বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

ময়মনসিংহে মাদকের বিস্তার, বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা; উদ্বেগে নগরবাসী

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৩:৩৩ পিএম
ময়মনসিংহে মাদকের বিস্তার, বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা; উদ্বেগে নগরবাসী

ময়মনসিংহে আশঙ্কাজনক হারে মাদক প্রবেশ ও বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে মাদকাসক্তের সংখ্যা। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অপরাধ বিশ্লেষক ও চিকিৎসকদের মতে, মাদকাসক্তির বিস্তার কিশোর গ্যাং গড়ে ওঠার অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, শহরের পাটগুদাম, কৃষ্টপুর, মেডিকেল গেইট, বাঘমারা, পুরোহিতপাড়া, মালগুদাম, চরপাড়ার নয়াপাড়া, আকুয়া ভাঙাপুল ও সানকিপাড়ার জামতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব গ্যাংয়ের সদস্যদের অনেকের হাতে দেশীয় অস্ত্র, ছুরি ও চাকু দেখা যায় এবং তারা ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। কিছু ঘটনায় সহিংসতা ও নৃশংসতার অভিযোগও রয়েছে, যা নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, সন্ধ্যার পর শহরের কিছু স্পর্শকাতর এলাকাসহ ময়মনসিংহ পতিতাপল্লী সংলগ্ন এলাকাতেও কিশোর গ্যাং সদস্যদের আনাগোনা দেখা যায়। বিভিন্ন এলাকা থেকে দলবদ্ধভাবে সেখানে প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। এদের একটি অংশ অস্ত্র বহন ও মাদকসেবনের সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক কিশোরদের মানসিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যাদের হাতে বই থাকার কথা, তাদের একটি অংশ মাদক পরিবহন ও বিক্রির মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল, কথিত ‘বড়ভাই’, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া কিংবা বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী এসব কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক নিয়মিত সেবনের ফলে কিশোর ও তরুণদের আবেগ, সহমর্মিতা ও মানবিকতা কমে যায়। তারা ক্রমশ সহিংস ও নিয়ন্ত্রণহীন আচরণের দিকে ঝুঁকে পড়ে। সূত্রমতে, ১৪ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের একটি অংশ ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। শহরের মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলোতেও এ ধরনের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, এলাকার প্রভাবশালীদের হয়ে মাদক বিক্রি করতে গিয়ে অনেক কিশোর প্রথমে এ চক্রে জড়িয়ে পড়ে এবং পরে নিজেরাই মাদকাসক্ত হয়ে যায়। বিনামূল্যে মাদক পাওয়ার সুযোগও তাদের দ্রুত এই পথে টেনে নেয়। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন মাদকাসক্ত থাকলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে মাদক ও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে। পুলিশ, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার নিয়মিত অভিযানের পরও দৃশ্যমানভাবে অপরাধ কমেনি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তাদের মতে, গ্রেপ্তার হওয়া অনেক অপরাধী প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় জামিনে বের হয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার মতে, সীমান্ত দিয়ে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের প্রবেশ বন্ধ করা না গেলে কার্যকরভাবে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। একই সঙ্গে নগরের কিছু এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচার অভিযোগও রয়েছে। বিশেষ করে শহরের কয়েকটি এলাকা মাদক ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কিশোরদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও শিক্ষামুখী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

মিঠামইনে ছোট ভাইকে ঠকানোর অভিযোগ, চুক্তিপত্রেও মিলছে না সমাধান

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ)।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৫৫ পিএম
মিঠামইনে ছোট ভাইকে ঠকানোর অভিযোগ, চুক্তিপত্রেও মিলছে না সমাধান

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বড় ভাইদের বিরুদ্ধে ছোট ভাইকে বঞ্চিত করা, বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা এবং ঘরের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে স্ট্যাম্পে আপস-মীমাংসার চুক্তিনামা সম্পাদিত হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ছোট ভাই মো. শফিকুল ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান না হওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর মৌলভীপাড়া গ্রামের মৃত হারিছ মিয়ার ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম (৪৯) মিঠামইন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এতে একই বাবার সন্তান মাওলানা আহসান হাবিব (৫৭), তাঁর স্ত্রী মমতাজ বেগম (৫২) এবং ছেলে মুজাহিদ মিয়াকে (২২) বিবাদী করা হয়।

লিখিত অভিযোগে শফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ঢাকায় বসবাসের সুযোগে তাঁর মালিকানাধীন বসতবাড়ির আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল বিবাদীরা দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়। ঘরে থাকা কাঠের বক্স, চৌকি, ফ্যান, সিমেন্টের পিলারসহ বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

অন্যদিকে, অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সম্পাদিত একটি অঙ্গীকারনামায় আপস-মীমাংসার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। এতে প্রথম পক্ষ হিসেবে মো. শফিকুল ইসলাম এবং দ্বিতীয় পক্ষ হিসেবে মাওলানা আহসান হাবিব ও মাহবুব আলমের নাম রয়েছে। দলিল অনুযায়ী, বাড়িসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দুই লাখ টাকা লেনদেন এবং ৩৯৫ নম্বর দাগ থেকে তিন শতাংশ জমি দেওয়ার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ধারিত অর্থ পরিশোধের পর দ্বিতীয় পক্ষের আর কোনো দাবি-দাওয়া থাকবে না বলেও অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ রয়েছে।

শফিকুল ইসলামের অভিযোগ, আপস-মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে চুক্তির শর্ত কার্যকর হচ্ছে না। বরং বিবাদীরা তাঁর বসতবাড়িতে প্রবেশ করে মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন এবং তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর বড় ভাই মাহবুব আলম ও আহসান হাবিব ওয়ারিশি সম্পত্তি থেকে তাঁকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় নিজের নিরাপত্তা ও পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মাহবুব আলম কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে এবং মাওলানা আহসান হাবিব তুমিজা খাতুন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, বিষয়টি পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও দলিলপত্র যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

ময়মনসিংহে রেলওয়ের জমিতে ১৮ তলা ভবন! নকশা বাতিলের উদ্যোগ, দুদকের অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
ময়মনসিংহে রেলওয়ের জমিতে ১৮ তলা ভবন! নকশা বাতিলের উদ্যোগ, দুদকের অভিযান

ময়মনসিংহ নগরীতে রেলওয়ের জমি দখল করে ১৮ তলা এলিট টাওয়ার নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নির্মাণাধীন ভবনটির কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ভবনটির অনুমোদিত নকশা বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে নগরীর মিন্টু কলেজ এলাকায় সরেজমিনে জমি পরিমাপ করেন ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. এরশাদ উদ্দিন। এ সময় তিনি দেখতে পান, সড়কসংলগ্ন রেলওয়ের প্রায় ১৩ ফুট জায়গা নির্মাণাধীন এলিট টাওয়ারের সীমানার ভেতরে রয়েছে। এরপরই ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

রেলওয়ের অনুমতি ছাড়া পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন এই কর্মকর্তা। পাশাপাশি রেললাইনের পাশে বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

এর আগে বুধবার দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলু মিয়ার নেতৃত্বে নির্মাণাধীন এলিট টাওয়ারে অভিযান চালানো হয়। রেলওয়ের জমি দখল করে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট ভবনটির নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে-এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. এরশাদ উদ্দিন বলেন, রেলওয়ের জমিতে কোনো ধরনের বহুতল ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শন ও পরিমাপ করে দেখা গেছে, ১৮ তলা এলিট টাওয়ারের নির্মাণকাজ রেলওয়ের জমির মধ্যে সম্প্রসারিত হয়েছে। এ কারণে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করে নির্মাণকাজ চালু করা হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে ভবনটির ডেভেলপার ও নগরীর মুসলিম উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিনের দাবি, নিয়ম মেনেই ১৮ তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। ভবনটিতে ১০৫ জন শেয়ারহোল্ডার রয়েছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে আপাতত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে গণপূর্ত বিভাগ থেকে ১৮ তলা ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়। তবে দীর্ঘদিন পর সম্প্রতি ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এরই মধ্যে নকশা অনুমোদনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ডেভেলপার জালাল উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নকশা অনুমোদনে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে রেলওয়ের জমি ভবনের সীমানার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি সামনে আসায় ভবনটির অনুমোদন প্রক্রিয়া, জমির মালিকানা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ময়মনসিংহ থিয়েটার এসোসিয়েশনের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
ময়মনসিংহ থিয়েটার এসোসিয়েশনের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

সাহিত্য-সংস্কৃতির চারণভূমি ময়মনসিংহে সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ করার প্রত্যয়ে ময়মনসিংহ থিয়েটার এসোসিয়েশনের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নবগঠিত এই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ছায়ানট সাংস্কৃতিক সংস্থার সভাপতি শরীফ মাহফুজুল হক আপেল এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শাপলা থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক এমদাদ।

ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির উর্বর ভূমি ময়মনসিংহ। এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ইতিহাস দীর্ঘদিনের গৌরবময় ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। নাট্যচর্চা, সংগীত, আবৃত্তি, সাহিত্যচর্চা ও নানা সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল বরাবরই স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে আসছে। ব্রহ্মপুত্রের তীরের এই জনপদে সাংস্কৃতিক সংগঠন ও অসংখ্য সংস্কৃতিকর্মীর নিরলস প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিক্রমা।

এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নাট্য আন্দোলনকে বেগবান করা, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য ও সম্প্রীতি জোরদার এবং ময়মনসিংহের নাট্যচর্চার কর্মকাণ্ডকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট সংস্কৃতিকর্মীরা।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের নেতৃত্বে নবগঠিত এই কমিটির মাধ্যমে ময়মনসিংহের নাট্যাঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির চারণভূমি হিসেবে ময়মনসিংহের ঐতিহ্য ও গৌরব আরও বিকশিত হবেএমন প্রত্যাশা সাংস্কৃতিক মহলের।

সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে ধারণ করে, নাট্যচর্চার বিকাশে ঐক্যবদ্ধ হোক ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক অঙ্গন।