সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১ পৌষ ১৪৩২
সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১ পৌষ ১৪৩২

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভিন্নভিন্ন অভিযানে মটর সাইকেল ও নগদ টাকা উদ্ধার, গ্রেফতার ১৬ জন

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৮:১১ পিএম
ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভিন্নভিন্ন অভিযানে মটর সাইকেল ও নগদ টাকা উদ্ধার, গ্রেফতার ১৬ জন

গত ২৪ ঘন্টায় ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করিয়া মোট ১৬জন আসামী গ্রেফতার করা হয়।

 

এসআই (নিঃ) ফিরোজ আলী সংগীয় অফিসার ও ফোর্সসহ নিয়মিত মোটরসাইকেল চুরি মামলার ঘটনার সহিত জড়িত তদন্তে প্রাপ্ত আসামী ১। মোঃ শহিদুল ইসলাম(৩০), পিতা-মোঃ শামছু মিয়া, মাতা-মোছাঃ মনোয়ারা বেগম, সাং-জামাইকোনা (মসজিদবাড়ী), থানা-পূর্বধলা, জেলা-নেত্রকোণাকে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে কিশো্রগঞ্জ জেলার কটিয়াদি থানাধীন বাসস্ট্যান্ড সলংলগ্ন সুন্দরবন কুরিয়া সার্ভিস এর সামনে পাকা রাস্তার উপর হইতে গ্রেফতার করতঃ তাহার হেফাজত হইতে যাওয়া একটি সুজুকী জিকসার মোটরসাইকেল, যাহার চেচিস নং-RMBL-ED11F 122500, যাহার ইঞ্জিন নং- BGA5 125861, সিসি নং-১৫৫, রং কালো, মূল্য অনুমান ৩,১১,০০০/-(তিন লক্ষ এগারো হাজার) টাকা উদ্ধার করা হয়।

 

এসআই (নিঃ) সাঈদারা রিটা সংগীয় অফিসার ও ফোর্সসহ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করিয়া নিয়মিত চুরি মামলার তদন্তে সন্দিগ্ধ আসামী ১। মোঃ আলমগীর (৩৩), পিতা-মৃত আলাউদ্দিন, মাতা-মনোয়ারা বেগম, ২। মোঃ আব্দুর রহিম (৩৫), পিতা-আব্বাস, মাতা-মর্জিনা, উভয় সাং-সেহড়া চামড়া গুদাম, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহদ্বয়কে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানাধীন রেলওয়ে স্টেশন এলাকা হইতে গ্রেফতার করা হয়।

 

এসআই (নিঃ) খলিলুর রহমান সংগীয় অফিসার ও ফোর্সসহ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করিয়া বিস্ফোরক মামলার তদন্তে সন্দিগ্ধ আসামী মোঃ সালাহ উদ্দিন লাবলু (২৮), পিতা-মৃত জিল্লুর রহমান, মাতা- মৃত সুলেমা বেগম, সাং- আকুয়া উত্তরপাড়া, ভাঙ্গাপুল, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহকে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানাধীন আকুয়া এলাকা হইতে গ্রেফতার করা হয়।

 

এসআই (নিঃ) ওমর ফারুক রাজু সংগীয় অফিসার ও ফোর্সসহ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করিয়া নিয়মিত চুরি মামলার তদন্তে সন্দিগ্ধ আসামী ১। মোঃ জাকারিয়া হোসেন (২৫), পিতা-মোঃ লিটন মিয়া, মাতা-জাহানারা বেগম, সাং-বয়ড়া শেষ মোড়, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহকে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানাধীন বয়ড়া শেষ মোড় এলাকা হইতে গ্রেফতার করা হয়।

 

এসআই (নিঃ) অংকন সরকার সংগীয় অফিসার ও ফোর্সসহ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করিয়া ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানাধীন শম্ভুগঞ্জ চারকালীবাড়ী সাকিনস্থ টোল প্লাজার পশ্চিম পাশে রাস্তার উপর হইতে আসামী ১। মোঃ শহিদুল ইসলাম (৪০), পিতা- মৃত ইদ্রিস আলী, মাতা- সখিনা খাতুন, ২। কামরুল হাসান (২২), পিতা- আব্দুল মান্নান, মাতা- কবিতা বেগম, উভয় সাং- সাগরদিঘী, থানা- ঘাটাইল, জেলা- টাঙ্গাইলদ্বয়কে ০১ (এক) লিটার দেশীয় তৈরী চোলাই মদসহ গ্রেফতার করেন।

 

