সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

গফরগাঁও-মাওনা সড়ক প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণে হরিলুটের অভিযোগ, নেপথ্যে অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশের দাবি

শিবলী সাদিক খান।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
গফরগাঁও-মাওনা সড়ক প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণে হরিলুটের অভিযোগ, নেপথ্যে অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশের দাবি

ময়মনসিংহের গফরগাঁও-মাওনা সড়ক প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের আওতাভুক্ত বিভিন্ন মৌজায় ভুয়া কাগজপত্র, কৃত্রিম স্থাপনা ও অধিগ্রহণের সীমানার বাইরে থাকা স্থাপনা দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের সরকারি ক্ষতিপূরণ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, চক্রটির সঙ্গে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমের সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিকদের অভিযোগ, দ্রুত ক্ষতিপূরণের টাকা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে ভূমি ও স্থাপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে দালাল চক্র। পরে কৌশলে ৮ ধারার নোটিশে নিজেদের বা নিজেদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে কৃত্রিম স্থাপনা ও কথিত ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। এতে প্রকৃত ভূমির মালিকেরা যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তেমনি সরকারের বিপুল অর্থ অপচয় ও আত্মসাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অনুসন্ধানে পাওয়া অভিযোগ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গফরগাঁও-মাওনা সড়ক প্রকল্পের ২০২৪ সালের এলএ কেস নম্বর-১০-এর আওতাধীন তললি মৌজায় একটি মুরগির খামার দেখিয়ে প্রায় ৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ভূমি অধিগ্রহণের আগে সেখানে ওই খামারের অস্তিত্ব ছিল না। অধিক ক্ষতিপূরণ আদায়ের উদ্দেশ্যে অধিগ্রহণ কার্যক্রমের সময় রাতারাতি বাঁশ দিয়ে খামারটি তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ঘটনায় ভূমির মালিক হাদিউল এবং দালাল হিসেবে অভিযুক্ত ফেরদৌসসহ একটি চক্র জড়িত। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

একই প্রকল্পের পুরাদিয়ারটেক মৌজায় একটি ডিপ টিউবওয়েলের ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় দেড় কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় ফেরদৌস ও নুরুল আমিনসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের নাম রয়েছে। অন্যদিকে একই প্রকল্পের সাদুয়া মৌজায় আরেকটি ডিপ টিউবওয়েলের জন্য ৫০ লাখ টাকার কম ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই ধরনের স্থাপনার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের অঙ্কে এত বড় ব্যবধান কেন তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফেরদৌস, জালাল মাস্টার, কামরুল, আক্তারুল আলমসহ কয়েকজন এবং পাঁচ নারীসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভূমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, চক্রটি প্রথমে প্রকৃত ভূমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে নানা জটিলতা ও হয়রানির ভয় দেখায়। এরপর আগাম অর্থের বিনিময়ে দালালদের নিজেদের লোক বা অংশীদার হিসেবে দেখিয়ে ভূমি ও স্থাপনার কাগজপত্র তৈরি করা হয়।

পরবর্তী সময়ে এসব কাগজপত্রের ভিত্তিতে ৮ ধারার নোটিশে দালাল চক্রের সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর কৃত্রিম স্থাপনা, পুকুর, জলাশয়, খাল ও অন্যান্য অবকাঠামো দেখিয়ে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ এবং তা উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন মৌজায় একই কৌশলে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কিছু অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে এবং আরও কয়েকটি ফাইল হালনাগাদ করে ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়া চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

শুধু ভুয়া কাগজপত্র বা কৃত্রিম স্থাপনাই নয়, প্রকল্পের অধিগ্রহণের সীমানার বাইরে থাকা স্থাপনা, পুকুর ও জলাশয়কে অধিগ্রহণের আওতাভুক্ত দেখিয়ে ক্ষতিপূরণ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকল্পের মূল নকশা, অধিগ্রহণের সীমানা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র মিলিয়ে দেখা হলে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের আগে ও পরে স্থাপনার ছবি, পরিমাপের নথি এবং মূল্যায়ন প্রতিবেদন যাচাই করলেই কথিত কৃত্রিম স্থাপনা তৈরির বিষয়টিও স্পষ্ট হতে পারে।

সচেতন মহলের মতে, ভূমি অধিগ্রহণের ৮ ধারার নোটিশ, ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের তালিকা, চেক বিতরণের রেজিস্টার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক লেনদেনের তথ্য পর্যালোচনা করা হলে প্রকৃত মালিকের পরিবর্তে কারা ক্ষতিপূরণের অর্থ পেয়েছেন, তার একটি পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যেতে পারে।

অভিযোগকারীদের দাবি, গফরগাঁও-মাওনা সড়ক প্রকল্পেই শুধু নয়, ময়মনসিংহ ও গাজীপুর জেলার অতীতের বিভিন্ন ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্পেও একই ধরনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় ছিল।

তাদের ভাষ্য, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের অর্থ পেতে নানা হয়রানি ও জটিলতার ভয় দেখিয়ে দালাল চক্র তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। পরে পরিবারের ঘনিষ্ঠজন বা অংশীদার হিসেবে নিজেদের লোকদের কাগজপত্রে অন্তর্ভুক্ত করে ক্ষতিপূরণের অর্থের অংশ নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, কোথাও কোথাও দালালদের নাম ৮ ধারার নোটিশে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের নামেই চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।

এতে প্রকৃত মালিকেরা তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের অর্থেরও ব্যাপক অপচয় হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কথিত দালাল চক্র নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে। তাদের নাম ভাঙিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়। ফলে সাধারণ ভূমির মালিকদের মধ্যে এক ধরনের ভয় ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেক ভুক্তভোগী হয়রানি বা ক্ষতির আশঙ্কায় প্রকাশ্যে অভিযোগ করতেও সাহস পান না বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্তদের। এতে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিক ও সচেতন মহলের দাবি, গফরগাঁও-মাওনা সড়ক প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম নিয়ে উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। তদন্তের আওতায় আনতে হবে ৮ ধারার নোটিশ, ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের প্রক্রিয়া, স্থাপনার মূল্যায়ন, চেক বিতরণের তালিকা, ব্যাংক লেনদেন এবং প্রকল্পের অধিগ্রহণের মূল নকশা।

একই সঙ্গে অধিগ্রহণের সীমানার বাইরে থাকা কোনো স্থাপনা বা জলাশয়কে ক্ষতিপূরণের আওতায় আনা হয়েছে কি না, কৃত্রিম স্থাপনা তৈরি করে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে কি না এবং প্রকৃত মালিকের পরিবর্তে অন্য কেউ ক্ষতিপূরণের অর্থ পেয়েছেন কি না এসব বিষয়ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তি, দালাল চক্র এবং তাদের সহযোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আত্মসাৎ বা অপচয় হওয়া সরকারি অর্থ উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এদিকে, ভূমি অধিগ্রহণ অফিসে দালালদের ব্যাপারে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টানানো হলেও অভিযোগে উল্লিখিত কয়েকজনকে ওই অফিসে নিয়মিত যাতায়াত করতে দেখা যায় বলে স্থানীয়দের দাবি। প্রকল্পটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী বর্তমানে বদলিজনিত কারণে অন্যত্র কর্মরত থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি, ভূমি অধিগ্রহণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। গফরগাঁও-মাওনা সড়ক প্রকল্পের অন্যান্য মৌজায় ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়ম, ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে অসঙ্গতি এবং কথিত দালাল চক্রের তৎপরতার তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

মুক্তাগাছায় সুদের টাকা দিতে না পারায় ভ্যান চালক বিল্লালকে মারধর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩২ পিএম
মুক্তাগাছায় সুদের টাকা দিতে না পারায় ভ্যান চালক বিল্লালকে মারধর

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার আধপাখিয়া গ্রামের মেম্বারের ভাই মোফাজ্জল হোসেন সুদে টাকা লাগিয়ে কম পক্ষে ২০ পরিবারকে পথে বসিয়ে দিয়েছেন। এদের প্রায় সকলেই হয়েছেন টাকা কিংবা সুদের টাকা দিতে নাপারায় নির্যাতনের শিকার।গত ২৯ অক্টোবর সুদের টাকার জন্য শারিরিক নির্যাতনের শিকার হন বিল্লাল মিয়া।এই হতভাগ্য থানায় অভিযোগ করতে পারেনি।পরে যদি এর চেয়ে বড় কিছু করে ফেলে। মোফাজ্জল এতোটাই এলাকায় আতংকের নাম।

আধপাখিয়ার ভ্যান চালক বিল্লাল একই এলাকার মোফাজ্জলের কাছ থেকে বিপদে পড়ে মাসিক বিশ টাকা হাড় সুদে ৫ হাজার টাকা নিয়েছিল।গত প্রায় ২ বছরে বিল্লাল প্রায় বিশ হাজার টাকা সুদ দিয়েছে। সম্প্রতি সুদ দিতে দেরী হওয়ায় মোফাজ্জল চাপ দেয় সুদে আসলে তার টাকা দিয়ে দিতে হবে।টাকা দিতে দেরী হওয়ায় ২৯ অক্টোবর বিল্লালকে স্থানীয় সুমনের দোকানের সামনে বেদরক মারধর করে।নির্যাতন দেখে সহ্য না হওয়ায় দোকানদার সুমন মোফাজ্জলের টাকা দিয়ে দেন।এ সময় তাকে সুদসহ ৬ হাজার টাকাই দিতে হয়।এমন অভিযোগ স্থানীয় এক নারীও করেছেন।

এলাকার অনেকের সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হয়েছে, তারা জানিয়েছেন মোফাজ্জল চড়া সুদে টাকা লাগান। টাকা আদায় করতে গিয়ে অনেকের সাথে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। তার টাকার সুদ দিতে দিতে অনেকে নিঃশ্ব হয়েছেন।অনেকের ঢাকা শহরে গিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। এলাকার মানুষের সাথে যেন তার পায়কারি হাড়ে বিরোধ। কোন ব্যাক্তি এ সকল ঘটনার প্রতিবাদ করলেই সেও পড়ে তাদের রোষানলে।

মোফাজ্জল জানান, এলাকায় তার সাথে কারো বিরোধ নেই। পাওনা টাকা চাইলে বিরোধের সৃষ্টি হয়।তিনি তার ভাই মেম্বার এর নাম উল্লেখ করে বলেন আমি খারাপ হলে কি ভাইকে ভোট দিতো? জমি সংক্রান্ত বিরোধ আছে তাদের সাথে অনেকের। সে গুলোও মানুষ সমালোচনা করে।

ময়মনসিংহে এসআরবি-১৪-এর অভিযান, ১০৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:২৪ পিএম
ময়মনসিংহে এসআরবি-১৪-এর অভিযান, ১০৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে অভিযান চালিয়ে ১০৩ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১৪)। এ ঘটনায় মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদক কেনাবেচায় ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

এসআরবি-১৪ সূত্রে জানা যায়, গত ১ নভেম্বর দুপুর ২টা ২৫ মিনিটের দিকে গৌরীপুর উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নের পোদ্দারপাড়া বণিক বাড়ির একটি টিনশেড ঘরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সিপিএসসি, এসআরবি-১৪, ময়মনসিংহের একটি আভিযানিক দল এ অভিযান চালায়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দুলাল চন্দ্র বণিক (৫৫) ও মো. হাতিম মিয়া (৪২)। তাঁদের দুজনেরই বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্যামগঞ্জ বাজার এলাকায় অবস্থানকালে আভিযানিক দল জানতে পারে, পোদ্দারপাড়া বণিক বাড়ির দুলাল চন্দ্র বণিকের ঘরে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য কেনাবেচা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

পরে উপস্থিত লোকজন ও সাক্ষীদের সামনে তল্লাশি চালিয়ে ছয়টি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে ১০৩ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক কেনাবেচায় ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার দুজন পরস্পর যোগসাজশে বিক্রির উদ্দেশ্যে গাঁজাগুলো নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসআরবি-১৪ সূত্র আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এজাহার দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধার করা গাঁজা ও জব্দ করা আলামতসহ তাঁদের গৌরীপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

মিঠামইনে ঘাগড়া আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্যান্টিন উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

মোক্তার হোসেন গোলাপ, হাওরাঞ্চল।। প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৫ পিএম
মিঠামইনে ঘাগড়া আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্যান্টিন উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে নতুন ক্যান্টিনের উদ্বোধন এবং সবুজ ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফিতা কেটে ক্যান্টিনের উদ্বোধন করেন মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ইউএনও মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই বিদ্যালয়ে ক্যান্টিন চালু করা হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী না খেয়ে ক্ষুধার্ত অবস্থায় সারাদিন ক্লাস করে। আবার বিদ্যালয় থেকে বাজারে যেতে সময় লাগে। এসব অসুবিধা দূর করতেই বিদ্যালয়ের ভেতরে ক্যান্টিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এর আগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন অতিথিরা। এ সময় বিদ্যালয়ের আঙিনায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়।

পরে বিদ্যালয়ের হলরুমে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট কাসারুল আলম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মিজানুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহিম মিয়া, সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শামসুজ্জামান ভূঁইয়া রিটু ও ওমর ফারুক ভূঁইয়া, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, অভিভাবক সদস্য ধন মিয়া, অ্যাডভোকেট এরশাদুল হক, উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজিত চন্দ্র বিশ্বাস। এ ছাড়া শিক্ষার্থী অর্পিতা সূত্রধরসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সভায় অংশ নেন।

বক্তারা বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পুষ্টিকর খাবার এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়ে ক্যান্টিন চালু ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং বিদ্যালয়ের ক্যান্টিন পরিদর্শন করেন।