সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩

ময়মনসিংহ ডিবি’র অভিযানে অপহরণকারী চক্রের ০৪(চার) সদস্য আটক; মোবাইল, নগদ অর্থ ও প্রাইভেটকার উদ্ধার

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৯:১৭ পিএম
ময়মনসিংহ ডিবি’র অভিযানে অপহরণকারী চক্রের ০৪(চার) সদস্য আটক; মোবাইল, নগদ অর্থ ও প্রাইভেটকার উদ্ধার

ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি)’র অভিযানে সড়ক মহা-সড়কে প্রইভেট কারে কৌশলে যাত্রী উঠিয়ে ইতিমধ্যে ৫০টির অধিক অপহরণ মুক্তিপন আদায়কারী চক্রের সদস্য যারা অমানুষিক নির্যাতন করে বিকাশের মাধ্যমে টাকা আদায় করে আসছিল সেই চক্রের মূল হোতাসহ ৪ জনকে গতকাল গ্রেফতার করেছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাইমেনুল ইসলাম এক প্রেস কনফারেন্সে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিবি’র অফিসার ইনচার্জ আবুল হোসেন।

পুলিশ জানায়, ‘দৈনিক প্রথম আলো’ পত্রিকার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক সার্কুলেশনকে একটি চক্র দিঘারকান্দা বাইপাস থেকে অপহরণ করে প্রাইভেটকারে উঠিয়ে, ধাঁরালো অস্ত্র দ্বারা প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করে এবং তার মোবাইল ফোন থেকে নিকট আত্মীয় ও পরিবারবর্গের কাছে ফোন করে বিকাশের মাধ্যমে মোট দুই লক্ষাধিক টাকা মুক্তিপণ আদায় করে। এই ঘটনার পর গাজীপুর, শ্রীপুর, মাওনা, ভালুকা এবং ফুলপুরে একই প্রকৃতির একাধিক ঘটনা সম্পর্কে জেলা পুলিশের নিকট তথ্য পাওয়া গেলে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল চক্রটিকে সনাক্ত ও গ্রেফতার করার জন্য কাজ শুরু করে। সর্বশেষ গত ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখ তারা একইভাবে আরও একজন ভিকটিমকে অপহরণের জন্য প্রাইভেটকার নিয়ে বের হলে গোপন সূত্রে জেলা গোয়েন্দা শাখা তাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পায় এবং একটি আভিযানিক দল গত ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি ত্রিশাল, ভালুকা-গফরগাঁও সড়ক এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মাওনা ও শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। চক্রের লিডার, মো: শাহাদত হোসেন (৪৬) তার সহযোগীরা হলেন, আব্দুস সালাম (৪৫), মো: শিখন আলী (২০) ও মো: আবু তাহের (৩৫)। এদলের আরো সদস্যদের পুলিশ সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। এদের প্রত্যেকের নামে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকালে তাদের কাছ থেকে পুলিশ অপরাধে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার, ০৫ (পাঁচ) টি মোবাইল ফোন ও নগদ ৮৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, চক্রটির মূল হোতা শাহাদত প্রায় ৮ বছর আগে মাওনা বাসস্ট্যান্ডে প্রাইভেটকার চালক থাকা অবস্থায় এই অপরাধকর্মে যুক্ত হয়, বিভিন্ন সময় একই পদ্ধতিতে ৫০ টিরও বেশি অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঘটিয়েছে। শাহাদতের বড় ভাই সালাম ও তার আত্মীয় শিখন এই কাজে তাদেরকে সহযোগিতা করত এবং ভিকটিমকে গাড়িতে তোলা, মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে ফোনে কথা বলা ইত্যাদি বিভিন্ন ভূমিকা পালন করত।

‎ময়মনসিংহ বিআরটিএতে বেপরোয়া পরিদর্শক বাবর, ঘুষ বাণিজ্য সিন্ডিকেটের গুরুতর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫৫ এম
‎ময়মনসিংহ বিআরটিএতে বেপরোয়া পরিদর্শক বাবর, ঘুষ বাণিজ্য সিন্ডিকেটের গুরুতর অভিযোগ

‎ময়মনসিংহের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়টি এখন সাধারণ সেবা প্রত্যাশীদের কাছে যেন এক আতঙ্কের নাম। অভিযোগ উঠেছে, এই কার্যালয়কে ঘিরে গড়ে ওঠা শক্তিশালী ঘুষ বাণিজ্য ও দালাল সিন্ডিকেটের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছেন মোটরযান পরিদর্শক জহির উদ্দিন বাবর। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনকে অর্থের বিনিময়ে ফিটনেস সনদ প্রদান, সাধারণ গ্রাহকদের অকারণ হয়রানি এবং দালালনির্ভর সেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি সেবাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ঘুরপাক খাচ্ছে।

