় তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি ভবিষ্যতে জমি নিয়ে কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিলে কিংবা অভিযোগ দায়ের করলে আরও ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।

ডলি আক্তারের আশঙ্কা, জমি দখলের চেষ্টা ও হামলার এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেও তিনি প্রতিকার না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত থানার দ্বারস্থ হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

লিখিত অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

তবে অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের বক্তব্য এবং অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।