শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

ময়মনসিংহ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী জামিলের দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ জুন, ২০২৫, ২:১৫ এম
ময়মনসিংহ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী জামিলের দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ

বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে অনিয়মের বেড়াজালে বন্দি ময়মনসিংহ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সেখানকার নির্বাহী প্রকৌশলী আখলাক উল জামিলের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তিনি এক টেন্ডারে মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা হাওয়া করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। নিজের কমিশন বাণিজ্যের পাশাপাশি সরকারকে দিয়েছে রাজস্ব ফাঁকি। তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের দিনাজপুরের এমপি ইকবালুর রহমান ভাগ্নে হওয়ার সুবাদে ক্ষমতার অপব্যবহার করে লুটপাট করে খেয়েছেন। ময়মনসিংহ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জেলার প্রতিটি প্রকল্পের টাকা। বনে গেছেন আঙ্গুল ফলে গাছ। ফ্যাসিবাদ সরকারের দোসর হয়েও এখনো তিনি ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

অভিযোগ উঠেছে, বার বার তিনি বদলি হলেও ঘুরেফিরে ময়মনসিংহ জেলার দায়িত্বের রয়েছেন। এখানে তিনি মৌচাক এবং মধু খাচ্ছেন। বলেও অভিযোগ রয়েছে। কৌশলে অর্থ আত্মসাৎ করে নির্বাহী প্রকৌশলী আখলাক উল জামিল হাতিয়ে নেন সরকারের কোটি কোটি টাকা। কাজ না করে টাকা উত্তােলনেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এত এত অভিযোগের পরও বহাল তবিয়তে রয়েছে ময়মনসিংহ পানি উন্নয়ন বোর্ড ( পাউবো) এই প্রকৌশলী।

প্রাপ্ত একটি টেন্ডারের তথ্যে জানা যায়, গত বছরের ০৯-সেপ্টেম্বর-২০২৪ ব্রহ্মপুত্র নদীর বাঁধ নির্মাণে ১০০৮০৯৩নং টেন্ডার ওপেন করা হয়। টেন্ডারে দুটি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স গুডম্যান এন্টারপ্রাইজ এ কাজের জন্য ৭ কোটি ৭৭ লাখ ৪০ হাজার ৬শ’৪৪ টাকার টেন্ডার সাবমিট করেন। তার বিপরীতে ঠিকাদার মো. নাসির উদ্দিন মোল্লা প্রতিষ্ঠান ৭ কোটি ৫৭ লাখ ৮৩ হাজার ৪শ’ ৫৫টাকা টাকার টেন্ডার সাবমিট করেন। কিন্তু ১৯ লাখ ৫৭ হাজার ১শ’৮৯ টাকা টাকার পার্থক্য থাকলে। ঠিকাদার মো. নাসির উদ্দিন মোল্লা না দিয়ে প্রকৌশলী জামিল কমিশন বাণিজ্য করে গুডম্যান প্রতিষ্ঠানিকে কাজ দেন। টেন্ডারটি গত বছরের ১১/০৮/২০২৪ তারিখে ক্লোজ করা হয় এবং ০৫-১২-২০২৪ তারিখে মেসার্স গুডম্যান এন্টারপ্রাইজকে ওয়ার্ক অর্ডার দেয়া হয়। পরে গুডম্যান এন্টারপ্রাইজ প্রতিষ্ঠান নিজেরা একটা অংশ লাভ করে সেই কাজটি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেয়।

সূত্র জানায়, পানি মন্ত্রণালয় ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ময়মনসিংহ ডব্লিউডি বিভাগের অধীনে জেলা ময়মনসিংহের মরিচারচর উপজেলায় থেকে ঈশ্বরগঞ্জ উপেজলার পর্যন্ত কিমি.৭০.১২০ থেকে কিমি.৭০.৩৯০ = ২৭০ মি.পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদীর বাম তীর রক্ষামূলক কাজের কথা উল্লেখ্য রয়েছে। কাজটি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কিন্তু কাজ শুরু না করে টাকা উত্তোলন করেছে বলে সূত্র জানিয়েছেন।

উপরোক্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সরেজমিনে অনুসন্ধানে গেলে নির্বাহী প্রকৌশলী আখলাক উল জামিল এ প্রতিবেদককে অর্থের মাধ্যমে ম্যানেজ করতে চান। ম্যানেজের অপচেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ায় অভিযোগ গুলোর কথা অস্বীকার করেন প্রতিবেদককে লড়াইয়ের হুমকি দেন।

এবিষয়ে ঠিকাদার মো. নাসির উদ্দিন মোল্লা বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদীর বাঁধ নির্মাণে সরকারী ব্যয় প্রাক্কলন ৭ কোটি ৮১ লাখ ৩১ হাজার ৩শ’ ১ টাকা চাওয়া হয়। কিন্তু এই টেন্ডারের সাড়ে ২৩ লাখ কম টেন্ডার সাবমিট করেও কাজটি পেলাম না। আমাদের টেন্ডার সাবমিটে কোনো প্রবলেম ছিল না। টেন্ডার ক্যাপাসিটি ছিলো আমাদের। টেন্ডারে যা যা চাওয়া হয়েছে সম্পূর্ণ শর্ত মোতাবেক আমরা সাবমিট করেছি। আমাদের কাছ থেকে কমিশন চেয়েছিলেন প্রকৌশলী কিন্তু তার চাহিদা মতো রাজি না হওয়ায় আমাদের টেন্ডারটি দেয়া হয়নি। এবিষয়ে বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছি। প্রকৌশলী জামিল একজন প্রচন্ড ধৃত্য প্রকৃতির মানুষ। দেশের জনগণ ও সরকারের কথা না ভেবে নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য কমিশন বাণিজ্য করে যাচ্ছেন। লুটেপুটে খাচ্ছেন প্রকল্পের টাকা। এবিষয়ে গুডম্যান এন্টারপ্রাইজ প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কাউকে পাওয়া যায়নি।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, গত ২০২১ সনে ময়মনসিংহ পানি উন্নয়ন বোর্ডে যোগদান করেন আখলাক উল জামিল। যখনই বদলি আদেশ আসে রহস্যজনক ভাবে ক্ষমতার প্রভাবে ময়মনসিংহ জেলার দায়িত্বে থেকে যান। সর্বশেষ পাবনায় বদলি হয়ে গেলেও ঘুরেফিরে তিনি ময়মনসিংহে এসেছেন। নির্বাহী প্রকৌশলী আখলাক উল জামিল ছিলেন পুরো মাত্রায় আওয়ামিলীগের দোসর। তিনি একাধারে ছিলেন দূর্নীতি ও আওয়ামিলীগ সরকারের ছিলেন প্রেজেন্টার। একাধিক স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য মতে, পাউবোর ২০২৩- ২৪ অর্থ বছরের ময়মনসিংহ জেলার প্রায় সবকটি নদী খনন ও বাধঁ প্রকল্পের অর্ধেকের কাজের আগেই তোলা হয়েছে টাকা। বিভিন্ন সময়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়ার আগেই মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। এ ছাড়াও তাঁদের বিরুদ্ধে আউটসোর্সিংয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগেও স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বিভিন্ন সেচ ক্যানেল (জমি) লিজ দেওয়া বন্ধ থাকার পরও মৌখিক ও লিখিতভাবে অনুমতি দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে জানা যায়।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আখলাক উল জামিল ব্রহ্মপুত্র নদ খনন প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদনের আগেই ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ঠিকাদারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা নেন কাজ দেওয়ার কথা বলে। নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ঠিকাদারের কাছ থেকে নিজে যোগাযোগ করে টাকা নেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারকে চাপ দিয়েও টাকা আদায় করেন তিনি।

ময়মনসিংহ সবচেয়ে ভিআইপি প্রককৌশলী হলেন পাউবো আখলাক উল জামিল। তাকে সরকারি ফোনে পাওয়া যায়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে প্রশাসন ও গণ্যমাধ্যমকর্মীদের ম্যানেজ করতে তার রয়েছে নিজস্ব বাহিনী।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ময়মনসিংহের একাধিক কর্মকর্তারা অভিযোগ জানিয়েছেন, টেন্ডার টেম্পারিংসহ অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে গুরুতর অসদাচরণ তার নিত্যদিনের কাজ। এছাড়াও সহকর্মীদের সঙ্গে বজায় রাখছে না শ্রদ্ধাচার। এ নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ময়মনসিংহের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৌশলীর জামিলের প্রভাব আর ক্ষমতার কারণে চাকরিচ্যুত হওয়ার আশঙ্কায় কেউ

হত্যা মামলার আসামির হাতেই গুণীজন সংবর্ধনা, মঞ্চে ইউএনও-ওসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
হত্যা মামলার আসামির হাতেই গুণীজন সংবর্ধনা, মঞ্চে ইউএনও-ওসি

