ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইআবি) উদ্যোগে ‘মাদরাসায় উচ্চশিক্ষা: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। সেমিনারে আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাদরাসা শিক্ষাকে গবেষণামুখী, প্রযুক্তিনির্ভর ও যুগোপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা ২টায় ময়মনসিংহ নগরীর অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কামিল (স্নাতকোত্তর) শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলা ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা ও জামালপুরের অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং গভর্নিং বডির সদস্যরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান। তিনি বলেন, মাদরাসা শিক্ষা দেশের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাদরাসা শিক্ষাকে আরও গবেষণামুখী, প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক করতে হবে। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পারলে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা জাতীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
উপাচার্য উপস্থিত অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, মাদরাসার সার্বিক উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আত্মসমালোচনা ও আত্মমূল্যায়নের মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করতে নিয়মিত ইন-হাউস প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ ছাড়া প্রতিটি মাদরাসায় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে মাদরাসাগুলোতে ইবতেদায়ি শাখা চালুরও পরামর্শ দেন তিনি।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ শাহীনুল ইসলাম। তিনি বলেন, মাদরাসা শিক্ষার সামনে যেমন ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। আধুনিক শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে মাদরাসা শিক্ষাকে আরও যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে হবে।
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস ছিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদরাসা পরিদর্শক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মোমেনশাহী ডিএস কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. মাওলানা মোহাম্মদ ইদ্রিস খান, শেরপুরের শ্রীবরদী ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল হালিম মিয়া, নেত্রকোনার এন আকন্দ কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল বাতেন, কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা দেলোয়ার হোসেন আজিজী এবং জামালপুরের বাট্টাজোর কে আর আই কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সুলতান মাহমুদ খসরু।
এ ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আগত অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং গভর্নিং বডির প্রতিনিধিরা মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে তাঁদের মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠান শেষে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের রুহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশ ও জাতির শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খানের ময়মনসিংহ সফরকে কেন্দ্র করে বিভাগের চার জেলার ফাজিল ও কামিল (অনার্স) স্তরের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির প্রতিনিধিদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করে।