মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার অভিযানে গ্রেফতার ৪৭ জন

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৪, ৮:৩৩ পিএম
ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার অভিযানে গ্রেফতার ৪৭ জন

গত ২৪ ঘন্টায় ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করিয়া মোট ৪৭ জন আসামী গ্রেফতার করা হয়।

 

 

এসআই (নিঃ) অংকন সরকার সংগীয় ফোর্স সহ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করিয়া অন্যান্য মামলার আসামী ১। মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন (৪০), আওয়ামীলীগের সমর্থক, পিতা-মৃত মমরোজ আলী, মাতা-মৃত ফিরোজা খাতুন, সাং-চর হাসাদিয়া, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহকে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন চর হাসাদিয়া এলাকা হইতে গ্রেফতার করেন।

 

এসআই (নিঃ) টিটু সরকার সংগীয় ফোর্স সহ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করিয়া মারামারি মামলার আসামী ১। মোঃ আশিকুর রহমান (১৯), পিতা-মোঃ হযরত আলী, সাং-নারকেল বাগান রোড, বয়ড়া ভালুকা, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহকে ইং ২৮/১১/২০২৪ তারিখ রাত অনুমান ২০.১৫ ঘটিকার সময় কোতোয়ালী মডেল থানাধীন বয়ড়া ভালুকা সুপারী বাগান মসজিদের পাশে জনৈক সুমন এর মুদির দোকানের সামনে হইতে গ্রেফতার করেন।

এসআই (নিঃ) অংকন সরকার সংগীয় ফোর্স সহ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করিয়া চুরি মামলার আসামী ১। মোঃ লোকমান (২৬), পিতামৃত-মিজানুর রহমান, মাতা-মোছাঃ নার্গিস আক্তার, সাং-গলগন্ডা, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহকে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন পাটগুদাম ব্রীজ মোড় এলাকা হইতে গ্রেফতার করেন।

 

এসআই (নিঃ) খলিলুর রহমান সংগীয় ফোর্স সহ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করিয়া অন্যান্য মামলার আসামী ১। মোঃ আরিফ (৫২), ০৫নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি, পিতামৃত-শহর আলী, মাতামৃত-আবে খাতুন, সাং-গোহাইলকান্দি জামতলা মোড়, থানা- কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহকে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন গোহাইলকান্দি এলাকা হইতে গ্রেফতার করেন।

 

এসআই (নিঃ) টিটু সরকার সংগীয় ফোর্স সহ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করিয়া দস্যুতার চেষ্টা মামলার আসামী ১। মোঃ আসিফ (২৩), পিতামৃত-আইনুল হক, মাতা-আছমা বেগম, ২। প্রান্ত সরকার (১৯), পিতা-প্রদীপ সরকার, মাতা-অনুরাধা সরকার, ৩। নিলয় কর্মকার (১৯), পিতা-নির্মল কর্মকার, মাতা-মনি কর্মকার, সর্ব সাং-কালিবাড়ী কবরখানা রোড, ৪। রাহুল (১৯), পিতামৃত-রতন বর্ণিক, মাতা-লক্ষী বর্ণিক, সাং-জেসি গুহ রোড, সর্ব থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহদের কোতোয়ালী মডেল থানাধীন ১/ডি জেসি গুহ রোড (স্টেশন গেইট) প্রগতি গেষ্ট হাউজের সামনে সরকারী পাকা রাস্তার উপর হইতে গ্রেফতার করেন এবং তাহাদের নিকট হইতে ০৪টি চাকু ও ০৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেন।

