মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

ময়মনসিংহে কোতোয়ালী মডেল থানার অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৩:২৫ পিএম
ময়মনসিংহে কোতোয়ালী মডেল থানার অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার

ইং ২২ ডিসেম্বর ২০২৪ খ্রিঃ তারিখ পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, ইনচার্জ, ৩ নং পুলিশ ফাড়ির নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মোঃ নাহিদ পারভেজ, এসআই (নিঃ) মোঃ সোহেল রানা, এএসআই(নিঃ) রাসেল ইয়ার খান, এটিএসআই/২২১ কবিরুল হাসান, কং/৫৩৯ শাহজাহান, কং/৯৫৫ আনিছুর রহমান, কং/১০০৯ আরিক এবং নারী বং/১৬৬৩ ইয়াসমিন আক্তার খানা এলাকায় বিশেষ অভিযান ডিউটি পরিচালনাকালে রাত ২৩:৪৫ ঘটিকার সময় ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানাধীন মাসকান্দা ফিসারী এলাকায় ময়মনসিংহ টু ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কে আকস্মিক চেকপোষ্ট ডিউটি করাকালে ০৩ জন মোটরসাইকেল আরোহী পুলিশের চেকপোষ্ট দেখিয়া মোটরসাইকেল রাস্তায় ফেলিয়া মাসকান্দা মৎস বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের ওয়াল টপকাইয়া ভিতরে ঢুকে যায়। তখন আভিযানিক দলের সন্দেহ হইলে মাসকান্দা মৎস বীজ উৎপাদন কেন্দ্রে ঢুকে তাহাদের অবস্থান নির্ণয় করাকালে মৎস বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের পূর্ব দক্ষিনে স্টাফদের থাকার কামরা হইতে ০৪ জন ব্যক্তিকে দৌড়াইয়া পালাইয়া যাইতে দেখা যায়। তখন পার্শ্ববর্তী রুমের অস্থায়ী গার্ড হৃদয় এর স্ত্রী ফারজানা শান্তা (২২) কে ধৃত করা হয়। ঘটনাস্থলে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ধৃত আসামী ফারজানা শান্তা (২২) কে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে স্বীকার করে যে, তাহার স্বামী হৃদয়, তন্ময় সহ আরোও অজ্ঞাতনামা ১/২ জন মিল স্টাফদের রুমে ঢুকেছিল।

 

তখন ধৃত ফারজানা শান্তা (২২) কে সাথে নিয়ে স্টাফদের থাকার রুম এবং তার নিজের কামরা তল্লাশী করিয়া ১। একটি 9MM বিদেশী পিঞ্জল, যার বডিতে M19911A U.S.ARMY এবং NO 87107, MADE IN JAPAN লেখা, ২। একটি 32 কাঠের বাটযুক্ত বিদেশী পুরাতন পিস্তল এবং একটি পুরাতন ম্যাগজিন, যার বডিতে অস্পষ্ট লেখা, ৩। একটি NITRO NY200 Athena এয়ারগান, যাহার সিরিয়াল নং-BCO7461A1 সহ সীসা গুলি ১৩০ রাউন্ড, ৪। একটি টেলিস্কোপ, যাহার গায়ে Leveling position লেখা, ৫। একটি সামুরাই, যাহা কালো কভারযুক্ত লম্বায় ১৭ ইঞ্চি, ৬। একটি স্টীলের সুইচ গিয়ার চাকু, যাহা লম্বায় ১০ ইঞ্চি সহ বিভিন্ন সাইজের সর্ব মোট ০৬টি চাকু,৭। ০২টি কালো হলুদ রংয়ের বাটযুক্ত চাইনিজ কুড়াল, যা লম্বায় ১৪ ইঞ্চি, ৮। ০২টি কাঠের হাতলযুক্ত চাপাতি দৈর্ঘ্য যথাক্রমে ১৫ ইঞ্চি ও ১২ ইঞ্চি, ৯। ১০ টি রামদা যা বাটসহ লম্বায় যথাক্রমে ৩৪,৩০,২৭,৩০,৩১,২৯,২৯,৪২,৩০ ও ২৬ ইঞ্চি, ১০। ০১টি বড় ছুরি যা বাটসহ লম্বায় ২৯ ইঞ্চি, ১১। একটি ঢেগার, যা লম্বায় ৩০ ইঞ্চি, ১২। ০৩ টি দেশীয় তৈরী চাইনিজ কুড়াল যা বাটসহ লম্বায় ২৩,২৬ ও ২৬ ইঞ্চি, ১৩। ০৬টি IICE BARE ITALL VODKA, প্রতিটি ৭৫০ মিলি, সর্ব মোট (৭৫০X৬)=৪৫০০ মিলি, মূল্য অনুমান (৬১৫০০০) =৩০,০০০/- (ত্রিশ হাজার) টাকা, ১৪। ০৪টি ROYAL STAG DELUXE WHISKY, যাহা প্রতিটি ৭৫০ মিলি, সর্ব মোট (৭৫০X৪)=৩০০০ মিলি, মূল্য অনুমান (৪X৪০০০) =১৬,০০০/-(ষোল হাজার) টাকা, ১৫। ০৭টি ROYAL STAG DELUXE WHISKY, যা প্রতিটি ৩৭৫ মিলি, সর্ব মোট (৩৭৫X৭)=২৬২৫ মিলি, মূল্য অনুমান (৭১২০০০) =১৪,০০০/-(চৌদ্দ হাজার) টাকা, ১৬। ০৮টি officer’s choice BLUE PURE GRAN WHISKY, যা প্রতিটি ৩৭৫ মিলি, সর্ব মোট (৩৭৫১৮)=৩০০০ মিলি, মূল্য অনুমান (৮১২০০০) =১৬,০০০/-(ষোলহাজার) টাকা, ১৭। ৩৫টি ROYAL STAG DELUXE WHISKY, প্রতিটি ১৮০ মিলি, সর্ব মোট (১৮০X৩৫)=৬৩০০ মিলি, মূল্য অনুমান (৩৫X১০০০)=৩৫,০০০/-(পঁয়ত্রিশ হাজার) টাকা, ১৮। ০৫ পিস PHENSEDYL, যার গায়ে ইংরেজীতে Triprolidine Hydrochloride & codei phosphate Cough syrup লেখা, যা প্রতিটি ১০০ মিলি, সর্ব মোট (৫X১০০)=৫০০ মিলি, মূল্য অনুমান (৫১৩০০০) =১৫,০০০/- (পনের হাজার) টাকা পাওয়া যায় যা সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিধি মোতাবেক অদ্য ২৩ ডিসেম্বর ০১: ২৫ ঘটিকায় জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মাদক দ্রব্যের সর্বমোট আনুমানিক মূল্য ১,২৬,০০০/- (এক লক্ষ ছাব্বিশ হাজার) টাকা।

