শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩

ময়মনসিংহে ইউপি সদস্য হত্যার রহস্য উদঘাটন সহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৫, ৪:৩২ পিএম
ময়মনসিংহে ইউপি সদস্য হত্যার রহস্য উদঘাটন সহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলা অজ্ঞাত লাসের রহস্য উদঘাটন সহ সন্ধিগ্ধ আসামী আশিকুর রহমান, রাহাত হোসেন তন্ময়, মোঃ পরশ চৌধুরী শ্রাবণ ও মোঃ এহতেশামুল হক নিশাত কে গ্রেফতার করেছে পিবিআই ময়মনসিংহ।

 

ময়মনসিংহ পিবিআই এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, গত ৩-১-২০২৫ ইং তারিখ অনুমান বিকাল ৩ ঘটিকায় ময়মনসিংহের কোতয়ালী থানাধীন দাপুনিয়া খেজুরতলা মোড় এলাকা থেকে তদন্তেপ্রাপ্ত সন্ধিগ্ধ আসামী ০১। আশিকুর রহমান (৩৫), ২। রাহাত হোসেন তন্ময় (২৫), ৩। মোঃ পরশ চৌধুরী শ্রাবণ (২৯) ও ৪। মোঃ এহতেশামুল হক নিশাত (২৫) কে গ্রেফতার করেছে পিবিআই, ময়মনসিংহ।

 

গত ১-১-২০২৫ ইং তারিখ সকাল ১০ ঘটিকায় থানা পুলিশের মাধ্যমে পিবিআই ময়মনসিংহ সংবাদ পায় তারাকান্দা থানাধীন পিঠাসুতাগামী পাকা রাস্তার পাশে ধান ক্ষেতে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মৃতদেহ পড়ে আছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে পিবিআই ময়মনসিংহ জেলার ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ডিজিটাল ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে অজ্ঞাত মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে। জানা যায় অজ্ঞাত মৃত ব্যক্তির নাম মোঃ আরিফুর রহমান (৪৬), পিতা মোঃ রফিকুল ইসলাম, মাতা খোদেজা খানম, গ্রাম লামচরী, থানা রায়পুর, জেলা লক্ষীপুর। পিবিআই ময়মনসিংহ খবরটি ডিসিস্টের পরিবারকে জানিয়েছেন।

উক্ত ঘটনায় থানা পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার পাশাপাশি পিবিআই ময়মনসিংহ জেলাও ছায়া তদন্ত শুরু করে। ডিসিস্টের স্ত্রী আয়শা আক্তার বাদী হয়ে তারাকান্দা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তৎপ্রেক্ষিতে তারাকান্দা থানার মামলা নং-০১, তাং- ২-১-২০২৫ খ্রি:, ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ রুজু হয়। থানা পুলিশের তদন্তকালে পিবিআই স্বউদ্যোগে মামলাটি অধিগ্রহণ করে।

 

পিবিআই এরঅ্যাডিশনাল আইজিপি মোঃ মোস্তফা কামাল এর তত্ত্বাবধানে পিবিআই ময়মনসিংহ ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল আক্তার এর সার্বিক সহযোগীতায় তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন গত ২-১-২০২৫ ইং তারিখ মামলাটির তদন্ত শুরু করেন।

 

পিবিআই টিম তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকান্ডে জড়িত অজ্ঞাত আসামীদের পরিচয় সনাক্ত করতে সক্ষম হন। গত ৩-১-২০২৫ তারিখ অনুমানিক বিকাল ৩ ঘটিকায় ময়মনসিংহের কোতয়ালী থানাধীন দাপুনিয়া খেজুরতলা মোড় এলাকা থেকে তদন্তেপ্রাপ্ত সন্ধিগ্ধ আসামী ১/ আশিকুর রহমান (৩৫) পিতা-মোঃ সোলায়মান, মাতা-মৃত নাজমা বেগম সাং-কুতুবপুর, পোস্ট-শিবচর, থানা-শিবচর, জেলা-মাদারীপুর, ২/ রাহাত হোসেন তন্ময় (২৫), পিতা-ইসমাইল হোসেন, মাতা-সুলতানা রাজিয়া, সাং-কুমারগাতি, থানা-হালুয়াঘাট, জেলা-ময়মনসিংহ, ৩/ মোঃ পরশ চৌধুরী শ্রাবণ (২৯), পিতা-মৃত দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী, মাতা-রুকসানা আক্তার, সাং-গনেশপুর, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-রংপুর ও ৪/ মোঃ এহতেশামুল হক নিশাত (২৫), পিতা-মোঃ এমদাদুল হক, মাতা-জোৎন্সা আরা বেগম, সাং-রূপচন্দ্রপুর, থানা-তারাকান্দা, জেলা-ময়মনসিংহকে গ্রেফতার করেন। সন্ধিগ্ধ আসামীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংঘটিত অপরাধে ব্যবহৃত হাইস গাড়িটি আলামত হিসেবে ঢাকা থেকে জব্দ করা হয়।