ইছাড়াও র‌্যব-১৪ থানা এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করিয়া মাদক মামলার আসামী ১। মোঃ সাইফুল ইসলাম (৫৫), পিতা-মৃত রজিব উদ্দিন, ২। রাজিয়া সুলতানা (৬২), পিতা-মৃত আব্দুর রকিব, উভয়সাং-পূর্ব রামচন্দ্রপুর, ৩। মোছাঃ রিনা বেগম (৩৫), স্বামী-রেজাউল করিম, সাং: উত্তর গোপালপুর, সর্বথানা: পাঁচবিবি, জেলা: জয়পুরহাটদেরকে কোতোয়ালী মডেল থানা সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নং ওয়ার্ডের ভাটিবাড়েড়া সাকিনস্থ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশে জনৈক শফিকুল ইসলাম এর ‘‘ভাই ভাই হোটেলের” সামনে পাকা রাস্তার উপর হইতে গ্রেফতার করেন এবং তাহাদের নিকট হইতে ১৯০২ পিস ইনজেকশন উদ্ধার করেন।

 

এসআই (নিঃ) আলী আকবর সংগীয় ফোর্স সহ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করিয়া অন্যান্য মামলার আসামী ১। মোঃ আব্দুল মতিন (৬২), পিতা-মৃত আব্দুল জব্বার বেপারী, মাতা-রেজিয়া খাতুন, সাং- সরস্বতীকান্দা, ২। মোঃ জুলহাস মিয়া (২২), পিতা-হাফিজ উদ্দিন, মাতা-শেফালী আক্তার, সাং-বালিদিয়া, ৩। হাসান মিয়া (২১), পিতা-আতিকুল ইসলাম, মাতা-পারুল আক্তার, সাং-কাকচর নয়াপাড়া, ৪। আরিফুল ইসলাম (২৬), পিতা-নজরুল ইসলাম, মাতা-মোছাঃ সালমা বেগম, সাং- সরস্বতীকান্দা, ৫। আসাদুল ইসলাম (৪২), পিতা-আলী উদ্দিন, মাতা-মৃত তহুরুন নেছা, সাং-তালতলা, ৬। শাহ জালাল (৬৫), পিতা-মৃত আবুল কাশেম, মাতা-মোছাঃ জাহিদা খাতুন, সাং-কাকচর চকপাড়া, ৭। আব্দুর রশিদ (৩২), পিতা-চাঁন মিয়া, মাতা-রোকেয়া খাতুন, সাং-কাঁঠাল রাজাবাড়ী, ৮। মোঃ সোহাগ (৩০), পিতা-মৃত শামছুল হক, মাতা-নুর জাহান, সাং-কাকচর চকপাড়া, ৯। সাব্বির আহম্মেদ (১৯), পিতা-আব্দুর রাজ্জাক, মাতা-রওশনারা, সাং-সরস্বতীকান্দা, ১০। আতিকুল ইসলাম (৫৫), পিতা-শমসের আলী, মাতা-মোছাঃ বানু, সাং-কাকচর, ১১। মোঃ জাহিদ হাসান (২১), পিতা-আব্দুল সালাম, মাতা-জোৎ¯œা আরা বেগম, সাং-বড়মা, ১২। দুলাল মিয়া (৪৮), পিতা-মৃত নাজিম উদ্দিন @ নজিম উদ্দিন, মাতা-ফালানী খাতুন, সাং-তালতলা, ১৩। শওকত আলী (৩০), পিতা-জালাল উদ্দিন, মাতা-হাজেরা খাতুন, সাং-বড়মা, ১৪। আতিকুল ইসলাম (২৫), পিতা-মৃত আব্দুর জব্বার, মাতা-মজিদা খাতুন, সাং-সরস্বতীকান্দা, ১৫। মোঃ দুলাল (৩৮), পিতা-মৃত তাইজ উদ্দিন, মাতা-ফিরোজা খাতুন, সাং-বড়মা, ১৬। মোঃ আরিফুল ইসলাম (২৪), পিতা-মোফাজ্জল হোসেন, মাতা-বেদেনা