শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

দেশ-বিদেশে মির্জা আজমের সম্পদের পাহাড়

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: সোমবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৪, ৯:৪১ পিএম
দেশ-বিদেশে মির্জা আজমের সম্পদের পাহাড়

মির্জা আজম কেবল জামালপুরের প্রভাবশালী নেতা নয়, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ছিলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী। মির্জা আজমের বাবা ছিলেন মির্জা আবুল কাশেম। লোকমুখে শোনা যায়, তিনি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আজমের একনিষ্ঠ ভক্ত। তাই তিনি তার ছেলেদের নামের সাথে যুক্ত করে দিয়েছিলেন গোলাম। যেমন মির্জা গোলাম আজম, মির্জা গোলাম কবির, মির্জা গোলাম শিপন ও মির্জা গোলাম রিপন। অন্য ভাইদের নামের সাথে গোলাম শব্দ থাকলেও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের আলোচিত হওয়ার জন্য বাবা-মায়ের রাখা নাম থেকে এফিডেভিট করে গোলাম শব্দটি বাদ দিয়ে হন মির্জা আজম।

এরপর ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহেনার। আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতির পদও পান। শেখ হাসিনার পতনের আগ পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের অনেক জায়গাতেই মির্জা আজমের ছিল ব্যাপক প্রভাব। নিজ জেলা জামালপুরে ছিল একচ্ছত্র আধিপত্য। তার ইশারায় চলতো জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি। আর ক্ষমতার এই মহাদাপটে মির্জা আজম নামে-বেনামে গড়ে তুলেছেন বিপুল পরিমাণ সম্পদের পাহাড়। রাজধানী ঢাকা, জামালপুর এবং নির্বাচনী এলাকা

 

মেলান্দহ-মাদারগঞ্জসহ দেশে-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে তার অঢেল সম্পদ। মির্জা আজম জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) নির্বাচনী আসনে নানা কারচুপির মাধ্যমে ৮ বার সংসদ সদস্য হন। দায়িত্ব পান জাতীয় সংসদের হুইপ ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রীর। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে গড়েছেন হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, যা তার বৈধ আয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় ।দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গোয়েন্দা শাখার অনুসন্ধানে আজমের নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদের তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারসহ অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ লুটপাট করে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে শতশত কোটি টাকার সম্পদ গড়ার অভিযোগ রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে। সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম দেশের যেখানেই সুযোগ পেয়েছেন সেখানেই করেছেন সম্পদ। প্রতিষ্ঠা করেছেন স্ত্রী-সন্তান-ভাইদের নামে নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নিজ ও স্ত্রীর নামে করেছেন স্থাবর সম্পত্তি, ফ্ল্যাট, বাগানবাড়িসহ জমি ক্রয় ।

 

গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর গা-ঢাকা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এই নেতা। এ ব্যাপারে তার বক্তব্য জানার জন্য তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার মোবাইল নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।

 

মির্জা আজমের নামে-বেনামে যত সম্পদ : ঢাকার ধানমন্ডির ১৫ নম্বর রোডে (পুরনো ২৮ নম্বর) ক্ষমতা অপব্যবহার ও প্রভাব খাটিয়ে সরকারি প্লট দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন তিনি। তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করতেন একই রোডের ১২ নম্বর বাড়িতে।

১৯৯৬ সালে এমপি থাকাকালে ঢাকার নিকুঞ্জ-২ আবাসিক এলাকায় পাঁচ কাঠার প্লট বরাদ্দ নিয়েছিলেন তিনি। এরপর ২০০৮ সালে এমপি হওয়ার পর প্রভাব খাটিয়ে প্লট পরিবর্তন করে বারিধারায় ১০ নম্বর সড়কে নতুন প্লট বরাদ্দ নিয়ে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেন। শেখ হাসিনা সরকারের সাড়ে ১৫ বছর কনস্ট্রাকশন সেকশনে আলোচিত তমা কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের অন্যতম শেয়ারহোল্ডার হলেন আজম।

 