এসআই (নিঃ) বিশ্বজিত দাস সংগীয় অফিসার ও ফোর্সসহ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করিয়া নিয়মিত মামলার আসামী ১। এসএম আবুল কালাম আজাদ (৫০), পিতা-মৃত হাসিম উদ্দিন সরকার, ২। মোছাঃ ছালমা আক্তার (৪০), পিতা- মৃত শামছুদ্দিন সরকার, উভয় সাং-বাজিতপুর সরকার বাড়ী, থানা- কোতোয়ালী, জেলা- ময়মনসিংহদ্বয়কে তাহাদের বসত বাড়ী এলাকা হইতে গ্রেফতার করা হয়।

 

এসআই (নিঃ) কুমোদলাল দাস তাহার সংগীয় অফিসার ও ফোর্সসহ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করিয়া নারী ও শিশু অপহরন মামলার আসামী মোঃ তোফাজ্জল হোসেন ওরফে মিজান মিয়া (১৯) পিতা-মৃত আছির উদ্দিন,মাতা-মোছাঃহাজেরা খাতুন,সাং-বাহেলা(শামছু মৌলভী বাড়ী),থানা-তারাকান্দা,জেলা-ময়মনসিংহকে গ্রেফতার করতঃ অপহৃত ভিকটিমকে উদ্ধার পূর্বক তাহার পরিবারের নিকট বিধি মোতাবেক বুঝাইয়া দেওয়া হয়।

এসআই (নিঃ) খলিলুর রহমান তাহার সংগীয় ফোর্স সহ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করিয়া আকুয়া দক্ষিনপাড়া এলাকা হইতে লুডু দ্বারা টাকার বিনিময়ে জুয়া খেলারত অবস্থায় পাইয়া জুয়ারি ১। আসাদুল ইসলাম (৩৩), পিতা- মৃত নাজিম উদ্দিন, মাতা- ফিরোজা বেগম, সাং- তারাকান্দা তালদিঘির বাজার, থানা- তারাকান্দা, এ/পি- আকুয়া আলালের বাসার ভাড়াটিয়া, থানা- কোতোয়ালী, ২। মোঃ রমজান আলী (২৪), পিতা- মোঃ তুহিন মিয়া, মাতা- রুপা আক্তার, ৩। মোঃ শাহজাদা (৩৩), পিতা- মোঃ আলা উদ্দিন, মাতা- মোছাঃ শহর বানু, ৪। মোঃ আব্দুল মালেক (৪৫), পিতা- মোঃ নূর হোসেন, মাতা- মোছাঃ বেগম, সর্ব সাং- আকুয়া দক্ষিনপাড়া, থানা- কোতোয়ালী, সর্ব জেলা- ময়মনসিংহদের গ্রেফতার করা হয়।

 

এছাড়াও এসআই (নিঃ) মাসুদ জামালী, এএসআই (নিঃ) ওমর ফারুক রাজু দ্বয় সঙ্গীয় ফোর্সসহ গ্রেফতারী পরোয়ানা ভুক্ত পলাতক আসামী ১। মোঃ রিয়াজ, পিতা- ফজলুল হক, সাং- কালীবাড়ী গুদারাঘাট, থানা- কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ, ২। মোঃ আকরাম হোসেন, পিতা-মোঃ মোফাজ্জল মিয়া, সাং-চর রাঘবপুর, পোঃ কাচারীবাজার, থানা- কোতোয়ালী, জেলা- ময়মনসিংহদ্বয়কে তাহাদের বসত বাড়ী এলাকা হইতে গ্রেফতার করা হয়।

 

 

প্রত্যেক আসামীদের চালান মোতাবেক যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করা হইয়াছে।

ত্রিশালে কাগজে প্রকল্প; মাঠে নেই অস্তিত্ব! পিআইও শহিদুল্লাহ’র বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

শিবলী সাদিক খান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:২৬ পিএম
ত্রিশালে কাগজে প্রকল্প; মাঠে নেই অস্তিত্ব! পিআইও শহিদুল্লাহ’র বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ১০নং মঠবাড়ী ইউনিয়নে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়নে ভয়াবহ অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। কাগজে প্রকল্প মাঠে নেই অস্তিত্ব! এমন জোরালো আলোচনা সমালোচনার কারণেই

জেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছে মটবাড়ী ইউনিয়নের ২৮ টি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজন।

জানা যায়, ‎২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে বরাদ্দ পাওয়া মোট ২৮টি উন্নয়ন প্রকল্প নামের সংশ্লিষ্ট এলাকায় (মাঠপর্যায়ে) কোনো কাজ না করেই কাগজে-কলমে সম্পন্ন দেখিয়ে প্রায় ৭৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা করে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

‎এ ঘটনায় স্থানীয়দের পক্ষে মো. বাবুল মিয়া দুদক চেয়ারম্যান বরাবর বিস্তারিত উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ, বাস্তব অবস্থা ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকার তথ্য সংযুক্ত রয়েছে।

