শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মাদকসেবীর পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগে এসআই ক্লোজড

আব্দুল্লাহ আল নোমান, ঈশ্বরগঞ্জ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
মাদকসেবীর পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগে এসআই ক্লোজড

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে এক মাদকসেবীকে আটকের পর তার পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে জালাল উদ্দিন নামে এক উপ-পরিদর্শককে (এসআই) ক্লোজড করা হয়েছে।

রোববার (১০ মে) পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।

জানা যায়, উপজেলার সৈয়দভাকুরী গ্রামের মৃত জাহাঙ্গীরের ছেলে শাহরিয়ার ফয়সাল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন। এর আগেও মাদক সেবনের অভিযোগে তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন।

সম্প্রতি মাদক সেবনের অভিযোগে ফয়সালকে আটক করেন ঈশ্বরগঞ্জ থানার এসআই জালাল উদ্দিন। তবে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পরিবর্তে তাকে ভিন্ন ধারায় আদালতে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুকে অবহিত করলে তিনি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান।

শাহরিয়ার ফয়সালের মা দিপালী খানম অভিযোগ করে বলেন, “প্রতিবেশী আজিজুল হক রিটু কৌশলে সম্পত্তি লিখে নিতে এসআই জালালকে দুই লাখ টাকা দেন। পরে সেই টাকা আদায়ের জন্য এসআই জালাল একাধিকবার বাড়িতে এসে আমাকে ও আমার পুত্রবধূকে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন। নিরুপায় হয়ে আমি বিষয়টি এমপিকে জানাই।”

ফয়সালের স্ত্রী নিলীমা বলেন, “এসআই জালাল উদ্দিন কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিয়ে বাড়িতে এসে বারবার টাকা পরিশোধের জন্য চাপ ও ভয়ভীতি দেখান।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আজিজুল হক রিটু বলেন, “ফয়সাল আমার কাছ থেকে জমি বিক্রির বায়না হিসেবে দুই লাখ টাকা নিয়েছিল। জমি লিখে না দেওয়ায় আমি থানায় অভিযোগ করেছি।”

এদিকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই জালাল উদ্দিন বলেন, “জমি সংক্রান্ত অভিযোগ মীমাংসার জন্য দুই পক্ষকে থানায় আসতে বলেছিলাম।”

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, “অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব এসআই জালালকে দেওয়া হয়েছিল। টাকা লেনদেনের বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়েছে।”

ময়মনসিংহে মোটরসাইকেল চোরচক্রের হোতা ‘চোরা মানিক’ সহ আটক ৩, চুরি হওয়া বাইক উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ২:৩৩ পিএম
ময়মনসিংহে মোটরসাইকেল চোরচক্রের হোতা ‘চোরা মানিক’ সহ আটক ৩, চুরি হওয়া বাইক উদ্ধার

ময়মনসিংহ নগরীর হেরা মার্কেট থেকে চুরি হওয়া একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পিবিআই ময়মনসিংহ। এ ঘটনায় ২৮ মামলার কুখ্যাত মোটরসাইকেল চোর ‘ফ্রিডম মানিক’সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পিবিআই সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (১৫ মে) ভোর ৪টা ৫ মিনিটে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সতিষা এলাকা থেকে কুখ্যাত মোটরসাইকেল চোর ফ্রিডম মানিক ওরফে চোরা মানিক ওরফে মোস্তাফিজুর রহমান মানিক চৌধুরী (৩৯) কে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই মোটরসাইকেলের রং পরিবর্তনকারী সোহেল মিয়া (২৩) কে শাহবাজপুর এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পালামন্দর এলাকা থেকে আশিক মিয়া (২৭) এর বাড়ি হতে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৯ এপ্রিল বিকেলে আলামিন শরীফ সিফাত তার ব্যবহৃত নীল রঙের সুজুকি জিক্সার ১৫৫ সিসি মোটরসাইকেলটি ময়মনসিংহ নগরীর হেরা মার্কেটের সামনে পার্কিং করে ওয়াশরুমে যান। পরে ফিরে এসে মোটরসাইকেলটি না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করেন। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, অজ্ঞাত চোরচক্র মোটরসাইকেলের লক ভেঙে সেটি চুরি করে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর অ্যাডিশনাল আইজিপি পিবিআই মোঃ মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধানে এবং পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। পিবিআইয়ের ছায়া তদন্তে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে এআই প্রযুক্তির সহায়তায় ছবি বিশ্লেষণ করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও মোবাইল কল রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণের মাধ্যমে চোরা মানিককে শনাক্ত করা হয়।

