বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ ১৪৩২
বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ ১৪৩২

মোমেনশাহী ডিএস কামিল মাদ্রাসার ২০ লাখ টাকার জালিয়াতি শিক্ষক রাশিদুল গ্রেপ্তার

শিবলী সাদিক খান।। প্রকাশিত: রবিবার, ২০ জুলাই, ২০২৫, ১০:২৮ পিএম
মোমেনশাহী ডিএস কামিল মাদ্রাসার ২০ লাখ টাকার জালিয়াতি শিক্ষক রাশিদুল গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মোমেনশাহী ডিএস কামিল মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের স্বাক্ষর জাল করে পরীক্ষক নিয়োগ এবং আর্থিক লেনদেন দেখিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক রশিদুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ড. মো. ইদ্রিস খান। এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষক রসিদুল ইসলম খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত রশিদুল ইসলাম খান (৪৩) নীলফামারী জেলার রামগঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি মোমেনশাহী ডিএস কামিল মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করছেন। এ সুযোগে তিনি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রমে জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের নামে আর্থিক সুবিধা আদায়ের নেপথ্যে জড়িয়ে পড়েন।

অধ্যক্ষ জানান, কিছুদিন আগে আরবি প্রভাষক মো. আব্দুর রউফ মৌখিক অভিযোগ করেন যে, তার স্বাক্ষর জাল করে রশিদুল ইসলাম নিজেই তাকে চলতি পরীক্ষার জন্য অবৈধভাবে পরীক্ষক নিয়োগ দেখান। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অধ্যক্ষ ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে প্রেরিত গোপন নথিপত্র যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা মেলে।

নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, মো. আব্দুর রউফ, মো. মোফাজ্জল হোসেন, শামসুল আলম, আব্দুল হাফিজ ও হারুনুর রশিদের নামসহ ১০/১২জনের নাম ব্যবহার করে, তাদের অজান্তে স্বাক্ষর জাল করে রশিদুল ইসলাম বিভিন্ন সময় অনৈতিক আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করেন। এসব লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ ৩২ হাজার টাকার বেশি উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

অধ্যক্ষের দাবি, দীর্ঘ ৮-৯ বছর ধরে রশিদুল ইসলাম এমন প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। এ সময়ের মধ্যে প্রায় ২০ লাখ টাকারও বেশি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন তিনি।

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। অধ্যক্ষের ভাষ্যমতে, ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে লিখিত প্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী শিক্ষকরা সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত রয়েছেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং ৪৮(৭)২০২৫ ধারা -৪০৬/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪৭৪ পেনাল কোড ১৮৬০ রুজু করা হয়। মামলাটি এস আই মাসুদ জামালী তদন্ত করছেন। ঘটনায় জড়িত রসিদুল ইসলম খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যথাসময়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনে অনিয়মের অভিযোগ, কেন্দ্রবিন্দুতে দীপক মজুমদার

স্টাফ রিপোর্টার।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ৮:২৯ পিএম
ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনে অনিয়মের অভিযোগ, কেন্দ্রবিন্দুতে দীপক মজুমদার

উন্নয়ন, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সেবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিষ্ঠানকেই ঘিরে উঠছে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রশাসনিক অস্বচ্ছতার অভিযোগ এখন নগরজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

এই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে সিটি কর্পোরেশনের খাদ্য ও স্যানিটেশন কর্মকর্তা দীপক মজুমদার (কমল)। দীর্ঘদিন ধরে একই পদে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তাকে ঘিরে নানা অভিযোগ নতুন করে সামনে আসায় প্রশ্ন উঠেছে, সিটি কর্পোরেশনের ভেতরে কি গড়ে উঠেছে কোনো প্রভাবশালী অনিয়মের বলয়?

প্রশাসনিক সূত্র বলছে, দীপক মজুমদার দীর্ঘ সময় ধরে একই বিভাগে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সাধারণভাবে প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা দক্ষতা বাড়ানোর কথা। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন একই পদে থাকার সুযোগে একটি শক্ত প্রভাববলয় তৈরি হয়েছে, যার কারণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কার্যত দুর্বল হয়ে পড়েছে।

একজন সাবেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “একই জায়গায় দীর্ঘদিন থাকা মানেই সেখানে অঘোষিত একটি নেটওয়ার্ক তৈরি হওয়া। এতে অনেক সময় সিদ্ধান্ত ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা কমে যায়।”

দীপক মজুমদারকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অতীতেও তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল।

বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় বিদেশি অনুদানে পাওয়া সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং পাচারের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল।

সে সময় কোটি টাকার সরঞ্জাম ক্রয় ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠে। তবে সেই অভিযোগের বিষয়ে কোনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন বা বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

ফলে অভিযোগগুলো সময়ের সঙ্গে চাপা পড়লেও প্রশ্নগুলো রয়ে গেছে অমীমাংসিত।

সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে উঠা অভিযোগগুলো আরও গুরুতর। অভিযোগ রয়েছে, সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন ও স্যানিটেশন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে।

স্থানীয়ভাবে ঘুরে দেখা এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হচ্ছে বাস্তবে কাজের মানের সঙ্গে ব্যয়ের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু ক্ষেত্রে প্রকল্প আংশিক বাস্তবায়ন হলেও কাগজে পূর্ণ ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে।

একজন ঠিকাদার বলেন, “কিছু প্রকল্পে যে বাজেট দেখানো হয়, বাস্তবে সেই পরিমাণ কাজ করা হয় না। কিন্তু হিসাব কাগজে ঠিকই দেখানো হয়।”

আগেও দুদকের অভিযানে মিলেছিল অনিয়মের প্রমাণ

বিশ্লেষকদের মতে, এসব অভিযোগ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান পরিচালনা করেছিল।

সেসব অভিযানে উঠে এসেছিল, রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের কাজ, ড্রেনেজ ব্যবস্থায় ত্রুটি, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম

সমস্যাটি কি কোনো একক কর্মকর্তাকে ঘিরে, নাকি পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাতেই রয়েছে গভীর কাঠামোগত দুর্বলতা?

স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিন একই পদে থাকা কর্মকর্তা, দুর্বল তদারকি এবং সীমিত জবাবদিহিতা মিলেই তৈরি হয়েছে একটি অভ্যন্তরীণ চক্র।

একাধিক সূত্রের দাবি, প্রকল্প অনুমোদন, ঠিকাদার নির্বাচন, অর্থ ছাড়, ব্যয়ের হিসাব এই সবগুলো পর্যায়েই অস্বচ্ছতা রয়েছে।

যদি এসব অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে এটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত দুর্নীতি নয় বরং একটি সংগঠিত প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দীপক মজুমদারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তার এই নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই মনে করছেন, অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দেওয়ায় জনমনে সন্দেহ আরও বাড়ছে।

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা হবে বলেও তারা জানিয়েছেন।

তবে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, শুধু অভ্যন্তরীণ যাচাই নয়—এই অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

তাদের দাবি, অভিযোগ প্রমাণিত হলে শুধু একজন কর্মকর্তা নয়, সংশ্লিষ্ট পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট পাওয়া এই সিটি কর্পোরেশনকে ঘিরে বারবার দুর্নীতির অভিযোগ উঠায় সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা।

অভিযোগগুলো কি সত্যিই তদন্তের মুখ দেখবে, নাকি আগের মতোই সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যাবে?

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন নিয়ে ওঠা এই অভিযোগ এখন শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং জনস্বার্থের একটি বড় প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।

এই অভিযোগগুলোর সত্যতা কি সামনে আসবে, নাকি আবারও অন্ধকারেই থেকে যাবে পুরো ঘটনা?

(চলবে)

ময়মনসিংহ নগরীতে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য: কোতোয়ালী পুলিশের অভিযানে ৩ শীর্ষ ছিনতাইকারী গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
ময়মনসিংহ নগরীতে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য: কোতোয়ালী পুলিশের অভিযানে ৩ শীর্ষ ছিনতাইকারী গ্রেফতার

ময়মনসিংহ নগরীতে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য রোধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিনজন শীর্ষ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত ধারালো খুর ও সুইচ গিয়ার উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের নির্দেশনায় এসআই মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে নগরীর পাট গুদাম আদর্শ কলোনী, আকুয়া ভাঙ্গাপুল ও মালগুদাম এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের এক পর্যায়ে সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করা হলে তল্লাশিতে তাদের কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো – রোমান (৩৬), পিতা: মৃত আরশাদ মিয়া, সাং মালগুদাম; রাজিব (২৮), পিতা: আব্দুর রহিম, সাং পাট গুদাম আদর্শ কলোনী; আশিক (২০), পিতা: সুমন মিয়া, সাং আকুয়া ভাঙ্গাপুল। তাদের সবার ঠিকানা কোতোয়ালী থানা, জেলা ময়মনসিংহ।