 

তদন্তে প্রাপ্ত সন্ধিগ্ধ গ্রেফতারকৃত সকল আসামীকে গত ৩-১-২০২৫ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। এবং বিজ্ঞ আদালতে সকল আসামী নিজেদের সম্পৃক্ত করে ঘটনার বিবরণ উল্লেখপূর্বক ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তি প্রদান করেছেন।

 

এ বিষয়ে পিবিআই, ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ রকিবুল আক্তার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আসামীরা অপহরণ চক্রের সদস্য। আসামী শ্রাবণ ঢাকায় অবস্থানরত লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার ৬নং পূর্ব কেরোয়া ইউনিয়নের রানিং মেম্বার ও ফার্ণিচার ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান এর তথ্য সংগ্রহ করে এবং তাকে জিম্মি করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা সাজায়। গত ২৫-১২-২০২৪ইং তারিখে আসামী শ্রাবণ ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে আসে এবং কয়েক দিন অবস্থান করে। এরপর গত ৩১-১২-২০২৪ ইং তারিখে ময়মনসিংহ হতে তার বন্ধু তন্ময় ও নিশাতকে নিয়ে মিরপুর চলে যায়। সেখানে গিয়ে আসামী শ্রাবণ সুকৌশলে ভিকটিম আরিফুর রহমানকে মিরপুর-১ নম্বর এলাকা থেকে ডেকে নেয়। ভিকটিম আরিফুর রহমান সেখানে আসামাত্রই আসামী শ্রাবণ, আশিক, তন্ময় ও নিশাত মিলে তাকে ধরে ফেলে এবং প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে তাদের পূর্ব হতেই ভাড়া করে রাখা হাইস গাড়ীতে উঠতে বলে। আরিফুর রহমান গাড়ীতে উঠামাত্রই তারা ময়মনসিংহের দিকে রওনা করে। আসামীরা জিম্মি আরিফুর রহমানের ফোন দিয়ে তার স্ত্রীর কাছে কল করায় এবং টাকা পাঠানোর জন্য এসএমএস করায়। বিকাশ নম্বর হিসেবে আসামী আশিকের একটি নম্বর দেয়। গাজীপুরে জ্যামে গাড়ী আটকে গেলে ভিকটিম নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করলে আসামীরা অপহরণের বিষয়টি যাতে প্রকাশ না পায় সে জন্য ভিকটিমকে মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে আসামীরা ভিকটিমকে হত্যা করে তারাকান্দার পিঠাসুতাগামী পাকা রাস্তার পাশে ধানক্ষেতে ফেলে রেখে আসে।

 

পিবিআই, ময়মনসিংহ জেলার সকল অফিসার ও ফোর্সের আন্তরিকতা, নিরলস প্রচেষ্টা ও পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সের সহযোগীতায় মাত্র দুই দিনের মধ্যেই হত্যাকান্ডের আসামীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।

ময়মনসিংহ মেডিকেল হোস্টেলে সংঘর্ষ: রড-হাতুড়ির আঘাতে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত, গ্রেফতার ১

নাজমুল হাসান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩২ এম
ময়মনসিংহ মেডিকেল হোস্টেলে সংঘর্ষ: রড-হাতুড়ির আঘাতে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত, গ্রেফতার ১

ময়মনসিংহ নগরীর বাঘমারা এলাকায় মমেক এর একটি ছাত্রাবাসে ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এ ঘটনায় অন্তত দুইজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো হোস্টেল এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সরেজমিনে ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হামিদুর নামের এক শিক্ষার্থী ২০২ নম্বর কক্ষে মোয়াজ নামে আরেক শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। এর জের ধরে সন্ধ্যার দিকে হোস্টেল ক্যান্টিনে চা পান করতে গেলে হামিদুরের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় মোয়াজ লোহার রড দিয়ে তাকে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন।

আহত হামিদুরকে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে রাতে পুলিশ মোয়াজকে গ্রেফতার করতে গেলে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় হামিদুরের পক্ষের নাফিউল নামের আরেক শিক্ষার্থী পুলিশের সামনেই মোয়াজকে লোহার হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে মোয়াজ গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই নাফিউলকে গ্রেফতার করেছে।

ঘটনার পর পুরো হোস্টেল এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, র‍্যাব ও ডিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়েছে।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ত্রিশালে ওসির সখ্যতায় এক বছরেও অধরা লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের আসামিরা!

