রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ ১৪৩২
রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ ১৪৩২

সর্বনাশা মাদক তরুণ ও যুব সমাজের স্মৃতিশক্তি বিনষ্ঠ ও মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটায়; বাড়ছে ভয়াবহ অপরাধ

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ জুলাই, ২০২৫, ১২:০১ পিএম
সর্বনাশা মাদক তরুণ ও যুব সমাজের স্মৃতিশক্তি বিনষ্ঠ ও মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটায়; বাড়ছে ভয়াবহ অপরাধ

সর্বনাশা মাদক তরুণ ও যুব সমাজের স্মৃতিশক্তি বিনষ্ঠ ও মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটায়; বাড়ছে ভয়াবহ অপরাধ। মাদকের মরণ ছোবলে আক্রান্ত তরুণ ও যুব সমাজ আজ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে। সারা দেশে মাদক জন্ম দিচ্ছে একের পর এক ভয়াবহ অপরাধ। মাদকদ্রব্য গ্রহণ করলে মানুষের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটে এবং দ্রব্যের ওপর নির্ভরশীলতা সৃষ্টির পাশাপাশি দ্রব্যটি গ্রহণের পরিমাণ ক্রমশ বাড়তে থাকে। মাদক একটা সর্বনাশা নেশা, সেটা শুধু তারাই অনুধাবন করতে পারেন, যাদের পরিবারের কোনো সদস্য মাদকাসক্ত। মাদকে আসক্ত সদস্য নিয়ে শুধু পরিবারের মধ্যে নয়, আত্মীয়স্বজনাও নানা কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। মনে রাখতে হবে, বর্তমানে মাদকের কারনে আমাদের যুব সমাজ অসংখ্য সংকট ও সমস্যায় জর্জরিত। বর্তমানে মাদকাসক্তদের শীর্ষে রয়েছে আমার তরুণ সমাজ। সর্বনাশা মাদকের মরণ ছোবলে আক্রান্ত তরুণ ও যুবসমাজ আজ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে যে সকল সমস্যা বিদ্যমান তার একটি অন্যতম সমস্যা হচ্ছে মাদকের ভয়াল থাবা।

দিন দিন মাদকের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। নিষিদ্ধ জগতে অস্ত্রের পর মাদকই সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা। বর্তমানে দেশের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে মাদকের কেনাবেচা হয় না। শহর থেকে শুরু করে গ্রামেও এটি সহজলভ্য। মাদক আমাদের জন্য হুমকি। এটা কারো একার পক্ষে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। মাদক সেবন ও বিক্রি যারা করবে, তাদের ধরিয়ে দিতে সর্বস্তরের মানুষের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তরুণ সমাজ, দেশকে রক্ষা করতে হলে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। মাদকে আসক্ত করতে তরুণদের টার্গেট করা হয়। প্রথমে ছলেবলে, আলাপের ছলে বিনামূল্যে মাদক দেওয়া হয়। পরে তারা মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে। সব ধরনের রোগে তারা আক্রান্ত হয়। স্থায়ীভাবে যৌন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। মাদকের কারণে মানবিক বিপর্যয় ঘটছে। দেশের তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে হলে মাদকের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণিপেশার মানুষের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পরিবারের মতো অনেক পরিবার মাদকাসক্তদের চিকিৎসা করাতে গিয়ে আজ সর্বান্ত। মাদক নির্মূলে রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনসহ সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া এটি নির্মূল সম্ভব নয়।

জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল দেশেই নেশা ও নেশাজাত দ্রব্যের ব্যাপারে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের একই অভিমত যে,নাম যা-ই হোক নেশা ব্যবহারে মানুষের মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটতে পারে এবং কঠিন রোগে এক সময় মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে। একজন মাদক আশাক্ত ব্যাক্তি যে কোন অপরাধমুলক কর্মবান্ড ঘটাতে পারে। ফলে সমাজ,জাতি ও পরিবারের জন্য মাদক অভিশাপ হিসাবে দাঁড়িয়েছে। অনুসন্ধানে জানাযায়,বর্তমানে তরল মাদকদ্রব্যকে নানান আকর্ষণীয় নামে বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। আবার ট্যাবলেট আকারের অনেক মাদক দ্রব্য এখন হাত বাড়ালে পাওয়া যায়। ফলে মাদকসেবী মাদক দ্রব্যতো ব্যবহার করে তরুণ ও যুব সমাজ ব্যাপকভাবে নানা বিধ অপরাধ মুলক কর্মকান্ড ও এমন কি আত্মঘাতী কাজে লিপ্ত হচ্ছে। ফলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এ বিষয়ে বর্তমানে সব চাইতে উদ্বেগের কারণ হলো, দেশের অধিকাংশ শিা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা মাদকদ্রব্যের ব্যবহার ও মাদকাসক্তি হয়ে পড়ছে। মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্টান থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় ও উশ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র/ছাত্রীরা মাদক সেবন করছে। মাদকদ্রব্য মানবদেহের বিশেষ করে, স্মৃতিশক্তি বিনষ্ট করে, মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটায়।

