বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

গফরগাওয়ে সরকারী বালু নিয়ে বিরোধ

ইউএনওর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে মানববন্ধন

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৯:২৫ পিএম
ইউএনওর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে মানববন্ধন

ময়মনসিংহের গফরগাঁও ইউএনও ও বিএনপি নেতার বিরোধ বেড়েই চলছে। পাল্টাপাল্টি কর্মসুচি ঘোষণা। তবে, মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেছে উপজেলার সকল সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) সকালে গফরগাঁও উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করে স্থানীয় সকল সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

স্থানীয় একটি সুত্র জানায়, নিয়মবর্হিভুত ভাবে পাঁচবাগ গলাকাটা মৌজার বিআইডব্লিউটি’র বালু নিতে ইউএনও রুবাইয়া ইয়াসমিনকে বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে আসছিল ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আলমগীর মাহমুদ আলম। কিন্তু, ইউএনও নিয়মবর্হিভুত ভাবে বালু দিতে অস্বীকৃতি জানান। এসব নিয়ে ইউএনও’র সাথে বিএনপি নেতার দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এ ঘটনায় গত রবিবার সন্ধ্যার পর ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আলমগীর মাহমুদ আলম তার দলীয় কর্মীদের নিয়ে সকালে উপজেলা পরিষদ ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেন। এমন সংবাদ পেয়ে উপজেলার সকল দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইউএনওর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে মানববন্ধন করার ঘোষণা দেন। পরে সকালে হঠাৎ বিপএনপি নেতা কর্মীরা তাদের কর্মসুচি বাতিল করে। অপরদিকে উপজেলা পরিষদের আয়োজনে স্থানীয় সকল দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করে

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্র জানায়, ইউএনও রুবাইয়া ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্তার বিরুদ্ধে তারা একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নেমে এসেছেন সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মানববন্ধনে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের সুশৃঙ্খল কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ইউএনওর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে হেয় করার চেষ্টা চলছে, যা বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে ষড়যন্ত্রেরই অংশ। এই ষড়যন্ত্র অবিলম্বে বন্ধ না হলে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

মানববন্ধনে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমির সালমান রনি বলেন, ইউএনও বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঐক্যবদ্ধভাবে আরও কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবেন।

এসময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়েছেন। এই দ্বন্দ্বের কারণে গফরগাঁওয়ের সার্বিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেন নাগরিক সমাজ। তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এবিষয়ে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আলমগীর মাহমুদ আলম বলেন, আমরা নানাবিধ অনিয়মের কারণে উপজেলা পরিষদ কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসুচি দিয়েছিলাম। এই ইউএনও শেখ হাসিনার সময়ের নিয়োগপ্রাপ্ত একটা ফ্যাসিস্ট। তার কর্মকান্ড অনেকটা ফ্যাসিস্টদের মতই। সে আওয়ামী লীগের সময় যে ভাবে প্রশাসন চালাতো, এখনও ওই ভাবেই প্রশাসন চালায়। তার কাছে কোন পজিটিভ কাজ নিয়ে গেলেও ৭% ঘুষ নেয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পলাতকদের বেতন ভাতা উত্তোলনে সহায়তা করে বিভিন্ন নিয়োগ বানিজ্য করে। উপজেলায় ৪১ টা ইটের ভাটা আছে। যে গুলো থেকে সে টাকা নেয়। সরকারি যে সব সাহায্য আছে কম্বল বিতরণ, ঢেউ টিন বিতরণ, দুম্বার মাংস জনগণকে না দিয়ে কোথায় দেয়, তাও কেউ জানে না। তারপর শহীদ পরিবারের(একজন উত্তরায় ও একজন মাওনা শহীদ হয়ছিলো) লোকজন দেখা করতে গিয়েছিল ইউএনও’র সাথে সাক্ষাত করতে, সে তাদের সাথে অশোভন আচরণ করছে। বেসরকারি যত স্কুল আছে, বেতন উত্তোলন করে এখন উনিই সব কোন কমিটি নেই। উনার একজন পিএস আছে আমিনুল ইসলাম মুক্তা এগুলো থেকে টাকা নেয়। খাদ্য বান্ধব ওএমএস থেকে টাকা নেয় এবং বেশি ভাগ আওয়ামীলীগের লেকজনকেই নিয়োগ দিয়েছে, বিএনপির কিছু লোক ছাড়া। বালি যে বিক্রি হয়, ইউএনও এখন বালী ব্যবসায়ী হয়ে গেছে। এরপর অনেক কারন রয়েছে গত উপজেলা নির্বাচনে নিজেই ফলাফল ঘোষণা করছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়। যেমন বিজয় দিবসসহ এগুলোতে সে কাউকে দাওয়াত দেয় না। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হয় এগুলোতে কাউকে পরোয়া করে না এরকম নানাবিধ কারণ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা পরিষদ ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়া হয়ছিল। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের দলীয় কেন্দ্রীয় নির্দেশনা এখন প্রশাসনের সাথে কোন বিরোধে যাওয়া যাবে না। প্রশাসন আমাদের আশ্বস্থ করছে উনার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। তাই, আমাদের কর্মসুচি বাতিল করেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও বলেন, আমার বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র চলছে। বিএনপি নেতা আলমগীর মাহমুদ আলম সাহেব আমার কাছে কিছু অবৈধ তদবির করছিল, তারমধ্যে ছিল চর আলগী ইউনিয়ন পরিষদটা সরকারী ভবনে না নিয়ে উনার পছন্দ মতন জায়গায় নিয়ে নিতে। কিন্তু সরকারী ভবন রেখে অন্য কোথাও নেওয়া সম্ভব না। তাছাড়া সরকারি ভবনটা ব্যবহারে উপযোগী। আগে ছিল পুরাতন চেয়ারম্যান বাড়ি, সেখান থেকে নিয়ে সরকারী ভবনে আমি শিফট করেছি। এটা উনার তদবির হিসেবে উনার বাড়িতে নিয়ে যাই নাই। উনি বলে আগের চেয়ারম্যান তো তার বাড়িতে নিয়েছিল।আপনি কেন পারবেন না ইউএনও হয়ে আমার বাড়িতে দিতে বা আমার পছন্দ মতন জায়গায় দিতে। আগের চেয়ারম্যানরা তো গায়ের জোরে অনেক কিছু করছে, আমি তো সরকারি কর্মকর্তা, নিয়মের বাইরে আমি পারি না। এটা নিয়ে উনার উপর ক্ষোভ আমার প্রতি। দ্বিতীয়টা হলো, পাঁচবাগ গলাকাটা মৌজার বিআইডব্লিউটি’র বালু আছে। ওই বালু নিয়মবর্হিভুত ভাবে নিতে আমাকে চাপ দেন৷ আমি বলেছি, আমি অকশনে যাবো, আগেও অকশন হয়ছিলো আপনিও অকশনে অংশগ্রহণ করেন।

