বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

ময়মনসিংহে কোতোয়ালী পুলিশের জব্দকৃত প্রাইভেট কারে থাকা অস্ত্র রহস্যের ধুম্রজাল!

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৫, ৫:১৯ পিএম
ময়মনসিংহে কোতোয়ালী পুলিশের জব্দকৃত প্রাইভেট কারে থাকা অস্ত্র রহস্যের ধুম্রজাল!

ময়মনসিংহে কোতোয়ালী পুলিশের জব্দকৃত প্রাইভেট কারের সিটের নীচে থাকা অস্ত্রের রহস্য উম্মোচন করতে নানা জল্পনাকল্পনা ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যমে জড়িত মেহেদী হাসান নাদিমের প্রাইভেট কার বিজ্ঞ আদালতের আদেশে ১৬ এপ্রিল সোয়া এগারোটায় ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানা থেকে জিম্মায় নিতে আসেন, সাথে নিয়ে আসেন ১২/১৪ জন কথিত সংবাদকর্মী। মামলার তদন্তকারী অফিসার এস আই আনোয়ার হোসেন জিম্মানামার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে মালখানার হেফাজতে থাকা চাবি নাদিমকে বুঝিয়ে দিলে তিনি সঙ্গীয়দের গাড়ীর সকল অংশ চেক করতে বলেন এবং সহকর্মীদের নিয়ে প্রাইভেট কারের সামনে বোনেটের অংশ তুলে ব্যাটারী পানি চেক করে এবং গাড়ির সামনে পেছনে দরজা খুলে দিলে একাধিক ব্যক্তি পর্যায় ক্রমে ভিতরে প্রবেশ করতে এবং বাহির হতে দেখা যায়। এক পর্যায়ে ভেতরের সিট উঠানামা করে সিটে নিচে অস্ত্র আছে বলে জানান দেয়। দূরে দাড়িয়ে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা অবাক বিষ্ময়ে এগিয়ে এসে অস্ত্রটি কিভাবে এখানে এলো জানতে চাইলে, উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে কেউ বলছেন এটা ষড়যন্ত্র, কেউবা বলছেন পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে নাটক তৈরি করা হয়েছে। কেউবা বলছেন পুলিশকে ফাঁসাতে গভীর চক্রান্ত, প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে থানা পুলিশ অস্ত্রটি জব্দ করে আইনী পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং তদন্তের জন্য সকলের গতিবিধি নিবির পর্যবেক্ষণ ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে সূত্রে জানা গেছে।

প্রাইভেটকার সংক্রান্তে জানা যায় যে, গত ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ইং তারিখ যৌথবাহিনীর অভিযানে বিপুল দেশীয় অস্ত্র-গুলি ও মাদকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরমধ্যে একজন মেহেদী হাসান নাদিম স্থানীয় দৈনিক জাহান পত্রিকার সম্পাদক এবং বাকি দুইজন তারই সহযোগী শামীম মিয়া (২৫) ও আলমগীর কবির (৪৮)।

মাসকান্দা এলাকার বিসিক শিল্পনগরীতে নাদিমের বাসায় যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে নাদিমের বাসা থেকে এয়ারগানের গুলি, ৭০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন মাদক, অবৈধ পামওয়েলের ৯৯টি ড্রাম, চাপাতি, চাকু, ছুরি, ক্যামেরা, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

একাধিক সূত্রে প্রকাশ পায় যে, হাফ ডজনের অধিক মামলার আসামী দফায় দফায় তার হেফাজত থেকে বিপুল পরিমান অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে গ্রেফতার হওয়া মেহেদী হাসান নাদিমের সাজানো নাটকে পুলিশ প্রশাসনকে বিতর্কের মুখে দ্বার করিয়ে দিয়েছে কিনা তা তদন্তের প্রয়োজন। সর্বশেষ মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়ে কোর্টের নির্দেশে জব্দকৃত গাড়ী বুঝে নেয়ার প্রায় ঘন্টাখানিক সময় পর ফের তার গাড়ীতে ঝক ঝকে অস্র পাওয়া গেছে। পুলিশকে বিতর্কের মূখে ফেলতে কাঁচা হাতের নাটকিয়তায় ফের আসামী হতে পারেন নাদিম ও তার সহযোগীদের কেউ কেউ।

মেহেদী হাসান নাদিম কোর্টের অনুমতি সাপেক্ষে ১২/১৪ জন কথিত সাংবাদিক নিয়ে ১৬ এপ্রিল সোয়া এগারোটায় ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় যান। পরে মামলার তদন্তকারী অফিসারের কাছ থেকে গাড়ীটি বুঝে নেন। এর পরে আধা ঘন্টা খানেক সময় তারা ১০/১২ জন দফায় দফায় কানাঘুষা করেন ও গাড়ীর দরজা খোলাখুলি করার পর হঠাৎ একটি ঝকঝকে পিস্তল সীটের নিচে দেখা মিলে। সিসি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায় নাদিম ও হলুদ রংয়ের গেঞ্জি পরিহিত এক ব্যক্তি একাধিক বার গাড়ীর ভেতরে প্রবেশ করেছে। ধারনা করা হচ্ছে পূর্ববর্তী মামলা থেকে রেহাই পেতেই নাদিমের এই নাটকিয়তা। পুলিশ তাৎক্ষনিক অস্ত্রটি জব্দ করেন এবং সন্দিগ্ধকে আটকের চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষনে তারা সটকে পড়েন।

