রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

‎৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, ময়মনসিংহে ভেটেরিনারি চিকিৎসককে মারধর; ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫১ এম
‎৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, ময়মনসিংহে ভেটেরিনারি চিকিৎসককে মারধর; ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

ময়মনসিংহে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় ডা. আশিকুর রহমান নামে এক ভেটেরিনারি চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমান প্রতীকের বিরুদ্ধে। বিড়ালের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় নগরীর জেলা স্কুলের পাশের ‘ডক্টর’স পেট কেয়ার’ নামের ব্যক্তিগত চেম্বারে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন চিকিৎসক।

‎ঘটনার পর তালহাজুর রহমান প্রতীককে দল থেকে বহিষ্কার করেছে ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদল। একই ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক ডা. আশিকুর রহমান।

‎অভিযোগে তালহাজুর রহমান প্রতীক, আফরিন রশিদ সেঁজুতি ও সাকিবুল হাসানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

‎ভুক্তভোগী চিকিৎসকের অভিযোগ, হামলার সময় তাকে কিল-ঘুষি, লাথি ও জুতা দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে লোহার রড দিয়েও আঘাত করা হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে চেম্বারের কর্মী ঈশান আহমেদ, তার স্ত্রী তাওহিয়া আক্তার এবং চিকিৎসকের স্ত্রী সাজনিন তাসনিন সিদ্দিকীকেও মারধর ও টানাহেঁচড়া করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

‎ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৮ মিনিটের দিকে ডা. আশিকুর রহমান চেম্বারে বসে ছিলেন। এ সময় এক নারী তার পাশে গিয়ে জুতা দিয়ে তাকে মারধর শুরু করেন। ফুটেজে ওই নারীকে চিকিৎসককে একাধিকবার আঘাত করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তালহাজুর রহমান প্রতীকও গিয়ে চিকিৎসককে কিল-ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার সময় কক্ষে চিকিৎসকসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

‎থানায় দেওয়া অভিযোগে ডা. আশিকুর রহমান দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার চেম্বারে এসে চাঁদার জন্য চাপ দেওয়া হলে তিনি এর প্রতিবাদ করেন। পরে চেম্বারের সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাকে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

‎হামলার পর চেম্বারের ক্যাশ বাক্স থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার ১৫০ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন চিকিৎসক। পাশাপাশি চেম্বারের বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে দাবি তার।

‎তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে সাকিবুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ১৭ আগস্ট একটি গর্ভবতী পারশিয়ান বিড়াল ‘স্নো’ পরীক্ষার জন্য সেঁজুতি কেওয়াটখালীর ভেটেরিনারি চিকিৎসক ডা. আব্দুল হান্নানের কাছে রেখে যান। সেখানে বিড়ালটির মৃত্যু হয়। পরে বিড়ালের মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি হলে আশিকুর রহমান ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে সেঁজুতিকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এ কারণেই তাকে মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

‎এ ঘটনায় তারাও থানায় অভিযোগ করেছেন বলে দাবি করেন সাকিবুল হাসান। তবে কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সাকিবুলদের কোনো অভিযোগ থানায় পাওয়া যায়নি।

‎ডা. আশিকুর রহমানের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

‎এদিকে ঘটনার পর মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমান প্রতীককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি গোবিন্দ রায়।‎

‎চাঁদা দাবি, মারধর, টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এবং বিড়ালের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

‎নেক্সাস হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের ভোগান্তি চরমে, ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৮ পিএম
‎নেক্সাস হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের ভোগান্তি চরমে, ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ

‎ময়মনসিংহের নেক্সাস কার্ডিয়াক হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অযথা হয়রানি, দায়িত্বে অবহেলা এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন হাসপাতালটির ম্যানেজার মৃদুল কুমার সরকার।

‎ভুক্তভোগী রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা, বিল পরিশোধ কিংবা প্রয়োজনীয় পরামর্শের জন্য ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তাঁদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কেউ কেউ দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত ম্যানেজারের কক্ষের সামনে অপেক্ষা করেও সাক্ষাৎ পাচ্ছেন না। এ সময় তাঁদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।‎

‎সম্প্রতি হাসপাতালটিতে সরেজমিনে গিয়ে এমন পরিস্থিতির দেখা মেলে বলে জানান এক সংবাদমাধ্যমকর্মী। তিনি বলেন, তাঁর এক আত্মীয় নেক্সাস কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। রোগীর সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে তিনি ম্যানেজারের কক্ষের সামনে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। এ সময় সেখানে আরও অনেক রোগীর স্বজনকে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