আর এটা সেবন করে একজন মানুষ যে কোন ধরনের অপরাধ মুলক কর্মকান্ড ঘটাতে পারে। কুমিল্লার মুরাদনগরে মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ একই পরিবারের তিনজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এমনি অসংখ্য ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে। বর্তমানে দেশের মধ্যে ফেনসিডিল, হিরোইন, কোকেন, ক্রিস্টাল মেথ-আইস, সিডাকসিন, ইনোকট্রিন, মরফিন, টেট্রাহাইড্রো ক্যানাবিনল, মেথাডন, বিয়ার, কেনা বিসরেসিন, এ্যাবসলিউট অ্যালকোহল, ভেষজ কেনাবিস, গাঁজা, দেশি-বিদেশি মদ প্রভৃতি ঘুণে পোকার মতো কুরে কুরে খাচ্ছে মানব অস্থিমজ্জাকে। এ ভয়ানক পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারীদের অন্যতম রুট ও বাজারে পরিণত হয়েছে। আফ্রিকা, মেক্সিকো, নাইজেরিয়া, ক্যামেরুন, ভারত, মিয়ানমার, মালাবি থেকে শুরু করে ইউরোপ ও আমেরিকার মাদক ব্যবসায়ীদের নজর এখন বাংলাদেশের দিকে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বলছে, বাংলাদেশকে এখন হেরোইন ও কোকেনের ‘ভিআইপি রুট’ হিসেবে ব্যবহার করছে আন্তর্জাতিক চক্র। যদিও দেশে এই মাদকের চাহিদা তুলনামূলক কম, কিন্তু আন্তর্জাতিক পাচারের জন্য এটি নিরাপদ ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

যে কারনে হাত বাড়ালে পাওয়া যাচ্ছে মাদক দ্রব্য। ফলে তরুন ও যুবসমান নিজেদের অজান্তেই বন্ধু বান্ধবের দ্বারা নেশার জগতে প্রবেশ করেছে। এছাড়া বর্তমানে বাজারে এনার্জি ড্রিংকস নামে চালু হয়েছে এক ধরনের মাদক দ্রব্য। আর এই সব এনার্জি ড্রিংকস খেয়ে নেশায় দেশের তরুণ সমাজ ক্রমেই বুঁদ হয়ে পড়ছে। কথিত এনার্জি ড্রিংকস নামের এসব পানিতে রয়েছে আফিম ও এলকোহলসহ নানান তিকর নেশাদ্রব্য। মাদকের বিষয়ে ইতোমধ্যেই অনেক অভিভাবক বিশেষ করে উচ্চ পরিবার ও উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের অভিভাবকরা তরুণের এ অবস্থা দেখে নিজেদের সন্তানদের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন। পত্রিকার সূত্র মতে, দেশে প্রতি বছর ২৫ হাজার কোটি টাকার মাদক দ্রব্য বেচাকেনা করা করা হয়। পত্রিকা মারফতে জানা যায়, প্রতিদিন রাজধানী ঢাকা শহরেই ইয়াবা বাবদ হাত বদল হয় ৭ কোটি টাকা। মাদক গ্রহনকারীর সংখ্যা কারো জানা নেই। তবে সরকার বলছে মাদকাসক্তদের সংখ্যা ৫০ লাখ। আর বেসরকারি হিসাব মতে, ৭০ লাখের ও বেশি। এদের অধিকাংশ তরুণ-তরুণী ও যুবক-যুবতী।

মাদক গ্রহণকারী ৮০ ভাগের বয়স ১৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। বিশ্বের নেশাগ্রস্ত দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭ম। ঢাকা শহরে শুধু ১০ লাখ মাদক সেবী রয়েছে। তার মানে ৬৮ হাজার গ্রামে গড়ে ১০৭ জন করে মাদকসেবী রয়েছে। যদিও বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে অভিযান চলমান রয়েছে। আসক্তির কবল থেকে যুবক-তরুণ সমাজকে রক্ষায় সমাজের সব পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।সচেতন মহল বলেন, পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জরুরিভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে। মাদক সিন্ডিকেট শিকড় থেকে উপড়ে ফেলতে হবে। তা না হলে সমাজে এই মাদকের ভয়াল থাবা থেকে কেউই নিরাপদ নয়। অতএব সরকারের উচিত, দেশ-জাতির ভবিষ্যত তরুণ সমাজকে সকল প্রকার নেশা ও নেশাজাত দ্রব্যেদি থেকে রায় দৃঢ় ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং এ পথের অসাধু ব্যবসায়ী ও তাদের সাথে জড়িত দলীয় ও প্রশাসনিক বিভাগের লোভী দুর্নীতিবাজদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা।

এশিয়ান টেলিভিশনের চেয়ারম্যান হলেন রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম
এশিয়ান টেলিভিশনের চেয়ারম্যান হলেন রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা মো. লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল এশিয়ান টেলিভিশনের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

