মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ ১৪৩২
মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ ১৪৩২

কেরাণীগঞ্জে সাংবাদিক ফয়সাল এর ওপর মাদক ব্যবসায়ীর হামলা: বিএমইউজে নিন্দা প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৬:২৫ পিএম
কেরাণীগঞ্জে সাংবাদিক ফয়সাল এর ওপর মাদক ব্যবসায়ীর হামলা: বিএমইউজে নিন্দা প্রতিবাদ

কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার জিয়ানগর এলাকায় দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর ক্রাইম রিপোর্টার এবং বাংলাদেশ অনলাইন সাংবাদিক কল্যাণ ইউনিয়ন (বসকো) কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মোঃ ফয়সাল হাওলাদার-এর ওপর স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিএমইউজে সহ একাধিক সাংবাদিক সংগঠন তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত সময়ে দুষ্কৃতকারী মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের দাবী জানিয়েছেন।

সাংবাদিক মোঃ ফয়সাল হাওলাদার হামলার ঘটনায় কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৩১৮) দায়ের করেছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (০৬ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে খোলামোড়া জিয়ানগর কাঁচা রাস্তার আশার আলো স্কুলের গলির মেইন রাস্তায়।

জিডিতে বলা হয়, সাংবাদিক ফয়সাল স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী নিজাম হোসেন (৪২)কে রিকশাচালক এক ব্যক্তির কাছে মাদক বিক্রি করতে দেখে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করে তখন নিজামসহ অজ্ঞাত ৪-৫ জন তার পথ রোধ করে। এসময় হামলাকারীরা তার ভিভো ৭১২ মোবাইল ফোন, ক্যামেরার স্ট্যান্ড ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ মাল্টিমিডিয়ার মাইক ছিনিয়ে নেয়। বাধা দিলে নিজাম, তার স্ত্রী আমেনা বেগম (৩৬) সহ আরও কয়েকজন ফয়সালকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুল জখম করে। পাশাপাশি তাকে প্রাণে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। হামলার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জিডিতে উল্লেখ রয়েছে। ফয়সাল হাওলাদার ভবিষ্যৎ সুরক্ষার স্বার্থে ঘটনার বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরী ভুক্ত করেন।

এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান ডাবলু বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। আগামীকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে)’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব সোহেল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক খান সহ নেতৃবৃন্দ দ্রুত সময়ে হামলাকারী দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আহবান জানিয়েছেন।

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ সংগঠনের চেয়ারম্যান খায়রুল আলম রফিক বলেন, “মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে সাংবাদিক হামলার শিকার এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করা হলে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।”

তিনি আরও জানান, “সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধে তাদের সংগঠন সবসময় সক্রিয় এবং এ ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে সকল সাংবাদিক সংগঠন সর্বাত্মক ভূমিকা রাখবে।”

চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক বিশ্বতানের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৪:২৪ পিএম
চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক বিশ্বতানের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক বিশ্বতানের উদ্যোগে আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ ২০২৬) বন্দর নগরী চট্টগ্রামের একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, সংগঠক, সংগীত শিল্পী, মানবাধিকারকর্মী ও প্রভাষক নরেন সাহার সভাপতিত্বে এবং আমিনূর রহমান নাহিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি শ্রী দীপক কুমার পালিত।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াসিন চৌধুরী লিটন। প্রধান আলোচক ছিলেন জাসাস পাঁচলাইশ থানার সভাপতি জি.এম. সাইদুর রহমান মিন্টু। সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক লায়ন এ এম মুন্না চৌধুরী। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন দুর্নীতি বিরোধী সচেতন পরিষদ বাংলাদেশের মহাসচিব, প্রবাসী নিউজ টিভির সম্পাদক ও প্রকাশক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র উপদেষ্টা নাহিদা আক্তার নাজু এবং সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারহানা আফরোজ। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মাইনূল হাসান অভি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চসিক ছাত্রনেত্রী পূর্ণিমা রাধে, আলহাজ্ব মনির আহমদ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এ কিউ এম মোসলেহ উদ্দিন, প্রভাষক চন্দ্র কুমার ধর, সহকারী শিক্ষিকা অনামিকা চক্রবর্তী, মানবাধিকার কর্মী ফাতেমা বেগম হেনা (তানিয়া), রাবেয়া সুলতানা সুমী এবং আইনজীবী ও নাট্যকর্মী মোহাম্মদ ফোরকান রাসেল।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাহি, রাশেদুল আলম, আকাশ, কমল, সঞ্জয়, সন্তোষ, পৃথ্বীরাজসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শুভানুধ্যায়ীরা। আন্তর্জাতিক বিশ্বতানের নারী শক্তির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন শীলা মিত্র, অপর্ণা রায় চৌধুরী (সভাপতি), নিভু সেন (সাংগঠনিক সম্পাদক), সুপ্রিয়া দাশ (যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক), শিউলী বড়ুয়া, হৈমন্তী জুঁই, শ্রেয়া, আদি, অরুন্ধতী ও দীপা গোমেজসহ অন্যান্য সদস্যরা।

বক্তারা বলেন, পবিত্র মাহে রমজান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে মানুষের মাঝে আসে। এই মাসে আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমত ও বরকত নাজিল হয় এবং মানুষ আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে নিজেকে পাপাচার থেকে বিরত রাখার শিক্ষা পায়। রমজান মানুষকে ভ্রাতৃত্ববোধ, ভালোবাসা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে।

তারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বিশ্বতান চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একটি স্বনামধন্য সংগঠন। এই সংগঠন সংস্কৃতির উন্নয়ন ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও সকল ধর্ম ও মতের মানুষের অংশগ্রহণে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চায় অবদান রাখবে।

অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় সভাপতির বক্তব্যে নরেন সাহা সফল আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ময়মনসিংহে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী নাজিম মীর গ্রেফতার, ইয়াবা উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ২:২১ এম
ময়মনসিংহে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী নাজিম মীর গ্রেফতার, ইয়াবা উদ্ধার

ময়মনসিংহে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী নাজিম মীর (৪৩) কে অবশেষে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত নাজিম মীর ময়মনসিংহ সদর উপজেলার খুরশিদপুর (মহব্বতপুর দরগাবাড়ি) এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম জাকির মীর ও মাতার নাম আছিয়া খাতুন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাজিম মীর দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘মাদক সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত। অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির হওয়ায় তাকে গ্রেফতারের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী; প্রতিবারই তিনি কৌশলে পালিয়ে যান।

অবশেষে সোমবার (১৬ মার্চ) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবীরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় এসআই মুহসিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত নাজিম মীরের বিরুদ্ধে এর আগেও মাদক সংক্রান্ত ৭টি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ভালুকায় সার্ভেয়ার ও উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
ভালুকায় সার্ভেয়ার ও উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা ভূমি অফিসের চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম ও সেবা গ্রহীতাদের হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর উঠেছে অফিসের সার্ভেয়ার জহিরুল ইসলাম, উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুবেল হোসাইন, সার্টিফিকেট পেশকার খাইরুল ইসলাম এবং মিউটেশন সহকারী সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, খতিয়ান সৃজন, তদন্ত প্রতিবেদন, নামজারি ও অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের উৎকোচ না দিলে কাজ করা হয় না। টাকা না দিলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে মনগড়া তথ্য দিয়ে সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, সার্ভেয়ার জহিরুল ইসলাম ভালুকা ভূমি অফিসে যোগদানের পর থেকেই নানা অনিয়মের মাধ্যমে সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছেন। কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও অর্থের বিনিময়ে তিনি প্রতিবেদনে সত্যকে মিথ্যা ও মিথ্যাকে সত্যে পরিণত করে নানা কৌশলে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কাজে তাকে সহযোগিতা করছেন উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুবেল হোসাইন।

উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, হবিরবাড়ী মৌজায় তার পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত জমি ভুলবশত রেকর্ড হওয়ায় সংশোধনের জন্য সার্ভেয়ারের কাছে গেলে তিনি মোটা অঙ্কের উৎকোচ দাবি করেন।

আরেক ভুক্তভোগী জানান, পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধের ঘটনায় তদন্তের দায়িত্ব সার্ভেয়ারের ওপর পড়লে তিনি তার কাছে ঘুষ দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জমির কাগজপত্র সঠিকভাবে পর্যালোচনা না করেই প্রতিপক্ষের পক্ষে একতরফা প্রতিবেদন দাখিল করেন।

একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলার ভরাডোবা ইউনিয়নের একটি জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়েও। অভিযোগ রয়েছে, ভুক্তভোগীর কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই না করেই সার্ভেয়ার অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে প্রকৃত জমির মালিক ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হন।

কাচিনা ইউনিয়নের এক সেবাগ্রহীতা জানান, জমির নামজারি খতিয়ান করতে গিয়ে সার্ভেয়ারের কাছে গেলে তাকে বলা হয় রেকর্ডীয় মালিকের জমি নেই। তিনি বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করলে সার্ভেয়ার বালাম খুলে দেখান যে বিক্রেতার নামে গোল চিহ্ন রয়েছে। পরে উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুবেল হোসাইন তাকে জানান, এক লাখ ৪০ হাজার টাকা দিলে ওই গোল চিহ্ন তুলে দেওয়া যাবে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, সার্ভেয়ার জহিরুল ইসলাম অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে একজনের দখলীয় জমি অন্যজনকে পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেন। তার চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হলে তদন্ত প্রতিবেদন বিপক্ষে চলে যায়। এতে এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধ ও উত্তেজনা বাড়ছে।

কাদিনগর, পালাগাও ও তামাট এলাকার কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, সার্ভেয়ার যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় সরকারি ভিপি সম্পত্তি নিয়েও বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, তার সহযোগীদের মাধ্যমে প্রতিপক্ষ তৈরি করে উভয় পক্ষের কাছ থেকেই অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে এলাকায় জমি নিয়ে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভালুকা উপজেলা ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো সেবা পাওয়া যায় না—এমন অভিযোগ তুলেছেন অনেক সেবাপ্রত্যাশী। জমির নামজারি, খতিয়ান দেখা, তদন্ত প্রতিবেদন বা খাজনা আদায়—প্রতিটি ধাপেই অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ।

সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহের সময় পরিচয় গোপন রেখে কথা বললে একাধিক সেবাগ্রহীতা জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত করার চেষ্টা করলেও সার্ভেয়ার জহিরুল ইসলাম, উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুবেল হোসাইন, সার্টিফিকেট পেশকার খাইরুল ইসলাম ও মিউটেশন সহকারী সাজ্জাদ হোসেনের মতো কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তার কারণে অফিসের বদনাম কাটছে না। তাদের ঘুষ বাণিজ্যের কারণে অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া কোনো ফাইলই এসিল্যান্ডের টেবিলে যায় না বলে অভিযোগ।

অভিযোগ রয়েছে, একটি মিউটেশনের সরকারি ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা হলেও বাস্তবে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। মিউটেশন সহকারী সাজ্জাদ হোসেনের মাধ্যমে এসব অর্থ আদায় করা হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

সেবাগ্রহীতাদের দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা কয়েকজন দালালের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অফিস খরচের অজুহাত দেখিয়ে নিজেরাই অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন।

এ বিষয়ে একজন সামাজিক বিশ্লেষক বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটালাইজেশন চালু হলেও তৃণমূল পর্যায়ে এখনও সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি পুরোপুরি দূর হয়নি। কেন্দ্রীয়ভাবে সংস্কারের উদ্যোগ থাকলেও মাঠ পর্যায়ে সেই বার্তা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

ভুক্তভোগীরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।