শামীম খান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৩৯ এম
ত্রিশালে ওসির সখ্যতায় এক বছরেও অধরা লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের আসামিরা!

থানায় মামলা হয়েছে ঠিক এক বছর আগে। দায়েরকৃত এজাহারে সুনির্দিষ্ট ১১ জন আসামির নামসহ ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামার উল্লেখ আছে। আছে লুটপাট, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ। অথচ রহস্যজনক কারণে দীর্ঘ ১২ মাসেও একজন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানা পুলিশ। উল্টো অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত কর্মকর্তার সাথে আসামীদের গভীর সখ্যতা আর অনৈতিক লেনদেনের কারণে থমকে আছে বিচারের চাকা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ত্রিশালের বিয়ার্তা উত্তরের চরে জহির এগ্রো ফার্ম-এ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। বাদী খাদিজা খাতুনের ছেলে মোঃ খাইরুল বাশার হামীমের এই খামারে ঢুকে চারটি দোচালা ঘর ভাঙচুর, প্রায় ২০০ ফলজ ও ওষুধি গাছ নিধন এবং পুকুর থেকে মাছ লুটে নেয় তারা। এখানেই শেষ নয়, খামারে থাকা প্রায় ৫০টি ছাগল (যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ লক্ষ টাকা) জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। বাধা দিতে গেলে খামারের মালিক হামীম, ম্যানেজার মাকসুদুল এবং লেবার মনির হোসেনকে লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। প্রাণভয়ে তারা পালিয়ে গেলে ৪নং আসামির হুকুমে ১নং ও ৫নং আসামি পেট্রোল ঢেলে স্টুডিও রুমে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মূল্যবান ভিডিও ক্যামেরা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, আইপিএস, ফ্রিজ ও এসি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

এই নৃশংস ঘটনার পর ১৬ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ত্রিশাল থানায় ১৮(০৪)২৫ নং মামলাটি রুজু করেন ওসি মনসুর আহমেদ ও তদন্ত ওসি গোলাম মোস্তফা রুবেল।

কিন্তু আজ পর্যন্ত তদন্তে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ভুক্তভোগী পরিবারটির অভিযোগ, ত্রিশাল থানার বর্তমান ওসি মনসুর আহমেদ ও ওসি (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা রুবেলের সাথে আসামিদের চরম ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।

বাদী খাদিজা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশ সব জেনেও নীরব। আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি, ওসি তদন্ত আসামিদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাদের আড়াল করছেন। পর্যাপ্ত সাক্ষী ও প্রমাণ থাকার পরও এক বছরে একজনকেও গ্রেফতার না করা কি স্বাভাবিক? আমরা কি তবে পুলিশের দায়িত্ব অবহেলার কারণে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হব? আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের খুঁজে পাচ্ছে না বলে দায় এড়াচ্ছে। এর ফলে বাদী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মামলা তুলে নিতে আসামিরা নিয়মিত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অতি দ্রুত এই মামলাটি পিবিআই বা উচ্চতর কোনো সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং পুলিশের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এই বিষয়ে জানতে ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, আইনের রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় কিংবা অপরাধীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে, তখন সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?

ময়মনসিংহে ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে ভাসুরের ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১৯ পিএম
ময়মনসিংহে ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে ভাসুরের ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত

ময়মনসিংহে গাছের ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের জেরে ভাসুরের ছুরিকাঘাতে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম মোছা: সুমি ওরফে সুমা (৩০)।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, নিহত সুমি ফুলবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা মো. অলিউল্লাহর স্ত্রী। ঘটনার সময় অলিউল্লাহ ঘরের পাশের একটি গাছের ডাল কাটছিলেন। এ সময় তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী নাছিমা (৪০) ডাল কাটতে বাধা দিলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি পারিবারিক বিরোধে রূপ নেয় এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এ সময় নাছিমার স্বামী মো. খলিল (৩৫) ঘর থেকে ছুরি এনে সুমার বুকে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত খলিল ও তার স্ত্রী নাছিমাকে আটক করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।