বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ব্রিজের নিচে ঝুলছে পিস্তল, মোবাইলে লোকেশন: ময়মনসিংহে অস্ত্র কেনাবেচার ভয়ংকর নেটওয়ার্ক

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:২২ পিএম
ব্রিজের নিচে ঝুলছে পিস্তল, মোবাইলে লোকেশন: ময়মনসিংহে অস্ত্র কেনাবেচার ভয়ংকর নেটওয়ার্ক

ময়মনসিংহ নগরী ও ভালুকা উপজেলাসহ আশপাশের এলাকায় কিস্তিতে আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রির ভয়ংকর প্রবণতা এখন জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকিতে পরিণত হয়েছে। হাত বাড়ালেই মিলছে অবৈধ পিস্তল, রিভলভারসহ নানা ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে এই অস্ত্র সহজেই পৌঁছে যাচ্ছে কিশোর-তরুণ এমনকি স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের হাতে।

এই অবাধ অস্ত্রপ্রবাহকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে একের পর এক কিশোর গ্যাং। নগরীর বিভিন্ন অলিগলি এখন কার্যত গ্যাং নিয়ন্ত্রিত এলাকা। প্রকাশ্যে অস্ত্রের ঝনঝনানি, গোলাগুলি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের ঘটনায় পুরো ময়মনসিংহবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নগরীর ঐতিহ্যবাহী আকুয়া মহল্লাসহ একাধিক এলাকা সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত হয়েছে। মাদক, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক ক্যাডারদের অবাধ বিচরণে এসব এলাকা এখন গ্যাং স্পটে রূপ নিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর এসব এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর উত্থান ঘটেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাকের ডগায়। কিন্তু ভয় ও আতঙ্কের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। কেউ প্রতিবাদ বা মামলা করতে গেলে বাড়িতে ঢুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে হত্যা ও গুমের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, বৃহত্তর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া ছাড়াও নেত্রকোনা, জামালপুর ও শেরপুরের সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ঢুকছে নগরীতে। এসব অস্ত্রের মধ্যে ‘মেইড ইন ইউএসএ’ লেখা পিস্তল ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ভারতের তৈরি ‘ফাইভ স্টার’ পিস্তলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

অস্ত্র ব্যবসায়ীদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, চোরাচালানে আসা অস্ত্রের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হওয়া অস্ত্রের সংখ্যা নগণ্য। একসময় র‍্যাব, পুলিশ ও ডিবির নিয়মিত অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার হলেও বর্তমানে সেই অভিযান কার্যত শূন্য কোটায় নেমে এসেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সদস্য জানান, অস্ত্র কেনাবেচায় দালালরা মূল ভূমিকা পালন করছে। দালালের মাধ্যমে ক্রেতা ও বিক্রেতার যোগাযোগ স্থাপন হয়। টাকা পরিশোধের পর মোবাইল ফোনে জানিয়ে দেওয়া হয়—কোনো ব্রিজের নিচে, গাছের ডালে কিংবা নির্জন স্থানে ঝুলিয়ে রাখা আছে অস্ত্র। সেখান থেকেই ক্রেতাকে সংগ্রহ করতে হয়।

সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অস্ত্রবাজরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আধিপত্য বিস্তার, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও ভাড়াটে খুনে এসব অস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে। অনেক সময় গ্রেপ্তারের পর প্রভাবশালী ‘বড় ভাইদের’ নাম বলেই জামিনে বেরিয়ে আসছে সন্ত্রাসীরা।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাচিঝুলীমোড়, ইটাখোলা, আনন্দমোহন কলেজ রোড, টাউনহল মোড়, সানকিপাড়া রেলক্রসিং, জিলা স্কুল মোড় ও আশপাশের গলি, আকুয়া ভাঙ্গাপুল, বাইপাস মোড়, পুলিশ লাইন, বাকৃবি এলাকা, কেওয়াটখালি, পাটগুদাম ব্রিজমোড়, শম্ভুগঞ্জ, কালিবাড়ী, চরপাড়া, মাসকান্দা ও ছত্রিশবাড়ী কলোনিসহ নগরীর প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই অস্ত্রবাজ গ্রুপের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে।

সচেতন মহলের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে সমন্বিত ও ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে অস্ত্রের এই অবাধ প্রবাহ বন্ধ না করা হলে ময়মনসিংহ অচিরেই ভয়াবহ সন্ত্রাসের নগরীতে পরিণত হবে।

ময়মনসিংহে বোরো সংগ্রহ (ধান/চাল) কার্যক্রম সফল করতে পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

আরিফ রব্বানী, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১২:৫২ এম
ময়মনসিংহে বোরো সংগ্রহ (ধান/চাল) কার্যক্রম সফল করতে পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় চলমান বোরো সংগ্রহ (ধান/চাল)-২০২৬ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) সকালে উপজেলা খাদ্য বিভাগের উদ্যোগে উপজেলা সরকারি খাদ্য গুদামে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এমপি বলেন, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বোরো সংগ্রহ কার্যক্রম স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার মাধ্যমে কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে। কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, খাদ্য বিভাগের প্রতিনিধিবৃন্দ, কৃষক ও মিলমালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা খাদ্যবান্ধব কমিটির সদস্যসচিব ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম জানান, চলতি বোরো মৌসুমে ময়মনসিংহে সরকারি খাদ্য গুদামে মোট ২,০১৬ মেট্রিক টন ধান, ৯,৫৯২ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ১,১২০ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে প্রতি কেজি ধান ৩৪ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং আতপ চাল ৪৮ টাকা দরে ক্রয় করা হবে।

সভা শেষে অতিথিবৃন্দ সংগ্রহ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, সকলের সহযোগিতায় চলমান বোরো সংগ্রহ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হবে।

এর আগে জাতীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগার (সিএসডি)-এ পৌঁছালে তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এ সময় মহানগর শ্রমিক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে সিএসডির ব্যবস্থাপক সংসদ সদস্যকে সংরক্ষণাগারের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।

জেলার শ্রেষ্ঠ এসআই ও শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী অফিসার হলেন কোতোয়ালী থানার এসআই আসাদ

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৫:১৩ পিএম
জেলার শ্রেষ্ঠ এসআই ও শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী অফিসার হলেন কোতোয়ালী থানার এসআই আসাদ

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় জেলার শ্রেষ্ঠ উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার এসআই আসাদ।

পেশাগত দায়িত্ব পালনে দক্ষতা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা এবং ওয়ারেন্ট তামিলে বিশেষ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এ সম্মাননা অর্জন করেন।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধিক সংখ্যক ওয়ারেন্ট তামিল এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় তাকে জেলার শ্রেষ্ঠ এসআই ও শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী অফিসার হিসেবে মনোনীত করা হয়।

এ উপলক্ষে আয়োজিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী কর্মকর্তাদের হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

সম্মাননা পাওয়ার পর এসআই আসাদ বলেন, এই অর্জন তার একার নয়, কোতোয়ালী মডেল থানার পুরো টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ভবিষ্যতেও জনগণের জানমাল রক্ষা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান।

জেলা পুলিশের এ স্বীকৃতিতে সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে আনন্দ ও সন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।

ময়মনসিংহ সদরে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ১:৪২ এম
ময়মনসিংহ সদরে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।

এসময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং জননিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় জাতীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও আরিফুল ইসলাম বলেন, জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আরও সমন্বয় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সভা শুরুর আগে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির পক্ষ থেকে ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম তাকে স্বাগত জানান।