বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৪ ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৪ ১৪৩২

ময়মনসিংহে পুলিশের পরিচয়ে প্রতারণা: ওয়াকিটকি-হাতকড়াসহ ৫ ভুয়া ডিবি গ্রেপ্তার

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৩ পিএম
ময়মনসিংহে পুলিশের পরিচয়ে প্রতারণা: ওয়াকিটকি-হাতকড়াসহ ৫ ভুয়া ডিবি গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় পুলিশের পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে ওয়াকিটকি, হাতকড়া ও ডিবি পুলিশের জ্যাকেটসহ পাঁচজন ভুয়া ডিবি পুলিশকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ত্রিশাল উপজেলার সতেরপাড়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে শাহাদাৎ হোসেন (২৭), ধরিলামধ্যপাড়া গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে রাকিবুল হাসান রনি (২৪), ছলিমপুর গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে সারোয়ার হোসেন (২৫), একই গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৫) এবং ফুলবাড়িয়া পৌরসভার আ. মতিনের ছেলে সরোয়ার আলম (২১)।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুলিশ বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০–১৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে ময়মনসিংহের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলী আদালত-১০) আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে ডিবি পুলিশের পোশাক পরিহিত চার যুবক কামাল ও হারুন নামের দুই ব্যক্তিকে হাতকড়া পরিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। এ সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে একজন পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় জনতা তিনজনকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে সারোয়ার হোসেন ও আশরাফুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেলে পুলিশ রাতেই ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের কাছ থেকে ভুয়া ডিবি পুলিশের পাঁচটি পরিচয়পত্র, দুটি হাতকড়া, একটি ওয়াকিটকি, ডিবি পুলিশের দুটি জ্যাকেট, দশটি ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কাগজ, সাতটি মোবাইল ফোন, একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, একটি মনিটর ও একটি প্রিন্টার জব্দ করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে একই এলাকায় একটি মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ভুয়া অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক করে ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয় এই চক্র। সর্বশেষ বুধবার রাতে একই কৌশলে কামাল ও হারুনকে টার্গেট করে তারা।

তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি একটি আন্তঃজেলা প্রতারক দল। তারা ডিবি পুলিশের পোশাক পরে মহাসড়ক ও বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, ডাকাতি এবং নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।

ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল্লাহ সাইফ বলেন, “চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে মহাসড়ক ও বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি ও চাঁদাবাজি করে আসছিল। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

ময়মনসিংহে বিদেশি পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্রসহ ছাত্রদলের তিন নেতা-কর্মী গ্রেফতার

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৩ পিএম
ময়মনসিংহে বিদেশি পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্রসহ ছাত্রদলের তিন নেতা-কর্মী গ্রেফতার

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় বিদেশি পিস্তল, গুলি ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ ছাত্রদলের তিন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথবাহিনী।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার উথুরা ও হাটুরিয়া এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে, একটি বিদেশি পিস্তল (মেইড ইন ইউএসএ), একটি ম্যাগাজিন, এক রাউন্ড তাজা অ্যামুনিশন, একটি পিস্তল সদৃশ লাইটার এবং ২০টি দেশীয় অস্ত্র।

গ্রেফতাররা হলেন- গফরগাঁও ইউনিয়নের উথুরী গ্রামের মো. মোশারফ হোসেনের ছেলে মো. কামরুল ইসলাম (৩৫), তার ভাই মো. সাব্বির (২৩) এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুক্তার হোসেন (৩৬)। কামরুল ও সাব্বির দুজনই ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী বলে জানা গেছে।

সেনাবাহিনী ও পুলিশ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় উথুরী গ্রামের একটি বাড়িতে অবৈধ অস্ত্র মজুত রয়েছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ভোরে কামরুল ইসলাম ও তার ভাই সাব্বিরের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ওই অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয় এবং দুই ভাইকে গ্রেফতার করা হয়। একই অভিযানে গ্রেফতারি পরোয়াভুক্ত উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুক্তার হোসেনকেও আটক করা হয়।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবদুললাহ্ আল মামুন বলেন, “গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। তাদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।”

শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩৩ এম
শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াতে ইসলামীর বৈধ প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা যাওয়ায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী উক্ত আসনের সংসদ নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কোনো প্রার্থীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিল করার বিষয়ে বাংলাদেশের আইনে সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) নুরুজ্জামান বাদল ইন্তেকাল করেন। এক ফেসবুক পোস্টে নিশ্চিত করেছে জামায়াতে ইসলামী।

ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন।

৫ আগস্ট-পরবর্তী ৯১.৭% সহিংসতার সঙ্গে বিএনপি সম্পৃক্ত, ২০.৭%-এর সঙ্গে আ.লীগ: টিআইবি

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:১২ পিএম
৫ আগস্ট-পরবর্তী ৯১.৭% সহিংসতার সঙ্গে বিএনপি সম্পৃক্ত, ২০.৭%-এর সঙ্গে আ.লীগ: টিআইবি

এই ১৭ মাসে সারাদেশে মোট ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যাতে ১৫৮ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত এবং সাত হাজার ৮২ জন আহত হয়েছেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর একটি গবেষণা অনুযায়ী, ৫ আগস্টের পর ঘটা রাজনৈতিক সহিংসতার ৯১.৭ শতাংশ ঘটনার সাথে বিএনপি যুক্ত।

আজ (২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এই গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, ২০.৭ শতাংশ ঘটনায় আওয়ামী লীগ, ৭.৭ শতাংশ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী এবং ১.২ শতাংশ ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্পৃক্ততা রয়েছে।

‘স্বৈরাচারের পতনের দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনটির ফলাফল টিআইবি-র সম্মেলন কক্ষে প্রকাশ করা হয়।

টিআইবি জানায়, বিভিন্ন দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং রাজনৈতিক সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত—এই ১৭ মাসে সারাদেশে মোট ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যাতে ১৫৮ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত এবং সাত হাজার ৮২ জন আহত হয়েছেন।

এই ঘটনাগুলোর মধ্যে ৫৫০টিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, আর ১২৪টি ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সদস্যরা জড়িত ছিল। এই সময়ে জামায়াত ৪৬টি ঘটনায় জড়িত ছিল বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

টিআইবি-র মতে, সরকার পতনের পর আগে আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কার্যক্রমের দখল নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবহন টার্মিনাল ও স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি, সিলেটের পাথর কোয়ারি ও নদী থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন এবং ব্রিজ, বাজার, ঘাট, বালু মহাল ও জলাশয়ের ইজারা দখলের লড়াই।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনেকাংশেই অকার্যকর ছিল এবং দলগুলো সহিংসতা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত নিজ কর্মীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।