পিবিআই জানায়, গ্রেফতারকৃত মানিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ২৮টি মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মোটরসাইকেল চুরি চক্রের সঙ্গে জড়িত।

অদ্য ১৫ মে গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পিবিআই ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, “পিবিআইয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দ্রুত সময়ে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ চোর চক্রকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এতে ময়মনসিংহ শহরে মোটরসাইকেল চুরি প্রতিরোধে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আমরা আশাবাদী।”

হবিরবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শনে ডিসি সাইফুর রহমান

আরিফ রববানী, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১:৪৪ এম
হবিরবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শনে ডিসি সাইফুর রহমান

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে তিনি ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন করে অফিসের সার্বিক কার্যক্রম, ভূমিসেবা প্রদান প্রক্রিয়া এবং সেবাগ্রহীতাদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি ভূমি সংক্রান্ত সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ফিরোজ হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকবাল হোসাইন, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ, ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এ সময় জেলা প্রশাসক ভূমি অফিসে আগত সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও ভোগান্তির বিষয়ে খোঁজ নেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, জনগণ যেন ভূমি অফিসে সেবা নিতে এসে কোনো ধরনের হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে তিনি ভূমি অফিসের রেকর্ড রুমও ঘুরে দেখেন।

এর আগে জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান হবিরবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে পৌঁছালে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদসহ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে তাকে স্বাগত

চার বছরের অপেক্ষার পর চেয়ারম্যানের দায়িত্বে শামছুজ্জামান জামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১:৩৫ এম
চার বছরের অপেক্ষার পর চেয়ারম্যানের দায়িত্বে শামছুজ্জামান জামাল

নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ৪ বছর ৪ মাস ১৯ দিন পর ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সহনাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নিয়েছেন শামছুজ্জামান জামাল।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর গৌরীপুর উপজেলার সহনাটী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও তৎকালীন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. সালাহ উদ্দিন কাদের রুবেলকে ৬ হাজার ২৭৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শামছুজ্জামান জামাল লাঙ্গল প্রতীকে পান ৬ হাজার ২৫২ ভোট।

ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন শামছুজ্জামান জামাল। পরে ভোট পুনর্গণনায় দেখা যায়, লাঙ্গল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৬ হাজার ২২৪ ভোট এবং নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সালাহ উদ্দিন কাদের রুবেল পেয়েছেন ৫ হাজার ৯৫৮ ভোট। এতে ২৬৬ ভোটের ব্যবধানে শামছুজ্জামান জামালকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

গত বছরের ২৮ জানুয়ারি ময়মনসিংহ সদর সিনিয়র সহকারী জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক পবন চন্দ্র বর্মণ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে ৩০ দিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশ ও শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন সালাহ উদ্দিন কাদের রুবেল। পরে উচ্চ আদালতও শামছুজ্জামান জামালকে বিজয়ী ঘোষণা করে রায় দেন। সর্বশেষ গত ৩০ মার্চ নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত সংশোধনী গেজেটে তাকে সহনাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

শপথ গ্রহণ শেষে নিজ নির্বাচনী এলাকায় যান শামছুজ্জামান জামাল। পরে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব বুঝে নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় তিনি বলেন, “আইনি লড়াই শেষে আজ শপথের মাধ্যমে দায়িত্ব পেয়েছি। আমার এই বিজয় ইউনিয়নের মা-বোন ও সাধারণ মানুষের। তাদের কষ্ট ও সমর্থনের কারণেই আমি বিজয় ফিরে পেয়েছি। আগামী ৫-৬ মাস গরিব ও মেহনতি মানুষের জন্য এবং এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়নে বিনাস্বার্থে কাজ করে যাব।”