ময়মনসিংহে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যগণের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
এডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৪৯ ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ্ শাম্মী, এনডিসি, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান রোকন, রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ আতাউল কিবরিয়া, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ গোলাম মোস্তফা, ময়মনসিংহের চব্বিশে জুলাই শহিদ সাগর এর বাবা মোঃ আসাদুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক মন্ডল প্রমুখ। এতে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান। এছাড়াও সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যগণ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট সর্বস্তরের প্রবীণ ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
শুরুতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আলোচনায় মুক্তিযোদ্ধা বক্তারা স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমরা বেতারে তৎকালীন মেজর জিয়ার ‘উই রিভল্ট’ ঘোষণা শুনে যুদ্ধে গিয়েছিলাম। চট্টগ্রামের হালিশহরে ইপিআরে কর্মরত অবস্থায় ২৫ মার্চ রাতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাধারণ জনগণ এবং ছাত্রদের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছিলাম। আমরা শহিদ জিয়ার নেতৃত্বে যুদ্ধ করে এ মাতৃভূমিকে মুক্ত করেছি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। যে বৈষম্যহীন ও ন্যায় ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের জীবন বাজি রেখেছিল, সরকার যেন তার পরিপূর্ণ বাস্তবতায়ন করেন।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা এ জাতির সূর্য সন্তান। তাদের এ ঋণ কখনোই ভুলবার নয়। মুক্তিযোদ্ধারা যে আদর্শ বুকে ধারণ করে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন, দেশকে সেই কাঙ্ক্ষিত জায়গায় নিতে হলে সবাইকে নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে হলে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বলেন, ১৯৭১ এ যারা যুদ্ধে গিয়েছিলেন, তারা কোনো লাভের আশায় যান নি, গিয়েছিলেন স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। বৈষম্য দূর করাট জন্য তারা অনিশ্চিত জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন। তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি নয়, বুকে ধারণ করতে হবে। সিটি কর্পোরেশনকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে হলে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। কোনোভাবেই ময়লাযুক্ত পলিথিন সাততলার উপর থেকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া দায়িত্বশীল নাগরিকের পরিচয় নয়। যানজটমুক্ত পরিচ্ছন্ন ময়মনসিংহ নগরী গড়ে তুলতে সকলের সার্বিক সহযোগিতা চাই।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ১৯৭১ সালে ছাত্র জনতা, কৃষক শ্রমিক, সাধারণ জনগণ অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। তাদের আত্মত্যাগ ও অবদান কখনোই ভুলবার নয়। এই দেশ, এই স্বাধীনতা ও জাতীয় পতাকা আপনাদের আত্মত্যাগের ফসল। এ স্বাধীনতা ও আত্মত্যাগ তখনই ফলপ্রসূ হবে যখন ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
প্রধান অতিথি বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক মেজর জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় সম্মুখ সারিতে যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তিনি দেশ পরিচালনা করছেন, ইতোমধ্যে দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহারের কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচিসহ একগুচ্ছ কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। আমরা তার এ উন্নয়ন পরিকল্পনায় সহযোগিতা করি। বর্তমান সরকার দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।
সভাপতি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা বয়সের ভারে নুঁজ হলেও মনের দিক থেকে চিরতরুণ, বজ্রকন্ঠ। মুক্তিযোদ্ধারা দেশের সম্পদ। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। কেবল স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নয়, দায়িত্ব নিয়ে ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বির্নিমানে কাজ করে যেতে হবে। এ সময় তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।