‎কাগজে প্রকল্প, মাঠে নেই অস্তিত্ব! অভিযোগ অনুযায়ী, মঠবাড়ী ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে রাস্তা সংস্কার, ড্রেন, কালভার্ট, মাটি ভরাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের নামে বরাদ্দ দেওয়া হলেও সরেজমিনে কোনো কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

‎স্থানীয়দের দাবি যেসব প্রকল্প কাগজে শতভাগ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে, বাস্তবে সেসব স্থানে বছরের পর বছর কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। ডিজিটাল তথ্য বোর্ডে প্রকল্পের নাম থাকলেও মাঠে কাজের চিহ্ন না থাকায় প্রকল্প অনুমোদন ও বিল ছাড় প্রক্রিয়া নিয়েই বড় প্রশ্ন উঠেছে।

ত্রিশাল উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ত্রিশাল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ। স্থানীয়দের অভিযোগ মটবাড়ী ইউনিয়নে কোন কাজ না করেই সরকারি অর্থ তছরুপ করা হয়েছে, প্রকল্প যাচাই, কাজের সমাপ্তি সনদ প্রদান এবং বিল ছাড়ের প্রতিটি ধাপেই তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। অন্যান্য ইউনিয়নে হয়তো কিছু কাজ করছে, নয়তো প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বরাদ্দের অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা করে এলাকার জনগণকে উন্নয়ন বঞ্চিত করেছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ঠ এক কর্মকর্তা জানান‎,“মাঠপর্যায়ে কাজ না হলে কোনোভাবেই বিল পাস হওয়ার সুযোগ নেই। বরাদ্দকৃত অর্থ সরকারের কোষাগারে ফেরত যাওয়ার বিধিবিধান রয়েছে। পিআইও প্রকল্পের যাচাই বাছাই কাজের মান নির্ণয় পুরো ব্যবস্থার মূল নিয়ন্ত্রক।”

‎জানা যায়, নানা অভিযোগের ভিত্তিতে পিআইও মোহাম্মদ শহিদুল্লাহকে সম্প্রতি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন এই বদলি কি শাস্তি, নাকি দায় এড়ানোর কৌশল?

ত্রিশাল উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে গত কয়েক বছরের টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন হয়েছে কিনা তা পূর্ণাঙ্গভাবে অডিট করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

অভিযুক্ত পিআইও মোহাম্মদ শহিদুল্লাহকে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সব প্রকল্প সরকারি বিধি-বিধান মেনেই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কোনো প্রকল্পে অনিয়ম বা অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে আমি জড়িত নই। কেউ ব্যক্তিস্বার্থে আমাকে হয়রানি করতে এসব অভিযোগ তুলেছে। তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসবে।”

খাদ্য কর্মকর্তা শহীদুল্লাহর কোটি টাকা অস্বাভাবিক লেনদেন; চাল সংগ্রহ ও বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে মামলা

শিবলী সাদিক খান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:০৩ এম
খাদ্য কর্মকর্তা শহীদুল্লাহর কোটি টাকা অস্বাভাবিক লেনদেন; চাল সংগ্রহ ও বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে মামলা

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ও সরকারি খাদ্য গুদামের (এলএসডি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি চাল সংগ্রহ ও বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে। অভিযোগ ওঠার পর তাকে দিনাজপুরের বিরামপুরে বদলি করা হয়েছে।

চালকল মালিক নাসির উদ্দিন লাল বাদী হয়ে সম্প্রতি আদালতে মামলাটি করেন। তার অভিযোগ, শহীদুল্লাহ নিম্নমানের চাল গুদামজাত করা, সরবরাহকারীদের বিল আত্মসাৎ ও ঘুষের মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

মামলার বাদী নাসির উদ্দিন লাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সরকারি তালিকায় শামীম এন্টারপ্রাইজ নামে কোনো চালকল নেই। অথচ শহীদুল্লাহ নিয়মবহির্ভূতভাবে ওই প্রতিষ্ঠানের নামে আমার সরবরাহ করা ১০ টন চালের বিল তুলে নেন। এর আগে গত আমন মৌসুমেও তিনি আমার তিন লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেন।’ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে আদালতের শরণাপন্ন হন বলে জানান তিনি।

খাদ্য বিভাগের সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে রৌমারীতে যোগদানের পর থেকেই শহীদুল্লাহর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এর আগেও তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার যাদুরানী খাদ্য গুদামে দায়িত্ব পালনকালে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন।

