বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

বানিয়াচং থানায় আগুন দিয়ে এসআই সন্তোষকে কিন্তু জ্বালাই দিয়েছিলাম- মাহদী হাসান

হবিগঞ্জ প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:০১ পিএম
বানিয়াচং থানায় আগুন দিয়ে এসআই সন্তোষকে কিন্তু জ্বালাই দিয়েছিলাম- মাহদী হাসান

‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু জ্বালাই দিয়েছিলাম’ বললেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দেওয়া মাহদী হাসান।

আটক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নিতে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দেওয়া মাহদী হাসান ওসির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে এসব কথা বলেন।

হবিগঞ্জে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হাসান ওরফে নয়নকে আটকের ১৫ ঘণ্টা পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের চাপে পুলিশ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এ ঘটনা ঘটে। থানা ঘেরাও করে রাখা ছাত্রনেতাদের সঙ্গে পুলিশের বাগ্‌বিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বানিয়াচং থানায় আগুন দিয়ে এক পুলিশ সদস্যকে পুড়িয়ে হত্যার কথা বলতে শোনা যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতাকে।

এনামুল হাসানকে ছাড়িয়ে নেওয়ার বিষয়ে জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের ভাষ্য, এনামুল একসময় ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও পরে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে নিজেকে জড়ান। আর পুলিশের ভাষ্য, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি এনামুল হাসানকে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শায়েস্তাগঞ্জ থানার পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। এনামুলকে আটকের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলার নেতা-কর্মীরা তাঁর মুক্তির দাবিতে গতকাল দুপুরে থানা ঘেরাও করেন। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী ওসির কক্ষে অবস্থান নেন। তাঁরা দাবি করেন, এনামুল হাসান একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও পরে তিনি জুলাই আন্দোলনে জড়িত হন। তাঁরা এনামুলকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি করেন।

বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম। ওই জায়গা থেকে উনি (ওসি) কোন সাহসে এটা (আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে) বললেন। আমি স্ট্রিকলি এখানে আসছি। আমরা এতগুলা ছেলে ভাইসা আসছে নাকি? মাহদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, হবিগঞ্জ জেলা শাখা সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালামের সঙ্গে মাহদী হাসানের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হচ্ছে। মাহদীকে বলতে শোনা যায়, ‘জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা সরকার গঠন করেছি। এই জায়গায় আপনারা আমাদের প্রশাসনের লোক। আপনারা আমাদের ছেলেদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছেন। আবার আমাদের সঙ্গে বার্গেনিং করছেন। আপনি (ওসি) বলেছেন, “আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে? ”’ একপর্যায়ে মাহদী হাসান ওসিকে বলেন, ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম।

ওই জায়গা থেকে উনি (ওসি) কোন সাহসে এটা (আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে) বললেন। আমি স্ট্রিকলি এখানে আসছি। আমরা এতগুলা ছেলে ভাইসা আসছে নাকি?’

খবর পেয়ে বেলা তিনটার দিকে হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ছুটে যান। তাঁর মধ্যস্থতায় বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এনামুল হাসানকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এ বিষয়ে জানতে তাঁর মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলে তিনি সাড়া দেননি। ক্ষুদেবার্তার জবাবও দেননি।

এ বিষয়ে মাহদী হাসান বলেন, ‘আটক হওয়া ছাত্র নেতা একসময় ছাত্রলীগ করলেও তিনি জুলাই আন্দোলনে আমাদের সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন। শুধু তাঁর অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে আসে।’ মাহদী প্রশ্ন তোলেন, ‘আমাদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে মূল সমন্বয়কারীদের একজন সারজিস আলম। তিনিও তো একসময় ছাত্রলীগ করেছেন। তাহলে তিনিও কি অপরাধী?’ তিনি দাবি করেন, শায়েস্তাগঞ্জ থানার পুলিশ আগেও অপরাধ করেছে তাঁদের তিন নেতা-কর্মীকে আটক করে।

আজ শনিবার সকালে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের বরাত দিয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এনামুল হাসানকে শায়েস্তাগঞ্জ থানা-পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। পরবর্তী সময়ে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর কোনো অপরাধের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর অভিভাবকের জিম্মায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনার বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, ‘এখানে আমাদের কোনো অপরাধ ছিল না। আটকের পর যা হয়েছে, তা দেশবাসী দেখেছেন। সবার হাতে হাতে সে ভিডিও প্রচার হয়েছে। তারাই ভিডিও করেছে, আবার তারাই ছেড়েছে। এ সঙ্গে পুলিশের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কেউ অপরাধ করে থাকলে তাকে শাস্তি পেতেই হবে।’

ওসি আবুল কালাম আজ দুপুরে আরও বলেন, ‘আমরা তাঁকে (এনামুল) বৈষম্যবিরোধী একটি মামলায় সন্দেহভাজন ও ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে আটক করি। ওই দিন রাত বেশি হওয়ায় আমরা যাচাই-বাছাই করতে পারিনি। পরদিন নানাভাবে তথ্য নিয়ে আমরা জানতে পেরেছি, আটক হওয়া ব্যক্তি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। পরে তাঁকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

ময়মনসিংহ থিয়েটার এসোসিয়েশনের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
ময়মনসিংহ থিয়েটার এসোসিয়েশনের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

সাহিত্য-সংস্কৃতির চারণভূমি ময়মনসিংহে সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ করার প্রত্যয়ে ময়মনসিংহ থিয়েটার এসোসিয়েশনের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নবগঠিত এই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ছায়ানট সাংস্কৃতিক সংস্থার সভাপতি শরীফ মাহফুজুল হক আপেল এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শাপলা থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক এমদাদ।

ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির উর্বর ভূমি ময়মনসিংহ। এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ইতিহাস দীর্ঘদিনের গৌরবময় ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। নাট্যচর্চা, সংগীত, আবৃত্তি, সাহিত্যচর্চা ও নানা সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল বরাবরই স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে আসছে। ব্রহ্মপুত্রের তীরের এই জনপদে সাংস্কৃতিক সংগঠন ও অসংখ্য সংস্কৃতিকর্মীর নিরলস প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিক্রমা।

এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নাট্য আন্দোলনকে বেগবান করা, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য ও সম্প্রীতি জোরদার এবং ময়মনসিংহের নাট্যচর্চার কর্মকাণ্ডকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট সংস্কৃতিকর্মীরা।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের নেতৃত্বে নবগঠিত এই কমিটির মাধ্যমে ময়মনসিংহের নাট্যাঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির চারণভূমি হিসেবে ময়মনসিংহের ঐতিহ্য ও গৌরব আরও বিকশিত হবেএমন প্রত্যাশা সাংস্কৃতিক মহলের।

সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে ধারণ করে, নাট্যচর্চার বিকাশে ঐক্যবদ্ধ হোক ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক অঙ্গন।

ভিসি ড. আমানুল্লাহর নির্দেশে প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘন ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত

‎টি অ্যান্ড টি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম

‎এম. আনোয়ার হোসেন।। প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৯ পিএম
‎টি অ্যান্ড টি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিধিমালা ও প্রজ্ঞাপন উপেক্ষা করে রাজধানীর টি অ্যান্ড টি কলেজে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের ডিঙিয়ে এক জুনিয়র সহকারী অধ্যাপককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শন দপ্তর থেকে জারীকৃত পত্র ও সংশ্লিষ্ট কলেজের শিক্ষকমণ্ডলীর তালিকা বিশ্লেষণে বিধিলঙ্ঘন ও স্বজনপ্রীতির স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে।

‎প্রাপ্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি বছরের গত ১৭ সেপ্টেম্বরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে টি অ্যান্ড টি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব সাদিকা বেগম-কে কলেজের অ্যাকাডেমিক, প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

‎অথচ ওই চিঠিতেই উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের ২৮ আগস্টের সিন্ডিকেটের ২৭১তম সভার সিদ্ধান্ত এবং চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারীর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতম শিক্ষকের মধ্য থেকে এ নিয়োগ দেওয়ার কথা।

‎জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ১৩ জানুয়ারি জারীকৃত প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, কলেজের অধ্যক্ষ পদ শূন্য হলে জ্যেষ্ঠতম ১০ জন শিক্ষকের তালিকা থেকে গভর্নিং বডির সুপারিশক্রমে ৩ জনের প্যানেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে হবে। প্রজ্ঞাপনের একদম শেষে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে – সংশ্লিষ্ট কলেজে স্ব পদে যোগদানের তারিখ হইতে জ্যেষ্ঠতা গণনা করিতে হইবে।

‎কলেজ সূত্রে জানা যায়, টি অ্যান্ড টি কলেজের শিক্ষক জ্যেষ্ঠতার ক্রম তালিকায় সাদিকা বেগম রয়েছেন ০৮ নম্বর অবস্থানে। তালিকায় তাঁর পূর্বে আরও বহু জ্যেষ্ঠ সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, তালিকায় রয়েছে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কাজী মুহাম্মদ মাঈন উদ্দিন, মাহমুদুল হাসান, মোহাম্মদ মুখলেছুর রহমান, মো: কামরুজ্জামান এবং মো: আবদুল আলীম নাম।

‎স্ব পদে যোগদানের তারিখ অনুযায়ী একাধিক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক কর্মরত থাকা সত্ত্বেও, তাঁদের সম্পূর্ণ ডিঙিয়ে তালিকায় ৮ নম্বরে থাকা সহকারী অধ্যাপক সাদিকা বেগমকে জ্যেষ্ঠতম দেখিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

‎আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিজের জারীকৃত সংবিধিবদ্ধ প্রজ্ঞাপন ও বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের চাকরির শর্তাবলী রেগুলেশন (সংশোধিত) ২০১৯’ আইনত মানতে বাধ্য। জ্যেষ্ঠতার ক্রম তালিকা উপেক্ষা করে ৮ নম্বর তালিকায় থাকা শিক্ষককে দায়িত্ব প্রদান করা সরাসরি আইন ও প্রশাসনিক বিধিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। এর ফলে কলেজের স্বাভাবিক প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে।

‎এ বিষয়ে কলেজের বঞ্চিত শিক্ষকবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে অনতিবিলম্বে এ অবৈধ আদেশ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রকৃত জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের হাতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব হস্তান্তরের জোর দাবি জানিয়েছেন।

‎এ বিষয়ে নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাদিকা বেগমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ সংক্রান্ত কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। অপরদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দীনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক নিয়োগে ৩.৬০ সিজিপিএ শর্ত, বৈষম্যের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক নিয়োগে ৩.৬০ সিজিপিএ শর্ত, বৈষম্যের অভিযোগ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নিয়োগের শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর উভয় পরীক্ষায় ন্যূনতম সিজিপিএ ৪.০০-এর মধ্যে ৩.৬০ নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত অভিন্ন ন্যূনতম যোগ্যতার নির্দেশনায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের জন্য ৩.৫০ সিজিপিএর মানদণ্ডের বিষয়টি সামনে আসায় এ শর্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একাডেমিক মানদণ্ড নির্ধারণের সুযোগ থাকলেও তা হতে হবে যুক্তিসংগত, স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন। কিন্তু নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নিয়োগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর দুই পর্যায়েই পৃথকভাবে ৩.৬০ সিজিপিএ বাধ্যতামূলক করায় ভালো ফলাফল থাকা সত্ত্বেও অনেক যোগ্য প্রার্থী আবেদন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন, একই অনুষদের অন্য বিভাগের নিয়োগে ইউজিসির নির্দেশিত মানদণ্ড অনুসরণ করা হলেও নৃবিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এতে একই অনুষদের বিভাগগুলোর মধ্যে নিয়োগের যোগ্যতা নির্ধারণে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো প্রার্থীর স্নাতক পর্যায়ে সিজিপিএ ৩.৫৫ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৭৫ হলে দুই পরীক্ষার গড় সিজিপিএ দাঁড়ায় ৩.৬৫। কিন্তু বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী স্নাতক পর্যায়ে ৩.৬০ না থাকায় ওই প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন না। ফলে স্নাতকোত্তরে ভালো ফলাফল কিংবা সামগ্রিক একাডেমিক অর্জন বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে নিয়োগের যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে শর্ত কঠোর করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও শিক্ষাঙ্গনে আলোচনা চলছে। আগে থেকেই কাউকে বিবেচনায় রেখে যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে কি না, এমন সন্দেহের কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই নিয়োগের শর্ত নির্ধারণের প্রস্তাব, অনুমোদন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া প্রকাশের দাবি উঠেছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষক নিয়োগে উচ্চতর যোগ্যতার শর্ত আরোপ করা অযৌক্তিক নয়। তবে সেই শর্তের পেছনে সুস্পষ্ট একাডেমিক প্রয়োজনীয়তা, নীতিগত ভিত্তি ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা থাকা জরুরি। বিশেষ করে ইউজিসির অভিন্ন নির্দেশনার চেয়ে বেশি যোগ্যতা নির্ধারণ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তার যৌক্তিকতা জানতে চাওয়াও স্বাভাবিক। অন্যথায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

এ অবস্থায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নিয়োগে ৩.৬০ সিজিপিএ নির্ধারণের ভিত্তি, ইউজিসির নির্দেশনার সঙ্গে এর সামঞ্জস্য এবং একই অনুষদের অন্যান্য বিভাগের নিয়োগের যোগ্যতার শর্ত পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত পুনর্বিবেচনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

বিভাগীয় শিক্ষকদের বক্তব্য

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সিজিপিএ নির্ধারণের যৌক্তিকতা এবং ইউজিসির নির্দেশনার সঙ্গে এর সামঞ্জস্য বিষয়ে জানতে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ফিরোজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।

পরে বিভাগের বিভাগীয় প্রধান স্বপ্না পাপুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিয়োগের যোগ্যতার শর্ত, ইউজিসির নির্দেশনা অনুসরণ না করার কারণ এবং শর্ত নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। তবে তিনি এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব। যোগ্যতা নির্ধারণে কোনো ধরনের পক্ষপাত বা বৈষম্যের ধারণা তৈরি হলে তা শুধু সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করবে না, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগপ্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।