গত ২৬ জানুয়ারি এশিয়ান টেলিভিশনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাকে এ পদে নির্বাচিত করা হয়।নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল দেশের আবাসন খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান।

হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সফলতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তার নেতৃত্বে রূপায়ণ গ্রুপ আবাসন ও শিল্পখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।এছাড়াও তিনি দেশের জনপ্রিয় জাতীয় দৈনিক দেশ রূপান্তর এবং দেশ রেডিও-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গণমাধ্যম ও শিল্পখাতে তার বহুমাত্রিক ভূমিকা তাকে একজন সফল সংগঠক ও দূরদর্শী উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত করেছে।

মিডিয়া খাতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মো. লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো)-এর নির্বাচিত পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।তার নেতৃত্বে এশিয়ান টেলিভিশন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং বস্তুনিষ্ঠ, মানসম্মত ও দর্শকপ্রিয় অনুষ্ঠান উপহার দেবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের

ময়মনসিংহে পুলিশের পরিচয়ে প্রতারণা: ওয়াকিটকি-হাতকড়াসহ ৫ ভুয়া ডিবি গ্রেপ্তার

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৩ পিএম
ময়মনসিংহে পুলিশের পরিচয়ে প্রতারণা: ওয়াকিটকি-হাতকড়াসহ ৫ ভুয়া ডিবি গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় পুলিশের পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে ওয়াকিটকি, হাতকড়া ও ডিবি পুলিশের জ্যাকেটসহ পাঁচজন ভুয়া ডিবি পুলিশকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ত্রিশাল উপজেলার সতেরপাড়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে শাহাদাৎ হোসেন (২৭), ধরিলামধ্যপাড়া গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে রাকিবুল হাসান রনি (২৪), ছলিমপুর গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে সারোয়ার হোসেন (২৫), একই গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৫) এবং ফুলবাড়িয়া পৌরসভার আ. মতিনের ছেলে সরোয়ার আলম (২১)।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুলিশ বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০–১৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে ময়মনসিংহের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলী আদালত-১০) আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে ডিবি পুলিশের পোশাক পরিহিত চার যুবক কামাল ও হারুন নামের দুই ব্যক্তিকে হাতকড়া পরিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। এ সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে একজন পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় জনতা তিনজনকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে সারোয়ার হোসেন ও আশরাফুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেলে পুলিশ রাতেই ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের কাছ থেকে ভুয়া ডিবি পুলিশের পাঁচটি পরিচয়পত্র, দুটি হাতকড়া, একটি ওয়াকিটকি, ডিবি পুলিশের দুটি জ্যাকেট, দশটি ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কাগজ, সাতটি মোবাইল ফোন, একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, একটি মনিটর ও একটি প্রিন্টার জব্দ করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে একই এলাকায় একটি মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ভুয়া অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক করে ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয় এই চক্র। সর্বশেষ বুধবার রাতে একই কৌশলে কামাল ও হারুনকে টার্গেট করে তারা।

তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি একটি আন্তঃজেলা প্রতারক দল। তারা ডিবি পুলিশের পোশাক পরে মহাসড়ক ও বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, ডাকাতি এবং নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।

ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল্লাহ সাইফ বলেন, “চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে মহাসড়ক ও বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি ও চাঁদাবাজি করে আসছিল। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

ময়মনসিংহে বিদেশি পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্রসহ ছাত্রদলের তিন নেতা-কর্মী গ্রেফতার

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৩ পিএম
ময়মনসিংহে বিদেশি পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্রসহ ছাত্রদলের তিন নেতা-কর্মী গ্রেফতার

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় বিদেশি পিস্তল, গুলি ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ ছাত্রদলের তিন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথবাহিনী।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার উথুরা ও হাটুরিয়া এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে, একটি বিদেশি পিস্তল (মেইড ইন ইউএসএ), একটি ম্যাগাজিন, এক রাউন্ড তাজা অ্যামুনিশন, একটি পিস্তল সদৃশ লাইটার এবং ২০টি দেশীয় অস্ত্র।

গ্রেফতাররা হলেন- গফরগাঁও ইউনিয়নের উথুরী গ্রামের মো. মোশারফ হোসেনের ছেলে মো. কামরুল ইসলাম (৩৫), তার ভাই মো. সাব্বির (২৩) এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুক্তার হোসেন (৩৬)। কামরুল ও সাব্বির দুজনই ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী বলে জানা গেছে।

সেনাবাহিনী ও পুলিশ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় উথুরী গ্রামের একটি বাড়িতে অবৈধ অস্ত্র মজুত রয়েছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ভোরে কামরুল ইসলাম ও তার ভাই সাব্বিরের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ওই অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয় এবং দুই ভাইকে গ্রেফতার করা হয়। একই অভিযানে গ্রেফতারি পরোয়াভুক্ত উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুক্তার হোসেনকেও আটক করা হয়।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবদুললাহ্ আল মামুন বলেন, “গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। তাদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।”