‎অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নিজস্ব ১০-১৫ সদস্যের একটি চিহ্নিত দালাল চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে এই সিন্ডিকেট। অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রের বাইরে থেকে কোনো সেবা পাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে সরকারি সেবাকেন্দ্রটি যেন সাধারণ মানুষের পরিবর্তে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

‎অনুসন্ধানে দেখা যায়, কোনো যানবাহন মালিক বা সাধারণ সেবা প্রার্থী নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি আবেদন করলে শুরু হয় নানামুখী হয়রানি। কখনও ছোটখাটো ত্রুটি, আবার কখনও কাল্পনিক অজুহাত দেখিয়ে আবেদনপত্র ফেরত দেওয়া হয়। অথচ অভিযোগ রয়েছে, একই ব্যক্তি যখন জহির উদ্দিন বাবরের ঘনিষ্ঠ দালালদের মাধ্যমে নির্ধারিত অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করেন, তখন কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই অতি দ্রুত ফিটনেস সনদসহ প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়।

‎ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, দালাল ছাড়া বিআরটিএতে কোনো ফাইলই নড়ে না।

‎সরকারি নথিতে বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ

‎অনুসন্ধানে আরও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, জহির উদ্দিন বাবরের কার্যালয়ের ভেতরে সরকারি নথিপত্র ও সংবেদনশীল ফাইলপত্র নিয়মিতভাবে ঘাঁটাঘাঁটি করছে বহিরাগত দালাল চক্রের সদস্যরা। যেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত, সেখানে পরিদর্শকের টেবিল, ড্রয়ার এবং গুরুত্বপূর্ণ ফাইল পর্যন্ত ব্যবহার করছে বহিরাগতরা।

‎সরকারি দপ্তরের গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার বিষয়টি এখানে চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।‎

‎যোগদানের পর থেকেই কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

‎স্থানীয় সূত্রের দাবি, ময়মনসিংহ বিআরটিএ কার্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে জহির উদ্দিন বাবরের বিরুদ্ধে। পরিবহন মালিক ও সেবা প্রার্থীদের একটি বড় অংশ দাবি করছেন, ঘুষ ছাড়া এখানে সেবা পাওয়া এখন প্রায় অসম্ভব।

‎অভিযোগের পরও নেই তদন্ত, নেই দৃশ্যমান ব্যবস্থা

‎স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এর আগেও জহির উদ্দিন বাবরের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ঘুষ বাণিজ্যের নানা তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান বিভাগীয় বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি অভিযোগগুলো যাচাইয়ে কার্যকর তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগও দেখা যায়নি।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরটিএর এক কর্মকর্তা বলেন, কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও তাঁর সিন্ডিকেট ধরে নিয়েছে, সংবাদ প্রকাশ হলেও তাদের কিছুই হবে না। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতিই তাদের আরও বেপরোয়া করে তুলেছে।

‎এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যম এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে মোটরযান পরিদর্শক জহির উদ্দিন বাবর তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

‎তিনি বলেন, আমি সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করছি। দালাল চক্রের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং সরকারি ফাইল বহিরাগতদের স্পর্শ করার সুযোগও নেই।

‎উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি

‎বিআরটিএর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সেবা প্রতিষ্ঠানে এমন অভিযোগ দেশের সড়ক নিরাপত্তা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

‎ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও পরিবহন মালিকদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তে দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

দুই-তিন বছরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে: ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪২ পিএম
দুই-তিন বছরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে: ববি হাজ্জাজ

আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান ও গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

রোববার (১৬ আগস্ট) ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

‘প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রাথমিক শিক্ষার পরিবর্তনে যে স্বপ্ন ও দায়িত্ব দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে সরকার সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পরিকল্পনা, পাইলটিং ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, নতুন শিক্ষক নীতিমালা প্রণয়ন, মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা, সাংস্কৃতিক শিক্ষা, ক্রীড়া শিক্ষা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন কোনো শিশু যেন শ্রেণিকক্ষের বাইরে না থাকে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রতিটি প্রাথমিক শিক্ষার্থীর জন্য পুষ্টিকর মিড-ডে মিল, বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগসহ বিভিন্ন সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ নয়; প্রতিটি বিদ্যালয়কে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা অর্জনের উপযোগী আধুনিক, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে রূপান্তর করা। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে প্রতিটি এলাকার ‘উজ্জ্বল নক্ষত্র’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী ছয় মাসের লক্ষ্যমাত্রাগুলোও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে করা অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সক্ষমতা নিশ্চিত করেই এসব পরিবর্তন বিদ্যালয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে।

আগামী কারিকুলামে ইংরেজি লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে স্পিকিং টেস্ট চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের তথ্য ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা কার্যক্রম আরও আধুনিক করতে একটি সমন্বিত আইটি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হচ্ছে। এর আওতায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য একটি করে ইউনিক আইডি থাকবে।

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নে পৃথক ওয়াশ ব্লকের পরিবর্তে স্কুল ভবনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ওয়াশ ব্লক স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্কুল ফিডিং কার্যক্রম নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ কার্যক্রমে যেসব ভুল-ত্রুটি হচ্ছে, তার তুলনায় এ নিয়ে অপপ্রচারই বেশি হচ্ছে। তবে সরকার প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানে কাজ করছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণত মসজিদে এ ধরনের ঘটনা দেখা যায় না। এর অন্যতম কারণ মানুষ মসজিদকে নিজের প্রতিষ্ঠান মনে করে। কিন্তু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অনেকেই নিজের প্রতিষ্ঠান হিসেবে মনে করেন না। অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সবার নিজের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদ এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনসের পরিচালক।

এ ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলার পিটিআই সুপার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।

চর খরিচা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্যাভিলিয়ন ভেঙে রড-ইট বিক্রির অভিযোগ

শিবলী সাদিক খান।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২১ পিএম
চর খরিচা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্যাভিলিয়ন ভেঙে রড-ইট বিক্রির অভিযোগ

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৫ নম্বর সিরতা ইউনিয়নের চর খরিচা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সরকারি বরাদ্দে নির্মিত প্যাভিলিয়ন ভেঙে রড, ইটসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সরকারি অর্থে নির্মিত একটি স্থাপনা কীভাবে এবং কার অনুমতিতে ভেঙে ফেলা হলো এ নিয়ে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও সচেতন মহলে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চর খরিচা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠটি সিরতা ইউনিয়নের অন্যতম বড় খেলার মাঠ। দীর্ঘদিন ধরে এ মাঠে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা হয়ে আসছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া আয়োজনের কেন্দ্র হিসেবেও মাঠটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

অভিযোগ রয়েছে, খেলোয়াড় ও দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে মাঠে সরকারি বরাদ্দে নির্মিত প্যাভিলিয়নটি সম্প্রতি ভেঙে ফেলা হয়। পরে সেখানকার রড, ইট ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি স্থাপনা ব্যক্তি বা কোনো প্রভাবশালী মহল নিজেদের ইচ্ছামতো ভেঙে এর নির্মাণসামগ্রী বিক্রি করতে পারে কি না। যদি স্থাপনাটি পরিত্যক্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকে, তাহলে সেটি ভাঙার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না এ বিষয়েও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে প্যাভিলিয়ন ভেঙে ফেলার ঘটনায় চর খরিচা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের মাঠ ও এর স্থাপনাগুলো রক্ষার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। অথচ প্যাভিলিয়ন ভেঙে নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠলেও বিষয়টি ঠেকাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

তবে প্যাভিলিয়নটি কী কারণে ভাঙা হয়েছে, কার অনুমতিতে ভাঙা হয়েছে এবং ভাঙার পর রড-ইটসহ নির্মাণসামগ্রী কোথায় নেওয়া হয়েছে এসব প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা বলছেন, চর খরিচা মাঠটি শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, পুরো সিরতা ইউনিয়নের শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। মাঠের প্যাভিলিয়ন ভেঙে ফেলায় খেলোয়াড় ও দর্শনার্থীদের পাশাপাশি মাঠের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সচেতন মহলের দাবি, প্যাভিলিয়ন নির্মাণে সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ, নির্মাণের সময়কাল, স্থাপনাটি ভাঙার অনুমোদন এবং ভাঙা অংশের রড-ইটসহ অন্যান্য সামগ্রীর হিসাব যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্থাপনাটি অনুমোদন ছাড়া ভেঙে ফেলা এবং সরকারি সম্পদের কোনো অংশ আত্মসাৎ বা বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্রীড়াপ্রেমীরা দ্রুত প্রশাসনিক ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষের তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, তদন্তের মাধ্যমে প্যাভিলিয়ন ভাঙার প্রকৃত কারণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং নির্মাণসামগ্রী বিক্রির অভিযোগের সত্যতা বেরিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে মাঠের ক্রীড়া পরিবেশ ফিরিয়ে এনে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় খেলোয়াড়দের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।