সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

পুলিশের ধারণা

ময়মনসিংহের মনিরের মাধ্যমে বাসা ভাড়া নিতো আরসার সদস্যরা

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ, ২০২৫, ১০:১৬ পিএম
ময়মনসিংহের মনিরের মাধ্যমে বাসা ভাড়া নিতো আরসার সদস্যরা

রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) প্রধানসহ যে ১০ জনকে র‍্যাব গ্রেপ্তার করেছে, তাঁদের মধ্যে অন্তত একজন বাংলাদেশি। তাঁর নাম মনিরুজ্জামান। তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে। পুলিশ বলছে, মনিরের মাধ্যমেই আরসা সদস্যরা দেশে বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করতেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে মনির আরসার সঙ্গে জড়িত শুনে তাঁর স্বজন ও এলাকাবাসী বিস্মিত।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ময়মনসিংহে পৃথক অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেপ্তারের কথা গত মঙ্গলবার জানায় র‍্যাব।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের চরআলগী গ্রামের আতিকুল ইসলামের ছেলে মনিরুজ্জামান (২৪)। আতিকুল ইসলাম একই উপজেলার তারুন্দিয়া ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামে একটি কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। চার ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার বড় মনির। কওমি মাদ্রাসা থেকে ২০১৬ সালে হেফজ শেষ করে মাওলানা হতে তিনি নরসিংদীর একটি মাদ্রাসায় ভর্তি হন। করোনাকাল থেকে তাঁর পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ঢাকায় একটি মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন। গাজীপুরের টঙ্গীতেও মাদ্রাসায় চাকরি করতেন, এমনটিই জানেন তাঁর স্বজনেরা।

স্বজন ও এলাকাবাসী মনিরের গ্রেপ্তারের খবর সংবাদমাধ্যম থেকে জানতে পারেন। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার ছয়জনের একজন মনিরুজ্জামান। সেখানে ভূমিপল্লি আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন মনির, এমনটি উল্লেখ আছে গতকাল রাতে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় হওয়া মামলায়। ওই ভবনের ফ্ল্যাট থেকেই আরসার প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনী গ্রেপ্তার হন।

গতকাল বুধবার বেলা ২টার দিকে ঈশ্বরগঞ্জের চরআলগী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মনিরের গ্রেপ্তারের খবরে তাঁর বাড়িতে আসছেন আশপাশের মানুষজন। ময়মনসিংহ নগরের নতুন বাজার মোড়ের গার্ডেন সিটি ভবন থেকে গ্রেপ্তার হওয়া আরসা সদস্যরা যে বাসাটিতে বসবাস করছিলেন, সেটি ভাড়া নিয়েছিলেন মনির। তাঁর একটি জাতীয় পরিচয়পত্র সেখানে দেওয়া হয়েছিল। জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ছবি দেখালে মনিরুজ্জামানের ছোট ভাই মুত্তাকীন হাসান তাঁর ভাইকে শনাক্ত করেন।

মুত্তাকীন হাসান বলেন, মনির তাঁর আপন বড় ভাই। তিনি মাঝেমধ্যে বাড়িতে বেড়াতে আসতেন। রোজা শুরুর এক দিন আগে রোজার বাজার নিয়ে তিনি বাড়িতে এসেছিলেন। এক রাত থেকে চলে যান। টঙ্গীতে মাদ্রাসায় চাকরি করতেন, ময়মনসিংহেও থাকতেন বলে শুনেছেন। তবে ময়মনসিংহে কী কাজ করতেন, তা তিনি জানেন না। তাঁর ভাষ্য, বিদেশে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট করলেও স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অসুখ ধরা পড়ায় মনিরের বিদেশে যাওয়া হয়নি। তাঁর ভাই আরসার সঙ্গে কীভাবে জড়ালেন, তাঁরা তা বলতে পারবেন না। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খুব কম কথা হতো। যখন টাকা প্রয়োজন পড়ত, ফোন করলে টাকা পাঠাতেন ভাই।

চরআলগী গ্রামে পাকা সড়কের পাশেই একটি টিনশেডের বাড়িতে বসবাস মনিরের পরিবারের। মনিরের মা চম্পা আক্তার বলেন, খবরে দেখেছেন ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভাবের সংসার, টেনেটুনে দিন চলে। ছেলে হয়তো সঙ্গীদের ফাঁদে পড়ে এমন কাজে জড়িয়েছেন। তিনি দাবি করেন, মনির সরল প্রকৃতির। না বুঝে হয়তো এ কাজ করেছেন।

মনিরের বাবাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তিনি কোনাপাড়ায় মাদ্রাসায় ছিলেন। মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ছেলে আরসার সদস্যদের সঙ্গে কীভাবে জড়ালেন, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

মনির বাড়িতে এলেও কারও সঙ্গে মিশতেন না বলে দাবি করেন প্রতিবেশী শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, চলাফেরায় বোঝা যেত, মনির খুব সরল। মনিরের গ্রেপ্তারের খবর তাঁদের কাছে আশ্চর্যজনক মনে হচ্ছে। তবে মনির যদি দেশবিরোধী কাজ করে থাকেন, তাহলে অবশ্যই তাঁর বিচার হতে হবে।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ময়মনসিংহ নগরের বাসাটি মনিরুজ্জামান ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের বাসা থেকে। তাঁরা ধারণা করছেন, আরসা সদস্যরা মনিরের মাধ্যমেই দেশে বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করতেন।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি ওবায়দুর রহমান বলেন, মনিরুজ্জামান এলাকায় বেশি আসতেন না। তাঁর সম্পর্কে এলাকার মানুষও তেমন কিছু জানেন না। তদন্ত কর্মকর্তাদের চাহিদার ভিত্তিতে তাঁর সম্পর্কে পুলিশ অনুসন্ধান করবে।

বিজিবির সহকারী পরিচালক পদে পদোন্নতি পেলেন ভাবখালীর কৃতি সন্তান লুৎফর রহমান (জীবন)

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১:২৫ এম
বিজিবির সহকারী পরিচালক পদে পদোন্নতি পেলেন ভাবখালীর কৃতি সন্তান লুৎফর রহমান (জীবন)

দীর্ঘ এক বছরের কঠোর ও নিবিড় সামরিক প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সহকারী পরিচালক (এডি) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ১২ নম্বর ভাবখালী ইউনিয়নের কৃতি সন্তান মো. লুৎফর রহমান (জীবন)।

গত ১১ জুন তিনি বিজিবির প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে সহকারী পরিচালক (Assistant Director-AD) পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তাঁর এ অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, পরিবার, জন্মভূমি ভাবখালী এবং সমগ্র ময়মনসিংহবাসীর জন্যও গৌরবের বিষয়।

পদোন্নতি উপলক্ষে তিনি মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন। একই সঙ্গে বাবা-মা, পরিবারের সদস্য, শিক্ষক, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “তাঁদের দোয়া, ভালোবাসা, ত্যাগ, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণাই আমাকে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে।”

প্রতিক্রিয়ায় লুৎফর রহমান (জীবন) বলেন, “দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার মহান দায়িত্ব আমি সততা, নিষ্ঠা, ন্যায়পরায়ণতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করতে সর্বদা সচেষ্ট থাকব। দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে সর্বোচ্চভাবে নিয়োজিত রাখতে সবার কাছে দোয়া কামনা করছি।”

তাঁর এই সাফল্যে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং ভাবখালী ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, তাঁর এ অর্জন পুরো এলাকার জন্যই গর্বের বিষয় এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

মো. লুৎফর রহমান (জীবন) ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভাবখালী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মো. আজিজুল ইসলাম ও মোছা. লুৎফুন নাহারের সন্তান। ছাত্রজীবনে তিনি ৯৩ নম্বর ভাবখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং আলমগীর মনসুর (মিন্টু) মেমোরিয়াল কলেজ, ময়মনসিংহ থেকে এইচএসসি পাস করেন। উচ্চশিক্ষার ধারাবাহিকতায় তিনি ঢাকার সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি ২০০৭ সালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে সৈনিক পদে যোগদান করেন। কর্মজীবনে সততা, শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রেখে ধাপে ধাপে নিজেকে যোগ্য করে তোলেন। অবশেষে এক বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে তিনি বিজিবির সহকারী পরিচালক (এডি) পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর এই গৌরবময় উত্তরণ অধ্যবসায়, দেশপ্রেম, আত্মনিবেদন ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁর এ সাফল্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশসেবার মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ করবে এবং প্রমাণ করবে যে নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে যেকোনো স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব।

