সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

পেন্টাগ্রাফের নামে টাকা—কার নির্দেশে, কোথায় যাচ্ছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫২ পিএম
পেন্টাগ্রাফের নামে টাকা—কার নির্দেশে, কোথায় যাচ্ছে?

সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে ‘পেন্টাগ্রাফ’ করার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আসাদুজ্জামান স্বপনের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের বিষয়ে সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও জবাব দাবি উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে প্রশ্ন উঠেছে, আসাদুজ্জামান স্বপন বর্তমানে কোন পদে কর্মরত এবং তাঁর সরকারি দায়িত্ব কী? সরকারি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘পেন্টাগ্রাফ’ করার জন্য সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলে, তা কোন বিধি, কোন খাতে এবং নির্ধারিত কত টাকা তারও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

জনগণের প্রশ্ন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা যেখানে রাষ্ট্রের রাজস্ব ও জনগণের করের অর্থ থেকে দেওয়া হয়, সেখানে সরকারি সেবা গ্রহণের সময় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার প্রয়োজন কেন হবে?

আর যদি পেন্টাগ্রাফ করার কাজে বাইরের লোক বা বেসরকারি ব্যক্তির সহায়তা নেওয়া বাধ্যতামূলক হয়ে থাকে, তাহলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার বিষয়টিও সামনে আসে। সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োজিত ব্যক্তিরা বেতন-ভাতা গ্রহণের পরও কেন সেবা গ্রহীতাদের অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে বাইরের লোকের মাধ্যমে কাজ করাতে হবে এ প্রশ্নেরও উত্তর চাওয়া হয়েছে।

সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে এ ধরনের কোনো অর্থ নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রজ্ঞাপন, ফি নির্ধারণের আদেশ, অনুমোদিত ফি-এর তালিকা এবং অর্থ গ্রহণের বৈধ রসিদ জনগণের সামনে প্রকাশ করার দাবি উঠেছে।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, যদি পেন্টাগ্রাফ করার নামে টাকা নেওয়ার কোনো বৈধ সরকারি অনুমোদন না থাকে, তাহলে কার নির্দেশে অর্থ নেওয়া হচ্ছে এবং সেই অর্থ কোথায় যাচ্ছে তারও স্বচ্ছ হিসাব দিতে হবে।

তবে সাধারণ মানুষ কারও ব্যক্তিগত আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইছে না। তাদের মূল প্রশ্ন হলো সরকারি সেবার নামে কেন অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে এবং এ অর্থ নেওয়ার আইনগত ও প্রশাসনিক বৈধতা কোথায়?

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তাঁদের মতে, অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উচিত প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণ উপস্থাপন করে বিষয়টি পরিষ্কার করা।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আরও বলেন, সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা অনুমোদনহীন অর্থ আদায়ের সুযোগ থাকা উচিত নয়। সরকারি সেবার নামে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত নিরসন এবং জনগণের সামনে বিষয়টি স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।

মুক্তাগাছায় সুদের টাকা দিতে না পারায় ভ্যান চালক বিল্লালকে মারধর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩২ পিএম
মুক্তাগাছায় সুদের টাকা দিতে না পারায় ভ্যান চালক বিল্লালকে মারধর

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার আধপাখিয়া গ্রামের মেম্বারের ভাই মোফাজ্জল হোসেন সুদে টাকা লাগিয়ে কম পক্ষে ২০ পরিবারকে পথে বসিয়ে দিয়েছেন। এদের প্রায় সকলেই হয়েছেন টাকা কিংবা সুদের টাকা দিতে নাপারায় নির্যাতনের শিকার।গত ২৯ অক্টোবর সুদের টাকার জন্য শারিরিক নির্যাতনের শিকার হন বিল্লাল মিয়া।এই হতভাগ্য থানায় অভিযোগ করতে পারেনি।পরে যদি এর চেয়ে বড় কিছু করে ফেলে। মোফাজ্জল এতোটাই এলাকায় আতংকের নাম।

আধপাখিয়ার ভ্যান চালক বিল্লাল একই এলাকার মোফাজ্জলের কাছ থেকে বিপদে পড়ে মাসিক বিশ টাকা হাড় সুদে ৫ হাজার টাকা নিয়েছিল।গত প্রায় ২ বছরে বিল্লাল প্রায় বিশ হাজার টাকা সুদ দিয়েছে। সম্প্রতি সুদ দিতে দেরী হওয়ায় মোফাজ্জল চাপ দেয় সুদে আসলে তার টাকা দিয়ে দিতে হবে।টাকা দিতে দেরী হওয়ায় ২৯ অক্টোবর বিল্লালকে স্থানীয় সুমনের দোকানের সামনে বেদরক মারধর করে।নির্যাতন দেখে সহ্য না হওয়ায় দোকানদার সুমন মোফাজ্জলের টাকা দিয়ে দেন।এ সময় তাকে সুদসহ ৬ হাজার টাকাই দিতে হয়।এমন অভিযোগ স্থানীয় এক নারীও করেছেন।