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) উপস্থিতিতে আয়োজিত এক গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামির প্রকাশ্যে উপস্থিতি এবং সম্মাননা পদক বিতরণে অংশ নেওয়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে ওই আসামি নিজেই পদক বিতরণের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করলে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে গৌরীপুর পৌর শহরে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন মানব কল্যাণ যুব ফাউন্ডেশন আয়োজিত গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৩০ জুলাই রাতে গৌরীপুর শহরের সতিষা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে স্থানীয় মানিক মিয়া (৪০)-কে একদল দুর্বৃত্ত তুলে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সেলিনা বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মো. আহম্মদ আলীর ছেলে আল ইমরান খান (৩২)-সহ আটজনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। আল ইমরান ওই মামলার তিন নম্বর আসামি।

মামলা দায়েরের পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান। পরে তারা উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন লাভ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সেই জামিনে থাকা অবস্থাতেই বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আল ইমরান বিভিন্ন গুণীজনের হাতে সম্মাননা পদক তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১১ জনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা, গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম শহীদ।

অনুষ্ঠানের একাধিক ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, অতিথিদের উপস্থিতিতেই আল ইমরান খান মঞ্চে অবস্থান করে সম্মাননা প্রদান কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। পরে তিনি নিজ ফেসবুক আইডিতে পদক বিতরণের ছবি প্রকাশ করলে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এ বিষয়ে আয়োজক সংগঠন মানব কল্যাণ যুব ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন মন্ডল বলেন, “আল ইমরান খান যে অনুষ্ঠানে আসবেন, তা আমাদের জানা ছিল না। অনুষ্ঠান চলাকালে তিনি হঠাৎ মঞ্চে উঠে পড়েন। ওই পরিস্থিতিতে তাকে বের করে দেওয়া সম্ভব হয়নি। একটি সুন্দর আয়োজন একজন হত্যা মামলার আসামির উপস্থিতির কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে।”

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও অনুষ্ঠানে সম্মাননা পাওয়া হাবিবুল ইসলাম শহীদ বলেন, “আমি গুণীজনের তালিকায় ছিলাম। মাইকে আমার নাম ঘোষণা করার পর আল ইমরানসহ কয়েকজন আমার হাতে পদক তুলে দেন। তিনি হত্যা মামলার আসামি-এ তথ্য আগে জানলে কখনোই তার হাত থেকে পদক গ্রহণ করতাম না।”

এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ব্যক্তিগতভাবে আমি তাকে চিনিও না। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।”

অন্যদিকে, বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ ঘটনায় নিহত মানিক মিয়ার পরিবারও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নিহতের ভাই শুক মিয়া বলেন, “এখন কিছু বলতে গেলেই আরও বিপদ হতে পারে। তাই আর কোনো ঝামেলায় যেতে চাই না।”

হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামির প্রকাশ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মঞ্চে উঠে সম্মাননা পদক বিতরণ এবং অনুষ্ঠান শেষে সেই ছবি প্রকাশ্যে আসার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয় কি না, সেদিকে এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।

গাজীপুরে আড়ালে ঢাকা সন্ত্রাসী চক্রের ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় সাংবাদিক আনোয়ার খালাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৮ এম
গাজীপুরে আড়ালে ঢাকা সন্ত্রাসী চক্রের ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় সাংবাদিক আনোয়ার খালাস

আইন ও বিচারব্যবস্থার মুখচ্ছবি যখন অপরাধীদের রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন সত্যকে থমকে দেওয়া সহজ হতে পারে, কিন্তু তাকে চিরতরে রুখে দেওয়া যায় না। গাজীপুরে প্রভাবশালীদের চোখ রাঙানি, চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব এবং পুলিশের চরম পক্ষপাতমূলক আচরণের বলির পাঁঠা হতে বসেছিলেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক মোঃ আনোয়ার হোসেন। তবে শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে আইনের শাসন বিজয়ী হয়েছে এবং মিথ্যা, সাজানো মামলার কলঙ্ক থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি ও খালাস পেয়েছেন এই সাংবাদিক।

