সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

মামলা করায় আদালত প্রাঙ্গনে বাদীর উপর আসামীদের হামলা শিকার ব্যবসায়ী মাহবুব

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ মে, ২০২৫, ৫:৪৫ পিএম
মামলা করায় আদালত প্রাঙ্গনে বাদীর উপর আসামীদের হামলা শিকার ব্যবসায়ী মাহবুব

পতেংগার আলোচিত রফিক হত্যা মামলার ৬ নং আসামি আলাউদ্দিন ওরফে গাভী আলাউদ্দিন সহ তার ভাই ভাতিজারা মিলে রফিক হত্যা মামলার রাজসাক্ষী ব্যবসায়ী মাহবুব এর উপর আদালত প্রাঙ্গণে হামলা চালায়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সালে পতেঙ্গায় নৃশংস ভাবে হত্যা হয় রফিক নামে এক নিরীহ ব্যবসায়ী ইলিয়াস ওরফে গাভী ইলিয়াসকে। প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন মৃত রফিক এর বড় ভাই আব্দুর নুর। মামলার রাজ সাক্ষী মাহবুব হওয়ায় তাকে মামলার সাক্ষী না দেওয়ার জন্য একের পর এক নৃশংস অত্যাচার করে আলাউদ্দিন বাহিনী।

গত ২৯-০৪-২৫ ইং তারিখে মাহাবুব পরিচালিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালায় আলাউদ্দিন সহ রফিক হত্যা মামলার সাথে জড়িত কয়েকজন। এই ঘটনায় গত ০১-০৫-২৫ ইং তারিখের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গাভী আলাউদ্দিন সহ ৫/৭ জনকে আসামি করে পতেঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করে ব্যবসায়ী মাহবুব।

ঘটনার বিষয়ে মাহবুব বলেন আদালতে মামলার শুনানি’র জন্য আমি হাজির হই এবং দেখি আসামিরা জামিন পায়। আদালত প্রাঙ্গণে তারা আমাকে দেখে চড়াও হয় এবং কেন রফিক হত্যা মামলায় রাজ সাক্ষী এবং কেন আমি তাদের নামে মামলা করেছি এ কারণে গাভি আলাউদ্দিন, নুরুল হুদা, টিশান সহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে চড় থাপ্পড় কিল ঘুসি মারতে থাকে এবং তারা বলে মামলা এবং রফিক হত্যার সাক্ষী থেকে যদি আমি বিরত না থাকি তাহলে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলবে অথবা আমার বাচ্চাকে গুম করে ফেলবে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আমার উকিলের পরামর্শে আমি কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি, আমি সত্যিই প্রাণ সংশয়ে রয়েছি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এ ঘটনার বিষয়ে আলাউদ্দিনের সাথে মুঠো ফোনে কথা বললে তিনি জানান, আদালতে গিয়েছি এটা সত্য কিন্তু এ ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই আলাউদ্দিন মূলত মাদক ব্যবসায়ী। পতেঙ্গার মাদকসম্রাট হিসেবেও অনেকে চিনে তাকে। তার নামে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় রয়েছে একাধিক মাদক মামলা, চাঁদাবাজি মামলা সহ রয়েছে হত্যা মামলাও।

এদিকে কোর্ট প্রাঙ্গনে ব্যবসায়ী মাহবুবের উপর হামলার লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম। তিনি বলেন, তদন্ত করে এ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ময়মনসিংহে এসআরবি-১৪-এর অভিযান, ১০৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:২৪ পিএম
ময়মনসিংহে এসআরবি-১৪-এর অভিযান, ১০৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে অভিযান চালিয়ে ১০৩ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১৪)। এ ঘটনায় মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদক কেনাবেচায় ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

এসআরবি-১৪ সূত্রে জানা যায়, গত ১ নভেম্বর দুপুর ২টা ২৫ মিনিটের দিকে গৌরীপুর উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নের পোদ্দারপাড়া বণিক বাড়ির একটি টিনশেড ঘরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সিপিএসসি, এসআরবি-১৪, ময়মনসিংহের একটি আভিযানিক দল এ অভিযান চালায়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দুলাল চন্দ্র বণিক (৫৫) ও মো. হাতিম মিয়া (৪২)। তাঁদের দুজনেরই বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্যামগঞ্জ বাজার এলাকায় অবস্থানকালে আভিযানিক দল জানতে পারে, পোদ্দারপাড়া বণিক বাড়ির দুলাল চন্দ্র বণিকের ঘরে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য কেনাবেচা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