এলাকার অনেকের সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হয়েছে, তারা জানিয়েছেন মোফাজ্জল চড়া সুদে টাকা লাগান। টাকা আদায় করতে গিয়ে অনেকের সাথে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। তার টাকার সুদ দিতে দিতে অনেকে নিঃশ্ব হয়েছেন।অনেকের ঢাকা শহরে গিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। এলাকার মানুষের সাথে যেন তার পায়কারি হাড়ে বিরোধ। কোন ব্যাক্তি এ সকল ঘটনার প্রতিবাদ করলেই সেও পড়ে তাদের রোষানলে।

মোফাজ্জল জানান, এলাকায় তার সাথে কারো বিরোধ নেই। পাওনা টাকা চাইলে বিরোধের সৃষ্টি হয়।তিনি তার ভাই মেম্বার এর নাম উল্লেখ করে বলেন আমি খারাপ হলে কি ভাইকে ভোট দিতো? জমি সংক্রান্ত বিরোধ আছে তাদের সাথে অনেকের। সে গুলোও মানুষ সমালোচনা করে।

ময়মনসিংহে এসআরবি-১৪-এর অভিযান, ১০৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:২৪ পিএম
ময়মনসিংহে এসআরবি-১৪-এর অভিযান, ১০৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে অভিযান চালিয়ে ১০৩ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১৪)। এ ঘটনায় মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদক কেনাবেচায় ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

এসআরবি-১৪ সূত্রে জানা যায়, গত ১ নভেম্বর দুপুর ২টা ২৫ মিনিটের দিকে গৌরীপুর উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নের পোদ্দারপাড়া বণিক বাড়ির একটি টিনশেড ঘরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সিপিএসসি, এসআরবি-১৪, ময়মনসিংহের একটি আভিযানিক দল এ অভিযান চালায়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দুলাল চন্দ্র বণিক (৫৫) ও মো. হাতিম মিয়া (৪২)। তাঁদের দুজনেরই বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্যামগঞ্জ বাজার এলাকায় অবস্থানকালে আভিযানিক দল জানতে পারে, পোদ্দারপাড়া বণিক বাড়ির দুলাল চন্দ্র বণিকের ঘরে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য কেনাবেচা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

পরে উপস্থিত লোকজন ও সাক্ষীদের সামনে তল্লাশি চালিয়ে ছয়টি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে ১০৩ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক কেনাবেচায় ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার দুজন পরস্পর যোগসাজশে বিক্রির উদ্দেশ্যে গাঁজাগুলো নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসআরবি-১৪ সূত্র আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এজাহার দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধার করা গাঁজা ও জব্দ করা আলামতসহ তাঁদের গৌরীপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

মিঠামইনে ঘাগড়া আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্যান্টিন উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

মোক্তার হোসেন গোলাপ, হাওরাঞ্চল।। প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৫ পিএম
মিঠামইনে ঘাগড়া আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্যান্টিন উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে নতুন ক্যান্টিনের উদ্বোধন এবং সবুজ ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফিতা কেটে ক্যান্টিনের উদ্বোধন করেন মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ইউএনও মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই বিদ্যালয়ে ক্যান্টিন চালু করা হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী না খেয়ে ক্ষুধার্ত অবস্থায় সারাদিন ক্লাস করে। আবার বিদ্যালয় থেকে বাজারে যেতে সময় লাগে। এসব অসুবিধা দূর করতেই বিদ্যালয়ের ভেতরে ক্যান্টিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এর আগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন অতিথিরা। এ সময় বিদ্যালয়ের আঙিনায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়।

পরে বিদ্যালয়ের হলরুমে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট কাসারুল আলম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মিজানুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহিম মিয়া, সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শামসুজ্জামান ভূঁইয়া রিটু ও ওমর ফারুক ভূঁইয়া, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, অভিভাবক সদস্য ধন মিয়া, অ্যাডভোকেট এরশাদুল হক, উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজিত চন্দ্র বিশ্বাস। এ ছাড়া শিক্ষার্থী অর্পিতা সূত্রধরসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সভায় অংশ নেন।

বক্তারা বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পুষ্টিকর খাবার এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়ে ক্যান্টিন চালু ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং বিদ্যালয়ের ক্যান্টিন পরিদর্শন করেন।