শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০ ১৪৩২
শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০ ১৪৩২

ময়মনসিংহে কোতোয়ালী মডেল থানার অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৩:২৫ পিএম
ময়মনসিংহে কোতোয়ালী মডেল থানার অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার

ইং ২২ ডিসেম্বর ২০২৪ খ্রিঃ তারিখ পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, ইনচার্জ, ৩ নং পুলিশ ফাড়ির নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মোঃ নাহিদ পারভেজ, এসআই (নিঃ) মোঃ সোহেল রানা, এএসআই(নিঃ) রাসেল ইয়ার খান, এটিএসআই/২২১ কবিরুল হাসান, কং/৫৩৯ শাহজাহান, কং/৯৫৫ আনিছুর রহমান, কং/১০০৯ আরিক এবং নারী বং/১৬৬৩ ইয়াসমিন আক্তার খানা এলাকায় বিশেষ অভিযান ডিউটি পরিচালনাকালে রাত ২৩:৪৫ ঘটিকার সময় ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানাধীন মাসকান্দা ফিসারী এলাকায় ময়মনসিংহ টু ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কে আকস্মিক চেকপোষ্ট ডিউটি করাকালে ০৩ জন মোটরসাইকেল আরোহী পুলিশের চেকপোষ্ট দেখিয়া মোটরসাইকেল রাস্তায় ফেলিয়া মাসকান্দা মৎস বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের ওয়াল টপকাইয়া ভিতরে ঢুকে যায়। তখন আভিযানিক দলের সন্দেহ হইলে মাসকান্দা মৎস বীজ উৎপাদন কেন্দ্রে ঢুকে তাহাদের অবস্থান নির্ণয় করাকালে মৎস বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের পূর্ব দক্ষিনে স্টাফদের থাকার কামরা হইতে ০৪ জন ব্যক্তিকে দৌড়াইয়া পালাইয়া যাইতে দেখা যায়। তখন পার্শ্ববর্তী রুমের অস্থায়ী গার্ড হৃদয় এর স্ত্রী ফারজানা শান্তা (২২) কে ধৃত করা হয়। ঘটনাস্থলে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ধৃত আসামী ফারজানা শান্তা (২২) কে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে স্বীকার করে যে, তাহার স্বামী হৃদয়, তন্ময় সহ আরোও অজ্ঞাতনামা ১/২ জন মিল স্টাফদের রুমে ঢুকেছিল।

 

তখন ধৃত ফারজানা শান্তা (২২) কে সাথে নিয়ে স্টাফদের থাকার রুম এবং তার নিজের কামরা তল্লাশী করিয়া ১। একটি 9MM বিদেশী পিঞ্জল, যার বডিতে M19911A U.S.ARMY এবং NO 87107, MADE IN JAPAN লেখা, ২। একটি 32 কাঠের বাটযুক্ত বিদেশী পুরাতন পিস্তল এবং একটি পুরাতন ম্যাগজিন, যার বডিতে অস্পষ্ট লেখা, ৩। একটি NITRO NY200 Athena এয়ারগান, যাহার সিরিয়াল নং-BCO7461A1 সহ সীসা গুলি ১৩০ রাউন্ড, ৪। একটি টেলিস্কোপ, যাহার গায়ে Leveling position লেখা, ৫। একটি সামুরাই, যাহা কালো কভারযুক্ত লম্বায় ১৭ ইঞ্চি, ৬। একটি স্টীলের সুইচ গিয়ার চাকু, যাহা লম্বায় ১০ ইঞ্চি সহ বিভিন্ন সাইজের সর্ব মোট ০৬টি চাকু,৭। ০২টি কালো হলুদ রংয়ের বাটযুক্ত চাইনিজ কুড়াল, যা লম্বায় ১৪ ইঞ্চি, ৮। ০২টি কাঠের হাতলযুক্ত চাপাতি দৈর্ঘ্য যথাক্রমে ১৫ ইঞ্চি ও ১২ ইঞ্চি, ৯। ১০ টি রামদা যা বাটসহ লম্বায় যথাক্রমে ৩৪,৩০,২৭,৩০,৩১,২৯,২৯,৪২,৩০ ও ২৬ ইঞ্চি, ১০। ০১টি বড় ছুরি যা বাটসহ লম্বায় ২৯ ইঞ্চি, ১১। একটি ঢেগার, যা লম্বায় ৩০ ইঞ্চি, ১২। ০৩ টি দেশীয় তৈরী চাইনিজ কুড়াল যা বাটসহ লম্বায় ২৩,২৬ ও ২৬ ইঞ্চি, ১৩। ০৬টি IICE BARE ITALL VODKA, প্রতিটি ৭৫০ মিলি, সর্ব মোট (৭৫০X৬)=৪৫০০ মিলি, মূল্য অনুমান (৬১৫০০০) =৩০,০০০/- (ত্রিশ হাজার) টাকা, ১৪। ০৪টি ROYAL STAG DELUXE WHISKY, যাহা প্রতিটি ৭৫০ মিলি, সর্ব মোট (৭৫০X৪)=৩০০০ মিলি, মূল্য অনুমান (৪X৪০০০) =১৬,০০০/-(ষোল হাজার) টাকা, ১৫। ০৭টি ROYAL STAG DELUXE WHISKY, যা প্রতিটি ৩৭৫ মিলি, সর্ব মোট (৩৭৫X৭)=২৬২৫ মিলি, মূল্য অনুমান (৭১২০০০) =১৪,০০০/-(চৌদ্দ হাজার) টাকা, ১৬। ০৮টি officer’s choice BLUE PURE GRAN WHISKY, যা প্রতিটি ৩৭৫ মিলি, সর্ব মোট (৩৭৫১৮)=৩০০০ মিলি, মূল্য অনুমান (৮১২০০০) =১৬,০০০/-(ষোলহাজার) টাকা, ১৭। ৩৫টি ROYAL STAG DELUXE WHISKY, প্রতিটি ১৮০ মিলি, সর্ব মোট (১৮০X৩৫)=৬৩০০ মিলি, মূল্য অনুমান (৩৫X১০০০)=৩৫,০০০/-(পঁয়ত্রিশ হাজার) টাকা, ১৮। ০৫ পিস PHENSEDYL, যার গায়ে ইংরেজীতে Triprolidine Hydrochloride & codei phosphate Cough syrup লেখা, যা প্রতিটি ১০০ মিলি, সর্ব মোট (৫X১০০)=৫০০ মিলি, মূল্য অনুমান (৫১৩০০০) =১৫,০০০/- (পনের হাজার) টাকা পাওয়া যায় যা সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিধি মোতাবেক অদ্য ২৩ ডিসেম্বর ০১: ২৫ ঘটিকায় জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মাদক দ্রব্যের সর্বমোট আনুমানিক মূল্য ১,২৬,০০০/- (এক লক্ষ ছাব্বিশ হাজার) টাকা।

ধৃত ফারজানা শান্তা (২২) কে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় তার স্বামী পলাতক মোঃ হৃদয় মিয়া (২৪), পিতা-মোঃ কাজল মিয়া, মাতা-রানী বেগম, সাং-চর বাঘাদাইরা বেপারী বাড়ী, ডাকঘর-সেনবাড়ী, থানা-ত্রিশাল, এপি/সাং-মাসকান্দা মৎস বীজ উৎপাদন কেন্দ্র, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ এবং পলাতক মোঃ তন্ময় (২৫), পিতা-সোহরাব উদ্দিন, মাতা-রানী বেগম, সাং-বলাশপুর নয়াপড়া, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহদ্বয় এবং অজ্ঞাতনামা ১/২ জান আসামীদের নিয়া মৎস খামারে চাকুরীর পাশাপাশি অস্ত্র ক্রয় বিক্রয় সহ নেশাজাতীয় মাদক দ্রব্য ক্রয় বিক্রয় করিনা থাকে। ধৃত এবং পলাতক আসামীরা পরস্পর যোগসাজোসে অবৈধভাবে বিদেশী/দেশী আগ্নেয়াস্ত্র এবং সামুরাই সুইচগিয়ার চাকু, চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি, রামদা, ছুড়ি, ঢেগার, দেশীয় চাইনিজ কুড়াল হেফাজতে রাখিয়া ১৮৭ সনের Arms Act এর 19-A/19-(F) ধারায় এবং অবৈধভাবে মাদক দ্রব্য হেফাজতে রাখিয়া ২০১৮ সনের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের ৩৬(১) এর ২৪ (খ)/১৪(খ)/৩৮/৪১ ধারায় অপরাধ করায় আসামীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকের পৃথক দুইটি মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলা দুইটি তদন্তাধীন।

ময়মনসিংহে বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় অটোরিকশা চালক নিহত: থানায় মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
ময়মনসিংহে বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় অটোরিকশা চালক নিহত: থানায় মামলা

ময়মনসিংহ নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন বেগুনবাড়ী এলাকায় বেপরোয়া গতির বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক আব্দুল কদ্দুছ (৬৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অটোরিকশায় থাকা আরও দুই যাত্রী।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে ময়মনসিংহ–টাঙ্গাইল মহাসড়কের ৯নং খাগডহর ইউনিয়নের ৩নং মাইজবাড়ী ওয়ার্ডের বেগুনবাড়ী এলাকায় হারটি রাস্তার মোড়ে।

নিহত আব্দুল কদ্দুছ দেওখোলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি দুইজন যাত্রী নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় জামালপুর থেকে ঢাকাগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-২০৬৫) বেপরোয়া গতিতে এসে অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি ছিটকে রাস্তার পাশে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনায় অটোরিকশা চালক আব্দুল কদ্দুছ মাথা ও পায়ে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের মৃত্যুসনদে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে সড়ক দুর্ঘটনা (RTA) উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আহত অপর দুই যাত্রী হলেন, তৌহিদ (৩৮) ও নজরুল মিয়া (৬০)। তাদের মধ্যে তৌহিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এদের তৌহিদ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৯ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন এবং নজরুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মমেক হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়েছে।