পরে উপস্থিত লোকজন ও সাক্ষীদের সামনে তল্লাশি চালিয়ে ছয়টি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে ১০৩ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক কেনাবেচায় ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার দুজন পরস্পর যোগসাজশে বিক্রির উদ্দেশ্যে গাঁজাগুলো নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসআরবি-১৪ সূত্র আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এজাহার দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধার করা গাঁজা ও জব্দ করা আলামতসহ তাঁদের গৌরীপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

মিঠামইনে ঘাগড়া আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্যান্টিন উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

মোক্তার হোসেন গোলাপ, হাওরাঞ্চল।। প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৫ পিএম
মিঠামইনে ঘাগড়া আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্যান্টিন উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে নতুন ক্যান্টিনের উদ্বোধন এবং সবুজ ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফিতা কেটে ক্যান্টিনের উদ্বোধন করেন মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ইউএনও মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই বিদ্যালয়ে ক্যান্টিন চালু করা হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী না খেয়ে ক্ষুধার্ত অবস্থায় সারাদিন ক্লাস করে। আবার বিদ্যালয় থেকে বাজারে যেতে সময় লাগে। এসব অসুবিধা দূর করতেই বিদ্যালয়ের ভেতরে ক্যান্টিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এর আগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন অতিথিরা। এ সময় বিদ্যালয়ের আঙিনায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়।

পরে বিদ্যালয়ের হলরুমে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট কাসারুল আলম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মিজানুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহিম মিয়া, সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শামসুজ্জামান ভূঁইয়া রিটু ও ওমর ফারুক ভূঁইয়া, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, অভিভাবক সদস্য ধন মিয়া, অ্যাডভোকেট এরশাদুল হক, উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজিত চন্দ্র বিশ্বাস। এ ছাড়া শিক্ষার্থী অর্পিতা সূত্রধরসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সভায় অংশ নেন।

বক্তারা বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পুষ্টিকর খাবার এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়ে ক্যান্টিন চালু ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং বিদ্যালয়ের ক্যান্টিন পরিদর্শন করেন।

ব্রিজের নিচে ড্রামে নারীর লাশ, পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে এলো হত্যার রহস্য

বদরুল আমীন, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম
ব্রিজের নিচে ড্রামে নারীর লাশ, পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে এলো হত্যার রহস্য

শেরপুরে ব্রিজের নিচে ড্রামে পড়ে ছিল অজ্ঞাতনামা নারীর লাশ। ঘটনা ২২ অক্টোবর। খবর পৌছে যায় পুলিশের কাছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ড্রাম খুলে অজ্ঞাতনামা এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। পিবিআই শেরপুর জেলার ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিকটিমের পরিচয় শনাক্ত করে। ঘটনায় ভিকটিমের ফুফু বাদী হয়ে স্বামী সাইফুল ইসলামসহ আসামীদের বিরুদ্ধে শ্রীবরদী থানার মামলা নং-১০, তারিখ: ২৩/১০/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ; ধারা: ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোডে মামলা দায়ের করেন। পিবিআই শেরপুর জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন। এর পরেই মামলার তদন্তকারী অফিসার চমক দেখাতে শুরু করেন।

পিবিআই শেরপুরের পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মাহবুবুর রহমান মামলাটি তদন্ত করছেন। পিবিআই এর তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য-প্রযুক্তি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৯অক্টোবর পঞ্চগড় জেলার বোদা থানাধীন দিঘলগ্রাম থেকে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে মোঃ নুর ইসলাম ওরফে বাবু (৪৪)-কে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩০অক্টোবর ঢাকার উত্তরখান এলাকা থেকে আসামী মোঃ সজল (৪৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে গত ০১/১১/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে একই এলাকা থেকে আসামী মোঃ নুর মোহাম্মদ ওরফে গোসা ওরফে বুশা (৪৪) এবং মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমা (৪৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে নুর ইসলাম বাবু বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

পিবিআই এর তদন্তে জানা যায়, ভিকটিম ঝিনুক আক্তার টঙ্গী এলাকায় পার্লারে কাজ করত। ঘটনার দিন গ্রেফতারকৃতরা তাকে ঢাকার উত্তরখান এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে অনৈতিক কাজের পারিশ্রমিকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমা বটি দিয়ে ভিকটিমকে আঘাত করে। পরবর্তীতে অন্য ঘাতক চক্রের সহযোগিতায় আসামী ফাতেমা ভিকটিমকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যার পর তারা মরদেহ প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে অজ্ঞাতনামা গাড়িযোগে শেরপুরের শ্রীবরদী থানাধীন কুড়িকাহনিয়া ব্রিজের নিচে ফেলে রেখে যায়। ভিকটিমের স্বামীর সংশ্লিষ্টতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায় নাই। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি-না, তা খতিয়ে দেখা পিবিআই। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।