‎ওই সংবাদমাধ্যমকর্মীর দাবি, ম্যানেজার মৃদুল কুমার সরকারকে ফোন করা হলে অন্য একজন ফোনটি ধরেন এবং ম্যানেজার ব্যস্ত আছেন বলে জানান। রোগীর সমস্যা সমাধানের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই বলে জানান। পরে ম্যানেজারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি বলে অভিযোগ করা হয়।

‎ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, কোনো সমস্যা নিয়ে ম্যানেজারের কাছে গেলে তিনি সরাসরি বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে অন্য ব্যক্তির মাধ্যমে রোগীর স্বজনদের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।

‎সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি হাসপাতাল কেবল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি মানুষের জীবন ও চিকিৎসাসেবার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাপ্রতিষ্ঠান। সেখানে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের আচরণ, রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

‎অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

‎ভুক্তভোগীদের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

মামলা চলমান, তবুও বিরোধপূর্ণ জমিতে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ

রাকিবুল হাসান আহাদ, বিশেষ প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
মামলা চলমান, তবুও বিরোধপূর্ণ জমিতে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ

ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও থানার বিল মাখল গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় আদালতে মামলা চলমান থাকলেও বিরোধপূর্ণ জমিতে জোরপূর্বক বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আফাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মামলা ও সংশ্লিষ্ট নথি সূত্রে জানা যায়, বিল মাখল গ্রামের মো. ছোরহাবের সঙ্গে আফাজ উদ্দিনের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধপূর্ণ জমিটির খতিয়ান নম্বর বিআরএস-২৪৬, হাল দাগ নম্বর বিআরএস-১৩৪৩। জমিটির শ্রেণি বাড়ি এবং মোট ০.১৮ একরের মধ্যে বিরোধ রয়েছে ৩ শতাংশ জমি নিয়ে। জমিটির চৌহদ্দি: উত্তরে আঃ রশিদ, দক্ষিণে মাইনুউদ্দিন, পূর্বে আঃ রশিদ এবং পশ্চিমে মফিজ উদ্দিন গং।

জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালতের নোটিশে বিরোধপূর্ণ তফসিলভুক্ত জমিতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে উভয় পক্ষকে স্ব-স্ব অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতে মামলা চলমান থাকার মধ্যেই আফাজ উদ্দিন ও মহিজুদ্দিন বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে বাড়ি নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে জমির দখল পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অপর পক্ষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তি ভয়ভীতি দেখিয়ে ছোরহাবের জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণে সহযোগিতা করছেন। স্থানীয়ভাবে এমন অভিযোগও রয়েছে যে, আফাজ উদ্দিন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ‘ম্যানেজ’ করে বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ রয়েছে। আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সেখানে নতুন করে নির্মাণকাজ চলায় সংঘাতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ জমিতে সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হোক।

অভিযোগের বিষয়ে আফাজ উদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি আনসার-ভিডিপিতে চাকরি করি। এমপি সাহেব জানেন এবং এমপির লোকজনও বিষয়টি অবগত আছেন।’

জমি দখল করে জোরপূর্বক বাড়ি নির্মাণ এবং প্রভাবশালী নেতাদের টাকা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সবাই অবগত আছেন।’

এদিকে, আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষ যাতে জমির দখল পরিবর্তন বা নতুন স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও জটিল করতে না পারে, সে বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

পুরোনো স্থাপনা দেখিয়ে নতুন বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

গৌরীপুরে কাজ না করেই টিআর-কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পের বিল উত্তোলনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৭ পিএম
গৌরীপুরে কাজ না করেই টিআর-কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পের বিল উত্তোলনের অভিযোগ

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের কাজ না করেই বিল উত্তোলন এবং আংশিক কাজ করে পুরো বরাদ্দের টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও আবার কয়েক বছর আগে নির্মিত স্থাপনা দেখিয়ে নতুন প্রকল্পের বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগের তীর উঠেছে গৌরীপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলাল উদ্দিনের দিকে। স্থানীয়দের দাবি, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের অনেকগুলোর কাজ বাস্তবে হয়নি। অথচ নির্ধারিত সময়ের আগেই এসব প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

সরেজমিনে মেলেনি প্রকল্প বাস্তবায়নের চিত্র

স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৭ থেকে ২০ আগস্ট উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। এ সময় কয়েকটি প্রকল্পে কাজ না হওয়া, নামমাত্র কাজ এবং পুরোনো কাজকে নতুন প্রকল্প হিসেবে দেখানোর অভিযোগ পাওয়া যায়।