পুলিশের দাবি, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পথচারী ও সাধারণ মানুষের গতিরোধ করে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও জানা গেছে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, নগরীতে অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তাদের মাধ্যমে ছিনতাই চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।

পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় স্বস্তিতে ঈদ কাটাল ময়মনসিংহবাসী

স্টাফ রিপোর্টার।। প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৯ পিএম
পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় স্বস্তিতে ঈদ কাটাল ময়মনসিংহবাসী

পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন ময়মনসিংহের জেলা পুলিশ। বিশেষ করে শহরসহ ময়মনসিংহ জেলার ১৩টি উপজেলায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, অজ্ঞান ও মলম পার্টির দৌরাত্ম্য ঠেকাতে মাঠে একাধিক টিম নামানোর হয়েছিল। শহরের কোতোয়ালী থানা তথা বিভাগীয় শহরে ১১ টি টিম ছাড়াও ছিল মোটরসাইকেল টিম, অটো রিক্সায় টিম ছাড়াও অফিসার ইনচার্য শিবিরুল ইসলাম ঈদ আগমনীর কয়েক দিন দিবা-রাত্র মাঠে ছিলেন। ফলে নগরবাসী কাটিয়েছেন এবার স্বস্থির ঈদ।

একই সঙ্গে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ব্যাংক অফিস-আদালত, শপিংমলসহ ব্যাপক লোকসমাগম হয় এমন স্থানে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ সময় সব ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধে তৎপর থাকার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া নারী ক্রেতা সমাগম বেশি এমন মার্কেট গুলোতে নারী পকেটমার, নারীদের হয়রানি ও ইভটিজিং রোধে বিপুল সংখ্যক নারী পুলিশ মোতায়েনেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সূত্রে, রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরমধ্যে মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধ ও যানজট নিরসনসহ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার প্রবেশ মুখে শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা শম্ভুগঞ্জে তিনটি মোড়ে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। এদিকে টাঙ্গাইল থেকে রহমতপুর বাইপাস ঢাকা বাইপাসের বিভান্ন জায়গায়ও বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। পবিত্র রমজান ও ঈদ উদযাপন নির্বিঘ্ন করতে ঈদ পূর্ববর্তী ও ঈদ পরবর্তী নিরাপত্তার ব্যাপারে সকল স্তরের পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ সুপার কামরুল হাসান।

জেলা পুলিশের একাধিক সুত্র জানান, রমজানে শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণই নয়, একই সঙ্গে রেল স্টেশন, বাস টার্মিনালে ও যানবাহনে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা, ঈদ জামায়াতের নিরাপত্তা ও জাল টাকার অপব্যবহার রোধ চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ রোধে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রেলওয়ে স্টেশন, বাস টার্মিনালে পকেটমার ও অজ্ঞানপার্টির তৎপরতা প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োজিত রাখা হবে।’

সুত্র আরো জানায়, ‘জনসাধারণের কেনাকাটার সুবিধার্থে গভীর রাত পর্যন্ত পর্যাপ্ত নৈশটহলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।এ ছাড়াও যাত্রী সুবিধায় সড়কে রাখা হয়েছে স্ব স্ব থানার একাধিক টিম।

শপিংমলগুলোর সামনে অবৈধভাবে কোনো গাড়ি পার্কিং করা যাবে না এবং সেখানে কোনো গাড়ি দাঁড়াতে বা অবস্থান করতে দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল।’

সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে কাজী জেলা পুলিশের অতিঃ পুলিশ সুপার আব্দুল্লহ আল মামুন জানান, ‘রমজানে শহরবাসী যেন ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফের, ঘরে ফিরতে পারেন, নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারেন সে লক্ষ্যে পুলিশ শহরবাসীর প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও শপিংমলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন রাখা ছিল। যে সকল মানুষ গ্রামে ঈদ উদযাপন করতে যাবে তাদের জানমালের নিরাপত্তা দেয়া, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অজ্ঞান ও মলমপার্টির সদস্যদের অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা পুলিশের নজরদারি বৃদ্ধি করা ছিলে।

পরিশেষে বলাই যায়, ময়মনসিংহে ঈদ আগমনী ও ঈদের পরবর্তী দিন পর্যন্ত আইন শৃংখলা ছিলো জনগনের সহনীয় পর্যায়ে ও পুলিশী নিরাপত্তার বলয়ে মধ্যে।