জানা যায়, জয়দেবপুর রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখল করে তোলা দোকানপাট, কলাপট্টি এলাকার রাস্তা আটকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজি স্ট্যান্ড বানিয়ে অবাধ চাঁদাবাজির মতো চাঞ্চল্যকর অপরাধকে কেন্দ্র করে। প্রশাসন ও পুলিশের রহস্যজনক নীরবতায় যখন এই সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিল, তখন সরেজমিনে অনুসন্ধানে নামেন সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন। কিন্তু অপরাধের অন্ধকার জগত উন্মোচনের মাসুল তাঁকে দিতে হয় নিজের রক্ত দিয়ে। গত বছরের ৬ আগস্টে তথ্য ও স্থিরচিত্র সংগ্রহের সময় পুলিশের উপস্থিতিতেই সাংবাদিক আনোয়ারের ওপর চড়াও হয় একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। প্রকাশ্যে তাঁকে মারধর, ইট দিয়ে পা থেঁতলে দেওয়া এবং তথ্য সংগৃহীত মোবাইল কেড়ে নেওয়ার ঘটনা সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। এরপরও পুলিশের টনক নড়েনি।

অনুসন্ধানে আরও বেরিয়ে আসে, এই হামলাকারীরা সাধারণ কোনো দুষ্কৃতকারী নয়, তারা ইতিপূর্বে প্রকাশ্য দিবালোকে পিস্তল উঁচিয়ে গোলাগুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার চেষ্টার সদর থানার ১৩(১০)২০২৪ নং মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি। তবে ঘটনার আসল মোড় ঘোরে তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের নগ্ন হস্তক্ষেপ ও প্রভাবশালী মহলের গোপন আঁতাতের চিত্র সামনে আসার পর। জিএমপি কমিশনারের মদদপুষ্ট অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী রাজু সাহা শিরোনামে খোলামেলা সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে প্রশাসন ও অপরাধী চক্র। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সত্যের তোয়াক্কা না করে, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবাদ বা প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ না জানিয়ে, প্রতিশোধের এক হিংসাত্মক পথ বেছে নেওয়া হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সংবাদ প্রকাশের ৩ দিনই সাংবাদিক আনোয়ারকে দমাতে সাজানো হয় এক কাল্পনিক চাঁদাবাজির নাটক। ১৮ দিন আগের পুরোনো এক মিথ্যা ঘটনা বানিয়ে চিহ্নিত সেই সন্ত্রাসীকে দিয়ে পেনাল কোডের ৩৮৫/৩৮৬ ধারায় সাংবাদিক আনোয়ারের বিরুদ্ধেই ঝুলিয়ে দেওয়া হয় একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত জিএমপি সদর থানার ৪৪(৮)২৫ নং মামলা। সত্য প্রকাশ করায় সংবাদকর্মীকে আইনি জালে ফাঁসিয়ে মুখ বন্ধ করার এই ঘৃণ্য অপচেষ্টা সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় তোলে।

তবে জালিয়াতি ও ক্ষমতার ক্ষমতার দাপটে বোনা মিথ্যার জাল শেষ পর্যন্ত আদালতেই ছিঁড়ে গেছে। মামলার খুঁটিনাটি ও মিথ্যা প্রসিকিউশন পর্যালোচনা শেষে গাজীপুরের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ওমর হায়দার সাংবাদিক মোঃ আনোয়ার হোসেনকে এই ভিত্তিহীন মামলা থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি ও খালাস প্রদান করেছেন।

আদালতের এই রায় কেবল একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত জয় নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সন্ত্রাসী ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী চক্রের করা কুৎসিত আক্রমণের বিরুদ্ধে এক মোক্ষম চড়াও। এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো, সংবাদপত্রের সত্য প্রকাশকে মিথ্যা মামলা বা প্রশাসনিক পেশিশক্তি দিয়ে দমানো যায় না, সত্যের জয় অনিবার্য।

ময়মনসিংহে পুলিশের অভিযানে একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফারুক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৪ পিএম
ময়মনসিংহে পুলিশের অভিযানে একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফারুক গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহ নগরীর নাটকঘর লেনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. ফারুক (৩৮)কে গ্রেপ্তার করেছে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় ১নং পুলিশ ফাঁড়ির এটিএসআই মো. আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল বুধবার নগরীর নাটকঘর লেন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের পিসিপিআর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ফারুকের পিতা মৃত আনোয়ার হোসেন এবং মাতা নাজমা বেগম। তার বিরুদ্ধে মাদক, ছিনতাই ও চুরিসহ মোট ৮টি মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ আরও জানায়, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং পলাতক ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।