অনুসন্ধানে মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর দুটি ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য মিলেছে। তার সোনালী ব্যাংক রৌমারী শাখার ব্যক্তিগত হিসাবে চলতি বছরের ২৫ মে থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত প্রায় ৮২ লাখ টাকা জমা ও উত্তোলন করা হয়েছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহের সোনালী ব্যাংকের আরেকটি হিসাবে ১ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় এক কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যার টাকা রৌমারী ও কুড়িগ্রাম শহর থেকে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে নিম্নমানের চাল বিতরণের অভিযোগে সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে কয়েকটি ডিলার পয়েন্টে এর সত্যতা মেলে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় জনতা সরকারি গুদাম থেকে বের করার সময় দুই ট্রাক নিম্নমানের চাল আটক করে। স্থানীয় চাল ব্যবসায়ী ছকমল হোসেন বলেন, ‘সরকারি খাদ্য সংগ্রহ কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এ ধরনের দুর্নীতি সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রথমে গণমাধ্যম কে বলেন ‘বিষয়টি তদন্তাধীন’ বলে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পরে ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, ‘রৌমারী থেকে আমার চাচাতো ভাই গরু কিনে নিয়ে যান। সেই টাকার লেনদেন আমার হিসাবে হয়েছে। সরকারি কর্মচারী হিসেবে এটা ঠিক হয়নি, তবে এর বাইরে কিছু নয়।’ ময়মনসিংহ শাখার হিসাবে কোটি টাকার লেনদেনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ভাইয়েরা বিভিন্ন ব্যবসা করেন, তারা আমার হিসাব নম্বর ব্যবহার করে লেনদেন করেছেন।’

তবে তার ব্যাংক হিসাবে কুড়িগ্রাম ও রৌমারী থেকে কেন টাকা পাঠানো হয়েছে? এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না দিয়ে তিনি চুপ করে থাকেন। কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হামিদুল হক জানান, ‘অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটি গত রোববার থেকে তদন্ত শুরু করেছে। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, অভিযোগ ওঠার কারণেই তাকে রৌমারী থেকে বদলি করা হয়েছে।

ময়মনসিংহে হেলে পড়েছে ৫ তলা ভবন

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৩:২৪ পিএম
ময়মনসিংহে হেলে পড়েছে ৫ তলা ভবন

ময়মনসিংহ নগরীতে একটি ৫ তলা ভবন হেলে পড়েছে। এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় তাৎক্ষণিক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বাসিন্দাদের। এ নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে তোলপাড় শুরু হলে উৎসুক জনতা ভবনটির আশপাশে ভিড় করেন।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে নগরীর গোলকিবাড়ী বাইলেন কাজী অফিস সংলগ্ন এলাকার এ ভবনটি হেলে পড়ার খবর পাওয়া যায়।

এর আগে বিকেল ৫টার দিকে হেলে পড়া ভবনটির দেয়ালে ফাটল রেখা ও সামনের অংশের মাটিতে দৃশ্যমান ফাটলের সৃষ্টি হয়। ভবনের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম ঘটনাটি ফায়ার সার্ভিসকে জানান। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে হেলে পড়া ভবনটির পাশে নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের পাইলিং কাজ বন্ধ করে দেন। একইসঙ্গে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা হেলে পড়া ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়ে গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০১১ সালে লন্ডন প্রবাসী আমার ভাই রিয়াজুল আমিন অরুণ এই ৫ তলা ভবনটি নির্মাণ করে। সম্প্রতি পাশের জায়গায় গ্রিন ডেভেলপমেন্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করে। কিন্তু পাশে জায়গা না রেখে নিয়ম অমান্য করে পাইলিং করার কারণে আমাদের ৫ তলা ভবনটি হেলে পড়েছে। একইসঙ্গে ভবনের দেয়ালেও ফাটলের রেখা পড়েছে। বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসকে অবগত করলে তারা এসে বেজমেন্টের কাজ বন্ধ করে দিয়ে আমাদের ভবনের বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় আমরা আতঙ্কিত। কখন কি হয়, আল্লাহ ভালো জানেন।

এ বিষয়ে ফায়ার ফাইটার মো. জাকারিয়া ঢাকা বলেন, পাইলিং করার কারণে পাশের ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পাইলিংয়ের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে হেলে পড়া ভবনটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বাসিন্দাদের সরিয়ে গেট তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে কথা বলে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মানস বিশ্বাস বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এই মুহূর্তে ভবনটি পর্যবেক্ষণে রেখে দুই ভবন মালিককে কাগজপত্র দেখাতে বলা হয়েছে। খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ভবন নির্মাণে কাজ করা গ্রিন ডেভেলপমেন্ট সংশ্লিষ্ট কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুস সাকিব বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে হেলে পড়া ভবনটি খালি করে দেওয়া হয়েছে।