খাতুন, সাং-বালিদিয়া, ১৭। আব্দুর মালেক (৩৩), পিতা-আব্দুল মান্নান, মাতা-রোকেয়া বেগম, সাং-চকরামপুর কাজিরকান্দা, ১৮। মোঃ বোরহান উদ্দিন (২৭), পিতা-আব্দুর রাজ্জাক, মাতা-রওশনারা খাতুন, সাং-সরস্বতীকান্দা, ১৯। মোঃ ইউনুছ আলী (২৬), পিতা-জালাল উদ্দিন, মাতা-হাজেরা খাতুন, সাং-বড়মা, ২০। হুমায়ুন কবির (৩২), পিতা-সিরাজুল ইসলাম, মাতা-মজিদা খাতুন, সাং-কাকচর, ২১। মোঃ রিপন মিয়া (৩২), পিতা-মৃত চাঁন মিয়া, মাতা-রুপজান নেছা, সাং-সরস্বতীকান্দা, ২২। মামুন মিয়া (১৯), পিতা-মোঃ রুহুল আমিন, মাতা-মোছাঃ রোকেয়া খাতুন, সাং-বালিদিয়া, ২৩। মোঃ আল আমিন (২৬), পিতা-আব্দুল হেকিম, মাতা-মজিদা খাতুন, সাং-সরস্বতীকান্দা, ২৪। মোঃ রাসেল (২৩), পিতা-মোঃ আব্দুল খালেক, মাতা-মোছাঃ মমতা বেগম, সাং-সরস্বতীকান্দা, ২৫। মোঃ মানিক মিয়া (২৮), পিতা-মোঃ আব্দুর রশিদ, মাতা-রাবেয়া খাতুন, সাং-সরস্বতীকান্দা, ২৬। মোঃ লিটন মিয়া (৩৫), পিতা-মৃত মাহমুদ আলী, মাতা-আম্বিয়া খাতুন, সাং-সরস্বতীকান্দা, ২৭। মোঃ নজরুল ইসলাম (৪৫), পিতা-মোঃ কছিম উদ্দিন খান, মাতা-আমেনা খাতুন, সাং-বড়মা, ২৮। মোঃ রফিকুল ইসলাম (৬০), পিতা-মৃত মাহমুদ আলী বেপারী, মাতা-মৃত রমিছা খাতুন, সাং-সরস্বতীকান্দা, সর্ব থানা-ত্রিশাল, ২৯। মোঃ নাজমুল হুদা ফরাজী (৩৫), পিতা-আব্দুল কদ্দুছ, মাতা-তাসফিয়া খাতুন, সাং-তেলীগ্রাম, থানা-ফুলবাড়ীয়া, এ/পি সাং-বনগ্রাম, থানা-ত্রিশাল, সর্ব জেলা-ময়মনসিংহ, ৩০। মোঃ আকরাম হোসেন (২৩), পিতা-মোঃ সুরুজ আলী, মাতা-সাবানা আক্তার, ৩১। ইমান উদ্দিন (২৪), পিতা-তরিকুল ইসলাম, মাতা-নুরজাহান, উভয় সাং-সিদ্ধরপুর, ৩২। মোঃ আসাদ মিয়া (৩৫), পিতা-সালেম উদ্দিন, মাতা-সাহেরা খাতুন, সাং-ছোট কাইলাটি, সর্ব থানা-নেত্রকোণা সদর, জেলা-নেত্রকোনা’দেরকে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন পাটগুদাম ব্রীজের পশ্চিম পাশে জয় বাংলা চত্ত্বরের সামনে হইতে গ্রেফতার করেন।

 

১। মোঃ রাকিবুল হাসান রাজিব (২৬), পিতা-মৃত মুনসুর আলী, মাতা-রোকেয়া খাতুন, সাং-পাটগুদাম দুলদুল ক্যাম্প, ২। ইলিয়াস কাঞ্চন (২৫), পিতা-গোলাপ মিয়া, মাতা-মোছাঃ আছিয়া খাতুন, সাং-পাটগুদাম র‌্যালীর মোড়, উভয় থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহকে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন পাটগুদাম ব্রীজ মোড় এলাকায় সরকারী পাকা রাস্তার উপর হইতে গ্রেফতার করেন।