ধৃত ফারজানা শান্তা (২২) কে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় তার স্বামী পলাতক মোঃ হৃদয় মিয়া (২৪), পিতা-মোঃ কাজল মিয়া, মাতা-রানী বেগম, সাং-চর বাঘাদাইরা বেপারী বাড়ী, ডাকঘর-সেনবাড়ী, থানা-ত্রিশাল, এপি/সাং-মাসকান্দা মৎস বীজ উৎপাদন কেন্দ্র, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ এবং পলাতক মোঃ তন্ময় (২৫), পিতা-সোহরাব উদ্দিন, মাতা-রানী বেগম, সাং-বলাশপুর নয়াপড়া, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহদ্বয় এবং অজ্ঞাতনামা ১/২ জান আসামীদের নিয়া মৎস খামারে চাকুরীর পাশাপাশি অস্ত্র ক্রয় বিক্রয় সহ নেশাজাতীয় মাদক দ্রব্য ক্রয় বিক্রয় করিনা থাকে। ধৃত এবং পলাতক আসামীরা পরস্পর যোগসাজোসে অবৈধভাবে বিদেশী/দেশী আগ্নেয়াস্ত্র এবং সামুরাই সুইচগিয়ার চাকু, চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি, রামদা, ছুড়ি, ঢেগার, দেশীয় চাইনিজ কুড়াল হেফাজতে রাখিয়া ১৮৭ সনের Arms Act এর 19-A/19-(F) ধারায় এবং অবৈধভাবে মাদক দ্রব্য হেফাজতে রাখিয়া ২০১৮ সনের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের ৩৬(১) এর ২৪ (খ)/১৪(খ)/৩৮/৪১ ধারায় অপরাধ করায় আসামীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকের পৃথক দুইটি মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলা দুইটি তদন্তাধীন।

ময়মনসিংহে কোম্পানির ডাটা হ্যাক করে ১০ হাজার ডলার দাবি, গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
ময়মনসিংহে কোম্পানির ডাটা হ্যাক করে ১০ হাজার ডলার দাবি, গ্রেপ্তার ১

ময়মনসিংহে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত (ডাটা) হ্যাক করে ১০ হাজার মার্কিন ডলার দাবির অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নগরীর কাচিঝুলি হামিদ উদ্দিন রোড এলাকা থেকে মো. ইয়ানাছ মাহমুদ পিয়াল (৩০) নামের ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, KMF International Company Ltd.-এর ময়মনসিংহ শাখার গুরুত্বপূর্ণ ডাটা হ্যাক করার পর তা ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ১০ হাজার মার্কিন ডলার দাবি করা হয়। এ অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে পরিশোধের জন্য বলা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার পর পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান শাকিলের দিকনির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তকে শনাক্ত করতে কাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরে টানা তিন দিন অভিযান চালিয়ে কাচিঝুলি হামিদ উদ্দিন রোড এলাকা থেকে পিয়ালকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, এ সময় কথিত হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ডাটা হ্যাকিংয়ের ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বিটিসিএলে চার গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ, এইচআর কর্মকর্তা মালেকের বিরুদ্ধে পদায়ন-বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩০ পিএম
বিটিসিএলে চার গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ, এইচআর কর্মকর্তা মালেকের বিরুদ্ধে পদায়ন-বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) জিএম (মানবসম্পদ-২) মো. আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, পদায়ন ও বদলি-বাণিজ্য এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব ও সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।