ঘটনার পর কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মর্জিনা (৫৮) কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।

এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, বাসটির অজ্ঞাতনামা চালক বেপরোয়া ও দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে তার স্বামীর অটোরিকশায় ধাক্কা দিয়ে মৃত্যু ঘটিয়েছে।

পুলিশ জানায়, বাসটি শনাক্ত করা হয়েছে এবং চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

ময়মনসিংহে ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ৮ কেজি গাঁজা, সিএনজি ও ২০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৬ পিএম
ময়মনসিংহে ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ৮ কেজি গাঁজা, সিএনজি ও ২০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ময়মনসিংহে ডিবি পুলিশের পৃথক দুটি অভিযানে ৮ কেজি গাঁজা, একটি সিএনজি অটোরিকশা এবং ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ডিবি পুলিশের এসআই (নিঃ) মোঃ আরিফ হাসান সংগীয় অফিসার ও ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করে গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিঃ তারিখ দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও থানাধীন মাইজহাটি এলাকা থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশাসহ মাদক ব্যবসায়ী মোঃ বাদল মিয়া (৩৯) কে গ্রেফতার করেন। অভিযানের সময় সিএনজিটির পিছনের ইঞ্জিনের ডালার উপর বিশেষভাবে তৈরিকৃত একটি বাক্সের ভেতর থেকে ৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত বাদল মিয়া ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদর থানার চিনাইর (পূর্বপাড়া চৌধুরীবাড়ী) এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে পূর্বে তিনটি মাদক মামলা রয়েছে।

অপরদিকে, একই দিন বিকাল আনুমানিক ৪টা ৪০ মিনিটে ডিবি পুলিশের এসআই (নিঃ) মোঃ মুকিত হাসান সংগীয় অফিসার ও ফোর্সসহ ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী দেওয়ান মোহাম্মদ আলী (৫৪) কে গ্রেফতার করেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার কেরাব দেওয়ান বাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধেও তিনটি মাদক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

উদ্ধারকৃত ৮ কেজি গাঁজা, একটি সিএনজি অটোরিকশা এবং ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে গ্রেফতারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে গফরগাঁও ও কোতোয়ালী মডেল থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিল। এদের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের সনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডিবি পুলিশের এই সফল অভিযানে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মাদকবিরোধী কার্যক্রমে পুলিশের এমন তৎপরতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

বিএনপি’র দলীয় ও সতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ ও গুলি বর্ষণের অভিযোগ: আহত-১০

নিজস্ব প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫৭ এম
বিএনপি’র দলীয় ও সতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ ও গুলি বর্ষণের অভিযোগ: আহত-১০

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা-১০ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলীয় বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনাকর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) ২০২৬ তারিখে সন্ধ্যায় গফরগাঁও পৌর শহরের ইসলামিয়া স্কুলের সামনে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

আহতদের মধ্যে আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সোহাগ, রবিন, জসিম, মোঃ ফরহাদ, দেলোয়ার হোসেন, মহসিন, জান্নাতুল ফেরদৌসসহ আরও অনেক নেতাকর্মী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতীক বরাদ্দের পর বিকেলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাচ্চুর সমর্থকেরা ধানেরশীষ প্রতিকের শোভাযাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে ঘটনাস্থল এলাকায় অবস্থান করছিলেন। একই সময় দলীয় বিদ্রোহী সতন্ত্র প্রার্থী এবি সিদ্দিকুর রহমান হাঁস প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর সমর্থকদের নিয়ে মিছিলসহ ওই এলাকায় প্রবেশ করলে দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়ে উত্তেজনার সূত্রপাত হয় অতপর সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে।

সংঘর্ষ চলাকালে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ ও ছাত্রদলের অফিসে অগ্নিসংযোগ করাসহ আরো কয়েকটি স্থানে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানা যায়। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

ঘটনার বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল আল মামুন বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাচ্চু অভিযোগ করে বলেন, “পরিকল্পিতভাবে আমার দলের নেতাকর্মীদের ওপর প্রকাশ্যে গুলি চালানো হয়েছে। এই বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে অবিলম্বে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়ে বলেনএই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী এবি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “প্রতীক পাওয়ার পর আমার সমর্থকেরা শান্তিপূর্ণ মিছিল করেছে। আমি নিজে গাড়িতে ছিলাম। আমরা কোনো হামলায় জড়িত নই।

এ ঘটনায় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবি সিদ্দিকুর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে দলীয় অঙ্গনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, তিনি শিল্প ও বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা একটি মামলার আসামি হওয়ায় দলীয় মনোনয়ন পাননি। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তবে দুদকের মামলার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে এবি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “মামলা রাজনৈতিক বাস্তবতায় হতেই পারে। বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার।

এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।