শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

রাজশাহীর তরুণী ময়মনসিংহের নিষিদ্ধ পল্লীতে বিক্রি; দেহ ব্যবসায়ী ক্রেতা সর্দারনী লাভলী অধরা!

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ মার্চ, ২০২৫, ৭:১৫ পিএম
রাজশাহীর তরুণী ময়মনসিংহের নিষিদ্ধ পল্লীতে বিক্রি; দেহ ব্যবসায়ী ক্রেতা সর্দারনী লাভলী অধরা!

রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার বউবাজার এলাকার তরুণী চাকুরীর আশায় ঘর ছেড়ে বাহির হলে দালাল চক্রের চাকুরীর প্রলোভনের খপ্পরে পড়ে ভয়ংকর প্রতারণার শিকার হয়েছে।

ময়মনসিংহের নিষিদ্ধ পল্লীতে একছত্র আধিপত্য বিস্তার করা পুলিশের ছায়াতলে থাকা কোটিপতি প্রভাবশালী সর্দারনী লাভলী ওরফে ফেন্সী লাভলীর নিকট মাদক ও নারী, দেহ ব্যবসার জন্য আমদানী করা (মাল) পণ্য ক্রয় বিক্রয়ের জন্য আনা নিরাপদ অভয়াশ্রম মনে করে প্রতারক দালাল চক্র। বিভিন্ন জেলার কিশোরী তরুণীদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে লাভলীর সাম্রাজ্যে নিয়ে আসে দরদাম সাব্যস্ত করে প্রথম ক্রেতা হিসাবে নগরীতে তার একাধিক বাড়ীতে ঐ সকল কিশোরী তরুণীদের দেহ ব্যবসায় বাধ্য করতে পালিত দালাল ভারুয়া দিয়ে ট্রায়াল দেয় বলে জানা গেছে। কথামতো কাজ না করলে চলে চরম অত্যাচার অবর্ণনীয় নির্যাতন, এসব কারণে ভীতসন্ত্রস্থ হয় মেয়েরা আনুগত্য শিকার করে জীবন পদ্ধতি ভাগ্যের উপর ছেড়ে দেয়। অসহায় এই বিক্রয় হওয়া মেয়েরা যদি কারো সহায়তায় নিজ বাড়ী ঘরে ফিরে যেতে ইচ্ছে পোষণ করলেও, ভয় আতংক উৎকন্ঠা মনে বাসা বাঁধে, তাই করো বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে রাজি হয় না। এমন ঘটনার বর্নণা উদ্ধার হওয়া অহরহ মেয়েদের কাছে শোনা যায়।

সর্দারনী লাভলীর অবৈধ মদ প্রকাশ্যে তার লোকজন দিয়ে বিক্রি করে। সে নিজে ফেন্সিডিলে আসক্ত। প্রতিদিন ৫/৬টি ফেন্সিডিল লাভলীর সেবন করতে হয়। নিষিদ্ধ পল্লীতে অবৈধ ভাবে সে তার লোকজন দিয়ে প্রায় পঁচিশ লক্ষ টাকার ২০% লভ্যাংশ্য হাড়ে সুদের ব্যবসা পরিচালনা করছে। শহরে একাধিক স্থানে জমি ও বাসা বাড়ী রয়েছে।বেপরোয়া সর্দারনী লাভলী আপরাধ সাম্রাজ্যে থেকেও থানার সামনে এসে করছে দম্ভোক্তি! তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ করছে গড়িমসি এমন আলোচনায় হতবাক নগরবাসী।

পতিতা সর্দারনী দালাল আর পুলিশের মাঝে লেনদেন, উঠবস সম্পর্ক দেখে ভুক্তভোগী নারী বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়, এমনটাই মনে করে ভিকটিম এরপর কোনো অভিযোগ দিলে ন্যায় বিচার তো দুরের কথা অভিযোগ দেওয়ার কারণে নানাভাবে ঝামেলা বাঁধিয়ে শেষ রক্ষা পাওয়ার সুযোগ টুকু হাতছাড়া করতে চায় না কেউ। এজন্যেই অধিকাংশ তরুণী দেহ ব্যবসার জন্য বিক্রয় হওয়ার পর নির্যাতনের শিকার হয়ে দেহ ব্যবসা করতে বাধ্য হওয়ার ঘটনা চেপে যায়। প্রকাশ্যে বলতে পারার সাহস শক্তি হাড়িয়ে ফেলার কারণে অভিযোগ করিতে অস্বীকার করায় মামলা হয় না।

