বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

ময়মনসিংহে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪৯ পিএম
ময়মনসিংহে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যগণের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।

এডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৪৯ ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ্ শাম্মী, এনডিসি, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান রোকন, রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ আতাউল কিবরিয়া, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ গোলাম মোস্তফা, ময়মনসিংহের চব্বিশে জুলাই শহিদ সাগর এর বাবা মোঃ আসাদুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক মন্ডল প্রমুখ। এতে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান। এছাড়াও সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যগণ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট সর্বস্তরের প্রবীণ ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

শুরুতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আলোচনায় মুক্তিযোদ্ধা বক্তারা স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমরা বেতারে তৎকালীন মেজর জিয়ার ‘উই রিভল্ট’ ঘোষণা শুনে যুদ্ধে গিয়েছিলাম। চট্টগ্রামের হালিশহরে ইপিআরে কর্মরত অবস্থায় ২৫ মার্চ রাতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাধারণ জনগণ এবং ছাত্রদের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছিলাম। আমরা শহিদ জিয়ার নেতৃত্বে যুদ্ধ করে এ মাতৃভূমিকে মুক্ত করেছি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। যে বৈষম্যহীন ও ন্যায় ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের জীবন বাজি রেখেছিল, সরকার যেন তার পরিপূর্ণ বাস্তবতায়ন করেন।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা এ জাতির সূর্য সন্তান। তাদের এ ঋণ কখনোই ভুলবার নয়। মুক্তিযোদ্ধারা যে আদর্শ বুকে ধারণ করে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন, দেশকে সেই কাঙ্ক্ষিত জায়গায় নিতে হলে সবাইকে নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে হলে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বলেন, ১৯৭১ এ যারা যুদ্ধে গিয়েছিলেন, তারা কোনো লাভের আশায় যান নি, গিয়েছিলেন স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। বৈষম্য দূর করাট জন্য তারা অনিশ্চিত জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন। তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি নয়, বুকে ধারণ করতে হবে। সিটি কর্পোরেশনকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে হলে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। কোনোভাবেই ময়লাযুক্ত পলিথিন সাততলার উপর থেকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া দায়িত্বশীল নাগরিকের পরিচয় নয়। যানজটমুক্ত পরিচ্ছন্ন ময়মনসিংহ নগরী গড়ে তুলতে সকলের সার্বিক সহযোগিতা চাই।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ১৯৭১ সালে ছাত্র জনতা, কৃষক শ্রমিক, সাধারণ জনগণ অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। তাদের আত্মত্যাগ ও অবদান কখনোই ভুলবার নয়। এই দেশ, এই স্বাধীনতা ও জাতীয় পতাকা আপনাদের আত্মত্যাগের ফসল। এ স্বাধীনতা ও আত্মত্যাগ তখনই ফলপ্রসূ হবে যখন ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

প্রধান অতিথি বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক মেজর জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় সম্মুখ সারিতে যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তিনি দেশ পরিচালনা করছেন, ইতোমধ্যে দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহারের কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচিসহ একগুচ্ছ কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। আমরা তার এ উন্নয়ন পরিকল্পনায় সহযোগিতা করি। বর্তমান সরকার দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।