অভিযোগের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো একই কর্মকর্তা একসঙ্গে চারটি রাষ্ট্রীয় গাড়ি ব্যবহার করছেন। বিটিসিএল-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ঢাকা মেট্রো-চ-৫৬-১৪২১ নম্বরের একটি হাইস মাইক্রোবাস এবং তিনটি পাজেরো জিপ তার ব্যবহারে রয়েছে। এসব গাড়ির ব্যবহার ও বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত বিধি ও প্রটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

পদায়ন ও বদলি নিয়ে প্রশ্ন

বিটিসিএলের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পদায়নের কথা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি পদায়ন নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

সূত্রের দাবি, কিছুদিন আগে সাদিয়া সাম্মাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ডিজিএম (সুইচ) এবং মো. বিপুল হোসেনকে কনিষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপক পদে পদায়ন করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিপুল হোসেনকে আরও কয়েকটি অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ায় ডিটিআর দক্ষিণের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্বে থাকার সুযোগে বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ১২তম গ্রেডের বিলোপযোগ্য পদে থাকা কয়েকজন বিতর্কিত নেতাকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ।

১৫ বছর ধরে একই এলাকায় প্রভাব?

অভিযোগকারীদের দাবি, গত প্রায় ১৫ বছর ধরে ঘুরেফিরে গেন্ডারিয়া, চকবাজার ও গুলিস্তান এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অবস্থান ধরে রেখেছেন আব্দুল মালেক। রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মধ্যেও একটি বিশেষ সিন্ডিকেটের সহায়তায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ একাধিক দায়িত্বে প্রভাব ধরে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর সম্পত্তি ও ইমারত শাখার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে দায়িত্ব পরিবর্তনের পরও তার প্রভাব কমেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া পূর্বে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনকালে মেইনটেন্যান্স ও সংস্কারকাজের নামে ভুয়া বিল প্রস্তুত এবং কাজ না করেই অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও আর্থিক হিসাবের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিপুল সম্পদের অভিযোগ

আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। ঢাকার গ্রিন রোডের ১৪ গ্রিন স্কয়ার উদয়ন গ্রীন ভবনের দ্বিতীয় তলায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা বলে দাবি করা হলেও সম্পত্তিটির মালিকানা, ক্রয়মূল্য ও অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো স্বাধীন নথি এ প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তার আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দলিল পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

১,৪৫৫ জনের পদায়ন নিয়েও অভিযোগ

বিটিসিএলের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অর্গানোগ্রাম অনুসারে ১ হাজার ৪৫৫ জনকে পদায়নের কথা থাকলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ডিএমডি হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে যোগসাজশ করে শূন্য পদে পদায়নের পরিবর্তে প্রায় ৫০০ কর্মচারীকে ঢাকায় সংযুক্ত রাখা হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, এ সময় প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে উৎকোচ নেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য আর্থিক নথি বা স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ছাড়া পদায়নের আগে প্রস্তুত করা একটি খসড়া তালিকা প্রায় এক মাস স্বাক্ষরবিহীন অবস্থায় ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই তালিকার অনলাইন কপি এখনও সংরক্ষিত রয়েছে।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

বিটিসিএলের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এতগুলো গুরুতর অভিযোগ ওঠায় বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পদায়ন ও বদলির নথি, গাড়ি বরাদ্দ ও ব্যবহারসংক্রান্ত রেকর্ড, আর্থিক হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে বিটিসিএলের জিএম (মানবসম্পদ-২) মো. আব্দুল মালেকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

ময়মনসিংহে ৯ বছরের মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষককে ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২৭ পিএম
ময়মনসিংহে ৯ বছরের মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষককে ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভাবখালী ইউনিয়নে ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে একই প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক হলেন সারোয়ার হোসেন। তিনি সদর উপজেলার ১২ নম্বর ভাবখালী ইউনিয়নের ল্যাংটার মোড় এলাকায় অবস্থিত তাহফিজুল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিক্ষক বলে জানা গেছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসাটির নাজেরা বিভাগের ওই ৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থীকে সম্প্রতি নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী শিশুটির বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ২ নম্বর বৈলর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উজান বৈলর এলাকায়।

এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়তে গিয়ে শিশুটি কীভাবে এমন নির্যাতনের শিকার হলো এবং বিষয়টি আগে কেন প্রতিরোধ করা গেল না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মাদ্রাসাটিতে শিশুদের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সারোয়ার হোসেনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা, শিশুটির চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য এবং আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।