 

এসআই (নিঃ) নুরুল ইসলাম সংগীয় ফোর্স সহ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করিয়া অন্যান্য মামলার আসামী ১। মোঃ রাকিবুল হাসান রাজিব (২৬), পিতা-মৃত মুনসুর আলী, মাতা-রোকেয়া খাতুন, সাং-পাটগুদাম দুলদুল ক্যাম্প, ২। ইলিয়াস কাঞ্চন (২৫), পিতা-গোলাপ মিয়া, মাতা-মোছাঃ আছিয়া খাতুন, সাং-পাটগুদাম র‌্যালীর মোড়, উভয় থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহকে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন পাটগুদাম ব্রীজ মোড় এলাকায় সরকারী পাকা রাস্তার উপর হইতে গ্রেফতার করেন।

 

এএসআই (নিঃ) ইমরান আলী সংগীয় ফোর্স সহ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করিয়া অন্যান্য মামলার আসামী ১। মোঃ জসিম উদ্দিন (২৫), পিতা-আব্দুর রশিদ, মাতা-আমেনা বেগম, সাং-থানারঘাট, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহকে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন দিঘারকান্দা মোড় এলাকায় সরকারী পাকা রাস্তার উপর হইতে গ্রেফতার করেন।

 

ইহাছাড়াও এসআই (নিঃ) মোজাম্মেল হোসেন থানা এলাকা অভিযান পরিচালনা করিয়া ০১টি সিআর পরোয়ানা ভূক্ত আসামীকে গ্রেফতার করেন।

 

সিআর পরোয়ানা ভূক্ত আসামীর নাম ও ঠিকানা-

 

১। মোঃ আনোয়ার হোসেন, পিতা-মোফাজ্জল হোসেন, স্থায়ী : গ্রাম- চর খরিচা, উপজেলা/থানা- কোতোয়ালী মডেল, জেলা –ময়মনসিংহ

 

প্রত্যেক আসামীদের চালান মোতাবেক যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করা হয়।

শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাশ্রমে হাওরের ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক রক্ষার চেষ্টা

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৩ এম
শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাশ্রমে হাওরের ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক রক্ষার চেষ্টা

টানা বৃষ্টিতে পানির স্রোতে রাস্তার নিচের বালু ও মাটি সরে গিয়ে ধসের ঝুঁকিতে পড়েছে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া-কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষায় না থেকে এবার নিজেদের উদ্যোগেই সড়কটি রক্ষায় নেমেছেন স্থানীয় তিলিখাই রওজাতুল কুরআন আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাওরের বুক চিরে নির্মিত এই সড়কের দুই পাশের সিসি ব্লকের নিচ দিয়ে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করায় বালু ও মাটি সরে যাচ্ছে। এতে বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কয়েকটি সিসি ব্লক দেবে গেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার না করা হলে সড়কটির বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছাশ্রমে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে বালু ও মাটি ভরাট করছেন। পাশাপাশি পানির স্রোতের তীব্রতা কমাতে রাস্তার পাশে কচুরিপানা ফেলে অস্থায়ীভাবে ভাঙন রোধেরও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন ক্লাসের ফাঁকে শিক্ষার্থীরা এ কাজে অংশ নিচ্ছে।

তিলিখাই রওজাতুল কুরআন আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি আব্দুল মুমিন বলেন, “বৃষ্টির পানি সিসি ব্লকের নিচ দিয়ে প্রবেশ করে বালু ও মাটি সরিয়ে নিচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার না করা হলে হাওরের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা যতটুকু সম্ভব সড়কটি রক্ষার চেষ্টা করছি।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘাগড়া-কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের প্রধান ভরসা এই সড়ক। এটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষকসহ হাজারো মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে।

এ অবস্থায় সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

ময়মনসিংহে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত, নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান বিভাগীয় কমিশনারের

সুমন ভট্টাচার্য, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৯ পিএম
ময়মনসিংহে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত, নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান বিভাগীয় কমিশনারের

ময়মনসিংহে বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ বিভাগের আয়োজনে এবং ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার সকালে জেলা পরিষদের ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, আমরা নিজেদের সভ্য ও শিক্ষিত মনে করলেও নাগরিক আচরণের ক্ষেত্রে এখনও অনেক পিছিয়ে আছি। আচরণগত পরিবর্তন না এলে শুধু সভা-সেমিনার করে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। জলাবদ্ধতার জন্য শুধু প্রশাসনকে দায়ী করলে হবে না; নাগরিকদের অসচেতন কর্মকাণ্ডও এর জন্য সমানভাবে দায়ী। ফুটপাত দখল, যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা এবং নাগরিক দায়িত্ব পালনে অনীহা এসব সমস্যার সমাধান না হলে জলাবদ্ধতা নিরসন কঠিন হবে।

তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় হর্নের ব্যবহার অবশ্যই কমাতে হবে। তবে মানুষ যদি ফুটপাত ব্যবহার করে এবং সড়ক দখল ও ময়লামুক্ত রাখা যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই হর্নের ব্যবহারও কমে আসবে। পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তবে পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে এগোতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ পণ্যের প্রতি মানুষের নির্ভরশীলতা কমাতে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হলে তাপপ্রবাহ, বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বাড়বে। তাই বেশি বেশি গাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণ করতে হবে। সরকার ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ কর্মসূচি সফল করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মুরাদ আহমেদ ফারুখ।

স্বাগত বক্তব্যে পরিবেশ অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক শেখ মো. নাজমুল হুদা বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সব পর্যায়ে পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান।

আলোচনা সভা শেষে বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত বিতর্ক ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, পরিবেশবিদ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ময়মনসিংহে শীর্ষ মাদক কারবারিদের সঙ্গে মাদক কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:০০ পিএম
ময়মনসিংহে শীর্ষ মাদক কারবারিদের সঙ্গে মাদক কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগ

ময়মনসিংহ নগরীতে শীর্ষ মাদক কারবারিদের সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তার যোগসাজশ ও নিয়মিত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নগরীর প্রভাবশালী ইয়াবা ও হেরোইন কারবারিদের কাছ থেকে প্রশাসনের নামে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করা হয়। তবে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রামাণ্য নথি বা সরকারি তদন্তের তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।

অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক এসআই মাসুদ ও এক সদস্য সালমানের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সদর পরিদর্শক আমিনুন কবির বদলির পর তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। অভিযোগকারীদের দাবি, নগরীর শীর্ষ মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান অভিযান বা গ্রেপ্তার দেখা যায় না।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ময়মনসিংহ নগরীতে অন্তত ২০ জন প্রভাবশালী মাদক কারবারি দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ও হেরোইনের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও তারা প্রকাশ্যে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কারবারি নগরীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও গ্রামাঞ্চলে মাদক সরবরাহ করে থাকে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কেওয়াটখালী, পাটগুদাম, পুরোহিতপাড়া, সানকিপাড়া, রহমতপুর, আকুয়া, চুখাইতলা ও ওয়ারলেস গেটসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েকজন কথিত মাদক কারবারি দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ও হেরোইনের ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও তারা আইনের আওতার বাইরে থেকে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া নগরীতে প্রায় ৩০০ ছোট-বড় মাদক কারবারি সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, মাঝেমধ্যে খুচরা কারবারিদের আটক করা হলেও শীর্ষ পর্যায়ের কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে নগরীতে মাদক নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি আসছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু মাদক ব্যবসায়ী দম্ভের সঙ্গে দাবি করে যে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ থাকায় তারা নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এসআই মাসুদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।