সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩

দেশ-বিদেশে মির্জা আজমের সম্পদের পাহাড়

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: সোমবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৪, ৯:৪১ পিএম
দেশ-বিদেশে মির্জা আজমের সম্পদের পাহাড়

মির্জা আজম কেবল জামালপুরের প্রভাবশালী নেতা নয়, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ছিলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী। মির্জা আজমের বাবা ছিলেন মির্জা আবুল কাশেম। লোকমুখে শোনা যায়, তিনি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আজমের একনিষ্ঠ ভক্ত। তাই তিনি তার ছেলেদের নামের সাথে যুক্ত করে দিয়েছিলেন গোলাম। যেমন মির্জা গোলাম আজম, মির্জা গোলাম কবির, মির্জা গোলাম শিপন ও মির্জা গোলাম রিপন। অন্য ভাইদের নামের সাথে গোলাম শব্দ থাকলেও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের আলোচিত হওয়ার জন্য বাবা-মায়ের রাখা নাম থেকে এফিডেভিট করে গোলাম শব্দটি বাদ দিয়ে হন মির্জা আজম।

এরপর ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহেনার। আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতির পদও পান। শেখ হাসিনার পতনের আগ পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের অনেক জায়গাতেই মির্জা আজমের ছিল ব্যাপক প্রভাব। নিজ জেলা জামালপুরে ছিল একচ্ছত্র আধিপত্য। তার ইশারায় চলতো জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি। আর ক্ষমতার এই মহাদাপটে মির্জা আজম নামে-বেনামে গড়ে তুলেছেন বিপুল পরিমাণ সম্পদের পাহাড়। রাজধানী ঢাকা, জামালপুর এবং নির্বাচনী এলাকা

 

মেলান্দহ-মাদারগঞ্জসহ দেশে-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে তার অঢেল সম্পদ। মির্জা আজম জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) নির্বাচনী আসনে নানা কারচুপির মাধ্যমে ৮ বার সংসদ সদস্য হন। দায়িত্ব পান জাতীয় সংসদের হুইপ ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রীর। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে গড়েছেন হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, যা তার বৈধ আয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় ।দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গোয়েন্দা শাখার অনুসন্ধানে আজমের নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদের তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারসহ অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ লুটপাট করে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে শতশত কোটি টাকার সম্পদ গড়ার অভিযোগ রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে। সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম দেশের যেখানেই সুযোগ পেয়েছেন সেখানেই করেছেন সম্পদ। প্রতিষ্ঠা করেছেন স্ত্রী-সন্তান-ভাইদের নামে নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নিজ ও স্ত্রীর নামে করেছেন স্থাবর সম্পত্তি, ফ্ল্যাট, বাগানবাড়িসহ জমি ক্রয় ।

 

গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর গা-ঢাকা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এই নেতা। এ ব্যাপারে তার বক্তব্য জানার জন্য তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার মোবাইল নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।

 

মির্জা আজমের নামে-বেনামে যত সম্পদ : ঢাকার ধানমন্ডির ১৫ নম্বর রোডে (পুরনো ২৮ নম্বর) ক্ষমতা অপব্যবহার ও প্রভাব খাটিয়ে সরকারি প্লট দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন তিনি। তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করতেন একই রোডের ১২ নম্বর বাড়িতে।

১৯৯৬ সালে এমপি থাকাকালে ঢাকার নিকুঞ্জ-২ আবাসিক এলাকায় পাঁচ কাঠার প্লট বরাদ্দ নিয়েছিলেন তিনি। এরপর ২০০৮ সালে এমপি হওয়ার পর প্রভাব খাটিয়ে প্লট পরিবর্তন করে বারিধারায় ১০ নম্বর সড়কে নতুন প্লট বরাদ্দ নিয়ে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেন। শেখ হাসিনা সরকারের সাড়ে ১৫ বছর কনস্ট্রাকশন সেকশনে আলোচিত তমা কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের অন্যতম শেয়ারহোল্ডার হলেন আজম।

 

এ ছাড়া অপি হাউজিং কোম্পানির মালিকও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এই নেতা। জনৈক আবু সালেহ গেন্দার নামে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন খাতে তিনি করেছেন বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ।জামালপুর শহরে পৌরসভা ভবনের পাশে আছে স্ত্রী আলেয়া আজমের নামে বিলাসবহুল বাড়ি আলেয়া কটেজ। গত ৫ আগস্ট বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা তাতে ভাঙচুর চালায়। জামালপুর শহরে সুরপাড়া দেউরপাড় চন্দ্রায় ১০ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন আলেয়া গার্ডেন নামে একটি রিসোর্ট সেন্টার।