রায়গঞ্জ বাজার থেকে কান্দির ঘাট বাজার সড়ক মেরামতে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা এবং নন্দীগ্রাম শামছুলের বাড়ি থেকে রফিকের চায়ের দোকান পর্যন্ত রাস্তার জন্য ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়া কলতাপাড়া থেকে গৌরীপুর রাস্তা হয়ে দক্ষিণ দিকে বড়ইতলা রাস্তার আংশিক সলিং ও সংস্কার এবং সাহেব কাচারী সীমান্ত থেকে কাঠবাড়ীর সালামের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের প্রকল্প অনুমোদন করা হলেও স্থানীয়দের দাবি, এসব প্রকল্পে বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি।

ময়লাকান্দা ইউনিয়নের গোবিন্দপুর বাজার এইচবিবি রাস্তা থেকে টিকুরীগামী সড়কে গাইডওয়াল নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকা এবং ভেঙা পূর্বপাড়া পাকা রাস্তা থেকে মাদ্রাসা পর্যন্ত এইচবিবিকরণের জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে শ্যামগঞ্জ-গৌরীপুর সড়কের গাভীশিমুলা থেকে পূর্ব ভালুকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে খোদাবক্সের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার জন্য ৩ লাখ টাকা এবং অচিন্তপুর ডেকুরা বাজার সড়কের সিসিকরণের জন্য আরও ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

মাওহা ইউনিয়নের ভাটিয়ারকোনা লালচানের বাড়ি থেকে আহম্মদপুর কামাল মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার জন্য বরাদ্দ ছিল ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানে আনুমানিক ৩০ শতাংশ কাজ করেই পুরো বরাদ্দের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।

পুরোনো গাইডওয়াল দেখিয়ে নতুন বরাদ্দ?

রামগোপালপুর ইউনিয়নের দামগাঁও মোড়লপাড়া জামে মসজিদ থেকে ডাউকী রতনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার জন্য ১৪ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং ধুরুয়া বাজার থেকে আগপাড়া চৌরাস্তা পর্যন্ত রাস্তার জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, দুটি প্রকল্পেই নামমাত্র কাজ করা হয়েছে।

এদিকে সিংজানী ভূঁইয়া বাড়ি সার্বজনীন পূজা মন্দিরের পাশে পুকুরপাড়ে গাইডওয়াল নির্মাণের জন্য ১ লাখ ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেখানে নতুন করে কাজ করার কোনো চিত্র পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় এক বৃদ্ধের ভিডিও বক্তব্যে দাবি করা হয়, ওই গাইডওয়ালটি প্রায় ৬ থেকে ৭ বছর আগেই নির্মাণ করা হয়েছিল। চলতি অর্থবছরে সেখানে কোনো কাজ হয়নি। এরপরও পুরোনো স্থাপনাকে নতুন প্রকল্প হিসেবে দেখিয়ে বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী সোয়াদ ও আকাশ ভিডিও বক্তব্যে প্রকল্পগুলোর অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরেজমিন তদন্তের দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে যাওয়ার কথা ভাবছেন তারা।

ডৌহাখলা এলাকার বাসিন্দা আলী আকবর বলেন, রাস্তা ও গাইডওয়ালের কাজ না করেই যারা টাকা উত্তোলন করেছেন, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

আগের অভিযোগের তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের অনিয়ম এবং সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ৪ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালিয়েছিল। তবে ওই অভিযানের তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।

বক্তব্য পাওয়া যায়নি পিআইও-ইউএনওর

অভিযোগের বিষয়ে গৌরীপুর উপজেলা পিআইও মোহাম্মদ আলাল উদ্দিন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমিন পাপ্পার সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় এবং খুদে বার্তা পাঠানো হয়। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরও) মো. রেজাউল করিম সংশ্লিষ্ট ইউএনও ও পিআইওর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, এসব প্রকল্পের বরাদ্দ কিস্তিভিত্তিক আসে। ৩০ জুনের মধ্যে অর্থ ব্যয়ের কথা থাকলেও কিছু অর্থ অবশিষ্ট থাকতে পারে। তবে কোনো কাজ না করেই বিল পরিশোধ করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি যাচাই করতে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাকে সরেজমিনে পাঠানো হবে।

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রকল্পভিত্তিক তদন্ত এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।