শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ ১৪৩২
শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ ১৪৩২

দাম বাড়ানোর অপেক্ষায় মজুত তেল! ময়মনসিংহে গোপন ট্যাংক থেকে ২৪ হাজার লিটার উদ্ধার

ফুলপুর প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৯:৫৫ পিএম
দাম বাড়ানোর অপেক্ষায় মজুত তেল! ময়মনসিংহে গোপন ট্যাংক থেকে ২৪ হাজার লিটার উদ্ধার

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় মাটির নিচে স্থাপন করা গোপন ট্যাংক থেকে ২৪ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় পাম্প মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে উপজেলার পয়ারী রোডের আমুয়াকান্দা এলাকায় মেসার্স পপি ট্রেডার্স নামের একটি মিনি পেট্রোল পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে এ জ্বালানি জব্দ করে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পাম্প মালিকের বাসার ভেতরে মাটির নিচে দুটি ট্যাংক এবং দুটি গাড়িতে অবৈধভাবে জ্বালানি মজুতের প্রমাণ পাওয়া যায়। অভিযানে ৪ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল এবং ১৯ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া ইসলাম সীমা। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিকুল ইসলাম এবং ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর আওতায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া জব্দ করা জ্বালানি পেট্রোল পাম্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম সীমা জানান, গত দেড় থেকে দুই মাস ধরে অভিযুক্ত ব্যক্তি এসব জ্বালানি মজুত করে আসছিলেন।

পরবর্তীতে দাম বাড়লে বিক্রির উদ্দেশ্যেই এই মজুত করা হয়েছিল। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে জব্দকৃত জ্বালানি জনস্বার্থে এলাকার অন্যান্য চালু ফিলিং স্টেশনের মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে, শুক্রবার রাতে হালুয়াঘাট উপজেলায় পৃথক আরেকটি অভিযানে ২৩০ লিটার জ্বালানি জব্দ করা হয়।

ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ চামড়া বাজারে সেড নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, এলাকাবাসীর বাধায় কাজ বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৭ এম
ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ চামড়া বাজারে সেড নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, এলাকাবাসীর বাধায় কাজ বন্ধ

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের ৩৩নং ওয়ার্ডের শম্ভুগঞ্জ চামড়া বাজারে সেড নির্মাণ কাজকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৮৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে চলমান এই প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ ও নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে এলাকাবাসী কাজ বন্ধ করে দেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মিশুক এন্টারপ্রাইজ নির্মাণ কাজে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার না করে নানা অনিয়ম করছে। অভিযোগ রয়েছে, সেড নির্মাণে নির্ধারিত মানের রড ব্যবহার না করে নিম্নমানের (নন-গ্রেড) রড ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি কিছু অংশে রড ছাড়াই ঢালাই (ডালাই) দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়াও, বাউন্ডারি পিলারে প্রয়োজনীয় রড ব্যবহার না করা, সিমেন্টের পরিমাণ কম দেওয়া এবং সামগ্রিকভাবে নিম্নমানের নির্মাণ কাজ করার অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, এভাবে কাজ চলতে থাকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এমন অনিয়মের প্রতিবাদে স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে কাজ বন্ধ করে দেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে, গতকাল সেড নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে যান ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান সরকার (রুকুন)। পরিদর্শনকালে তিনি অভিযোগগুলো গুরুত্ব সহকারে শোনেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মানসম্মতভাবে পুনরায় কাজ শুরু করা হবে।

ময়মনসিংহে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি-ছানা উৎপাদন: প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় চলছে অবৈধ কারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১২:২০ এম
ময়মনসিংহে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি-ছানা উৎপাদন: প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় চলছে অবৈধ কারখানা

ময়মনসিংহের খাগডহর ঘুন্টি এলাকায় একটি অবৈধ মিষ্টি ও ছানা তৈরির কারখানাকে ঘিরে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন করে তা স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার ওলুর দোকানের পেছনে গড়ে ওঠা এই কারখানাটি কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি এড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কারখানাটি।

এলাকাবাসীর দাবি, ‘শ্যামল’ নামের এক ব্যক্তি কারখানাটির দেখভাল ও পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তবে তিনি কার প্রভাবে বা কীভাবে এ কার্যক্রম চালাচ্ছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, কারখানার মালিক প্রায়ই নিজেকে বিভিন্ন সাংবাদিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তির আত্মীয় পরিচয় দিয়ে থাকেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি প্রায়ই বলেন, “অমুক সাংবাদিক আমার আত্মীয়, আপনারা কী করবেন?” এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানার পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। অপরিষ্কার পানিতে দুধ প্রক্রিয়াজাত করা, খোলা জায়গায় দুধ ও ছানা সংরক্ষণ এবং স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে উৎপাদন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এমনকি উৎপাদনস্থলে নেই কোনো স্বাস্থ্যসম্মত সরঞ্জাম বা নিরাপদ সংরক্ষণ ব্যবস্থা। প্রতিদিন এসব খাদ্যপণ্য স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

খাদ্য নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের পরিবেশে তৈরি খাদ্যপণ্য ভোক্তাদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য তা আরও বিপজ্জনক হতে পারে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সচেতন মহলের দাবি, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে অবৈধ এই কারখানা বন্ধসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদিত খাদ্যপণ্যের মাধ্যমে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ব্রহ্মপুত্রের চরে বালু উত্তোলনকে ঘিরে সংঘর্ষ, গফরগাঁওয়ে পুড়ল ১১ মোটরসাইকেল

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
ব্রহ্মপুত্রের চরে বালু উত্তোলনকে ঘিরে সংঘর্ষ, গফরগাঁওয়ে পুড়ল ১১ মোটরসাইকেল

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের চরে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর সঙ্গে ছাত্রদল নেতার অনুসারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের জেরে উত্তেজিত গ্রামবাসী ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ফেলে যাওয়া ১১টি মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে গফরগাঁও পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি কলেজ সংলগ্ন চরআলগী মৌজা ও কলেজ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে জেগে ওঠা চর এলাকার জমি চরআলগী মৌজার বাসিন্দাদের মালিকানাধীন। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ইজারার মাধ্যমে ওই এলাকা থেকে বালু উত্তোলন চললেও জমির মালিকরা নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে এর আগেও একাধিকবার উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুক্তার হোসেনের অনুসারীরা চরআলগী মৌজার সাত্তার, বাবুল ও সাদেকের জমিতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করে। এতে জমির মালিকরা বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে স্থানীয় নৌকার মাঝি ওয়াইজ উদ্দিন ওরফে পাবলিককে মারধর করে তার নৌকায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি নদী সাঁতরে তীরে উঠে বিষয়টি গ্রামবাসীকে জানান। এতে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে ছাত্রদল নেতা মুক্তার হোসেনের অনুসারীদের ধাওয়া দিলে তারা মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়।

পরে সরকারি কলেজের সামনের সড়কে ফেলে যাওয়া ১১টি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা।

এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা মুক্তার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনতোষ বিশ্বাস বলেন, “ঘটনার পর থেকে পুলিশ তৎপর রয়েছে। মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন.এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন।