মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

তদন্তের দাবী স্থানীয়দের

আ’লীগ নেতারা আত্মগোপনে; থামছে না কর্মীদের হুংকার!

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ২:৫৬ এম
আ’লীগ নেতারা আত্মগোপনে; থামছে না কর্মীদের হুংকার!

সারাদেশের আওয়ামী লীগ নেতারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে ঠিক তেমনি পালিয়ে বা আত্মগোপনে রয়েছে ময়মনসিংহের আওয়ামী লীগের নেতারাও। তবে বীর দর্পে তৃণমূলের কর্মীরা দিয়ে যাচ্ছে হুংকার। যেন শুধু অপেক্ষার পালা এইতো চলে আসছে সৈরাচার ফ্যাসিস সরকারের শেখ হাসিনা।

আবার অনেকেই ঘাপটি মেরে থেকে আধিপত্য বিস্তার লাভের আশায় অন্যান্য দলের নেতাদের সাথে চলছে লেয়াজু ভিত্তিক রাজনীতির নামে মাঠে থাকার চেষ্টায়। সুযোগ পেলেই রাজনীতির বিষাক্ত ছোবলের শিকার হতে পারে ভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা।

সুত্র মতে, পালিয়ে বা আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাদের ইশারায় রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার কৌশল হিসেবে নতুন নতুন সামাজিক সংগঠনের নাম আত্মপ্রকাশ পাচ্ছে। সেই সংগঠনগুলোর উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতায় বিএনপি’র নেতাদের প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি বা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত রাখার টার্গেট রয়েছে আওয়ামী লীগের বলিষ্ঠ শক্তিধর তৃনমুল নেতাকর্মীদের। যেমনটি হয়েছে আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস সরকারের আমলে হাইব্রিড নেতাদের ক্ষেত্রে।

সরকার পতনের পর ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতারা আত্মগোপনে থাকলেও ব্যবসা বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী হাইব্রিডরা।শেখ হাসিনার ফ্যাসিস সরকারের শাসনামলে গৃহপালিত বিরোধী দল জাতীয় পার্টিকে হাতে রেখে বিএনপি, জামায়াতের নেতাদের দমন নিপীড়ন করতে একের পর এক জ্বালাও পোড়াও নাশকতার মামলা দিয়ে ধমিয়ে রেখেছেন।

বিএনপি জামায়াতের নেতারা তখন মাঠে নামতে না পারলেও আওয়ামী লীগ তৃনমুলের নেতাকর্মীরা বিএনপি জামায়াতের ছদ্মবেশে জ্বালাও পোড়াও অগ্নিসংযোগ করে নাশকতার মামলা ঠুকে দিত বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীদের নামে।

আবার অনেক সময় ধরা পড়ে নাশকতার মামলা হলে আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতারা মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠতেন। এক্ষেত্রে অনেক পাতি নেতারা বলির পাঠাও হয়েছে।

জমিন তদন্তে উঠে এসেছে, ময়মনসিংহ বিভাগের বেশ কিছু এলাকায় আত্মপ্রকাশ করেছে “বন্ধু মহল” বন্ধু ক্লাব, জীবন গঠন, নতুন জীবন নামের সংগঠন। মুলত এই সংগঠনগুলোকে সামাজিক সংগঠন হিসেবে দাবী করলেও এরা আওয়ামী লীগের তৃনমুল পর্যায়ের নেতাকর্মী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব নামের সংগঠনগুলোর কাজ উদ্দেশ্য প্রণোদিত। কেবলই আওয়ামী রাজনীতির ভিত শক্তিশালী করার কৌশল মাত্র।

ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলা চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়নের রাজগঞ্জ বাজারে সাবেক এমপি মোহিত উর রহমান শান্ত’র অনুসারী অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মোঃ সিদ্দিকুর রহমান শাহিন, গফরগাঁওয়ের সাবেক এমপি ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল’র অনুসারী অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এম এ কাউসার, সাবেক এমপি শরীফ আহমেদের অনুসারী সাখাওয়াত (বন্দুক সাখা) নকলায় শামিম আহম্মেদ (পিস্তল শামি) মুক্তাগাছা কে এম খালিদের অনুসারী (লেংড়া শামিম)সহ তৃণমূল পর্যায়ের আওয়ামী কিশোর গ্যাংদের সদস্য করে “বন্ধু মহল” বন্ধু ক্লাব, জীবন গঠন নামের সংগঠনের আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। সংগঠনে উদ্বোধনে অতিথি হিসেবে টার্গেট করা হচ্ছে বিএনপি নেতাদের। তবে বেশ কয়েকটি সংগঠনের অনুষ্ঠানের দাওয়াত নাখোশ করেছে বিএনপি নেতারা।

