শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

ময়মনসিংহে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪৯ পিএম
ময়মনসিংহে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যগণের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।

এডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৪৯ ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ্ শাম্মী, এনডিসি, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান রোকন, রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ আতাউল কিবরিয়া, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ গোলাম মোস্তফা, ময়মনসিংহের চব্বিশে জুলাই শহিদ সাগর এর বাবা মোঃ আসাদুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক মন্ডল প্রমুখ। এতে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান। এছাড়াও সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যগণ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট সর্বস্তরের প্রবীণ ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

শুরুতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আলোচনায় মুক্তিযোদ্ধা বক্তারা স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমরা বেতারে তৎকালীন মেজর জিয়ার ‘উই রিভল্ট’ ঘোষণা শুনে যুদ্ধে গিয়েছিলাম। চট্টগ্রামের হালিশহরে ইপিআরে কর্মরত অবস্থায় ২৫ মার্চ রাতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাধারণ জনগণ এবং ছাত্রদের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছিলাম। আমরা শহিদ জিয়ার নেতৃত্বে যুদ্ধ করে এ মাতৃভূমিকে মুক্ত করেছি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। যে বৈষম্যহীন ও ন্যায় ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের জীবন বাজি রেখেছিল, সরকার যেন তার পরিপূর্ণ বাস্তবতায়ন করেন।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা এ জাতির সূর্য সন্তান। তাদের এ ঋণ কখনোই ভুলবার নয়। মুক্তিযোদ্ধারা যে আদর্শ বুকে ধারণ করে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন, দেশকে সেই কাঙ্ক্ষিত জায়গায় নিতে হলে সবাইকে নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে হলে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বলেন, ১৯৭১ এ যারা যুদ্ধে গিয়েছিলেন, তারা কোনো লাভের আশায় যান নি, গিয়েছিলেন স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। বৈষম্য দূর করাট জন্য তারা অনিশ্চিত জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন। তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি নয়, বুকে ধারণ করতে হবে। সিটি কর্পোরেশনকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে হলে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। কোনোভাবেই ময়লাযুক্ত পলিথিন সাততলার উপর থেকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া দায়িত্বশীল নাগরিকের পরিচয় নয়। যানজটমুক্ত পরিচ্ছন্ন ময়মনসিংহ নগরী গড়ে তুলতে সকলের সার্বিক সহযোগিতা চাই।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ১৯৭১ সালে ছাত্র জনতা, কৃষক শ্রমিক, সাধারণ জনগণ অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। তাদের আত্মত্যাগ ও অবদান কখনোই ভুলবার নয়। এই দেশ, এই স্বাধীনতা ও জাতীয় পতাকা আপনাদের আত্মত্যাগের ফসল। এ স্বাধীনতা ও আত্মত্যাগ তখনই ফলপ্রসূ হবে যখন ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

প্রধান অতিথি বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক মেজর জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় সম্মুখ সারিতে যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তিনি দেশ পরিচালনা করছেন, ইতোমধ্যে দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহারের কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচিসহ একগুচ্ছ কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। আমরা তার এ উন্নয়ন পরিকল্পনায় সহযোগিতা করি। বর্তমান সরকার দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।

সভাপতি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা বয়সের ভারে নুঁজ হলেও মনের দিক থেকে চিরতরুণ, বজ্রকন্ঠ। মুক্তিযোদ্ধারা দেশের সম্পদ। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। কেবল স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নয়, দায়িত্ব নিয়ে ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বির্নিমানে কাজ করে যেতে হবে। এ সময় তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

ময়মনসিংহে মারধরের শিকার তরুণী, থানায় অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১১:০৮ পিএম
ময়মনসিংহে মারধরের শিকার তরুণী, থানায় অভিযোগ

ময়মনসিংহ নগরীর স্বদেশী বাজার এলাকায় এক তরুণীকে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আসমা আক্তার (২০) কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগে আসমা আক্তার উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় কোনো কাজ করতে পারছেন না এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রামে রয়েছেন। এ অবস্থায় ভাড়া-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একই এলাকার বাসিন্দা নাসরিন আক্তার, কাজল, আঁখি ও বাবুর সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগে বলা হয়, শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে নগরীর রমেশ সেন রোডের ২ নম্বর গেট এলাকায় অভিযুক্তরা তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করেন। একপর্যায়ে নাসরিন আক্তার তার তলপেটে লাথি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান।

এ ছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা পুনরায় তার ওপর হামলা চালায়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা তার বোন সুমিকেও মারধর করা হয়। এ সময় অভিযুক্তরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী রয়েছেন এবং সুষ্ঠু তদন্ত করলে ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটিত হবে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

কোতোয়ালী মডেল থানার পুলিশ জানায়, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নওগাঁয় মিথ্যা মামলা দায়ের করে উল্টো কারাদণ্ড, জেলহাজতে বাদী

এম. আনোয়ার হোসেন।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১০:৫২ এম
নওগাঁয় মিথ্যা মামলা দায়ের করে উল্টো কারাদণ্ড, জেলহাজতে বাদী