সভাপতি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা বয়সের ভারে নুঁজ হলেও মনের দিক থেকে চিরতরুণ, বজ্রকন্ঠ। মুক্তিযোদ্ধারা দেশের সম্পদ। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। কেবল স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নয়, দায়িত্ব নিয়ে ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বির্নিমানে কাজ করে যেতে হবে। এ সময় তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক নিয়োগে ৩.৬০ সিজিপিএ শর্ত, বৈষম্যের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক নিয়োগে ৩.৬০ সিজিপিএ শর্ত, বৈষম্যের অভিযোগ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নিয়োগের শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর উভয় পরীক্ষায় ন্যূনতম সিজিপিএ ৪.০০-এর মধ্যে ৩.৬০ নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত অভিন্ন ন্যূনতম যোগ্যতার নির্দেশনায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের জন্য ৩.৫০ সিজিপিএর মানদণ্ডের বিষয়টি সামনে আসায় এ শর্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একাডেমিক মানদণ্ড নির্ধারণের সুযোগ থাকলেও তা হতে হবে যুক্তিসংগত, স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন। কিন্তু নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নিয়োগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর দুই পর্যায়েই পৃথকভাবে ৩.৬০ সিজিপিএ বাধ্যতামূলক করায় ভালো ফলাফল থাকা সত্ত্বেও অনেক যোগ্য প্রার্থী আবেদন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন, একই অনুষদের অন্য বিভাগের নিয়োগে ইউজিসির নির্দেশিত মানদণ্ড অনুসরণ করা হলেও নৃবিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এতে একই অনুষদের বিভাগগুলোর মধ্যে নিয়োগের যোগ্যতা নির্ধারণে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো প্রার্থীর স্নাতক পর্যায়ে সিজিপিএ ৩.৫৫ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৭৫ হলে দুই পরীক্ষার গড় সিজিপিএ দাঁড়ায় ৩.৬৫। কিন্তু বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী স্নাতক পর্যায়ে ৩.৬০ না থাকায় ওই প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন না। ফলে স্নাতকোত্তরে ভালো ফলাফল কিংবা সামগ্রিক একাডেমিক অর্জন বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে নিয়োগের যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে শর্ত কঠোর করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও শিক্ষাঙ্গনে আলোচনা চলছে। আগে থেকেই কাউকে বিবেচনায় রেখে যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে কি না, এমন সন্দেহের কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই নিয়োগের শর্ত নির্ধারণের প্রস্তাব, অনুমোদন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া প্রকাশের দাবি উঠেছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষক নিয়োগে উচ্চতর যোগ্যতার শর্ত আরোপ করা অযৌক্তিক নয়। তবে সেই শর্তের পেছনে সুস্পষ্ট একাডেমিক প্রয়োজনীয়তা, নীতিগত ভিত্তি ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা থাকা জরুরি। বিশেষ করে ইউজিসির অভিন্ন নির্দেশনার চেয়ে বেশি যোগ্যতা নির্ধারণ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তার যৌক্তিকতা জানতে চাওয়াও স্বাভাবিক। অন্যথায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

এ অবস্থায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নিয়োগে ৩.৬০ সিজিপিএ নির্ধারণের ভিত্তি, ইউজিসির নির্দেশনার সঙ্গে এর সামঞ্জস্য এবং একই অনুষদের অন্যান্য বিভাগের নিয়োগের যোগ্যতার শর্ত পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত পুনর্বিবেচনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

বিভাগীয় শিক্ষকদের বক্তব্য

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সিজিপিএ নির্ধারণের যৌক্তিকতা এবং ইউজিসির নির্দেশনার সঙ্গে এর সামঞ্জস্য বিষয়ে জানতে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ফিরোজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।

পরে বিভাগের বিভাগীয় প্রধান স্বপ্না পাপুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিয়োগের যোগ্যতার শর্ত, ইউজিসির নির্দেশনা অনুসরণ না করার কারণ এবং শর্ত নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। তবে তিনি এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব। যোগ্যতা নির্ধারণে কোনো ধরনের পক্ষপাত বা বৈষম্যের ধারণা তৈরি হলে তা শুধু সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করবে না, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগপ্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৭ পিএম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে জাতীয় সংসদ ভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের অনাবাসী হাইকমিশনার ডেরেক লো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) এই ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষ করে চট্টগ্রামের বে টার্মিনাল প্রকল্প, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA), সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিকায়ন নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার সিঙ্গাপুর পোর্ট অথরিটির (PSA International) মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের বে টার্মিনালে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন থেকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ ও পরিচালনার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বে টার্মিনাল বাস্তবায়নে পিএসএ-র প্রস্তুত থাকার কথা ব্যক্ত করেন এবং জানান যে এটি চালু হলে বাংলাদেশের শিপিং খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে, যা তৈরি পোশাক (RMG) খাতের শ্রমিকদের সামগ্রিক কল্যাণেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। মন্ত্রী এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দেন।

হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সংক্রান্ত আলোচনা চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। মন্ত্রী দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে এটি দ্রুত বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাইবার স্পেস নিরাপত্তা, ডিজিটাল জালিয়াতি ও স্ক্যাম প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির অনুরোধ জানান। বাংলাদেশ পুলিশে ‘অতিরিক্ত আইজিপি’-র নেতৃত্বে নতুন ‘পুলিশ সাইবার ইউনিট’ গঠনের প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন। সিঙ্গাপুর প্রতিনিধি দল এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও যৌথ সাইবার তদন্ত সহায়তার ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি প্রদান করে।

হাইকমিশনার সিঙ্গাপুর কো-অপারেশন প্রোগ্রাম (SCP)-এর আওতায় বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও তরুণ সংসদ সদস্যদের সিঙ্গাপুরে অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর ও বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সুযোগ প্রদানের প্রস্তাব করলে মন্ত্রী এটিকে স্বাগত জানান।

বৈঠকে উভয়পক্ষ দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও জোরদার করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। হাইকমিশনার মন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে সিঙ্গাপুর সফরের আমন্ত্রণ জানান।

সাক্ষাৎকালে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ ওং (Philip Ong), পিএসএ ইন্টারন্যাশনালের আঞ্চলিক প্রধান ওং জি পিং (Wong Tze Ping), এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুরের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রতিনিধি বেঞ্জামিন চু (Benjamin Chue) এবং সিঙ্গাপুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেস্ক অফিসার মৃথিনী ত্যাগরাজন (Mrithini TGGRITHARAN) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

হাওরে নৌকা পারাপারে অতিরিক্ত টোল আদায় নিয়ে সংবাদ, একপেশে প্রতিবেদনের অভিযোগ ইজারাদারের

মোক্তার হোসেন গোলাপ, হাওর অঞ্চল।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১:২৯ পিএম
হাওরে নৌকা পারাপারে অতিরিক্ত টোল আদায় নিয়ে সংবাদ, একপেশে প্রতিবেদনের অভিযোগ ইজারাদারের

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে নৌকা পারাপারে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ নিয়ে একটি মাল্টিমিডিয়া সংবাদ প্রকাশের পর প্রতিবেদনটিকে একপেশে, অসম্পূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ঘাটের ইজারাদার। তাঁদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য না নিয়ে এবং যথাযথভাবে তথ্য যাচাই না করেই প্রতিবেদনটি প্রচার করা হয়েছে।

ইজারাদারদের দাবি, প্রচারিত ভিডিও প্রতিবেদনে ইজারা আদায়কারী, ঘাট-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, এমনকি পারাপার হওয়া যাত্রী বা কথিত ভুক্তভোগীদের কারও বক্তব্য নেওয়া হয়নি। সরেজমিনে তথ্য যাচাই-বাছাই না করে একপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রচার করায় প্রকৃত চিত্র উঠে আসেনি। এতে স্থানীয় সাংবাদিকদেরও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে তাঁরা মনে করেন।

ইজারাদাররা জানান, সরকারি নিয়ম, নির্ধারিত টোল চার্ট ও তালিকা অনুসরণ করেই তাঁরা ঘাটে টাকা আদায় করছেন। সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ইজারামূল্য পরিশোধ করে বৈধভাবেই ঘাট পরিচালনা করছেন বলেও দাবি তাঁদের। তাঁদের ভাষ্য, এ বিষয়ে স্থানীয় যাত্রী বা সাধারণ মানুষের কোনো অভিযোগ নেই।

এ বিষয়ে দৈনিক আলোকিত সকাল পত্রিকার স্থানীয় সাংবাদিক মোক্তার হোসেন গোলাপের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এই ভিডিও প্রতিবেদন সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। বাইরের একজন সাংবাদিক হাওরাঞ্চলে এসে অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রচার করেছেন। এ ধরনের প্রতিবেদন সাংবাদিকতার নীতিমালার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ইজারাদার, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু ওই প্রতিবেদনে এসব বিষয় অনুসরণ করা হয়নি।’

স্থানীয়দের মতে, হাওরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম নৌকা পারাপার। এ ব্যবস্থাকে ঘিরে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথভাবে তদন্ত ও যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা জরুরি। অন্যথায় অসম্পূর্ণ বা একপেশে তথ্য প্রচারের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ঘাটে অপ্রীতিকর ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তাই নৌকা পারাপারে টোল আদায় নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ যাচাই এবং সংবাদ প্রকাশে সব পক্ষের বক্তব্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।