ময়মনসিংহে এগ্রোটেকে শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু, তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সাহেব কাচারী এলাকায় অবস্থিত এগ্রোটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডে এক শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, লাঞ্ছনা ও সরঞ্জাম ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
সোমবার (১৮ মে) সকাল প্রায় ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শ্রমিকের নাম আবু সাঈদ। তিনি সদর উপজেলার রাঘবপুর বড়ইকান্দি এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও শ্রমিকদের দাবি, কোম্পানির অভ্যন্তরে কাজ করার সময় আবু সাঈদের মৃত্যু হয়। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহে গেলে কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) প্রিন্সের নির্দেশে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অন্তত ছয় সাংবাদিকের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিকরা। এ সময় তাদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ভাঙচুর এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন করা হলে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ হামলায় ব্যবহৃত বলে অভিযোগ থাকা রামদা, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায় এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেয়।
ঘটনার পর কোম্পানির ভেতরের পরিবেশ নিয়েও নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক দাবি করেন, কারখানাটিতে দীর্ঘদিন ধরে অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ও কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকলেও চাকরি হারানোর ভয়ে শ্রমিকরা মুখ খুলতে সাহস পান না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় প্রায় প্রতিবছরই দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। তবে এসব ঘটনার যথাযথ তদন্ত কিংবা ময়নাতদন্ত হয় না বলেও তারা দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় অনেক ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিচার দাবি করেছেন।
তবে এ বিষয়ে এগ্রোটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
