তিনি আরও বলেন, শুধু আমাকে তো বলছে এমন না। তিনি ডিসি স্যারকেও বিভিন্ন ভাবে চাপ দিয়ে আসছে ওই বালু তাকে দিতে।

গাজীপুরে আড়ালে ঢাকা সন্ত্রাসী চক্রের ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় সাংবাদিক আনোয়ার খালাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৮ এম
গাজীপুরে আড়ালে ঢাকা সন্ত্রাসী চক্রের ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় সাংবাদিক আনোয়ার খালাস

আইন ও বিচারব্যবস্থার মুখচ্ছবি যখন অপরাধীদের রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন সত্যকে থমকে দেওয়া সহজ হতে পারে, কিন্তু তাকে চিরতরে রুখে দেওয়া যায় না। গাজীপুরে প্রভাবশালীদের চোখ রাঙানি, চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব এবং পুলিশের চরম পক্ষপাতমূলক আচরণের বলির পাঁঠা হতে বসেছিলেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক মোঃ আনোয়ার হোসেন। তবে শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে আইনের শাসন বিজয়ী হয়েছে এবং মিথ্যা, সাজানো মামলার কলঙ্ক থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি ও খালাস পেয়েছেন এই সাংবাদিক।

জানা যায়, জয়দেবপুর রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখল করে তোলা দোকানপাট, কলাপট্টি এলাকার রাস্তা আটকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজি স্ট্যান্ড বানিয়ে অবাধ চাঁদাবাজির মতো চাঞ্চল্যকর অপরাধকে কেন্দ্র করে। প্রশাসন ও পুলিশের রহস্যজনক নীরবতায় যখন এই সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিল, তখন সরেজমিনে অনুসন্ধানে নামেন সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন। কিন্তু অপরাধের অন্ধকার জগত উন্মোচনের মাসুল তাঁকে দিতে হয় নিজের রক্ত দিয়ে। গত বছরের ৬ আগস্টে তথ্য ও স্থিরচিত্র সংগ্রহের সময় পুলিশের উপস্থিতিতেই সাংবাদিক আনোয়ারের ওপর চড়াও হয় একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। প্রকাশ্যে তাঁকে মারধর, ইট দিয়ে পা থেঁতলে দেওয়া এবং তথ্য সংগৃহীত মোবাইল কেড়ে নেওয়ার ঘটনা সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। এরপরও পুলিশের টনক নড়েনি।

অনুসন্ধানে আরও বেরিয়ে আসে, এই হামলাকারীরা সাধারণ কোনো দুষ্কৃতকারী নয়, তারা ইতিপূর্বে প্রকাশ্য দিবালোকে পিস্তল উঁচিয়ে গোলাগুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার চেষ্টার সদর থানার ১৩(১০)২০২৪ নং মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি। তবে ঘটনার আসল মোড় ঘোরে তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের নগ্ন হস্তক্ষেপ ও প্রভাবশালী মহলের গোপন আঁতাতের চিত্র সামনে আসার পর। জিএমপি কমিশনারের মদদপুষ্ট অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী রাজু সাহা শিরোনামে খোলামেলা সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে প্রশাসন ও অপরাধী চক্র। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সত্যের তোয়াক্কা না করে, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবাদ বা প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ না জানিয়ে, প্রতিশোধের এক হিংসাত্মক পথ বেছে নেওয়া হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সংবাদ প্রকাশের ৩ দিনই সাংবাদিক আনোয়ারকে দমাতে সাজানো হয় এক কাল্পনিক চাঁদাবাজির নাটক। ১৮ দিন আগের পুরোনো এক মিথ্যা ঘটনা বানিয়ে চিহ্নিত সেই সন্ত্রাসীকে দিয়ে পেনাল কোডের ৩৮৫/৩৮৬ ধারায় সাংবাদিক আনোয়ারের বিরুদ্ধেই ঝুলিয়ে দেওয়া হয় একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত জিএমপি সদর থানার ৪৪(৮)২৫ নং মামলা। সত্য প্রকাশ করায় সংবাদকর্মীকে আইনি জালে ফাঁসিয়ে মুখ বন্ধ করার এই ঘৃণ্য অপচেষ্টা সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় তোলে।

তবে জালিয়াতি ও ক্ষমতার ক্ষমতার দাপটে বোনা মিথ্যার জাল শেষ পর্যন্ত আদালতেই ছিঁড়ে গেছে। মামলার খুঁটিনাটি ও মিথ্যা প্রসিকিউশন পর্যালোচনা শেষে গাজীপুরের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ওমর হায়দার সাংবাদিক মোঃ আনোয়ার হোসেনকে এই ভিত্তিহীন মামলা থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি ও খালাস প্রদান করেছেন।

আদালতের এই রায় কেবল একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত জয় নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সন্ত্রাসী ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী চক্রের করা কুৎসিত আক্রমণের বিরুদ্ধে এক মোক্ষম চড়াও। এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো, সংবাদপত্রের সত্য প্রকাশকে মিথ্যা মামলা বা প্রশাসনিক পেশিশক্তি দিয়ে দমানো যায় না, সত্যের জয় অনিবার্য।

ময়মনসিংহে পুলিশের অভিযানে একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফারুক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৪ পিএম
ময়মনসিংহে পুলিশের অভিযানে একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফারুক গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহ নগরীর নাটকঘর লেনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. ফারুক (৩৮)কে গ্রেপ্তার করেছে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় ১নং পুলিশ ফাঁড়ির এটিএসআই মো. আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল বুধবার নগরীর নাটকঘর লেন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের পিসিপিআর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ফারুকের পিতা মৃত আনোয়ার হোসেন এবং মাতা নাজমা বেগম। তার বিরুদ্ধে মাদক, ছিনতাই ও চুরিসহ মোট ৮টি মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ আরও জানায়, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং পলাতক ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সম্মিলিত আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ফলেই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে: এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৭ পিএম
সম্মিলিত আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ফলেই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে: এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ

ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিক পরিণতি। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে ছাত্র-জনতা, রাজনৈতিক কর্মীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। তাঁদের সম্মিলিত আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ফলেই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি সমুন্নত রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, শিষ্টাচার এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চার বিকল্প নেই। নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা এবং জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তাঁদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন কেবল দুই মাসের কোনো কর্মসূচি ছিল না; এটি গত ১৬-১৭ বছরের সংগ্রামের ধারাবাহিকতা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তা পরবর্তীতে সারাদেশের মানুষের গণআন্দোলনে রূপ নেয়।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাধারণ মানুষ, নারী এবং সরকারি কর্মচারীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে আন্দোলন সফল হয় এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটে। অস্ত্র ছাড়াই এই আন্দোলনের বিজয় মানুষের অদম্য মনোবল ও ঐক্যের অনন্য উদাহরণ।

জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে জাকির হোসেন বলেন, জুলাই যোদ্ধা ও শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন, আহতদের তালিকা চূড়ান্ত করা এবং শহীদদের স্মরণে নামফলক স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সন্তান হারানোর বেদনা কেবল সেই পরিবারই উপলব্ধি করতে পারে, যারা এই শোকের মধ্য দিয়ে গেছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনুজ্জামান রোকন বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের একার নয়; এটি দেশের আপামর মানুষের আন্দোলন। এই চেতনাকে বিভাজনের হাতিয়ার না করে ধারণ ও লালনের মাধ্যমে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃত না করে প্রকৃত অবদানকে যথাযথ মূল্যায়নের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার।

এ সময় ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সুমনা আল মজীদ, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।