বিএনপি নেতার মাছের ঘেরে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে কিশোরের মৃত্যু, লাশ ঘিরে বিক্ষোভের অভিযোগ
ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার লংগাইর ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামে একটি মাছের ঘেরে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে কাজ করতে গিয়ে রাতুল (কিশোর) নামে এক কিশোরের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় এক বিএনপি নেতার পরিচালিত মাছের ঘেরে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন মিয়া এলাকায় প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। তিনি বাগড়া এলাকায় একটি মাছের ঘের পরিচালনা করছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘেরে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছিল।
শনিবার দুপুরে ঘেরের বৈদ্যুতিক তার মেরামতের জন্য রাতুলসহ তিন কিশোরকে নৌকাযোগে সেখানে পাঠানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা একসঙ্গে বৈদ্যুতিক তার মেরামতের কাজ করার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হয়ে গেলে তিনজনই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ সময় রিতু ও অপর এক কিশোর সরে যেতে সক্ষম হলেও রাতুল গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার খবর পেয়ে ঘেরের মালিক স্বপন মিয়া ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি থানায় অবস্থান নিয়ে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে তারা সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তারা নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
নিহতের বাবা, মা ও স্বজনেরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা আমাদের সন্তানের মৃত্যুর সঠিক বিচার চাই। এই ঘটনার জন্য যারা দায়ী, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।’
এ বিষয়ে গফরগাঁও থানার পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে স্বপন মিয়া ও রনির বক্তব্যও জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত করা হবে। তদন্তে কারও দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