ময়মনসিংহ সদরের চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়নের একাধিক সুত্র জানায়, সদর ৪ আসনের প্রভাবশালী সাবেক এমপির অনুসারী সামান্তা এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী মোঃ সিদ্দিকুর রহমান শাহিন শেখ হাসিনার ফ্যাসিস সরকারের আমলে ইট, পাথর, বালি ব্যবসার আড়ালে ঘরে তুলে কিশোর গ্যাং। বিএনপি নেতাকর্মীদের নাশকতা মামলায় ফাঁসাতে নিজেই নাশকতা করে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে ত্রাসের রামরাজত্ব কায়েম করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সুত্র জানায়, বিএনপি নেতাদের ফাঁসাতে মোঃ সিদ্দিকুর রহমান শাহিন নাশতায় অংশ গ্রহনের কারনে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা রুজু হয়। পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের হাত ধরে সাবেক এমপি মোহিত উর রহমান শান্ত’র হাতে ফুল দিয়ে চার্জশিট থেকে নাম বাদ দিতে জোড় তদবির করেন।

ফ্যাসিস সরকার পতনের সাথে সাথে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিজেকে আবারও বিএনপি মতাদর্শী হিসেবে দাবী করেন। এতে স্থান না পেয়ে সামান্তা এন্টারপ্রাইজ এবং বন্ধু ক্লাবের আত্মপ্রকাশ করে ব্যাপক জাঁকযমক আয়োজনে তা উদ্বোধন করে।

অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাকর্মীরা সাড়া না দেওয়ায় প্রধান অতিথি চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব ফারুকুল ইসলাম রতনের উপস্থিতিতে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. ফয়সাল আহমেদ উদ্বোধন করেন। রাতে আয়োজন করা হয় বাউল গানের নামে কনসার্ট।

স্থানীয়রা জাতীয় সেবা ৯৯৯ এবং কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশকে অবগত করলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ। এসময় পুলিশ কনসার্ট বন্ধের নির্দেশ দিলেও তা উপেক্ষা করে অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় মোঃ সিদ্দিকুর রহমান শাহিন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিস সরকারের পতনের পর ময়মনসিংহে ভয়ংকর খলনায়ক “আ”লীগ নেতা আব্দুল মজিদ” শিরোনামে বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে স্থানীয় এক সাংবাদিককে সাহেব কাচারি বাজারে দেখামাত্র প্রকাশ্য উঠিয়ে নিয়ে মারধরের হুমকি প্রদান করে। পরে স্থানীয় সাংবাদিক ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডি নং-৩৯১ তারিখ ০৩/০৯/২০২৪ইং।

এর আগে “নিজের চরকায় তৈল দাও” শিরোনামে একটি স্কুল, মাজারের অনিয়ম দুর্নীতি ও এলাকায় চুরি ছিনতাই চাঁদাবাজি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকের পথরোধ করে তার লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে হামলা করে হাত পা গুড়িয়ে দেয়। কোতোয়ালি মডেল থানা মামলা নং-৯৮(৩)২০২১ইং।

চলমান…।

বিটিসিএলে চার গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ, এইচআর কর্মকর্তা মালেকের বিরুদ্ধে পদায়ন-বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩০ পিএম
বিটিসিএলে চার গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ, এইচআর কর্মকর্তা মালেকের বিরুদ্ধে পদায়ন-বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) জিএম (মানবসম্পদ-২) মো. আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, পদায়ন ও বদলি-বাণিজ্য এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব ও সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।

অভিযোগের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো একই কর্মকর্তা একসঙ্গে চারটি রাষ্ট্রীয় গাড়ি ব্যবহার করছেন। বিটিসিএল-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ঢাকা মেট্রো-চ-৫৬-১৪২১ নম্বরের একটি হাইস মাইক্রোবাস এবং তিনটি পাজেরো জিপ তার ব্যবহারে রয়েছে। এসব গাড়ির ব্যবহার ও বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত বিধি ও প্রটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

পদায়ন ও বদলি নিয়ে প্রশ্ন

বিটিসিএলের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পদায়নের কথা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি পদায়ন নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

সূত্রের দাবি, কিছুদিন আগে সাদিয়া সাম্মাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ডিজিএম (সুইচ) এবং মো. বিপুল হোসেনকে কনিষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপক পদে পদায়ন করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিপুল হোসেনকে আরও কয়েকটি অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ায় ডিটিআর দক্ষিণের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্বে থাকার সুযোগে বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ১২তম গ্রেডের বিলোপযোগ্য পদে থাকা কয়েকজন বিতর্কিত নেতাকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ।

১৫ বছর ধরে একই এলাকায় প্রভাব?

অভিযোগকারীদের দাবি, গত প্রায় ১৫ বছর ধরে ঘুরেফিরে গেন্ডারিয়া, চকবাজার ও গুলিস্তান এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অবস্থান ধরে রেখেছেন আব্দুল মালেক। রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মধ্যেও একটি বিশেষ সিন্ডিকেটের সহায়তায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ একাধিক দায়িত্বে প্রভাব ধরে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর সম্পত্তি ও ইমারত শাখার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে দায়িত্ব পরিবর্তনের পরও তার প্রভাব কমেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া পূর্বে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনকালে মেইনটেন্যান্স ও সংস্কারকাজের নামে ভুয়া বিল প্রস্তুত এবং কাজ না করেই অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও আর্থিক হিসাবের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিপুল সম্পদের অভিযোগ

আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। ঢাকার গ্রিন রোডের ১৪ গ্রিন স্কয়ার উদয়ন গ্রীন ভবনের দ্বিতীয় তলায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা বলে দাবি করা হলেও সম্পত্তিটির মালিকানা, ক্রয়মূল্য ও অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো স্বাধীন নথি এ প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তার আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দলিল পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

১,৪৫৫ জনের পদায়ন নিয়েও অভিযোগ

বিটিসিএলের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অর্গানোগ্রাম অনুসারে ১ হাজার ৪৫৫ জনকে পদায়নের কথা থাকলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ডিএমডি হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে যোগসাজশ করে শূন্য পদে পদায়নের পরিবর্তে প্রায় ৫০০ কর্মচারীকে ঢাকায় সংযুক্ত রাখা হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, এ সময় প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে উৎকোচ নেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য আর্থিক নথি বা স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ছাড়া পদায়নের আগে প্রস্তুত করা একটি খসড়া তালিকা প্রায় এক মাস স্বাক্ষরবিহীন অবস্থায় ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই তালিকার অনলাইন কপি এখনও সংরক্ষিত রয়েছে।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

বিটিসিএলের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এতগুলো গুরুতর অভিযোগ ওঠায় বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পদায়ন ও বদলির নথি, গাড়ি বরাদ্দ ও ব্যবহারসংক্রান্ত রেকর্ড, আর্থিক হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে বিটিসিএলের জিএম (মানবসম্পদ-২) মো. আব্দুল মালেকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

ময়মনসিংহে ৯ বছরের মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষককে ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২৭ পিএম
ময়মনসিংহে ৯ বছরের মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষককে ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভাবখালী ইউনিয়নে ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে একই প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক হলেন সারোয়ার হোসেন। তিনি সদর উপজেলার ১২ নম্বর ভাবখালী ইউনিয়নের ল্যাংটার মোড় এলাকায় অবস্থিত তাহফিজুল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিক্ষক বলে জানা গেছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসাটির নাজেরা বিভাগের ওই ৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থীকে সম্প্রতি নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী শিশুটির বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ২ নম্বর বৈলর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উজান বৈলর এলাকায়।

এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়তে গিয়ে শিশুটি কীভাবে এমন নির্যাতনের শিকার হলো এবং বিষয়টি আগে কেন প্রতিরোধ করা গেল না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মাদ্রাসাটিতে শিশুদের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সারোয়ার হোসেনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা, শিশুটির চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য এবং আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

শাহজালাল বিমানবন্দরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, আটক ৪০ ভবঘুরে ও ভিক্ষুক

রাকিবুল হাসান আহাদ, বিশেষ প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫০ পিএম
শাহজালাল বিমানবন্দরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, আটক ৪০ ভবঘুরে ও ভিক্ষুক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সংলগ্ন এলাকায় প্রবাসী ও বিদেশি যাত্রীদের হয়রানি বন্ধ এবং যাত্রীসেবার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে বিমানবন্দর থানা পুলিশ। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল থেকে পরিচালিত এ অভিযানে ৪০ জন ভবঘুরে ও ভিক্ষুককে আটক করা হয়েছে।

বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার জানান, বিমানবন্দর গোলচত্বর, বিআরটিএ স্টেশন, রেলওয়ে স্টেশন, পুলিশ বক্স এলাকা, মূল প্রবেশপথ এবং ভিভিআইপি ও ভিআইপি সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাজুড়ে একযোগে অভিযান চালানো হয়।

আটক ৪০ জনের মধ্যে ১৫ জন শিশু, ২ জন নারী এবং ২৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ রয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুদের মিরপুরস্থ শিশু-কিশোর আশ্রয়কেন্দ্রে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে স্পেশাল কোর্টে সোপর্দ করা হচ্ছে।

ওসি কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, বিমানবন্দরে আগত প্রবাসী ও আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য ভবঘুরে ও ভিক্ষুকদের উপদ্রব দীর্ঘদিন ধরে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বিশেষ নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একই উদ্দেশ্যে গত কয়েকদিনের অভিযানে আরও ২৮৮ জনকে আটক করা হয়েছিল। সর্বশেষ ৪০ জনসহ এ পর্যন্ত মোট ৩২৮ জন ভবঘুরে ও ভিক্ষুককে আইনের আওতায় এনে স্পেশাল কোর্ট ও আশ্রয়কেন্দ্রে সোপর্দ করা হয়েছে।

বিমানবন্দরের সার্বিক পরিবেশ ও যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সিসিটিভি নজরদারিও রয়েছে। বিমানবন্দর এলাকায় এ ধরনের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।