সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ ১৪৩২
সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ ১৪৩২

ময়মনসিংহে ইউপি সদস্য হত্যার রহস্য উদঘাটন সহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৫, ৪:৩২ পিএম
ময়মনসিংহে ইউপি সদস্য হত্যার রহস্য উদঘাটন সহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলা অজ্ঞাত লাসের রহস্য উদঘাটন সহ সন্ধিগ্ধ আসামী আশিকুর রহমান, রাহাত হোসেন তন্ময়, মোঃ পরশ চৌধুরী শ্রাবণ ও মোঃ এহতেশামুল হক নিশাত কে গ্রেফতার করেছে পিবিআই ময়মনসিংহ।

 

ময়মনসিংহ পিবিআই এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, গত ৩-১-২০২৫ ইং তারিখ অনুমান বিকাল ৩ ঘটিকায় ময়মনসিংহের কোতয়ালী থানাধীন দাপুনিয়া খেজুরতলা মোড় এলাকা থেকে তদন্তেপ্রাপ্ত সন্ধিগ্ধ আসামী ০১। আশিকুর রহমান (৩৫), ২। রাহাত হোসেন তন্ময় (২৫), ৩। মোঃ পরশ চৌধুরী শ্রাবণ (২৯) ও ৪। মোঃ এহতেশামুল হক নিশাত (২৫) কে গ্রেফতার করেছে পিবিআই, ময়মনসিংহ।

 

গত ১-১-২০২৫ ইং তারিখ সকাল ১০ ঘটিকায় থানা পুলিশের মাধ্যমে পিবিআই ময়মনসিংহ সংবাদ পায় তারাকান্দা থানাধীন পিঠাসুতাগামী পাকা রাস্তার পাশে ধান ক্ষেতে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মৃতদেহ পড়ে আছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে পিবিআই ময়মনসিংহ জেলার ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ডিজিটাল ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে অজ্ঞাত মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে। জানা যায় অজ্ঞাত মৃত ব্যক্তির নাম মোঃ আরিফুর রহমান (৪৬), পিতা মোঃ রফিকুল ইসলাম, মাতা খোদেজা খানম, গ্রাম লামচরী, থানা রায়পুর, জেলা লক্ষীপুর। পিবিআই ময়মনসিংহ খবরটি ডিসিস্টের পরিবারকে জানিয়েছেন।

উক্ত ঘটনায় থানা পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার পাশাপাশি পিবিআই ময়মনসিংহ জেলাও ছায়া তদন্ত শুরু করে। ডিসিস্টের স্ত্রী আয়শা আক্তার বাদী হয়ে তারাকান্দা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তৎপ্রেক্ষিতে তারাকান্দা থানার মামলা নং-০১, তাং- ২-১-২০২৫ খ্রি:, ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ রুজু হয়। থানা পুলিশের তদন্তকালে পিবিআই স্বউদ্যোগে মামলাটি অধিগ্রহণ করে।

 

পিবিআই এরঅ্যাডিশনাল আইজিপি মোঃ মোস্তফা কামাল এর তত্ত্বাবধানে পিবিআই ময়মনসিংহ ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল আক্তার এর সার্বিক সহযোগীতায় তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন গত ২-১-২০২৫ ইং তারিখ মামলাটির তদন্ত শুরু করেন।

 

পিবিআই টিম তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকান্ডে জড়িত অজ্ঞাত আসামীদের পরিচয় সনাক্ত করতে সক্ষম হন। গত ৩-১-২০২৫ তারিখ অনুমানিক বিকাল ৩ ঘটিকায় ময়মনসিংহের কোতয়ালী থানাধীন দাপুনিয়া খেজুরতলা মোড় এলাকা থেকে তদন্তেপ্রাপ্ত সন্ধিগ্ধ আসামী ১/ আশিকুর রহমান (৩৫) পিতা-মোঃ সোলায়মান, মাতা-মৃত নাজমা বেগম সাং-কুতুবপুর, পোস্ট-শিবচর, থানা-শিবচর, জেলা-মাদারীপুর, ২/ রাহাত হোসেন তন্ময় (২৫), পিতা-ইসমাইল হোসেন, মাতা-সুলতানা রাজিয়া, সাং-কুমারগাতি, থানা-হালুয়াঘাট, জেলা-ময়মনসিংহ, ৩/ মোঃ পরশ চৌধুরী শ্রাবণ (২৯), পিতা-মৃত দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী, মাতা-রুকসানা আক্তার, সাং-গনেশপুর, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-রংপুর ও ৪/ মোঃ এহতেশামুল হক নিশাত (২৫), পিতা-মোঃ এমদাদুল হক, মাতা-জোৎন্সা আরা বেগম, সাং-রূপচন্দ্রপুর, থানা-তারাকান্দা, জেলা-ময়মনসিংহকে গ্রেফতার করেন। সন্ধিগ্ধ আসামীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংঘটিত অপরাধে ব্যবহৃত হাইস গাড়িটি আলামত হিসেবে ঢাকা থেকে জব্দ করা হয়।

