বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ময়মনসিংহে আসামি ছিনতাই: পুলিশের ওপর হামলা, ৫ সদস্য গুরুতর আহত

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:১৯ এম
ময়মনসিংহে আসামি ছিনতাই: পুলিশের ওপর হামলা, ৫ সদস্য গুরুতর আহত

ময়মনসিংহ নগরীতে মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়ার সময় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় অন্তত পাঁচ পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নগরীর দিগারকান্দা ফিশারি মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে স্থানীয় রাসেল নামের এক যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে আরিফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা। বর্তমানে রাসেল রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফরিদ আহমদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল মঙ্গলবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তাকে থানায় নেওয়ার পথে তার পিতা সাগর আলীর নেতৃত্বে কয়েকশ ব্যক্তি লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা পুলিশ সদস্যদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে হাতকড়াসহ আরিফুলকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

হামলায় এক এএসআইসহ তিন কনস্টেবল ও মোট পাঁচ পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন বলে জানান এসআই ফরিদ আহমদ। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহল দেন।

কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুস সাকিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “কর্তব্যরত পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। এ ঘটনায় নেতৃত্বে থাকা আসামির পিতা সাগর আলীকে আটক করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, ছিনিয়ে নেওয়া আসামিসহ হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শ্যামপুরে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

এম. আনোয়ার হোসেন, ঢাকা।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ২:২৫ পিএম
শ্যামপুরে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

রাজধানীর শ্যামপুর থানা শিক্ষা অফিসের কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। থানা শিক্ষা কর্মকর্তা শাপলা খানমের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, বই বিতরণ-সংক্রান্ত বরাদ্দে অনিয়ম এবং তদন্ত কার্যক্রমে গাফিলতির অভিযোগ এনে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন ২০২৬ তারিখে জেলা শিক্ষা অফিস থেকে শ্যামপুরের দোলাইরপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দিলেও এখন পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, তদন্ত কার্যক্রমে অস্বাভাবিক বিলম্বের কারণে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তদন্ত প্রক্রিয়া ধীরগতিতে পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন ‘স্টার্ট-আপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’ আয়োজনেও সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্যকে প্রধান অতিথি হিসেবে রাখার কথা থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তিন ব্যক্তির পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের সুপারিশ করা হলেও পরবর্তী পর্যায়ে কেবল একজনের অভিযোগ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

এ ছাড়া বছরের পর বছর বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। তারা বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্যামপুর থানা শিক্ষা কর্মকর্তা শাপলা খানম। তিনি বলেন, “আমি সরকারি বিধি-বিধান মেনেই দায়িত্ব পালন করছি। প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে দোলাইরপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রমে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। সরকারি কোনো নির্দেশনা অমান্য করার প্রশ্নই আসে না।”

এ বিষয়ে ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, “শিক্ষা খাতে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। আমার নির্বাচনী এলাকায় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করা বা সরকারি অর্থের অপব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল শিক্ষা খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ময়মনসিংহে অবৈধ সিসা কারখানার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট: ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, কারখানা উচ্ছেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৪:৩০ পিএম
ময়মনসিংহে অবৈধ সিসা কারখানার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট: ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, কারখানা উচ্ছেদ

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চক শ্যামরামপুর এলাকায় পরিবেশের ক্ষতি করে অবৈধভাবে পরিচালিত একটি সিসা কারখানার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ সাব্বির হুসাইনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে দেখা যায়, কারখানাটি পরিবেশগত ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। এছাড়া কারখানার কার্যক্রমের কারণে স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছিল।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৬(গ) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে মোবাইল কোর্টে দায়ের করা দুটি মামলায় দুই ব্যক্তিকে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

এ সময় নদীতীরবর্তী এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে তোলা অস্থায়ী সিসা কারখানাটি উচ্ছেদ করা হয়। পাশাপাশি সিসা গলানোর কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতিও জব্দ করা হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এ ধরনের অবৈধ শিল্পকারখানার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।

ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্বাক্ষর জালিয়াতি চক্রের সদস্য আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্বাক্ষর জালিয়াতি চক্রের সদস্য আটক

ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি জালিয়াতি চক্রের এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদিরের স্বাক্ষর নকল করে জাল দলিল তৈরি করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দলিল নিবন্ধনের সময় নথিপত্র যাচাই করতে গিয়ে বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার জাহিদ হাসান জালিয়াতির বিষয়টি শনাক্ত করেন। সন্দেহ হলে তিনি নথি আরও গভীরভাবে পরীক্ষা করেন এবং একপর্যায়ে অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করেন।

পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আটক ব্যক্তিকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে জালিয়াতি চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।

সাব-রেজিস্ট্রার জাহিদ হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, “দলিল নিবন্ধন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। কোনো ধরনের জালিয়াতি বরদাশত করা হবে না।”

তিনি দলিল নিবন্ধনের সময় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান।