শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ময়মনসিংহে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ৭, একই পরিবারের ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৪ পিএম
ময়মনসিংহে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ৭, একই পরিবারের ৪

ময়মনসিংহের আকুয়া বাইপাস সড়কে রাজীব পরিবহনের বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে বাইপাস সড়কের পূর্ব গন্দ্রপা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা এলাকার দড়ি হামিদপুর গ্রামের রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫০), তাঁর মা রাশিদা বেগম (৭০), মেয়ে মর্জিনা (২৫) ও মর্জিনার ছেলে মিনাল (৫)। তাঁরা গাজীপুরে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জামালপুর থেকে ঢাকাগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাস পূর্ব গন্দ্রপা এলাকায় পৌঁছালে মুক্তাগাছাগামী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ চালান। পরে নিহতদের মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উভয় যানবাহনের অতিরিক্ত গতির কারণে কেউ কাউকে সাইড দিতে না পারায় মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন।

এদিকে দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে বাস চলাচল বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

দুর্ঘটনার কারণে আকুয়া বাইপাস সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

ময়মনসিংহে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

মোঃ সাজ্জাদ মিয়া।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
ময়মনসিংহে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহ নগরীতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ আন্তঃজেলা ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় আসামিদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের দিকে নগরীর গোহাইলকান্দি এলাকায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) কার্যালয়ের পেছনের একটি নির্জন স্থান থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় একদল সশস্ত্র ব্যক্তি ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছে বলে জানতে পারে পুলিশ। পরে কোতোয়ালী মডেল থানার ২ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক সেলিম মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করেন এবং পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ চারদিক থেকে ঘেরাও করে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—আজমতপুর এলাকার মো. সজিব মিয়া (২০), সানকিপাড়া এলাকার মো. আকাশ (২২), গোহাইলকান্দি এলাকার মো. ইমন আহম্মেদ আবির (৩০), গোহাইলকান্দি দরগা এলাকার মো. শাহেদ (২১), চরগোবিন্দপুরের মো. মোফাজ্জল (৩৫) এবং তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকার মো. জাহাঙ্গীর (৪০)।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার সজিবের কাছ থেকে একটি সুইচ গিয়ার চাকু, আকাশের কাছ থেকে একটি ধারালো দা, ইমন আহম্মেদ আবিরের কাছ থেকে একটি চাকু এবং শাহেদের কাছ থেকে একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। মোফাজ্জল ও জাহাঙ্গীরকে তাঁদের সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়।

কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পেশাদার ছিনতাই ও ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। তাঁরা নগরীর বিভিন্ন নির্জন এলাকায় পথচারীদের জিম্মি করে ছিনতাই ও ডাকাতি করে আসছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ও ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় ২ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক সেলিম মিয়ার নেতৃত্বে এসআই কাইয়ূম, এএসআই আজহারুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

এ ঘটনায় এসআই কাইয়ূম বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৯ ও ৪০২ ধারায় মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এনএসআই প্রতিবেদনে আটকে নিয়োগ, অনশনের পর ছাড় ২০ জনের, ঝুলে রইল ২ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩২ পিএম
এনএসআই প্রতিবেদনে আটকে নিয়োগ, অনশনের পর ছাড় ২০ জনের, ঝুলে রইল ২ জন

এনএসআইয়ের নেতিবাচক প্রতিবেদনের কারণে নিয়োগ আটকে থাকা ময়মনসিংহের চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ২২ জন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক প্রার্থীর মধ্যে ২০ জন অবশেষে নিয়োগপত্র পেয়েছেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিনভর অনশনের পর মধ্যরাতে তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। তবে বাকি দুজনের নিয়োগের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ২০ জনের নিয়োগপত্র জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার পর নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে ওই ২০ প্রার্থীর মধ্যে।

এর আগে এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে নেতিবাচক তথ্য থাকার কথা জানিয়ে ময়মনসিংহ জেলার চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ২২ জন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক প্রার্থীর নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়। নিয়োগপত্র না পেয়ে বুধবার বেলা সোয়া ১১টা থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অনশন শুরু করেন তারা।

অনশনরত প্রার্থীদের অভিযোগ, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছিল না। এমনকি এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে কী ধরনের নেতিবাচক তথ্য রয়েছে, সে বিষয়েও তাদের জানানো হয়নি।

নিয়োগপত্র পাওয়ার পর ফুলপুরের প্রার্থী কাজী অনিক বলেন, ‘মধ্যরাতে ওয়েবসাইটে নিয়োগপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। নিয়োগপত্র পেয়ে আমরা খুশি। আজকেই যোগদান করব।’

তবে নিয়োগপত্র পাননি গফরগাঁওয়ের প্রার্থী জাহিদ হাসান। তিনি বলেন, ‘দিনভর জানার চেষ্টা করেছি, কেন আমাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। আমি রাজনৈতিক কোনো পদ-পদবিতে ছিলাম না। তবুও নিয়োগপত্র কেন পেলাম না, তা জানি না।’

ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে বুধবার রাতে ২০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। বাকি দুজনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। নিয়োগপত্র পাওয়া ২০ জন বৃহস্পতিবারই যোগদান করবেন।

পরানগঞ্জে গাঁজা গাছসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

সোহেল মিয়া।। প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ পিএম
পরানগঞ্জে গাঁজা গাছসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের বীর বওলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে গাঁজা গাছসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কোতোয়ালী মডেল থানার এএসআই স্বপন আকন্দের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বীর বওলা গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় গাঁজা গাছসহ ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বীর বওলা গ্রামে গাঁজা চাষ ও বিক্রির খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে গাঁজা গাছ উদ্ধারসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।