মেলান্দহ উপজেলার দুরমুট ইউনিয়নে তমা কংক্রিট লিমিটেডে তার রয়েছে বড় অঙ্কের শেয়ার। যে কারখানায় রেলের স্লিপার তৈরি করে এককভাবে হাতিয়ে নিয়েছে শত শত কোটি টাকা।

 

মেলান্দহর নয়ানগর ইউনিয়নের কান্দাপাড়ার বাসিন্দা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা (বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক) মিনহাজের নামে জামালপুর শহর এবং শহরের বাইরে বিভিন্ন স্থানে মির্জা আজম কিনেছেন প্রায় ৩০০ একর জমি ।

 

এ ছাড়া জামালপুর শহরের বকুলতলা মোড়ে ৮ শতাংশ জমির ওপর তার বিলাসবহুল বাড়ি, মেডিক্যাল রোডে তিনতলার দু’টি বাড়ি বজ্রাপুর এলাকায় মির্জা রাইস মিল, যেটি পরিচালনা করেন তার ছোট ভাই মির্জা গোলাম কবির।মাদারগঞ্জ পৌর শহরের বালিজুড়ি বাজারে দুই একর জমিতে রয়েছে নুরুন্নাহার মার্কেট ও বকুল মার্কেট নামে দু’টি মার্কেট, মাদারগঞ্জ উপজেলা চত্বরে এক একর জমিতে আরো দু’টি মার্কেট, উপজেলা সংলগ্ন ২ একর জমি, মেলান্দহ উপজেলার পৌর শহরের বকুলতলার পাশে ৩০ শতাংশ জমি (সাবেক কোয়েলী সিনেমা হল)। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে তার নামে রয়েছে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি ।

 

ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি ডেইরি কোম্পানির মালিকানা রয়েছে মির্জা আজমের। শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে রয়েছে স্ত্রী আলেয়া আজমের মালিকানাধীন নালিতাবাড়ী ফিশারিজ। কক্সবাজারে পাঁচতলা সিগাল হোটেলের অন্যতম শেয়ারার মির্জা আজম। ওই হোটেলের চেয়ারম্যান তার স্ত্রী আলেয়া আজম বলে জানা গেছে। এ ছাড়া নেত্রকোনায় শ্বশুর বাড়িতে স্ত্রীর নামে রয়েছে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদ ।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেয়া মির্জা আজমের হলফনামায় মোট সম্পদের হিসাব দেখানো হয়েছে ৬৫ কোটি ৭১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, যা বর্তমানে হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।তার আলাদিনের চেরাগের অন্যতম দ্বৈত্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা গ্রুপ। এই তমা গ্রুপের অংশীদার হিসেবে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সরকারের বড় বড় কাজ বাগিয়ে নিতেন তিনি। বিভিন্ন জায়গায় হাজার হাজার কোটি টাকার কাজ করেছে এই তমা কনস্ট্রাকশনের নামে ।

প্রচলিত আছে টাকা রাখার জায়গার অভাবে এক সময় সরকারের কাছে ব্যাংক প্রতিষ্ঠার আবেদনও করে ছিলেন মির্জা আজম।

এ ছাড়া মির্জা আজম সরকারি টাকায় সরকারি জমিতে জামালপুর মির্জা আজম অডিটোরিয়াম, মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামসহ নিজ নামে করেছেন অর্ধশতাধিক নানা প্রতিষ্ঠান।

 

মির্জা আজমের আর একটি পরিচয় হলো তিনি অবৈধ সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জিএমবির) প্রধান শায়খ আবদুর রহমানের শ্যালক। জামালপুরের রাজনীতিতে একটি স্লোগানও প্রচলিত আছে। শায়খ রহমান-বাংলা ভাই, মির্জা আজমের দুলাভাই।

বকশীগঞ্জে সংখ্যালঘু দম্পতির স্বর্ণের দোকান দখলের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৫ পিএম
বকশীগঞ্জে সংখ্যালঘু দম্পতির স্বর্ণের দোকান দখলের অভিযোগ

জামালপুরের বকশীগঞ্জ বাজারে এক সংখ্যালঘু দম্পতির মালিকানাধীন স্বর্ণের দোকান জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় শেখ ফরিদ মিয়া ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। দোকানের মালিকের অনুপস্থিতিতে কর্মচারীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে বের করে দিয়ে দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বকশীগঞ্জ বাজারে উৎপল মহন্ত ও তার স্ত্রী সুমি মহন্ত ২০১২ সালে সাফ-কাওলা দলিলের মাধ্যমে ২৬ পয়েন্ট জমি ক্রয় করে সেখানে ‘নিউ মাতৃ জুয়েলার্স’ নামে স্বর্ণের ব্যবসা শুরু করেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই দোকানটিই ছিল তাদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস।

দোকান মালিকের অভিযোগ, ২০১৩ সালে শেখ ফরিদ মিয়া ও তার সহযোগীরা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় দোকান ও জমি দখলের একাধিক চেষ্টা করা হয়। পরে তৎকালীন বকশীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ তালুকদার, তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয়, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে দেনদরবার হয় এবং লিখিতভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে দাবি তাদের।

তবে অভিযোগ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে শেখ ফরিদ মিয়া ফের পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। দাবি অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় গত ১০ আগস্ট দোকান মালিক উৎপল মহন্তের অনুপস্থিতিতে শেখ ফরিদ মিয়া ও তার সহযোগীরা দোকানে গিয়ে কর্মচারীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে বের করে দেন। পরে দোকানটিতে জোরপূর্বক তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

এখানেই শেষ নয়। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, গত ১৪ আগস্ট ভোরে দোকানের ‘নিউ মাতৃ জুয়েলার্স’ লেখা সাইনবোর্ড রং দিয়ে ঢেকে সেখানে ‘এই দোকান ভাড়া দেওয়া হইবে’ লিখে দেওয়া হয়। পাশাপাশি দোকান ভাড়া দেওয়ার জন্য একটি মোবাইল নম্বরও লিখে দেওয়া হয়।

দোকান মালিকের দাবি, দোকানঘরসহ সংশ্লিষ্ট ভূমি বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংক, বকশীগঞ্জ শাখায় বন্ধক রাখা রয়েছে। ফলে ব্যাংকে বন্ধকীকৃত সম্পত্তিতে এভাবে তালা ঝুলিয়ে দখল ও ভাড়া দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

এ ঘটনায় গত ১৪ আগস্ট জমির যৌথ মালিক ও উৎপল মহন্তের স্ত্রী সুমি মহন্ত বকশীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তবে অভিযোগটি এখনো মামলা বা এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

সুমি মহন্তের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

অভিযোগকারীদের দাবি, তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ায় পরিবারের আয়ের প্রধান উৎসও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে একদিকে সম্পত্তি ও ব্যবসা হারানোর শঙ্কা, অন্যদিকে নিরাপত্তাহীনতা দুই ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছেন তারা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শেখ ফরিদ মিয়া ও তার সহযোগীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। একইভাবে বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেনের বক্তব্যও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

‎ময়মনসিংহ বিআরটিএতে বেপরোয়া পরিদর্শক বাবর, ঘুষ বাণিজ্য সিন্ডিকেটের গুরুতর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫৫ এম
‎ময়মনসিংহ বিআরটিএতে বেপরোয়া পরিদর্শক বাবর, ঘুষ বাণিজ্য সিন্ডিকেটের গুরুতর অভিযোগ

‎ময়মনসিংহের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়টি এখন সাধারণ সেবা প্রত্যাশীদের কাছে যেন এক আতঙ্কের নাম। অভিযোগ উঠেছে, এই কার্যালয়কে ঘিরে গড়ে ওঠা শক্তিশালী ঘুষ বাণিজ্য ও দালাল সিন্ডিকেটের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছেন মোটরযান পরিদর্শক জহির উদ্দিন বাবর। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনকে অর্থের বিনিময়ে ফিটনেস সনদ প্রদান, সাধারণ গ্রাহকদের অকারণ হয়রানি এবং দালালনির্ভর সেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি সেবাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ঘুরপাক খাচ্ছে।

‎অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নিজস্ব ১০-১৫ সদস্যের একটি চিহ্নিত দালাল চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে এই সিন্ডিকেট। অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রের বাইরে থেকে কোনো সেবা পাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে সরকারি সেবাকেন্দ্রটি যেন সাধারণ মানুষের পরিবর্তে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

‎অনুসন্ধানে দেখা যায়, কোনো যানবাহন মালিক বা সাধারণ সেবা প্রার্থী নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি আবেদন করলে শুরু হয় নানামুখী হয়রানি। কখনও ছোটখাটো ত্রুটি, আবার কখনও কাল্পনিক অজুহাত দেখিয়ে আবেদনপত্র ফেরত দেওয়া হয়। অথচ অভিযোগ রয়েছে, একই ব্যক্তি যখন জহির উদ্দিন বাবরের ঘনিষ্ঠ দালালদের মাধ্যমে নির্ধারিত অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করেন, তখন কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই অতি দ্রুত ফিটনেস সনদসহ প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়।

‎ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, দালাল ছাড়া বিআরটিএতে কোনো ফাইলই নড়ে না।

‎সরকারি নথিতে বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ

‎অনুসন্ধানে আরও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, জহির উদ্দিন বাবরের কার্যালয়ের ভেতরে সরকারি নথিপত্র ও সংবেদনশীল ফাইলপত্র নিয়মিতভাবে ঘাঁটাঘাঁটি করছে বহিরাগত দালাল চক্রের সদস্যরা। যেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত, সেখানে পরিদর্শকের টেবিল, ড্রয়ার এবং গুরুত্বপূর্ণ ফাইল পর্যন্ত ব্যবহার করছে বহিরাগতরা।

‎সরকারি দপ্তরের গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার বিষয়টি এখানে চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।‎

‎যোগদানের পর থেকেই কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

‎স্থানীয় সূত্রের দাবি, ময়মনসিংহ বিআরটিএ কার্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে জহির উদ্দিন বাবরের বিরুদ্ধে। পরিবহন মালিক ও সেবা প্রার্থীদের একটি বড় অংশ দাবি করছেন, ঘুষ ছাড়া এখানে সেবা পাওয়া এখন প্রায় অসম্ভব।

‎অভিযোগের পরও নেই তদন্ত, নেই দৃশ্যমান ব্যবস্থা

‎স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এর আগেও জহির উদ্দিন বাবরের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ঘুষ বাণিজ্যের নানা তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান বিভাগীয় বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি অভিযোগগুলো যাচাইয়ে কার্যকর তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগও দেখা যায়নি।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরটিএর এক কর্মকর্তা বলেন, কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও তাঁর সিন্ডিকেট ধরে নিয়েছে, সংবাদ প্রকাশ হলেও তাদের কিছুই হবে না। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতিই তাদের আরও বেপরোয়া করে তুলেছে।

‎এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যম এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে মোটরযান পরিদর্শক জহির উদ্দিন বাবর তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

‎তিনি বলেন, আমি সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করছি। দালাল চক্রের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং সরকারি ফাইল বহিরাগতদের স্পর্শ করার সুযোগও নেই।

‎উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি

‎বিআরটিএর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সেবা প্রতিষ্ঠানে এমন অভিযোগ দেশের সড়ক নিরাপত্তা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

‎ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও পরিবহন মালিকদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তে দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

দুই-তিন বছরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে: ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪২ পিএম
দুই-তিন বছরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে: ববি হাজ্জাজ

আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান ও গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

রোববার (১৬ আগস্ট) ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

‘প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রাথমিক শিক্ষার পরিবর্তনে যে স্বপ্ন ও দায়িত্ব দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে সরকার সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পরিকল্পনা, পাইলটিং ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, নতুন শিক্ষক নীতিমালা প্রণয়ন, মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা, সাংস্কৃতিক শিক্ষা, ক্রীড়া শিক্ষা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন কোনো শিশু যেন শ্রেণিকক্ষের বাইরে না থাকে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রতিটি প্রাথমিক শিক্ষার্থীর জন্য পুষ্টিকর মিড-ডে মিল, বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগসহ বিভিন্ন সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ নয়; প্রতিটি বিদ্যালয়কে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা অর্জনের উপযোগী আধুনিক, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে রূপান্তর করা। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে প্রতিটি এলাকার ‘উজ্জ্বল নক্ষত্র’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী ছয় মাসের লক্ষ্যমাত্রাগুলোও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে করা অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সক্ষমতা নিশ্চিত করেই এসব পরিবর্তন বিদ্যালয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে।

আগামী কারিকুলামে ইংরেজি লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে স্পিকিং টেস্ট চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের তথ্য ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা কার্যক্রম আরও আধুনিক করতে একটি সমন্বিত আইটি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হচ্ছে। এর আওতায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য একটি করে ইউনিক আইডি থাকবে।

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নে পৃথক ওয়াশ ব্লকের পরিবর্তে স্কুল ভবনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ওয়াশ ব্লক স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্কুল ফিডিং কার্যক্রম নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ কার্যক্রমে যেসব ভুল-ত্রুটি হচ্ছে, তার তুলনায় এ নিয়ে অপপ্রচারই বেশি হচ্ছে। তবে সরকার প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানে কাজ করছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণত মসজিদে এ ধরনের ঘটনা দেখা যায় না। এর অন্যতম কারণ মানুষ মসজিদকে নিজের প্রতিষ্ঠান মনে করে। কিন্তু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অনেকেই নিজের প্রতিষ্ঠান হিসেবে মনে করেন না। অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সবার নিজের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদ এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনসের পরিচালক।

এ ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলার পিটিআই সুপার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।