এ ছাড়া অপি হাউজিং কোম্পানির মালিকও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এই নেতা। জনৈক আবু সালেহ গেন্দার নামে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন খাতে তিনি করেছেন বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ।জামালপুর শহরে পৌরসভা ভবনের পাশে আছে স্ত্রী আলেয়া আজমের নামে বিলাসবহুল বাড়ি আলেয়া কটেজ। গত ৫ আগস্ট বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা তাতে ভাঙচুর চালায়। জামালপুর শহরে সুরপাড়া দেউরপাড় চন্দ্রায় ১০ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন আলেয়া গার্ডেন নামে একটি রিসোর্ট সেন্টার।

মেলান্দহ উপজেলার দুরমুট ইউনিয়নে তমা কংক্রিট লিমিটেডে তার রয়েছে বড় অঙ্কের শেয়ার। যে কারখানায় রেলের স্লিপার তৈরি করে এককভাবে হাতিয়ে নিয়েছে শত শত কোটি টাকা।

 

মেলান্দহর নয়ানগর ইউনিয়নের কান্দাপাড়ার বাসিন্দা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা (বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক) মিনহাজের নামে জামালপুর শহর এবং শহরের বাইরে বিভিন্ন স্থানে মির্জা আজম কিনেছেন প্রায় ৩০০ একর জমি ।

 

এ ছাড়া জামালপুর শহরের বকুলতলা মোড়ে ৮ শতাংশ জমির ওপর তার বিলাসবহুল বাড়ি, মেডিক্যাল রোডে তিনতলার দু’টি বাড়ি বজ্রাপুর এলাকায় মির্জা রাইস মিল, যেটি পরিচালনা করেন তার ছোট ভাই মির্জা গোলাম কবির।মাদারগঞ্জ পৌর শহরের বালিজুড়ি বাজারে দুই একর জমিতে রয়েছে নুরুন্নাহার মার্কেট ও বকুল মার্কেট নামে দু’টি মার্কেট, মাদারগঞ্জ উপজেলা চত্বরে এক একর জমিতে আরো দু’টি মার্কেট, উপজেলা সংলগ্ন ২ একর জমি, মেলান্দহ উপজেলার পৌর শহরের বকুলতলার পাশে ৩০ শতাংশ জমি (সাবেক কোয়েলী সিনেমা হল)। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে তার নামে রয়েছে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি ।

 

ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি ডেইরি কোম্পানির মালিকানা রয়েছে মির্জা আজমের। শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে রয়েছে স্ত্রী আলেয়া আজমের মালিকানাধীন নালিতাবাড়ী ফিশারিজ। কক্সবাজারে পাঁচতলা সিগাল হোটেলের অন্যতম শেয়ারার মির্জা আজম। ওই হোটেলের চেয়ারম্যান তার স্ত্রী আলেয়া আজম বলে জানা গেছে। এ ছাড়া নেত্রকোনায় শ্বশুর বাড়িতে স্ত্রীর নামে রয়েছে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদ ।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেয়া মির্জা আজমের হলফনামায় মোট সম্পদের হিসাব দেখানো হয়েছে ৬৫ কোটি ৭১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, যা বর্তমানে হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।তার আলাদিনের চেরাগের অন্যতম দ্বৈত্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা গ্রুপ। এই তমা গ্রুপের অংশীদার হিসেবে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সরকারের বড় বড় কাজ বাগিয়ে নিতেন তিনি। বিভিন্ন জায়গায় হাজার হাজার কোটি টাকার কাজ করেছে এই তমা কনস্ট্রাকশনের নামে ।

প্রচলিত আছে টাকা রাখার জায়গার অভাবে এক সময় সরকারের কাছে ব্যাংক প্রতিষ্ঠার আবেদনও করে ছিলেন মির্জা আজম।

এ ছাড়া মির্জা আজম সরকারি টাকায় সরকারি জমিতে জামালপুর মির্জা আজম অডিটোরিয়াম, মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামসহ নিজ নামে করেছেন অর্ধশতাধিক নানা প্রতিষ্ঠান।

 

মির্জা আজমের আর একটি পরিচয় হলো তিনি অবৈধ সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জিএমবির) প্রধান শায়খ আবদুর রহমানের শ্যালক। জামালপুরের রাজনীতিতে একটি স্লোগানও প্রচলিত আছে। শায়খ রহমান-বাংলা ভাই, মির্জা আজমের দুলাভাই।

ময়মনসিংহে দম্পতির সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ: গালিগালাজ থেকে হত্যার হুমকি

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:১৩ পিএম
ময়মনসিংহে দম্পতির সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ: গালিগালাজ থেকে হত্যার হুমকি