জোরপূর্বক দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা এই তরুণীকে বৃহস্পতিবার উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার বউবাজার এলাকার মোছাঃ উম্মে আক্তার ছালমা (১৭) চাকুরির আশায় ঘর ছাড়লেও শেষ পর্যন্ত ভয়ংকর প্রতারণার শিকার হন। দালাল চক্র মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কুখ্যাত সর্দারনী লাভলীর হাতে তুলে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত দিন আগে এক দালাল চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ছালমাকে ময়মনসিংহে নিয়ে আসে। প্রথমে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি স্বাভাবিক মনে করলেও পরে তার কোনো খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর জানা যায়, ছালমাকে সরদারনি লাভলীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে তাকে জোর করে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা হচ্ছে।

মানবাধিকার সংগঠনের সভাপতি ও সাংবাদিক সাদেকুর রহমান সাদেক এবং সাংবাদিক মোঃ বিল্লাল হোসেন মানিক দ্রুত কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করিলে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে সরদারনি লাভলীর আস্তানা থেকে ঐ তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় সর্দারনী লাভলী দ্রুত সটকে পড়ে।

উদ্ধারের পর ছালমার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, তারা দ্রুত ময়মনসিংহ এসে মেয়েটিকে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। এ ঘটনায় সরদারনি লাভলীসহ জড়িত দালাল চক্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। সর্দারনী লাভলী আপরাধ সাম্রাজ্যে থেকেও থানার সামনে এসে করছে দম্ভোক্তি

ময়মনসিংহে মাদকবিরোধী অভিযান: ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৩ পিএম
ময়মনসিংহে মাদকবিরোধী অভিযান: ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ময়মনসিংহ নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শিবিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে এসআই শাফায়েত হোসেনের নেতৃত্বে নগরীর কেওয়াটখালী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মুক্তা, তামান্না ও রুনা নামের তিনজনকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালিত হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মোঃ শিবিরুল ইসলাম জানান, মাদক নির্মূলে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ময়মনসিংহের ফুলপুরে খাস জমি দখল ও খাল ভরাট, পানি নিষ্কাশনে চরম সংকটের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৬ এম
ময়মনসিংহের ফুলপুরে খাস জমি দখল ও খাল ভরাট, পানি নিষ্কাশনে চরম সংকটের আশঙ্কা

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ৯নং বালিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের একাংশে খাস হালট জমি দখল ও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ দখল কার্যক্রমের ফলে খালটির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালীরা খাস জমি দখল করে সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছেন। এতে করে খালটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। খালটি বালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি বহন করে পাশের ঢাকুয়া ইউনিয়নে পৌঁছে দেয়, যা পুরো এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খাল ভরাটের কারণে পানির স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে পড়েছে। এতে করে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল খালটি পুনরুদ্ধার এবং দখলমুক্ত করতে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলেন, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুমে এলাকার জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছাতে পারে।

ময়মনসিংহে শিক্ষকের কাছ থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগও

নাজমুল হাসান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:০৭ পিএম
ময়মনসিংহে শিক্ষকের কাছ থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগও

ময়মনসিংহ নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন আকুয়া মড়লপাড়া এলাকায় এক শিক্ষকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত বর্তমানে ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকায় অবস্থান করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সুলতানা হাফিজুন নাহার তার স্বামী শফিকুল ইসলাম খানের পক্ষে কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার আলীপুর এলাকার বাসিন্দা গোলাম মোস্তফার ছেলে মো. মাসুদ রানার সঙ্গে তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

অভিযোগে বলা হয়, গার্মেন্টস পণ্যের শিপমেন্ট ব্যবসায় লাভের প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৩ সালের ৩ মে ও ৫ জুন দুই দফায় মোট ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন অভিযুক্ত। চুক্তি অনুযায়ী মাসিক ৫ শতাংশ হারে লভ্যাংশ দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কোনো টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি।

বর্তমানে মূল টাকা ও লভ্যাংশসহ মোট ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও অভিযুক্ত বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে আসছেন বলেও দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে পাওনা টাকা চাইতে ফোন করলে অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করেন এবং টাকা না দেওয়ার পাশাপাশি হুমকি দেন। এমনকি বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, একদিকে তারা অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছেন, অন্যদিকে অভিযুক্তের হুমকির কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন তারা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাসুদ রানার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

কোতোয়ালী থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।