লুৎফর রহমান (জীবনের) এই অর্জনে এলাকাবাসী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্বজনরা তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁর সুস্বাস্থ্য, কর্মজীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য এবং দেশসেবায় আরও গৌরবময় অবদানের জন্য দোয়া কামনা করেছেন।

ময়মনসিংহে তিনদিনব্যাপী সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৮:৫৯ পিএম
ময়মনসিংহে তিনদিনব্যাপী সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন

‘প্রশিক্ষণ সবার জন্যই প্রযোজ্য। এটি জ্ঞান ও দক্ষতাকে নিয়মিত হালনাগাদ করে পেশাগত সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে) ও ময়মনসিংহ মহানগর প্রেসক্লাবের যৌথ আয়োজনে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে তিনদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় নগরীর কাচারি রোডস্থ ময়মনসিংহ মহানগর প্রেসক্লাবের দ্বিতীয় তলায় এ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা তথ্য অফিস, ময়মনসিংহের পরিচালক মীর আকরাম উদ্দিন আহমদ। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য অফিসার (রু/দা) ও ময়মনসিংহ আঞ্চলিক তথ্য অফিসের কর্মকর্তা মাসুদ মিয়া।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ক্যারিয়ার ও প্রশিক্ষণ) কাজী শামীমাজ আলম এবং উপপরিচালক (মহিলা ও সমন্বয়) গাজী শরিফা ইয়াছমিন।

দৈনিক লাল সবুজের দেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক খানের সভাপতিত্বে এবং দৈনিক জনতার খবর পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মো. জাহাঙ্গীর আকন্দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বক্তব্য দেন সিনিয়র সাংবাদিক বদরুল আমীন, এটিএম মহবুব-উল-আলম, অ্যাডভোকেট লিটন দাস, মোশারফ হোসেন সরকার, মফিজ উদ্দিন, রোকসানা আক্তার ও তাসলিমা রত্না প্রমুখ।

কর্মশালায় সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে সচেতনতা, হলুদ সাংবাদিকতার ক্ষতিকর প্রভাব এবং আধুনিক সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আয়োজকরা জানান, প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি আগামী ১৫ জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে অনুষ্ঠিত হবে।

ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত পাক্ষিক সুবর্ণ বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ও ময়মনসিংহ মহানগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আরিফ রেওগীর এবং দৈনিক লাল সবুজের দেশ পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ও ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব সংস্কার কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক জহুর লাল দের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ কর্মশালায় সংবাদ প্রতিবেদন রচনা, ভাষা ও শব্দচয়ন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি, নৈতিক সাংবাদিকতা, তথ্য যাচাই-বাছাই এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা সাংবাদিকদের জ্ঞান, দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শ্যামপুরে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

এম. আনোয়ার হোসেন, ঢাকা।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ২:২৫ পিএম
শ্যামপুরে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

রাজধানীর শ্যামপুর থানা শিক্ষা অফিসের কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। থানা শিক্ষা কর্মকর্তা শাপলা খানমের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, বই বিতরণ-সংক্রান্ত বরাদ্দে অনিয়ম এবং তদন্ত কার্যক্রমে গাফিলতির অভিযোগ এনে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন ২০২৬ তারিখে জেলা শিক্ষা অফিস থেকে শ্যামপুরের দোলাইরপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দিলেও এখন পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, তদন্ত কার্যক্রমে অস্বাভাবিক বিলম্বের কারণে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তদন্ত প্রক্রিয়া ধীরগতিতে পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন ‘স্টার্ট-আপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’ আয়োজনেও সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্যকে প্রধান অতিথি হিসেবে রাখার কথা থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তিন ব্যক্তির পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের সুপারিশ করা হলেও পরবর্তী পর্যায়ে কেবল একজনের অভিযোগ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

এ ছাড়া বছরের পর বছর বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। তারা বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্যামপুর থানা শিক্ষা কর্মকর্তা শাপলা খানম। তিনি বলেন, “আমি সরকারি বিধি-বিধান মেনেই দায়িত্ব পালন করছি। প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে দোলাইরপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রমে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। সরকারি কোনো নির্দেশনা অমান্য করার প্রশ্নই আসে না।”

এ বিষয়ে ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, “শিক্ষা খাতে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। আমার নির্বাচনী এলাকায় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করা বা সরকারি অর্থের অপব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল শিক্ষা খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।