নওগাঁয় আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে নিজেই বিপাকে পড়েছেন শরিফুল ইসলাম ভুট্টু (৪৬) নামে এক ব্যক্তি। মামলার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে না পারায় উল্টো তাকেই কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে নওগাঁর ১ নম্বর আমলি আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-ইমরান এ আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত শরিফুল ইসলাম ভুট্টু নওগাঁ সদর উপজেলার চকগোয়ালী গ্রামের মৃত আহাদ আলী সরদারের ছেলে।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, শরিফুল ইসলাম ভুট্টু একই গ্রামের চারজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩৪২, ৩২৩, ৩৭৯ এবং ৫০৬(২)/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা গ্রহণের পর আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) নির্দেশ দেন।

ডিবি পুলিশ সরেজমিন তদন্ত ও অনুসন্ধান শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাদী ও বিবাদীদের মধ্যে পূর্বশত্রুতার জেরে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর বুধবার ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন আদালত। এ সময় অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-ইমরানের কাছে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে আদালত বাদীকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্বীকার করেন যে, মামলার অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া।

বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় (মিথ্যা মামলা দায়েরের অপরাধ) তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ সময় শরিফুল ইসলাম ভুট্টু নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাত দিনের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অনাদায়ে আরও তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাজা পরোয়ানামূলে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

আদালতের এ রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় আইনজীবী ও আইনজ্ঞরা। তাদের মতে, এ আদেশের মাধ্যমে আদালতে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক বার্তা দেওয়া হয়েছে। এটি বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তাজিয়া ইসলামের মূল দর্শনের পরিপন্থী: আল্লামা ইমাম হায়াত

মঈনউদ্দিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১:৪৮ পিএম
তাজিয়া ইসলামের মূল দর্শনের পরিপন্থী: আল্লামা ইমাম হায়াত

ইসলামের মূলধারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের পুনরুজ্জীবনকারী, বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা এবং বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াত তাজিয়া মিছিলের বিরোধিতা করে বলেছেন, মহররম হলো ঈমানি শোক, মহান কারবালার শাহাদাতের স্মরণ এবং সেই শাহাদাতের লক্ষ্য বাস্তবায়নে জীবনপণ অঙ্গীকারের মাস।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মহররম মাসে কৃত্রিম কাঠামো নির্মাণ করে পবিত্র স্থান বা ব্যক্তিত্বের প্রতীকী উপস্থাপন ইসলামের মূল দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর ভাষায়, তাজিয়া হলো প্রতীকী মাজার বা কবর নির্মাণের একটি প্রথা, যা তিনি ইসলাম পরিপন্থী বলে মনে করেন।

আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, “তাজিয়া মানে বাতিল শিয়াবাদ। তাজিয়া মানে পবিত্র আহলে রাসুল (আ.)-এর অবমাননা।” তাঁর মতে, তাজিয়ার মাধ্যমে শোক প্রকাশ প্রকৃত মহব্বতের প্রকাশ নয়; বরং এটি আহলে বাইত (আ.)-এর প্রতি বেয়াদবি এবং মুসলিম সমাজকে বিভ্রান্ত করার একটি মাধ্যম।

তিনি আরও বলেন, ইসলামে কৃত্রিমতা বা প্রতীকী উপাসনার কোনো স্থান নেই। নকল মাজার বা কৃত্রিম কাঠামো নির্মাণ করে আসল পবিত্র স্থান ও ব্যক্তিত্বের মর্যাদাকে খাটো করা ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শের পরিপন্থী।

আল্লামা ইমাম হায়াতের মতে, তাজিয়া ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু আচার-অনুষ্ঠান ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। তিনি এসব কর্মকাণ্ডকে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ঈমানি চেতনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে তিনি ১০ মহররম, তথা শাহাদাতে কারবালা দিবস যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ দিনকে শুধু আশুরা হিসেবে নয়, বরং “মুসলিম মিল্লাতের মহান জাতীয় ঈমানি শহীদ দিবস” এবং “মানবতার মুক্তির মহাশাহাদত দিবস” হিসেবে স্মরণ করা উচিত।

তিনি তাজিয়া ও অন্যান্য প্রতীকী আয়োজন পরিহার করে কারবালার প্রকৃত শিক্ষা, সত্য, ন্যায়, ঈমান, মানবিক মর্যাদা ও জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রামের চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান জানান। এ লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ র‍্যালি, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, “হকের দুশমন বাগি, মুনাফিক ও জালিমদের আদর্শ যেমন বাতিল, তেমনি শিয়াবাদও বাতিল। তাজিয়া বা পবিত্র আহলে রাসুল (আ.)-এর নামে নির্মিত নকল মাজার ও মণ্ডপ তাঁদের শানে চরম বেয়াদবি এবং ইসলামের প্রকৃত চেতনার পরিপন্থী।”

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, কারবালার শিক্ষা হলো সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকা। মুসলিম উম্মাহকে বিভেদ ও কৃত্রিম আচার-অনুষ্ঠান থেকে দূরে থেকে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে হবে।

সবশেষে তিনি বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব আয়োজিত আগামী ১০ মহররমের শাহাদাতে কারবালা দিবস উপলক্ষে ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে দেশবাসী, বিশেষ করে ঈমানদার নারী-পুরুষকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।