ময়মনসিংহ শহরের ৮নং ওয়ার্ডের রমেশ সেন রোড, ঠাকুরবাড়ী এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত শফিকুল ও তার স্ত্রী শিল্পীর দীর্ঘদিনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। তাদের লাগাতার ভয়ভীতি, গালিগালাজ, হামলা ও হুমকির ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে ঘটেছে বড় ধরনের হামলার ঘটনা। লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী মোছাঃ শিল্পী আক্তার (৩০) উল্লেখ করেন, বিবাদী শফিকুল (৩০) ও তার স্ত্রী শিল্পী (২৫) পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রমেশ সেন রোডের ঠাকুরবাড়ী এলাকায় এসে তাকে অকারণে গালিগালাজ করতে থাকে। গালিগালাজ বন্ধ করতে বললে ১নং বিবাদী শফিকুল তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে ধাওয়া করে।

তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে তিনি প্রাণে রক্ষা পান। তবে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো—ঘটনার পর বিবাদীরা পুনরায় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং হুমকি দেয় যে, বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে বা থানায় অভিযোগ করলে তারা সুযোগ পেলে তাকে হত্যা করে গুম করবে এবং উল্টো তার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেবে।

অভিযোগকারী শিল্পী আক্তার জানান, বিবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে তার সাথে ঝগড়া, মারধর, হুমকি এবং বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতি করার চেষ্টা করে আসছে। বর্তমানে তিনি গুরুতর সামাজিক ও শারীরিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এলাকার সাধারণ মানুষও এই সন্ত্রাসী আচরণের কারণে আতঙ্কে রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনাটির প্রত্যক্ষদর্শী স্বাক্ষী রয়েছেন এবং তদন্ত করলে বিষয়টির সত্যতা প্রমাণ হবে।

এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

ঢাকা-৮ এর স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ: ঢামেকে আশঙ্কাজনক

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৬:০৬ পিএম
ঢাকা-৮ এর স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ: ঢামেকে আশঙ্কাজনক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, হাদির মাথার ভেতরে গুলি রয়ে গেছে। তিনি বলেন, “হাদিকে যখন আনা হয়, তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। সিপিআর দেওয়ার পর এখন সামান্য রক্তচাপ ফিরে এসেছে। কানের আশপাশে গুলি লেগেছে এবং মাথার ভেতর গুলি রয়েছে।”

এর আগে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর বিজয়নগরের পানির ট্যাংক এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুজন দুর্বৃত্ত তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

হাদিকে উদ্ধারকারী মিসবাহ জানান, জুমার নামাজ পড়ে রিকশায় মতিঝিল-বিজয়নগর দিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল আরোহীরা হঠাৎ গুলি চালায়। গুলি হাদির বাঁ কানের নিচে লাগে। পরে রিকশায় করেই তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “ঘটনার বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি—তিনি রিকশায় ছিলেন, তখনই মোটরসাইকেল থেকে গুলি করা হয়।”

উল্লেখ্য, এর আগেও শরিফ ওসমান হাদি হত্যার হুমকি পেয়েছিলেন বলে জানান। গত নভেম্বর মাসে দেশি-বিদেশি অন্তত ৩০টি নম্বর থেকে তাকে হত্যা, বাড়িতে আগুন ও তার পরিবারের নারী সদস্যদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ১৪ নভেম্বর এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব তথ্য প্রকাশ করেন।

ময়মনসিংহে সন্ত্রাসী হামলায় আহত সাংবাদিকের পায়ের অস্ত্রোপচার

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:০০ এম
ময়মনসিংহে সন্ত্রাসী হামলায় আহত সাংবাদিকের পায়ের অস্ত্রোপচার

সংবাদ প্রকাশের জেরে আ’লীগের সন্ত্রাসী সিদ্দিকুর রহমান শাহীনের বর্বরোচিত হামলার ৪ বছর পর দৈনিক নতুন সময় পত্রিকার ময়মনসিংহ ব্যুরো চীফ মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বলের ডান পায়ের অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর ) ইউনিভার্সেল হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক সার্জন অর্থোপেডিক্স ও ট্রমাটোলজী বিভাগের ডাঃ মোহাম্মদ উল্লাহ শিমুল।