পুলিশের একটি সুত্র জানায়, অস্ত্রটি জব্দ করে আইনী প্রক্রিয়ায় তা পরিক্ষা নিরিক্ষার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছেন। মেহেদী হাসান নাদিম ময়মনসিংহের স্থানীয় দৈনিক জাহান পত্রিকার সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও অস্র আইনে ৭ মামলা রয়েছে।

এর আগে, ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি মেহেদী হাসান নাদিম ও তার দুই সহযোগী পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ওই সময় তার বাসা থেকে পিস্তল, গুলি এবং অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম, বিপুল দেশিয় অস্ত্র উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় করা মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

ময়মনসিংহে পুলিশের সফল অভিযানে ৮ মামলার আসামি পিয়াল হাসান গ্রেপ্তার, মিলল চোরাই মোটরসাইকেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৪ পিএম
ময়মনসিংহে পুলিশের সফল অভিযানে ৮ মামলার আসামি পিয়াল হাসান গ্রেপ্তার, মিলল চোরাই মোটরসাইকেল

ময়মনসিংহ নগরীর ধোপাখলা এলাকায় কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিক নির্দেশনায় এবং কোতোয়ালী থানাধীন ৩নং ফাঁড়ির চৌকস এস আই সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি অভিযান চালিয়ে মোঃ পিয়াল হাসান (২৬) নামে এক চোর, মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত পিয়াল হাসান বাঘমারা এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা: রমজান আলী ও মাতা: পারভিন বেগম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি এবং মাদক সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, কোতোয়ালী মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও মাদক সংক্রান্ত মোট ৮টি মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ময়মনসিংহে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২১ এম
ময়মনসিংহে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ

ময়মনসিংহের সদর উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পাড়াইল গ্রামে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে এক কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে। গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে খাইরুল ইসলাম, মফিজ, আবেদ আলী, রাবেয়া খাতুন, লাকী আক্তারসহ অজ্ঞাত আরও ৬/৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই স্থানীয় কৃষকদল নেতা আশিকুর রহমান মিলনের অনুসারী বলে দাবি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা উক্ত জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। হঠাৎ করে কৃষকদল সভাপতি আশিকুর রহমান মিলন জমিটি ক্রয় করেছেন দাবি করে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবার নিজেদের নিরাপত্তার জন্য থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, জিডি করার পর অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীর জমিতে থাকা দোকানপাট ভাঙচুর করে মালামাল নিয়ে যায়। এ সময় হামলায় পরিবারের দুই সদস্য আহত হন।

এছাড়া ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, দোকানের পাশেই থাকা তাদের পারিবারিক গোরস্থানের জমিও দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বাড়িঘরে থাকতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কৃষকদল সভাপতি আশিকুর রহমান মিলনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পুলিশ জানায়, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১৬ পিএম
বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

ময়মনসিংহে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক উপপরিচালকের পদোন্নতি নিয়ে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে পদোন্নতি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল অভিযোগ দুটি জমা দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ময়মনসিংহে কর্মরত উপপরিচালক হারুন অর রশিদ ২০২১ সালে বিধিবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি লাভ করেন। অভিযোগকারীর দাবি, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে নিয়োগ বিধিমালা উপেক্ষা করে তিনি এ পদোন্নতি নেন।

নিয়োগ বিধিমালা-২০১২ অনুযায়ী, উপপরিচালক পদে পদোন্নতির জন্য সহকারী পরিচালক হিসেবে ন্যূনতম ১০ বছরের অভিজ্ঞতা আবশ্যক। কিন্তু অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হারুন অর রশিদ ১৮ এপ্রিল ২০১৪ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৭ জানুয়ারি ২০২১ সালে পদোন্নতি পাওয়ার সময় তার অভিজ্ঞতা ছিল ৭ বছরেরও কম।

এছাড়া ২০১৮ সালের জ্যেষ্ঠতা তালিকায় তার অবস্থান ছিল ১৪০ নম্বরে। কিন্তু পদোন্নতির তালিকায় তাকে ৬০ নম্বরে উন্নীত করা হয়, যা জ্যেষ্ঠতা নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে তিনি এই পদোন্নতি নিশ্চিত করেন। এতে জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে অভিযোগকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন –

১) অবৈধ পদোন্নতি বাতিল,

২) পদোন্নতির মাধ্যমে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা,

৩) সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।

এ বিষয়ে উপপরিচালক হারুন অর রশিদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে সচিব স্যার অবগত আছেন, তিনিই সব ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।