 

তদন্তে প্রাপ্ত সন্ধিগ্ধ গ্রেফতারকৃত সকল আসামীকে গত ৩-১-২০২৫ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। এবং বিজ্ঞ আদালতে সকল আসামী নিজেদের সম্পৃক্ত করে ঘটনার বিবরণ উল্লেখপূর্বক ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তি প্রদান করেছেন।

 

এ বিষয়ে পিবিআই, ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ রকিবুল আক্তার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আসামীরা অপহরণ চক্রের সদস্য। আসামী শ্রাবণ ঢাকায় অবস্থানরত লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার ৬নং পূর্ব কেরোয়া ইউনিয়নের রানিং মেম্বার ও ফার্ণিচার ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান এর তথ্য সংগ্রহ করে এবং তাকে জিম্মি করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা সাজায়। গত ২৫-১২-২০২৪ইং তারিখে আসামী শ্রাবণ ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে আসে এবং কয়েক দিন অবস্থান করে। এরপর গত ৩১-১২-২০২৪ ইং তারিখে ময়মনসিংহ হতে তার বন্ধু তন্ময় ও নিশাতকে নিয়ে মিরপুর চলে যায়। সেখানে গিয়ে আসামী শ্রাবণ সুকৌশলে ভিকটিম আরিফুর রহমানকে মিরপুর-১ নম্বর এলাকা থেকে ডেকে নেয়। ভিকটিম আরিফুর রহমান সেখানে আসামাত্রই আসামী শ্রাবণ, আশিক, তন্ময় ও নিশাত মিলে তাকে ধরে ফেলে এবং প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে তাদের পূর্ব হতেই ভাড়া করে রাখা হাইস গাড়ীতে উঠতে বলে। আরিফুর রহমান গাড়ীতে উঠামাত্রই তারা ময়মনসিংহের দিকে রওনা করে। আসামীরা জিম্মি আরিফুর রহমানের ফোন দিয়ে তার স্ত্রীর কাছে কল করায় এবং টাকা পাঠানোর জন্য এসএমএস করায়। বিকাশ নম্বর হিসেবে আসামী আশিকের একটি নম্বর দেয়। গাজীপুরে জ্যামে গাড়ী আটকে গেলে ভিকটিম নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করলে আসামীরা অপহরণের বিষয়টি যাতে প্রকাশ না পায় সে জন্য ভিকটিমকে মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে আসামীরা ভিকটিমকে হত্যা করে তারাকান্দার পিঠাসুতাগামী পাকা রাস্তার পাশে ধানক্ষেতে ফেলে রেখে আসে।

 

পিবিআই, ময়মনসিংহ জেলার সকল অফিসার ও ফোর্সের আন্তরিকতা, নিরলস প্রচেষ্টা ও পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সের সহযোগীতায় মাত্র দুই দিনের মধ্যেই হত্যাকান্ডের আসামীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।

ধোবাউড়ায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী হামলা, ছুরিকাঘাতে নিহত-১

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১০ পিএম
ধোবাউড়ায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী হামলা, ছুরিকাঘাতে নিহত-১

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী হামলায় একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ধোবাউড়া উপজেলার এরশাদ বাজারে প্রকাশ্য জনসমাগমের মধ্যেই দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন নজরুল ইসলাম (৪৬)।

নিহত নজরুল ইসলামের রামসিংহপুর এলাকার হাজী মফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি ময়মনসিংহ-১ হালুয়াঘাট ধোবাউড়া আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের কর্মী বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় এরশাদ বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের নির্বাচনী অফিস উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় সংঘবদ্ধ কয়েকজন দুর্বৃত্ত হঠাৎ নজরুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এরশাদ বাজার ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নির্বাচনকে ঘিরে প্রকাশ্য স্থানে এমন সহিংসতায় জনমনে ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনী পরিবেশকে ভয়ভীতি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে প্রভাবিত করতেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তারা দ্রুত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

গৌরীপুরে শিক্ষাখেকো ইটভাটার মালিক রতনের খুটির জোড় কোথায়?

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:০৬ পিএম
গৌরীপুরে শিক্ষাখেকো ইটভাটার মালিক রতনের খুটির জোড় কোথায়?

