রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ ১৪৩২
রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ ১৪৩২

‘আমুর পরামর্শে কারফিউ, কামরুলের নির্দেশে গুলি-গণহত্যা চলে’

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪, ১১:৪২ এম
‘আমুর পরামর্শে কারফিউ, কামরুলের নির্দেশে গুলি-গণহত্যা চলে’

আওয়ামী লীগ নেতা, ১৪ দলের সমন্বয়ক ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু ছাত্র আন্দোলন চলাকালে কারফিউ জারি ও ছাত্রদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন টিম।

 

প্রসিকিউশন টিম জানান, ১৯ জুলাই গণভবনে বৈঠক করে আন্দোলনকারীদের দমনের সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ সরকার। ওই বৈঠকের পর কারফিউ জারি ও ছাত্রদের দেখামাত্র গুলি করার কথা বলেন আমু।

 

এছাড়া সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. কামরুল ইসলামের নির্দেশে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন গুলি বর্ষণ, হত্যা ও গণহত্যা চালায়। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও গণহত্যার অভিযোগের তদন্ত চলমান।

 

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় আমির হোসেন আমু ও কামরুল ইসলামকে। এরপর তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে এ বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন ও শুনানির জন্য আগামী ১৮ ডিসেম্বর পরবর্তী দিন ঠিক করেন আদালত।

 

ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন, বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

 

এদিন ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদ ও গাজী মনোয়ার হোসেন (এম এইচ) তামিম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর তারেক আব্দুল্লাহ ও শাইখ মাহদী। প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, আমির হোসেন আমু ১৯ জুলাই গণভবনে মিটিংয়ে উপস্থিত থেকে আন্দোলনকারীদের দমনের সিদ্ধান্ত নেন। ওই মিটিংয়ে পর তিনি কারফিউ জারি এবং দেখামাত্র গুলি করার কথা বলেন। পরের দিন তাই হয়। পুলিশের গুলিতে প্রায় দুই হাজার ছাত্র-জনতা শহীদ হন। আহত হন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। তাদের নির্দেশে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে গণহত্যা চালানো হয়। আমির হোসেন আমু রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে থাকা অবস্থায় গণহত্যা নিবারণে প্রচেষ্টা চালাননি।

 

অন্যদিকে প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদ বলেন, সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ নির্দেশে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, পুলিশ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন গুলি বর্ষণ, হত্যা ও গণহত্যা চালায়। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও গণহত্যার অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে।

 

জুলাই-আগস্টে গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় গত ১৭ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় গত ১৮ নভেম্বর সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ডা. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, শাজাহান খান, কামাল আহমেদ মজুমদার, গোলাম দস্তগীর গাজী, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, সালমান এফ রহমান, সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব জাহাঙ্গীর আলমকে ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়।

ঢাকা-১১ আসনে ভুয়া পরিচয়ে ভোট চাওয়ার অভিযোগ, শহীদ পরিবারের তীব্র প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৪৫ এম
ঢাকা-১১ আসনে ভুয়া পরিচয়ে ভোট চাওয়ার অভিযোগ, শহীদ পরিবারের তীব্র প্রতিবাদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর ঢাকা-১১ আসনে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের অন্যতম শহীদ ওসমান হাদীর বোন পরিচয় দিয়ে এক নারী একটি রাজনৈতিক জনসভায় প্রকাশ্যে ভোট চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-১১ আসনে প্রার্থী নাহিদ ইসলামের একটি জনসভার মঞ্চে ওই নারীকে উপস্থিত হয়ে নিজেকে শহীদ ওসমান হাদীর বোন দাবি করে ভোট চাইতে দেখা যায়। বিষয়টি মুহূর্তেই আলোচনার জন্ম দেয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।

তবে শহীদ ওসমান হাদীর পরিবার এ দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উক্ত নারী তাঁদের পরিবারের কেউ নন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শহীদ পরিবারের পরিচয় ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনাকে নিন্দনীয় ও দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগকে পুঁজি করে কেউ রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

এশিয়ান টেলিভিশনের চেয়ারম্যান হলেন রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম
এশিয়ান টেলিভিশনের চেয়ারম্যান হলেন রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা মো. লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল এশিয়ান টেলিভিশনের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

গত ২৬ জানুয়ারি এশিয়ান টেলিভিশনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাকে এ পদে নির্বাচিত করা হয়।নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল দেশের আবাসন খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান।

হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সফলতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তার নেতৃত্বে রূপায়ণ গ্রুপ আবাসন ও শিল্পখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।এছাড়াও তিনি দেশের জনপ্রিয় জাতীয় দৈনিক দেশ রূপান্তর এবং দেশ রেডিও-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গণমাধ্যম ও শিল্পখাতে তার বহুমাত্রিক ভূমিকা তাকে একজন সফল সংগঠক ও দূরদর্শী উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত করেছে।

মিডিয়া খাতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মো. লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো)-এর নির্বাচিত পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।তার নেতৃত্বে এশিয়ান টেলিভিশন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং বস্তুনিষ্ঠ, মানসম্মত ও দর্শকপ্রিয় অনুষ্ঠান উপহার দেবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের

ময়মনসিংহে পুলিশের পরিচয়ে প্রতারণা: ওয়াকিটকি-হাতকড়াসহ ৫ ভুয়া ডিবি গ্রেপ্তার

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৩ পিএম
ময়মনসিংহে পুলিশের পরিচয়ে প্রতারণা: ওয়াকিটকি-হাতকড়াসহ ৫ ভুয়া ডিবি গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় পুলিশের পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে ওয়াকিটকি, হাতকড়া ও ডিবি পুলিশের জ্যাকেটসহ পাঁচজন ভুয়া ডিবি পুলিশকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ত্রিশাল উপজেলার সতেরপাড়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে শাহাদাৎ হোসেন (২৭), ধরিলামধ্যপাড়া গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে রাকিবুল হাসান রনি (২৪), ছলিমপুর গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে সারোয়ার হোসেন (২৫), একই গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৫) এবং ফুলবাড়িয়া পৌরসভার আ. মতিনের ছেলে সরোয়ার আলম (২১)।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুলিশ বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০–১৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে ময়মনসিংহের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলী আদালত-১০) আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে ডিবি পুলিশের পোশাক পরিহিত চার যুবক কামাল ও হারুন নামের দুই ব্যক্তিকে হাতকড়া পরিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। এ সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে একজন পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় জনতা তিনজনকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে সারোয়ার হোসেন ও আশরাফুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেলে পুলিশ রাতেই ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের কাছ থেকে ভুয়া ডিবি পুলিশের পাঁচটি পরিচয়পত্র, দুটি হাতকড়া, একটি ওয়াকিটকি, ডিবি পুলিশের দুটি জ্যাকেট, দশটি ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কাগজ, সাতটি মোবাইল ফোন, একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, একটি মনিটর ও একটি প্রিন্টার জব্দ করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে একই এলাকায় একটি মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ভুয়া অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক করে ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয় এই চক্র। সর্বশেষ বুধবার রাতে একই কৌশলে কামাল ও হারুনকে টার্গেট করে তারা।

তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি একটি আন্তঃজেলা প্রতারক দল। তারা ডিবি পুলিশের পোশাক পরে মহাসড়ক ও বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, ডাকাতি এবং নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।

ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল্লাহ সাইফ বলেন, “চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে মহাসড়ক ও বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি ও চাঁদাবাজি করে আসছিল। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”