ডাঃ শিমুল জানিয়েছেন সাংবাদিক মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বলের ডান পায়ের অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পূর্ন হয়েছে। তাকে অন্তত ১মাস ব্যান্ডেস ব্যবহার করে বিশ্রামে থাকতে হবে।

লেতু মন্ডল উচ্চ বিদ্যালয়ের বেদখলে থাকা এক একর ভুমি সহ অনিয়ম ও দুর্নীতি বিষয়ে “নিজের চরকায় তেল দাও” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে বিদ্যালয়টির তৎকালীন স্ব-ঘোষিত রেক্টর ও চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক মাস্টার এবং তার ছেলে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক মতিউর রহমান ফয়সালের লালিত ও পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মোহিত উর রহমান শান্ত’র রাজনৈতিক অনুসারী চরাঞ্চলের কুখ্যাত সন্ত্রাসী মোঃ সিদ্দিকুর রহমান শাহীনের নেতৃত্বে হামলা করে সাংবাদিক মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল এর হাত-পা গুড়িয়ে দেয়। সন্ত্রাসীদের নির্মম আঘাতে মুমূর্ষু রক্তাক্ত আহত সাংবাদিক মাইন উদ্দিন উজ্জ্বলকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর অস্ত্রোপচার করে তার ডান পায়ে রড সংযোজন করা হয়। দীর্ঘ চার বছর পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকে পরামর্শে পুনরায় অস্ত্রোপচার করে পা থেকে রড অপসারণ হয়।

সাংবাদিক মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল জানান, লেতু মন্ডল উচ্চ বিদ্যালয়ের অনিয়ম দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় আমাকে রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক মাস্টার ও তার ছেলের নির্দেশে শাহীনের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলাসহ বিভিন্ন ভাবে হয়রানি ও নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। তবে শত ব্যথা দুঃখ কষ্টের মাঝেও আমি শান্তি খোঁজে পাচ্ছি যে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে দেশের পটপরিবর্তনের পর এডহক কমিটির সভাপতি এডিসি গোলাম মাসুম প্রধানের তদারকি ও স্থানীয়দের সহায়তায় বিদ্যালয়ের এক একর জমি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এটাই আমার শান্তি ও প্রাপ্তি এবং প্রকাশিত সংবাদের সফলতা। আমি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ন্যায়-নীতির সাথে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে ভুমিকা রাখতে পারি তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।

এসময় সাংবাদিক মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল আক্ষেপ প্রকাশ করে আরও বলেন, সন্ত্রাসী সিদ্দিকুর রহমান শাহীন ৫ আগস্ট দেশের পটপরিবর্তনের পরেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে (১১ সেপ্টেম্বর) রাজগঞ্জ সাহেব কাচারি বাজারে ‘বন্ধু মহল’ নামে একটি ক্লাব উদ্বোধন করেন। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক মতিউর রহমান ফয়সাল।

দুঃখ প্রকাশ করে আরও বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় কতিপয় কিছু স্বার্থান্বেষী অর্থলোভী বিএনপি নেতা এই আওয়ামী দোষর ও সন্ত্রাসী শাহিনকে বিএনপিতে পুনর্বাসনের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুনের আত্মীয়তায় এজাহার নামীয় আসামি হয়েও বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

তাছাড়া কোতোয়ালী মডেল থানার সদ্য বিদায়ী অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের মধ্যস্থতায় নালিশি বৈঠকে সিদ্দিকুর রহমান শাহীন আওয়ামী সন্ত্রাসী প্রমান হওয়ার পর ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বস্ত করলেও বিদায় (ওসি) পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নেননি।

কতিপয় বিএনপি নেতা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুনের ভূমিকায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক সমাজসহ ফ্যাসিস্ট বিরোধী সমাজের সুশীল সমাজ।

উল্লেখ, বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সিদ্দিকুর রহমান শাহীনের নামে দায়েরকৃত আদালতে বিচারাধীন মামলা প্রত্যাহারের জন্য সাংবাদিকের এক একর জমির উপর ফিসারীর যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে ৪ বছরে অন্তত ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করেছে এবং কতিপয় এক বিএনপি নেতার মদদে অদ্যবধি পর্যন্ত ফিসারীর মাছ চাষ বন্ধ রয়েছে। কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং- ৯৮(৩)২০২১ইং।