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় ডৌহাখলা ইউনিয়নের গাজীপুরে সাব্দুল সরকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুক চিড়ে গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন অবৈধ ইকো ব্রিকস নামক ইটভাটা। ভোগান্তিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা, নিরব প্রশাসন।

সরেজমিন দেখা যায়, অনুমোদনহীন অবৈধ ইটভাটার ধোঁয়া, কয়লার গুড়া ও ধুলোবালিসহ ইট বহনকারী গাড়ীর বিকট শব্দের মিশ্রনে বিদ্যালয়ের কোমোলমতি শিক্ষার্থীরা শ্রেনীকক্ষে বসে লেখাপড়া করাটাই দায় হয়ে পড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ইটভাটা মালিক চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়নের সাবেক প্রভাবশালী চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফারুকুল ইসলাম রতন পেশি শক্তিবলে বিদ্যালয়ের মাঠের একাংশ অবৈধ দখলে নিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা করার সুযোগটুকুও কেড়ে নিয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন এরা কি আসলেই চেয়ারম্যানরুপী সেবক ছিলেন? নাকি সেবক নামের জানোয়ার! সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কি খোঁজ রাখেন না? নাকি ঘুষের ঘোরে অন্ধ?

স্কুল পড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জানায়, ইটভাটার কালো ধোঁয়া, ধুলোবালি আর ইট বহনকারী গাড়ীর বিকট শব্দে ক্লাসে বসে থাকতে পারিনা, স্কুল ড্রেস একদিনের বেশি পড়তে পারিনা। আমাদের অনেক কষ্ট হয়, শ্বাস কষ্ট হয়, সর্দি-কাশি হয়।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুর তাঁর বক্তব্য বলেন, আমরা শ্রেনী কক্ষে শিক্ষার্থীদের কি ক্লাস করাব, যেখানে আমরাই ঠিকে থাকতে পারিনা সেক্ষেত্রে এই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এগুলো কিভাবে সহ্য করবে। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের কিছু বলতে হবে না, আপনারা দয়া করে একটু বসুন তাহলেই অনুভব করতে পারবেন ইটভাটার ধোঁয়া, ধুলোবালি আর ইট বহনকারী গাড়ীর বিকট শব্দে বিদ্যালয়টি যেন নরকে পরিনত হয়েছে।

এসময় তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠের জায়গা কেটে দখলে নিয়েছে, জায়গাটা ভরাট করে দিবে বলছে কিন্তু এখন পর্যন্ত দেয়নি। আজ আপনাদের ক্যামেরার সামনে কথা বলায় কাল থেকে এই বিদ্যালয়ে চাকুরী করতে পারব কি না আল্লাহ জানেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মুঠোফোন রিসিভ না করলেও গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, আমাদের পরিবেশ আসার কথা, ইটভাটায় মোবাইল কোর্ট করলে পরিবেশের একটা প্রসিকিউশন লাগে ওনারা আসলেই বিষয়টি আমরা দেখব।

সেহড়া চামড়া গুদাম এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে যুবসমাজের ঐক্য: কমিটি গঠন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৫৯ পিএম
সেহড়া চামড়া গুদাম এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে যুবসমাজের ঐক্য: কমিটি গঠন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি

মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে জেগে উঠেছে সেহড়া চামড়া গুদাম এলাকার যুবসমাজ। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বিস্তার, কিশোর-তরুণদের নেশায় জড়িয়ে পড়া এবং সামাজিক অবক্ষয়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে গঠিত হয়েছে একটি মাদক নির্মূল কমিটি। এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, যেখানে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি এলাকাবাসীর মধ্যে মাদক সংশ্লিষ্ট নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় যুবসমাজ একত্রিত হয়ে একটি সংগঠিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে। কমিটির মাধ্যমে মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা, প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া এবং তরুণদের সচেতন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, এটি মাদকবিরোধী গণস্বাক্ষরের অংশ, যেখানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনেকে স্বাক্ষর করেছেন। স্বাক্ষরকারীদের মতে, মাদকের কারণে পরিবার ভাঙছে, শিক্ষার্থীরা বিপথে যাচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে- যা আর মেনে নেওয়া যায় না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা শোনা যাচ্ছে। তারা দাবি করেন, এসব অভিযোগ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হবে এবং যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানানো হবে। তবে এখনো পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।

মাদক নির্মূল কমিটির এক উদ্যোক্তা বলেন, “আমরা কারও বিরুদ্ধে অন্যায় অপবাদ দিতে চাই না। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্ত হোক, দোষীরা আইনের আওতায় আসুক, আর আমাদের এলাকা মাদকমুক্ত হোক।”

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি জানান, যেকোনো লিখিত অভিযোগ পেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলাকাবাসীর আশা, যুবসমাজের এই ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সেহড়া চামড়া গুদাম এলাকা ধীরে ধীরে একটি নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশে পরিণত হবে।